Category: হবিগঞ্জ

  • লোক সংস্কৃতি আমাদের শিকরের কথা বলে – আবু জাহির

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লোক সংস্কৃতি আমাদের শিকরের কথা বলে। হাজার বছরে এই সংস্কৃতি আমাদের অহংকার। আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্য নিয়েই বাংলাদেশ। আর এই বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লোক গাথাঁ। এই লোক সংগীত বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়েছে। লোকসঙ্গীতকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় জালাল স্টেডিয়ামে ৩ দিনব্যাপি লোক উৎসবের ২য় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, চিত্ত বিনোদন ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। আর যুগে যুগে মরমী সাদকরা জন্ম নিয়ে আমাদেরকে দিয়ে গেছেন সেই বিনোদনের সুযোগ। হবিগঞ্জে জন্ম নিয়েছেন শেখ বানু ও দ্বীনহীনসহ অসংখ্য গুণীজন। তাদের ইতিহাসের সাথে আমাদের নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলেই এই জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে অবগত হবে দেশবাসী। এ সময় দেশের বারেণ্য শিল্পীগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে অনাড়ম্বর পরিসরে এই উৎসব আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতেও এ ধরণের আয়োজনে তার সবধরণের সহযোগিতা থাকবে বলে জানান এমপি আবু জাহির।

    হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কুদ্দুছ আলী সরকার, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী জামাল উদ্দিন হাসান বান্না, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী টিপু, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, কবি তাহমিনা বেগম গিনি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

  • মাধবপুরে চোরাই গাছ ভর্তি ট্রাক আটক

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে চোরাই গাছ ভর্তি ট্রাক আটক করেছে বন বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার সুরমা বাগান এলাকা থেকে (সিলেট-ট ১১-০২০৭) ট্রাকভর্তি গাছ পাচারের পথে জগদীশপুর বনজ দ্রব্য পরীক্ষণ ফাঁড়ির বিট কর্মকর্তা শামসুজ্জামান সঙ্গীয় বন কর্মীকে নিয়ে আটক করে।

    বিট কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জানান, আটককৃত ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। ট্রাকভর্তি গাছ এখনো মাপা হয়নি।

    এ বিষয়ে বন আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

  • বন্ধুদের ধর্ষণের সুযোগ না দেয়ায় হত্যা

    নুর উদ্দিন সুমনঃ বন্ধুদের ধর্ষণের সুযোগ না দেয়ায় হত্যা করলো ঘাতক প্রেমিক আলমগীর। গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে। আদালতে ঘাতক প্রেমিক আলমগির হত্যার দায় স্বীকার করে। সে রাজিউড়া ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে।

    আলমগির এর দেয়া দেয়া তথ্যমতে ঘটনার সাথে জরিত একই ইউনিয়নের আকদপুর মৃত ধলাই মিয়ার ছেলে জাহির মিয়া (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার জেল হাজতে প্রেরেণ করা হয়।

    মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এস আই জাহাঙ্গীর কবির ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে জানান আটক আলমগীর হত্যার মুল নায়ক। আলমগীর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে । আলমগীর সীমাকে ওলিপুর তার দোকানে আসার জন্য নিমন্ত্রণ জানায়।

    নিমন্ত্রণ পেয়ে ঘাতক প্রেমিকের কথা মতে ওলিপুর দোকানে ২ জন দেখা করে তখন আলমগীর পাহারে ঘুরতে প্রলোভন দেয়। তার প্রলোভন পেয়ে সীমা স্বরল বিশ্বাসে রঘুনন্দন পাহাড়ে ঘুরতে যায়। সেখানে পাহারের চুরায় জোরপূর্বক ধর্ষন করে ,পরে তার সহযোগদের সুযোগ না দেয়ায় শাড়ির আচল পেছিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

    পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সুমা রানীর ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সুমা রানী বাহ্মণবাড়ীয়ার সরাইল থানার নিয়ামতপুর গ্রামের বাদল সরকারের সাথে বিাবহ হয়। এদিকে স্বামী বাদল সরকারে সাথে বনিবনা হচ্ছিলনা বলে দীর্ঘ সাত মাস যাবৎ পিত্রালয়ে অবস্থান করছিল। এরই মাঝে সুমার সাথে আলমগিরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর সুবাধে আলমগির গোপনে প্রায়ই সুমার সাথে যোগযোগ করতো।

    এ ব্যপারে চুনারুঘাট থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, আলমগীর গুরুত্বপুর্ন তথ্য দিয়েছে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ।

    তিনি আরও জানান আমরা কললিষ্টের সুত্র ধরে বেশ কয়েক জনের নাম ইতিমধ্যে সনাক্ত করেছি। তদন্তের স্বার্থে এসব আসামীদের নাম বলা যাচ্ছেনা। আমরা হত্যার ৩৯ দিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উৎঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে জরিত সকল অসামী গ্রেফতার করে আইনের অওতায় নিয়ে আসতে পারব।

    সম্প্রতি সে পিত্রালয়ে থেকে গত ৪ জানুয়ারী সীমা বোনের বাড়ি শৈলজুড়া বেড়াতে এসে নিখোজ হয়। হত্যার দুইদিন পর ৫ জানুয়ারি চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের মাধবপুর সীমান্তবর্তী এলাকার রতনপুর কবরস্থান সংলগ্ন বেত বাগানের বেতরে থেকে লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

    ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলৈামের মাধ্যমে রাজনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। সুমা রানী সরকার (২৫) এর লাশ দাফন করার ১০ দিন পর সুমার পিতা মাতা চুনারুঘাট থানায় যুবতীর ছবি ও পড়নের কাপড় চোপড় দেখে তার মেয়ে বলে সনাক্ত করেন।

    পরে ১০ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুরাসন্দা গ্রামের নিরঞ্জন সরকারের স্ত্রী নিহত সুমার মা সন্ধ্যা রানী সরকার আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত ধর্মীয় মতে লাশ তুলে সৎকার করার নির্দেশ দেন। নিহত সুমার মা বাদী হয়ে মেয়েকে খুনের অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলাটি নিখুত তদন্তের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কললিষ্টের সুত্র ধরে একই কায়দায় অপর যুবতীর প্রেমের ফাঁদে ফেলে আলমগীর কে গ্রেফেতার করে ।

  • ছাত্রী লাঞ্ছিতর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ইউএনও অফিস ঘেরাও

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবলে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ফুসে উঠেছে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ সহকারী শিক্ষকগণ। এর বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্যালয় ঘেরাও করেছে তারা। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার হরিতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে।

    জানা যায়, হরিতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ চৌধুরী পঞ্চম শ্রেনীর জনৈক ছাত্রীর গায়ে হাত তুলে শাসন করছিলেন। গায়ে হাত তুলে শাসন করার প্রতিবাদ করেন সহকারী শিক্ষকরা। এ সময় তিনি ৪ জন নারী শিক্ষিকাদের অফিস কক্ষে ডুকিয়ে থালা মেরে দেন। পরে আবারও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাসে ঢুকে জনৈক ছাত্রীসহ অন্যান্য ছাত্রীদেরকে কিল ঘুষি মারেন।

    খবর পেয়ে আশপাশের অভিভাবকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কবল থেকে রুমের থালা খুলে আটককৃত শিক্ষিকাদের উদ্ধার করেন।

    পরে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরনে অতিষ্ট হয়ে মিছিল বের করে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় ঘেরাও করে।

    হরিতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল মুছাব্বির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি সব সময় ছাত্র ছাত্রীদের গায়ে হাতে মারপিঠ করেন।

    বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার অফিসে এসেছিল, তাদের অভিযোগ শুনেছি, কালই তাদেরকে ডাকব ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক, স্কুলের সভাপতি স্কুলে বিভিন্ন কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন, সেই সুযোগ না দেওয়াতে তিনি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন।

  • মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে মেয়ে

    কামরুল হাসানঃ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের বিশাউড়া গ্রামে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হলেন শিরিন আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী।

    বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের মৃত্যুর শোকে চোখে অশ্রু নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ পরীক্ষা কেন্দ্রে পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে শিরিন। বার বার সে নিজেকে হারিয়ে ফেললেও সহপাঠি ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় শিরিন আক্তার পরীক্ষা দিচ্ছেন।

    এ ঘটনায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছাত্রীর মায়ের মৃত্যৃর সংবাদ ছড়িয়ে পরার পর এক হাতে চোখ মুছতে ও অন্য হাত দিয়ে খাতায় উত্তরপত্র লেখতে দেখা যায়।

    এ সংবাদ পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান পরীক্ষা কেন্দ্রে ছুটে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে শান্তনা দেন। এসময় আবেগ ঘন মুহুর্ত ছড়িয়ে পড়ে পরীক্ষা কক্ষে। সুন্দরভাবে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান শিক্ষা অফিসার।

    জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার্থী শিরিন আক্তার জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিশাউড়া গ্রামের মোঃ আহাদ মিয়ার মেয়ে। তার মায়ের নাম জাহানারা আক্তার। শিরিন মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী।

    মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন বাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান- শিরিন আক্তার মেধাবী ছাত্রী। দশম শ্রেণীতে তার রোল ছিল ৫। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন শিরিন আক্তার মা জাহানারা আক্তার।

    ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ডাঃ আবুল কালাম জানান- এসএসসি পরীক্ষার্থী শিরিন আক্তারের মা জাহানারার লাশ দুপুর ২টায় অর্থাৎ মেয়ে পরীক্ষা থেকে আসার পর দাফন করা হবে।

  • হোটেল শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকরের দাবি

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৮৬৮-এর পক্ষ থেকে হোটেল রেস্টুরেন্ট ও মিস্টি বেকারি সেক্টরে দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ শ্রমআইন কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।

    বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।

    জেলা হোটেল মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কাওছার খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২০৩৭ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ১৯৩৩ এর সভাপতি মোঃ ছাদেক মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস।

    সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হোটেল মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি দিলিপ দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক দুরুদ মিয়া, কোষাধ্যক্ষ শহীদ খান এবং পৌর কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাগর আহমেদ, রফিক মিয়া, সুমান দাশ, কাজল মিয়া, কুশল দাস, রিয়াজুল ইসলাম প্রমূখ।

    সভায় বক্তারা বলেন বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ করার আইন থাকলেও হোটেল মালিকরা শ্রমিকদের দৈনিক ১২/১৪ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করান। আইনের ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান করার আইনের তোয়াক্কা মালিকরা করেন না। সপ্তাহে দেড়দিন তো দুরের কথা মালিকরা মাসেও এক দিন ছুটি দেন না। আর যদিওবা কোন সময় ছুটি মেলে মালিকরা সেই দিনের মজুরি দেননা। অথচ হবিগঞ্জের পাশ্ববর্তী সকল জেলা শ্রমিকদের কাজের শিফট চালু আছে, কেবল হবিগঞ্জের শ্রমিকদের একটানা কাজ করতে হয়।

    এছাড়াও বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচ্যুয়েটি, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও হোটেল শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হন। হোটেল শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    সভা থেকে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ নিন্মতম মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা, সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরির গেজেট কার্যকর, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, ৮ ঘন্টা কর্ম দিবস, নিয়োগ পত্র, পরিচয় পত্রসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়।

  • মাধবপুরে নিজ ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে এরশাদ আলী (৫০) নামে এ ব্যক্তিকে বল্লম দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তার ছোট ভাই বাচ্চু মিয়া (৪০)। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ।

    এর আগে বুধবার দুপুরে হামলার শিকার হন তিনি। এরশাদ ও বাচ্চু উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বৈষ্টবপুর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে।

    জানা যায়, গতকাল বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এরশাদের মালয়েশিয়া প্রবাসী ছোট ভাই নাসির উদ্দিনের বাড়ি তৈরির জন্য স্তূপ করে রাখা বালু নিয়ে যাচ্ছিলেন আরেক ভাই বাচ্চু। তা দেখে তাদের বাবা মর্তুজ আলী তাকে বালু নিতে নিষেধ করলে বাচ্চু তার বাবার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে এরশাদ এগিয়ে এসে বাবাকে সরিয়ে নিতে চাইলে বাচ্চু ক্ষিপ্ত হয়ে এরশাদ আলীর বুকের বাম দিকে বল্লম (দেশি অস্ত্র) দিয়ে কোপ দেন।

    এ অবস্থায় এরশাদকে উদ্ধার করে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    মাধবপুর থানার ওসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাচ্চু পালিয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয়রা জানান, এরশাদরা ছয় ভাইয়ের সবাই প্রবাসী। এর মধ্যে এরশাদ ছিলেন ব্রুনাই প্রবাসী। বাচ্চুসহ অন্য ভাইয়েরা সৌদি এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে থাকেন। কিছুদিন আগে বাড়ি আসেন এরশাদ এবং বাচ্চু।