Author: Habiganj News

  • সংরক্ষিত আসন: ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দিতে হবে জোটের তথ্য

    সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গত ১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ২৯৮ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নাম ঠিকানাসহ প্রকাশ করা হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের স্পিকার নব নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করিয়েছেন।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসনের এক প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় সেখানে ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে অনিয়মের কারণে স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোট ৯ জানুয়ারি গ্রহণ করার পর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

    অবশিষ্ট ২৯৮ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ১টি আসন পেয়েছে। মহাজোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৮টি।

    অন্যদিকে বিএনপি ৫টি ও গণফোরাম ২টি আসন পেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট ৭টি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ প্রার্থী।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। এসব আসনের নির্বাচনে আইন বলছে- নবনির্বাচিতদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দল বা জোটগুলো বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জোটের অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। সে মোতাবেক ৩০ জানুয়ারির মধ্যে তাদের এ সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।

    নির্বাচন কমিশন সেই তথ্যের ভিত্তিতে দল বা জোটের দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী কোনো দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে সংরক্ষিত আসন বন্টন করবে ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে। অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন এ তালিকা প্রস্তুত করবে। তালিকা প্রস্তুতের পরের কার্যদিবসে অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য কোনো স্থানে টানিয়ে দেবে। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়কে সেই তালিকা প্রত্যায়িত কপি টানানোর জন্য বলবে। নির্বাচনের আগে সেই তালিকার আর কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনো করণিক ভুল হলে নির্বাচন কমিশন তা সংশোধন করতে পারবে।

    এদিকে এর আগেই সংসদ সচিবালয়কে শপথগ্রহণকারী সদস্যদের একটি তালিকা শপথ গ্রহণের তিন কার্যদিবসের মধ্যে মধ্যে অর্থাৎ আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। যাদের ভোটার হিসেবে গণ্য করবে নির্বাচন কমিশন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বাতিল করে পুনঃভোটের দাবি করায় জোটটির ৭ প্রার্থী ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেননি। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকায় (রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন) শপথ গ্রহণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সে হিসেবে ৮ জানুয়ারির মধ্যে ২৯০ জনের তালিকা সংসদ সচিবালয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠাবে।

    আইন অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে ১ এপ্রিলে মধ্যে এ নির্বাচন করতে হবে।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জোটের তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর পর এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। একইসঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও ভোটের দিন ঘোষণা করবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ করবে।

    আইন অনুযায়ী, কোনো জোট বা দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কে কত আসন পাবে তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন হবে আনুপাতিক। এক্ষেত্রে মোট সংরক্ষিত আসনকে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে, সেই ভাগফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার গুণফলই হবে ওই দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পেয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (২২ আসন) বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় সংসদে মহাজোটের প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ২৬৬টি। এক্ষেত্রে মহাজোট (আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৭ আসনে জয়লাভ করায়, দলটি পাবে ৪২টি আসন) পাবে ৪৪টি সংরক্ষিত আসন। জাতীয় পার্টি পাবে ৩টি আসন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি প্রার্থী অধিবেশন শুরু নব্বই দিন পর্যন্ত শপথ নেওয়া সুযোগ পাবেন। তার পরও শপথ না নিলে সে আসনগুলোতে পুনরায় নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের জন্য ২টি আসন থাকবে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যোগ না দিলে তাদের জন্য থাকবে একটি আসন।

  • মন্ত্রী হচ্ছেন আবু জাহির!

    হবিগঞ্জের সর্বমহলে এখন গুঞ্জন চলছে— মন্ত্রী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। অনেকে ধরেই নিয়েছেন এবার হবিগঞ্জ থেকে তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন।

    অনেকদিন ধরেই হবিগঞ্জবাসী একজন মন্ত্রীর দাবি করে আসছিলেন। আর রাজনৈতিক, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ সব অঙ্গনেই গ্রহণযোগ্য আবু জাহির। যে কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন- এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে কোনো এক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেবেন।

    তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীকেও সুসংঘটিত করে রেখেছেন আবু জাহির। এতে হবিগঞ্জ জেলার কোথাও আওয়ামী লীগের কোন্দল নেই। টুকটাক মনোমালিন্য থাকলেও সেটা ঠিক করে নিয়েছেন নির্বাচনের আগেই।

    বিশেষ করে গত ১০ বছরে এলাকার কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রয়োজনে ডাকলেই সাড়া দিয়েছেন তিনি। এলাকার সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সৃষ্টি করেছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ। যে কারণে সর্বস্তরের লোকজন দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে তার আহ্বান সাড়া দেন যে কোনো কিছুতেই। এরা সবাই তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, এমনটাই কথা চলছে সর্বমহলে।

    হবিগঞ্জ পৌরসভার পাঁচ বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যখন চরম দুঃসময় ছিল তখনও হবিগঞ্জের চারটি আসনেই নৌকা বিজয়ী হয়েছিল। তাই হবিগঞ্জকে বলা হয় দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ।’

    তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক মোস্তফা শহীদকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে হবিগঞ্জবাসীকে প্রতিদান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালে হবিগঞ্জের কাউকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি। তখন থেকেই দাবি উঠেছিল হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে মন্ত্রী বানানোর জন্য। এবারও হবিগঞ্জের চারটি আসনে নৌকার বিজয় হয়েছে। সংসদ সদস্য আবু জাহির দলীয় প্রধান এবং তিনবারের এমপি হিসেবে আমরা তাকে মন্ত্রী বানানোর জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

    হবিগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী ও সব চা বাগানের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের বলেন, ‘হবিগঞ্জে রয়েছে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ। এখানে দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে পর্যটনের। এছাড়াও বাল্লা স্থলবন্দর আধুনিকায়ন ও ইকনোমিক জোন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপন এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে এখানকার একজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী বানানো জরুরি। দলীয় অবস্থান এবং জেলা সদরের এমপি হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে মন্ত্রী বানানো হলে হবিগঞ্জবাসী উপকৃত হবে।’

    সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, ‘আবু জাহির এলাকার উন্নয়নে কাজ করে সবার আস্থা অর্জন করেছেন। তাকে মন্ত্রী বানানো হলে হবিগঞ্জবাসী উপকৃত হবে এবং দেশের জন্যও তিনি বড় অবদান রাখতে পারবেন।’

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আবু জাহির বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগের সভাপতির পর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করেছি। হবিগঞ্জ এখন নৌকার ঘাটি। জনগণ আমাকে ভালোবেসে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি উন্নয়ন করায় এলাকাবাসী আমাকে সর্বদলীয় নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছেন। দলের একজন কর্মী হিসেবে মানুষের সেবা করাই আমার কাজ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বার বার নৌকার মনোনয়ন দেওয়ায় আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’

    তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব পাওয়া না পাওয়া একান্তই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। যদি দায়িত্ব পাই তাহলে তার নির্দেশ মেনেই দেশের সেবা করে যেতে চাই।’

  • কমলগঞ্জে প্রচন্ড শীতে দেখা দিয়েছে নানা রোগ

    পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রচন্ড শীত ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে কমলগঞ্জ উপজেলা জুড়ে শৈত্যপ্রবাহ ও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ।

    চা বাগান অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে।

    শীতবস্ত্রের অভাবে কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভোগান্তি লক্ষ্য করা যায়। প্রচন্ড শীতের কারণে বিশেষ করে চা বাগানের চা শ্রমিকরা ও গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষেরা শীতে অতীষ্ট। নানা জায়গায় দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন রোগ। অনেক স্থানে খড়কুটা জ¦ালিয়ে শীত নিবারন করছেন।

    কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সাজেদুল কবীর জানান, প্রচন্ড শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন শতাধিক আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০-২৫ রোগী বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধরা ডায়রিয়া সর্দি, কাশি, জ¦র, নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

  • হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

    নিজস্ব প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল শান্তিশা গ্রামে বাদী বিবাদীর সংঘর্ষে মহিলাসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় সাজিদুর রহমান, রমিজ মিয়া, হাসিনা বেগম, শামছুন্নেহার, গউছ মিয়া, সাইফুল ইসলাম, আলামিন, কদ্দুছ মিয়া, মনোয়ারা ও নার্গিসকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় কদ্দুছকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয।

    এঘটনার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

  • হবিগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    নিজস্ব প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে তারা ভর্তি হয়েছেন।

    অসুস্থরা হল- নুসরাত জাহান, শাহিনা আক্তার লিজা, ফারজানা ইয়াসমিন, বিলকিছ আক্তার, পলি আক্তার, কম্পা আক্তার, আলেয়া আক্তার, চাদনী আক্তার ও দীপা বিশ্বাস।

    শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নার্সিং ইনস্টিটিউটে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল থেকে একে একে ১০ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ জানালে অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।

    হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহিদী হাসান জানান, খাবারে বা পানিতে জীবানু থাকার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা করছি। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে কারো অবস্থায় আশঙ্কাজনক নয়।

  • ‘সংসদে বিরোধী দল জাপা’

    একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দলটির কোনও সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

    শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং দেশবাসীর উদ্দেশে আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। পদাধিকার বলে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারী দলের সভাপতি হিসেবে আমি প্রধান বিরোধী দলের নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপ-নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

    এর আগে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এতে মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি এবং জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এছাড়া বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শপথ নেন ২৮৯ জন সাংসদ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির ছিলেন ২১ জন। অসুস্থতার কারণে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে গতকাল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, আমরা মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করেছি। তাই অধিকাংশ এমপিই সরকারের সঙ্গে থাকতে চান। এ বিষয়ে মহাজোটের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা-ই চূড়ান্ত। এছাড়া একইদিনে জিএম কাদের ঘোষণা করেন, জাতীয় পার্টি সরকারে থাকতে চায়।

  • আসল ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে বললেন রেজা কিবরিয়া

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: এটি আসল ভোট নয়, ভোট ডাকাতি করে তারা (আ’লীগ) জয় পেয়েছে। আমি জানি তাদের মাঝে কোনো তৃপ্তি নেই। কারণ ডাকাতির মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জনে তৃপ্তি থাকে না। ভোটাররা যেভাবে ভয়ভীতি, গ্রেফতার আতঙ্ক, মামলা-হামলা সব উপেক্ষা করে সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রে ছুটে গিয়েছিলেন, যদি তারা ভোট দিতে পারতেন তবে তাদের (আ’লীগের) এমন ভরাডুবি হতো যা কল্পনাও করা যেত না। এবার আসল ভোটের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. রেজা কিবরিয়া।

    শুক্রবার (৫ জানুয়ারী) দুপুরে জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জালাসাপ গ্রামের নিজ বাড়িতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি।

    এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ীতে পৌছেন তিনি। এসময় সেখানে এলাকার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন।

    তিনি বলেন, এখন প্রমাণিত হয়েগেছে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এ সরকার এটি সবার কাছে প্রমাণ করেছে। তারা জোড় গলায় বাইরে অনেক কিছুই বলে। কিন্তু ঘরে যখন যায় তখন তারা ঠিকই ভাবে কী লজ্জাজনক একটি কাজ করেছে।

    ড. রেজা বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটি দল ছিল, যে দলটি এক সময় মানুষের মুক্তির জন্যে, ভোটের অধিকারের জন্যে সংগ্রাম করেছে। তাদের ডাকে এদেশের প্রতিটি মানুষ প্রাণ দিতে রাজি ছিল। আর এখন এ আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে।

    রেজা কিবরিয়া বলেন, সবাই নিরাপদ থাকবেন। কারও সঙ্গে কোনো ধরণের বিবাদে জড়াবেন না। যখনই আসল নির্বাচনের ডাক আসবে তখন সবাইকে থাকতে হবে। তখন কোনো ভয়ভীতি থাকবে না।

    এদিকে রেজা কিবরিয়া বাড়িতে পৌঁছানোর খবর পেয়ে তার নির্বাচনী এলাকা নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। দুপুর পর্যন্ত তিনি তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।