Category: হবিগঞ্জ

  • হবিগঞ্জে ডাক্তারদের দুপক্ষের মারামারি

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় ডাক্তারদের দুপক্ষের মারামারির ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    কিন্তু কোন মামলাই থানায় এফআইআর করা হয়নি। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আয়া মোছা. সালমা খাতুন বাদী হয়ে ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করে হবিগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    সালমা তার মামলায় জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও হাসপাতালের স্টাফকে সাক্ষী করেন। তার সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন ডা. অসিত রঞ্জন দাস, ডা. প্রবাস চন্দ্র দেব, ডা. আবু নাইম মাহমুদ হাসান, ডা. মীর মো. মঈন উদ্দিন, ডা. দেবাশীষ দাস, ডা. কায়ছার রহমান, ডা. মাহবুবুর রহমান, ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল, ডা. তারেক আল হোসাইন।সালমা খাতুন তার অভিযোগে বলেন, আসামিগণ দলভুক্ত সন্ত্রাসী, সরকারি সম্পদ অনিষ্ট সাধনকারী ও খুনি প্রকৃতির ব্যক্তি বটে। আসামি ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশসহ অজ্ঞাত আসামিগণ দেশের প্রচলিত আইন কানুনের তোয়াক্কা করছে না, পক্ষান্তরে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিরীহ ব্যক্তি বটে।

    ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে ২৫০ শয্যা হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে ডা. মুশফিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা চলছিল। সভা চলাকালে হঠাৎ করে আসামি ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশসহ অজ্ঞাত আসামিগণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সভাকক্ষে অন্যায়ভাবে প্রবেশ করে মারমুখী আচরণ করেন। তখন সভাপতি ডা. মুশফিক চৌধুরী এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ডা. পলাশ তার সঙ্গীদেরকে সভায় উপস্থিত সকলকে হত্যার হুকুম দেন।

    ডা. পলাশের হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে অন্যান্য আসামিগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সভায় উপস্থিত সকলের উপর হামলা চালায়। এ সময় ডা. পলাশ লোহার পাইপ দিয়ে আয়া সালমা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথার উপর আঘাত করেন। উক্ত আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সালমার ডান গালে পড়ে। ফলে সালমা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন।এছাড়া আরো বেশ কিছু আঘাতে সালমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। আসামিদের হামলায় হাসপাতালে কর্মরত শাহজাহান মিয়া, ফরিদ মিয়া, আব্দুল হামিদসহ অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, আসামিরা ওই সভায় অংশগ্রহণকারী ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ স্টাফদের লাঞ্ছিত ও মারপিট করে এবং সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করে।

    এছাড়া আসামিরা ডাক্তার ও নার্সদের ভবিষ্যতে দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলার আরজিতে আয়া সালমা খাতুন উক্ত ঘটনায় দুষি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ওসির প্রতি অনুরোধ জানান।অন্যদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশ বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য স্টাফদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগে জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে ১নং বিবাদী করা হয়।

    এছাড়া আরো যাদেরকে বিবাদী করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- ডা. মঈন উদ্দিন সাকু, প্রহরী শাহজাহান, পিয়ন ছোটন, ব্রাদার হাবিবুর রহমান। তার অভিযোগে মোট ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।অভিযোগে তিনি দাবি করেন- আসামিগণ তার উপর চড়াও হয়ে তাকেসহ তার সঙ্গীদেরকে মারপিট করেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

    হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় হামলা চালায় চিকিৎসকদের একটি অংশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের সভাকক্ষে বিএমএ হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী।

    রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএমএ হবিগঞ্জ জেলা শাখা সদর আধুনিক হাসপাতাল সভাকক্ষে সভায় মিলিত হয়। বিএমএ ও স্বাচিপ হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএমএ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপ এর সাথে সম্পৃক্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং হাসপাতালের নার্সসহ স্টাফরা অংশ নেন।

    সভা চলাকালে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সভাকক্ষে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ডা. পলাশ ক্ষুদ্ধ হয়ে ডা. মুশফিক চৌধুরীর কাছে জানতে চান তাকে না জানিয়ে কেন সভা আহ্বান করা হলো।

    এ সময় ডা. পলাশ সভায় উপস্থিত সকলকে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আহত অবস্থায় আব্দুল হামিদ (৪৬), ফরিদ মিয়া (৩০), শাহজাহান মিয়া (৩০), সালমা বেগম (৪৬), মনীষা (২০) ও শেখ জাহিরকে (৫৫) হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

  • ছাত্র জীবন থেকে এখন পর্যন্ত আপনাদের সেবা করে যাচ্ছি ও করতে চাই – মোতাচ্ছিরুল ইসলাম

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাচ্ছিরুল ইসলামের সমর্থনে উপজেলার উচাইল বাজারে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাচ্ছিরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ছাত্র জীবন থেকে এখন পর্যন্ত আপনাদের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও করতে চাই।

    তাই আপনাদের ভালবাসা পেতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। আমার বিশ্বাস নিজের ছেলে-ভাই-বন্ধু হিসাবে ১০ তারিখে নির্বাচনে আনারস প্রতীকে আমাকে আপনারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

    তিনি বলেন, আমিও আপনাদের প্রতিশ্র“তি দিতে চাই, হবিগঞ্জ-৩ আসনের উন্নয়নের কারিগর আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি’র সার্বিক তত্ত্বাধায়নে আপনাদের সাথে নিয়ে এই উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড তরান্বিত করব।

    মোতাচ্ছিরুল ইসলাম বলেন, শাসক হয়ে নয়, আপনাদের সেবক হয়ে উন্নয়নের ফেরি করতে চাই।

  • শতকরা ৫৬ জনের মুখের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে ঊর্ধুকে চাপিয়ে দিয়েছিল – আবু জাহির

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জাতীয় সংসদ কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ মোঃ আবু জাহির এমপি বলেছেন, শতকরা ৫৬ জনের মুখের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে ঊর্ধুকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

    সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদল ছাত্রকে নিয়ে তার মুখ বরাবর প্রতিবাদ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়েই মূলত ভাষা আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। একুশে ফেব্র“য়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাতিসংঘ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    MP-Abu-Zahir-এমপি-আবু-জাহির

    এমপি আবু জাহির আরো বলেন, ৫২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারির পূর্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মাধ্যমে ৫টি বছর আন্দোলন করা হয়। বঙ্গবন্ধু কারাভোগ করেন আড়াই বছর। বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জন হয়েছে।

    এবার আসুন সকলে মিলে দাবি জানাই আমাদের মাতৃভাষাকে জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থান দেওয়ার জন্য। এমপি আবু জাহির বলেন, ভিশন ২০২১ ও ৪১ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। আসুন সকলে মিলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেই।

    আলোচনা সভায় এমপি আবু জাহির ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ আফছারুল আমীন এমপি, আফম রুহুল হক এমপি, বেনজীর আহমেদ এমপি, আহসান আদেলুর রহমান এমপি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বক্তৃতা করেন।

  • আজ মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

    আজ বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে।

    মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার, অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত।

    রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

    মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

    তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নর আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘বরকত-সালামকে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত-সালাম আমাদের ভালোবাসে।

    ওরা আমাদের ভালোবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত।’

    একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ, বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

    রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরপরই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

    ইতোমধ্যেই অমর একুশে পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।

    জাতীয় ছুটির দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। এ দিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

    শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

    এ উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

    এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

  • বাহুবলে ‘সৃষ্টির জয়যাত্রা’ কাব্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মেচন

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবলে একুশে বইমেলায় কবি রোকসানা জেসমিন রুনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “সৃষ্টির জয়যাত্রা” মোড়ক উন্মোচন করেছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক  (ডিসি) মাহমুদুল কবীর মুরাদ মহোদয়।

    মঙ্গলবার বিকালে বাহুবল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী একুশে বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ বইয়ের মোড়ক উন্মেচন করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    তরুণ প্রজন্মের কবি বাহুবলের মিরপুর এলাকার পাঁচ গ্রাম নেতা ফয়সল আহমেদের সহধর্মীনি।

  • বানিয়াচং উপজেলায় গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা

    বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে কাবিল হোসেন (৫৫) নামের ৪ সন্তানের জনক আত্মহত্যা করেছেন।

    বুধবার ভোর রাতে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত কাবিল হোসেন উপজেলার চান্দের মহলার মৃত্য আনছব আলীর পুত্র।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবিল হোসেন মানসিক রোগী ছিলেন। সে প্রায়ই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে আসছিল, তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে সে সম্পর্কে কোন কারণ জানা যায়নি।

    বানিয়াচং থানার এসআই মো: জুলহাস লাশের ছুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

  • কৃষক কাছম আলী হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে কৃষক কাছম আলী হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

    দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- লাখাই সদর ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামের ফকির চাঁন মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (৫৫) ও করিম মিয়ার ছেলে আজিজুল মিয়া (৩০)।

    মামলার অপর ১৩ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    জেলা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল আহাদ ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, একই উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আবু সিদ্দিকের ছেলে কৃষক কাছম আলীর (৫৫) সঙ্গে আসামি ফারুক মিয়া ও আজিজুলের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ২০১৫ সালের ৭ মার্চ জমি থেকে কাজ করে ফেরার পথে আসামীরা কাছম আলীকে মারপিট করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে ৪দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১১ মার্চ তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় নিহত কাছম আলীর স্ত্রী ফাহিনা বেগম বাদী হয়ে ওই বছরের ১৫ মার্চ ১৫ জনকে আসামী করে লাখাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে লাখাই থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক একই বছরের ১৭ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বিচারক দুই আসামি ফারুক মিয়া ও আজিজুল মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। বাকি আসামিদের মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।