Author: Habiganj News

  • মাহবুব আলীকে মন্ত্রী চায় এলাকাবাসী

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মাহবুব আলীকে মন্ত্রী করার দাবি করেছে তার এলাকার জনগণ।

    গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হবার পর থেকে এ দাবি করা হচ্ছে। এডভোকেট মাহবুব আলী অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

    আওয়ামীলীগ নেতারা দাবি করে বলেন, হবিগঞ্জ দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ হিসেবে খ্যাত। গত ২০০১ সালে সারাদেশে আওয়ামীলীগ কমসংখ্যক আসন পেলেও প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে ৪টি আসন পেয়েছিল।

    ২০০৮ সালে ২৯শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও হবিগঞ্জ ৪টি আসন পেয়েছিল। হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসন থেকে তখন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এনামুল হক মোস্তফা শহিদ। তখন তিনি মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেয়ে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্ষিয়ান নেতা এনামুল হক মোস্তফা শহীদকে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এড. মাহবুব আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সিলেট বিভাগের মধ্যে ৩ লাখ ৯ হাজার ভোট পেয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নির্বাচনী এলাকায় ২৫টির বেশি চা বাগান সহ বিপুল সংখ্যক উন্নয়ন বঞ্চিত জনগোষ্ঠী রয়েছে।

    জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায় জানান, বিগত সময়ে হবিগঞ্জে কোন মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। তাই জনস্বার্থে পরিচ্চন্ন রাজনীতিবিদ সংসদ সদস্য এড. মাহবুব আলীকে মন্ত্রী করা হলে পুরো হবিগঞ্জবাসী উপকৃত হবেন।

  • মিলাদ গাজীকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন অনুসারীরা

    এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৃহত্তর সিলেট আওয়ামী লীগের কান্ডারি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী। হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপির দায়িত্বে ছিলেন একটানা ১৫ বছর। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এবং সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ছিলেন । যুক্ত ছিলেন অসংখ্য সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও। এতকিছু ছাপিয়ে সিলেটের গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

    বৃহত্তর সিলেটের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অকুতোভয় ও আপসহীন ভূূূমিকার জন্য বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন সিলেট হবিগঞ্জের মানুষের মনে।

    সিলেটবাসীর কাছে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বেসামরিক সাবেক সেক্টর কমান্ডার ‘মুক্তিরবীর’ এবং অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘সিলেটের ফরিদগাজী’ নামে। মৃত্যুর পর তার শূন্যস্থানকে পূরণ করবে- এ নিয়ে যখন সর্বমহলে আলোচনা চলছিল, তখনই নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে গাজী মোঃ শাহনেয়াজ মিলাদ। বাবার অনেক গুণ থাকায় তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন গাজী মোঃ শাহনেওয়াজ মিলাদের অনুসারীরা।

    সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকার পরও তাকে প্রার্থী করে চমকে দেন তিনি। নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া পুত্র আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ঐক্যফ্রন্টের হেভিওয়েট প্রার্থীড.রেজা কিবরিয়াকে ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন মিলাদ।

    মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসতেন দেওয়ান ফরিদ গাজী। এ জন্য সিলেট নগরীর লামাাজারস্থ বাসভবনে স্থায়ী ডাইনিং হল, বাবুর্চি ও বয়-বেয়ারা রেখেছিলেন। দলের নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ কোনো মানুষ- যেই হোন না কেন, বাসায় গেলে না খাইয়ে ছাড়তেন না। অনেক সময় নিজ হাতে অতিথিকে আপ্যায়ন করাতেন। চা-নাশতা এবং দুপুরে ও রাতে খাবারের ব্যবস্থা রাখতেন নিয়মিত। প্রতিদিন শত শত মানুষ খেতেন সেখানে। অনেকেই মনে করেছিলেন, দেওয়ান ফরিদ গাজী মৃত্যুর পর সে ধারাবাহিকতা আর থাকবে না; কিন্তু একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি খাওয়া-দাওয়া। এখন মিলাদের সঙ্গে মানুষ দেখা করতে গেলে অনেকটা আগের মতোই খাওয়া-দাওয়া করাচ্ছেন।

    দেওয়ান গাজী মোঃ শাহনওয়াজমিলাদকে নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মিলাদের মধ্যে তার বাবার অনেক গুণই রয়েছে। বাবা না থাকলেও বাবার কাজগুলো ঠিকই চালিয়ে নিচ্ছেন। বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে চান তিনি। এবার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় সে কাজগুলো শেষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তার মধ্যে আমরা তার বাবাকে খুঁজে পাই।’

    প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাজিমাত করা মিলাদকে এবার মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তার সমর্থকরা। তাকে নিয়ে বেশ আলোচনাও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।

    বিশেষ করে হবিগঞ্জ-১ আসনের তরুণরা তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

    হবিগঞ্জ-১-নবীগঞ্জের দেবপাড়ার খালেদ আহমদ বলেন, ‘যে কোনো কাজকর্মে মিলাদ গাজীর ওপর নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষ ভরসা করতেন। এখানকার মানুষের জন্য অনেক কিছুই করেছেন তিনি। তার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে, এখন তার ছেলেকে ঘিরে মানুষ সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।’

    বঙ্গবন্ধু সরকারের সাবেক মন্ত্রী সিলেট -১ আসনের সাবেক এমপি ও হবিগঞ্জ-১ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা থাকাকালে দলের ।সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর আলাদা একটি বলয় ছিল। এখন সিলেট ও হবিগঞ্জের সবার সঙ্গে বেশ সুসম্পর্ক রেখে চলছেন তার ছেলে মিলাদ। সমর্থকদের অনেকেই নাখোশ হলেও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বেশিরভাগ মানুষ।

    মিলাদগাজী তার উঠে আসার পেছনে বাবা দেওয়ান ফরিদ গাজী অবদানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘বাবার হাত ধরেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। বাবার অনেক গুণ রয়েছে। এসব গুণের কারণে দলমত নির্বিশেষে মানুষ তাকে ভালোবাসতেন। আমি তার সে গুণগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করছি। বাবার স্বপ্ন পূরণে আমি আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলের স্বার্থে আমাকে এমপি পদ দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থী করেছেন। আমি জয়লাভ করে তার প্রতিদান দিতে পেরেছি। এগুলোকে আমি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে চাই।’

  • মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও আমি

    অভিজিৎ ভট্টাচার্য: বহুজনে বলেছিলেন, শিক্ষায় নীরব বিপ্লব ঘটানোর নায়ক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সদ্য শেষ হওয়া সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন না। উত্তরে আমি বলেছিলাম তিনি মনোনয়ন পাবেন। তাই হয়েছে।

    পরে তারা বললেন, মনোনয়ন পেলেও শিক্ষামন্ত্রী ভোটে জয়ী হতে পারবেন না। আমি বলেছিলাম, শিক্ষামন্ত্রী ভোটে জিতে তবেই সচিবালয়ে আসবেন। তাই হয়েছে।

    এখন তারা বলছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ নতুন সরকারে অার শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন না। আমি বলেছি, তিনি ফের শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন। আর না হলেও ক্ষতি কি, একটানা ১০ বছর কয়জন মন্ত্রী থাকতে পারেন?

    সেই হিসেবে নাহিদ ভাই ভাগ্যবান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যে ধরণের শিক্ষাব্যবস্থা চান, সেই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে যোগ্য ব্যক্তি নাহিদ ভাই। এখন দেখা যাক কি হয়?

    এরকম পরিস্থিতিতে আমার প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নুরুল ইসলাম নাহিদ ভাই বুধবার সংসদ সচিবালয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    শপথ নেয়ার আগেরদিন মঙ্গলবার নাহিদ ভাইয়ের দপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম, অভিনন্দন জানাতে। দেখেই সিলেটি ভাষায় তিনি বললেন, ‘কিতা খবর, বালা আছোনি, মিষ্টি খাও।’

    এসময় আমাদের দুই সিলেটির ছবি তুলে দিলেন পিআইডির বাদল ভাই।

    নাহিদ ভাইয়ের সাংসদ হওয়ার মিষ্টি সেদিন খেয়ে এসেছি, সামনের দিন খাব মন্ত্রী হওয়ার মিষ্টি।

    জয়তু নাহিদ ভাই।

    (লেখাটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া)

    লেখক: সাংবাদিক।

  • বাহুবলে পুরান বই বিতরণের অভিযোগে শিক্ষিকা বরখাস্ত

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বড়ইউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরাতন বই বিতরণের অভিযোগে এক শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।এছাড়ও  প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

    বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক ও বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা গিয়ে নতুন বই বিতরণ করেন। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফাতেমা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, পহেলা জানুয়ারি সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বাহুবলের বড়ইউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সালের পুরাতন বই দেন শিক্ষকরা। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।

    খবর পেয়ে বুধবার (২ জানুয়ারি) বিষয়টি তদন্ত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    তিনি আরও জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক মো. মহসিন মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • লাখাইয়ে পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা

    লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব গ্রামে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের সময় পুলিশ আহতের ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    বুধবার রাতে লাখাই থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪৫ জনের নামসহ দেড় শতাধিক লোককে অজ্ঞাত করে মামলাটি দায়ের করেন।

    এর আগে বুধবার দুপুরে করাব গ্রামের নয়াবাড়ির শাহিদ মিয়ার ছেলে মুর্শেদ মিয়ার সাথে পাওনা নিয়ে মোল্লা বাড়ির ফখরুদ্দিনের ছেলে শিমুল মিয়ার ঝগড়া হয়। পরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

    লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষকারীদের আক্রমণে ১০ পুলিশ সদস্য হয়েছেন।

  • শপথ নিলেন নতুন এমপিরা

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী তাদেরকে শপথবাক্য পাঠ করান দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

    বেলা ১১টার কিছু সময় পর শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথকক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেই সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন একাদশ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের নেতারা।

    নতুন এমপিরা একসঙ্গে সমস্বরে স্পিকারের সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন। সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানোর আগে স্পিকার নিজেই শপথগ্রহণ করেন।

    আজ শপথ নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের ২৮৮ সংসদ সদস্য। এছাড়া স্বতন্ত্র আরও তিন জনপ্রতিনিধিরাও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    শপথের পর নবাগত এমপিরা স্পিকারের সামনে শপথ ফরমে স্বাক্ষর করেন এবং গ্রুপ ছবি তোলেন।

    এ অনুষ্ঠান কেনদ্র করে সকাল ১০টা থেকেই এমপিরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে শুরু করেন। এমপিরাও হাত নেড়ে সংসদে প্রবেশ করেন। সব মিলে সংসদ ভবন এলাকায় একটা উৎসবমুখর পরিবেশের তৈরি হয়।

    নিয়ম অনুযায়ী দুপুরে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন যে আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতিকে তিনি সরকার প্রধান করার অনুরোধ করবেন। তারপরেই গঠিত হবে নতুন সরকার।

    এদিকে নির্বাচনে জয়ী হলেও শপথ নেননি বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তারা ‘ভোট কারচুপি’ ও ‘অনিয়মের’ প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সরকারের বৈধতা দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    তবে সংবিধান অনুযায়ী-সংসদ অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ নিতে হবে, তা না হলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।

    নতুন জনপ্রতিনিধিদের শপথ সামনে রেখে মঙ্গলবার নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের প্রস্তুতি নিতে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে।

    বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আগে শপথগ্রহণ করেন। পরে স্পিকার হিসেবে তিনি নির্বাচিত অন্য সদস্যদের শপথ পড়ান।

    সংবিধান অনুযায়ী-স্পিকার নিজেই নিজের শপথ পড়ান। শপথ শেষে চা বিরতি শুরু হয়ে গেছে। এর পর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠক করে নিজেদের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন।

    নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হয় মঙ্গলবার। গেজেট প্রকাশের দিন থেকে এক মাসের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দশম সংসদের মেয়াদ আছে।

    ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে জয়লাভ করে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয়ী হয়। মঙ্গলবার ২৯৮ সংসদ সদস্যের নামে গেজেট জারি করা হয়।

    বাকি দুটির মধ্যে গাইবান্ধা-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন হয়নি। এ ছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন করতে হবে বলে সেখানে ফল স্থগিত রয়েছে।

  • বাহুবলে ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নতুন বই চুরির অভিযোগ!

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় এক প্রাইমারী স্কুলে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নতুন পাঠ্যবই চুরি করে বেঁচে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ জসীম উদ্দিন।

    এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়ইউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ১ জানুয়ারী বই উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশে শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছে সরকার। কিন্তু উপজেলার বড়ইউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহসিন মিয়া ছুটিতে থাকা অবস্থায় দায়িত্বে থাকা সহধর্মিনী ফাতেমা বেগমের মাধ্যমে নতুন বই বিক্রির উদ্যেশে অফিস কক্ষে লুকিয়ে রেখে ২০১৫-১৭ সালের পুরাতন বই সংগ্রহ করে দেড়শত শিশুদের হাতে তুলে দেন। একমাত্র দ্বিতীয় শ্রেণির পুরাতন বই সংগ্রহ করতে না পেরে সেই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়।

    সারাদেশে নতুন বই আর এখানকার শিশুদের হাতে পুুুুরাতন বই দেখে অভিভাবকদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    বিষয়টি উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. জসীম উদ্দিন জানতে পেরে বুধবার সকালে সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে তদন্তে নামেন। তদন্তে সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক অফিসকক্ষে থাকা নতুন বইগুলো জব্ধ করে প্রধান শিক্ষক মো. মহসিন মিয়া ও তার স্ত্রী সহকারি শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম কে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন।

    পরে বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মো. জসীম উদ্দিন কার্যালয়ে বসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে বসে আলোচনা করে বিভাগীয় কমিশনার ও সচিব বরাবরে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।

    নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক অভিভাবক বলেন, এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাহাড় পরিমান অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বরাবরে বহুবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত এক বছর যাবত স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় শুশীল সমাজ। ফলে এলাকার অনেক অভিভাবকরাই তাদের সন্তানদের উপজেলা সদরে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও পাশ্ববর্তী প্রাইমারি স্কুলে নিয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।

    উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। আজ বৃহস্পতিবার সহকারি কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে নতুন বইগুলো শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হবে।