Category: হবিগঞ্জ

  • হবিগঞ্জ শহর থেকে ২০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার আটক ১

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ শহর থেকে ২০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এ সময় এক মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়।

    রবিবার (৩ মার্চ) বিকেলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার ইন্ট্রাকো সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

    আটক মোঃ সেলিম মিয়া (৩৫) হবিগঞ্জ সদর উপজেলাধীন বড় বেহুলা গ্রামের মৃত মশারব আলীর ছেলে।

    র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তারকৃত সেলিমের পকেট থেকে ২০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পাচার করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, আটককৃত সেলিম সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন কৌশলে হবিগঞ্জে ইয়াবা নিয়ে আসেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অভিনব কায়দায় হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর

    সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এসব ইয়াবা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে থাকেন। তাঁর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • নবীগঞ্জে মাঠে-ঘাটে জমে উঠেছে নির্বাচনী উৎসব

    এম, এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ থেকেঃ প্রথম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ মার্চ। নবীগঞ্জে মাঠে-ঘাটে জমে উঠেছে নির্বাচনী উৎসব। মাঠে বিএনপি নেই। তবু প্রতিদ্বন্ধিতায় আছে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতাসীন নেতারা দৌড়ঝাপ করছেন।

    প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় তাই সরব নবীগঞ্জ উপজেলার হাটবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা। ১ টি পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রতীক বরাদ্ধের পর পরই ভোট প্রার্থনায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

    হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক। বসে নেই ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও। চেয়ারম্যান পদে ৬ জন।

    ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রচারণায় নেমে পড়েছে প্রার্থীরা।

    চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী থাকলেও এ উপজেলায় রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি। সবাই সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে প্রচারণা। মাইকে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে গান বাজানো হচ্ছে। এতে শব্দ দূষনেও অতিষ্ট জনসাধারণ।

    উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী (নৌকা প্রতীক), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম (ঘোড়া প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রাথী সাবেক চেয়ারম্যান হাদী গাজির স্ত্রী গাজী খালেদা সরোয়ার (দোয়াত কলম), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই (কাপ-পিরিচ), জাতীয় পার্টির হায়দর মিয়া (লাঙ্গল) ও ইসলামী ঐক্যজোট মাওলানা আবু ছালেহ (মিনার)।

    সাধারণ ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যারা এলাকার উন্নয়ন করবে এমন প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে চান তারা। চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম। তবে গেল সংসদ নির্বাচনে মিলাদ গাজীর চমকে একই পরিবারের প্রার্থী গাজী খালেদা সরোয়ারকে নিয়েও থেমে নেই আলোচনা। এ ছাড়া অপর প্রার্থীদের সমর্থকরাও নিজেদের প্রার্থীদের প্রাচরণা করছেন।

    ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী ওবায়দুল কাদের হেলাল (টিউবওয়েল), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গতি গোবিন্দ দাশ (তালা), উপজেলা জাপার আহ্বায়ক ডাঃ শাহ আবুল খায়ের (উড়ো জাহাজ), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মুরাদ আহমেদ (লাঙ্গল), আওয়ামীলীগ নেতা আবু ইউসুফ (চশমা), ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাক আহমদ ফারকানী (মিনার)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম (হাঁস) ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছইফা রহমান কাকুলি (ফুটবল)।

  • হবিগঞ্জ বাণিজ্যমেলায় নকল-ভেজাল ও মেয়াদউত্তীর্ণ কসমেটিকস

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ বাণিজ্যমেলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল-ভেজাল ও মেয়াদউত্তীর্ণ কসমেটিকস।

    রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালিত এক অভিযানে বেরিয়ে আসে এ তথ্য।

    অভিযানে দেখা যায়, মেলায় আসা কসমেটিকসের স্টলগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ব্রান্ডের নকল কসমেটিকস। এসব কসমেটিকসের মধ্যে রয়েছে পন্ডস, লেকমি, গার্নিয়ারসহ প্রায় সবধরণের বিদেশি ও নামিদামী ব্রান্ড। এসব কসমেটিকসের বেশিরভাগই ভৈরব, চকবাজার, কেরানীগঞ্জের মত জায়গাতে তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন বিক্রেতারা।

    এসময় ভেজাল কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে জে এম কালেকশনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও মেয়াদউত্তীর্ণ কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে নূর কসমেটিকসকে আরো ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে তারা আর নকল-ভেজাল পণ্য বিক্রি করবেনা বলেও মুচলেখা প্রদান করে। পাশাপাশি মেলায় আসা প্রত্যেকটি স্টলকে নকল ও ভেজাল পণ্য বিক্রির না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়।

    অভিযানে ফুসকা ও চটপটির দোকানগুলোকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ক্রেতাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন খাদ্য সরবরাহের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। একই দিনে হবিগঞ্জের টাউনহল রোডে অতিরিক্ত মূল্য রাখা ও মেয়াদউত্তীর্ণ পন্য বিক্রির দায়ে স্বচ্ছ স্টোরকে ১ হাজার টাকা ও অবৈধ ঔষুধ বিক্রির দায়ে লাকী ফার্মেসিকে আরো ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সার্বিক সহয়তায় ছিলেন জেলা চেম্বারের সদস্য দেওয়ান মিয়া ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি টিম।

    অভিযান চলাকালে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যহত থাকবে।

  • নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পূর্ণ-নির্মাণ কাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে রয়েছেন নানা প্রশ্ন ! ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে পুরোধমে চালিয়ে যাচ্ছে সংস্কার কাজ। কিন্তু জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। এই আঞ্চলিক সড়কের কাজে নিম্ন মানের মালামালের পাশাপাশি পাথরের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিরিক্ত বালু।

    আর্চায্যজনক হলেও সত্য পূর্বের সড়ক থেকে দুই পাশে প্রায় ২ ফুট রাস্তা কমিয়ে ছোট করে হেজিং দেয়া হয়েছে। আর হেজিংয়ে ১ নাম্বার ইট দেয়ার কথা থাকলে ও দেয়া হচ্ছে ২/৩ নাম্বারের ইট। এছাড়াও সড়কে অতিরিক্ত ধুলোবালির কারণে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এ রাস্তায় চলাচল করা যাত্রীগণ। নিয়মিত পানি দেয়ার কথা থাকলেও মাঝে মধ্যে পানি দিয়েই দায় এড়াতে মরিয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ধুলোবালির কারণে প্রায়দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এই সড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীগণ। এঘটনায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। কিন্তু এঘটনায় প্রশাসন রয়েছে নিরব ভূমিকায় তদারকির দায়িত্ব নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। অনেকেই জানান, কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এ রখম অনিয়ম দুর্নীতি করছে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের কুর্শি ইউনিয়নের ফুটারমাটি এলাকায়সহ সড়কের বিভিন্নস্থানে পূর্বে সড়কের সীমানা থেকে উভয় পাশে প্রায় দুই ফুট ছোট করে ইট দিয়ে হেজিং করা হয়েছে। এছাড়াও পানি নিয়মিত না দেয়ার ফলে ধুলোবালির জন্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছেন অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসিয়াল কর্মকর্তার পরিধানকৃত কাপর। সড়কের কাজে নিম্ন মানের মালামাল ব্যবহারের পাশাপাশি পাথরের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিরিক্ত বালু । এতে তদারকির দায়িত্ব থাকা সংশ্লীষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন ।

    এব্যাপারে এই সড়কের যাতায়াতকারী জুমান আহমেদ নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন কলেজের যাওয়ার সময় ধুলোবালির কারণে কলেজ ড্রেস নষ্ট হয়ে যায়,এবং আমার কয়েকজন সহপাঠি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    সৈরত মিয়া নামে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি জানান, আগের রাস্তা থাকি এ রাস্তা উভয় পাশে ছোট অই গেছে, রাস্তায় ধুলোবালির জন্য চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে,এ বয়সেও ধুলোবালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে দ্রুত এর সমাধানে কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

    সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা পূর্ণ-নির্মাণের জন্য ১৯ কোটি টাকার কাজ পায় লুৎফুর রহমান,ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী ও আশরাফ উদ্দিন কামালের যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জন-জেবি।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, খোজ নিয়ে যদি সড়কে নিম্ন মানের মালামাল,পাথরের চেয়ে বালু বেশি এবং মাপের চেয়ে রাস্তা ছোট করা হয় তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বানিয়াচঙ্গে এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

    বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আরচণ বিধি ভঙ্গ করে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান।

    রোববার (৩ মার্চ) দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিসার ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

    উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান উল্লেখ করেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরন বিধিমালা ২০১৬ এর ২ (১৪) ধারা অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য সরকারী সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কিন্তু হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নস্থ মার্কুলী বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত নৌকা প্রতীকের সমর্থনে জনসভায় প্রচারণামূলক বক্তব্য রাখেন এবং নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। অন্যতায় এই ইউনিয়নের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থগিত হয়ে যাবে বলেও হুশিয়ারী দেন।

    এর দু’দিন পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারী বানিয়াচং ১নং উত্তর-পুর্ব ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা যুবলীগের নামে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা করে নৌকাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। ওই বর্ধিত সভায়ও তিনি নৌকায় ভোট না দিলে উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাবে বলে হুশিয়ারী দেন।

    অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরো উল্লেখ করেন, এমপি আব্দুল মজিদ খান প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও তথা কথিত বর্ধিত সভার নাম দিয়ে নেতাকর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি ধামকি বিভিন্ন ইউনিয়নে সভার আয়োজন করাচ্ছেন। আর ওই সব সভায় এমপি স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যা নির্বাচনী আচরন বিধি শুধু লঙ্ঘনই হচ্ছে না নির্বাচনী পরিবেশকে ঘোলাটে ও উত্তপ্ত করে তুলচে।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান বলেন, আমার আনারস মার্কার কর্মী-সমর্থকদেরকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করারও হুমকি দিচ্ছেন। সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য নির্বাচনী বিধিমালার ২২ ধারার পরিপন্থি। এতে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে সমানাধিকার খর্ব হয়েছে। যা বিধিমালার ৩ ধারার পরিপন্থি।

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, অর্থ, পেশী শক্তি কিংবা স্থানীয় ক্ষমতা দ্বারা নির্বাচন প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যা বিধিমালার ৩১ ধারার পরিপন্থি। তিনি যে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তব্য রেখে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থণা করছেন তা স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গনমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলে কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা হাত উচিতে দেখান।

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান (আনারস) উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই গণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার ধারাবাহিকতায় আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। বঙ্গবন্ধু’র হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করে বর্তমানে উপজেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছি। আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারো উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল আওয়ামীলীগের ভোটে বিপুল ব্যবধানে আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম।

    কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগকে আত্মীয় করণের লক্ষ্যে তাঁর নিকট আত্মীয়কে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত লবিং করেছেন। যার ফলশ্র“তিতে নৌকার বর্তমান প্রার্থী মনোনয়ন পান। আর এ মনোনয়নের ফলে তৃণমূল আওয়ামীলীগের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের প্রতিটা নেতাকর্মী তার সাথেই রয়েছেন বলেও দাবী করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান।

    এ সময় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আরোপ করা সকল আইন মেনে চলেই আমি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকজন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানকে সাথে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু প্রচারণাই নয় বরং তাঁরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও নির্বাচনী সভায় অনুদানও ঘোষণা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন।

    জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগটি পাঠিয়েছি।

    অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জি কে গউছসহ বিএনপির ১৪ নেতাকর্মী

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে সহিংসতা সহ চারটি মামলায় ১৪ দিন কারাবাসের পর মুক্তি পেলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছসহ দলের ১৪ নেতাকর্মী।

    রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হন গউছসহ ১৪ জন।

    কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জি কে গউছসহ বিএনপির ১৪ নেতাকর্মী ২

    এর আগে গত ১৮ ফেরুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চারটি মামলায় জামিন আবেদন করলে বিচারক আমজাদ হোসেন জিকে গউছসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৪ নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

    জিকে গউছের আইনজীবি এডভোকেট মোঃ নুরুল ইসলাম জানান- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনাসহ মিথ্যা চারটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী নিম্ন আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

    এর আগে গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন জি কে গউছসহ অন্যান্য আসামিরা।

  • ভয়ানক গ্যাস বোমায় ভাসছে হবিগঞ্জের দোকানপাট

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভয়ানক গ্যাস বোমায় ভাসছে হবিগঞ্জের দোকানপাট, বাসা-বাড়ি। যত্রতত্র ‘মুড়ি-মুড়কি’র মত বিক্রি হচ্ছে মৃত্যুদূত গ্যাস সিলিন্ডার। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহৃত বিপদজনক গ্যাস (এল.জি.পি গ্যাস) সিলিন্ডারের দোকান। যাদের অধিকাংশেরই নেই বৈধ লাইসেন্স, সুরক্ষিত গোদাম, প্রশিক্ষিত জনবল।

    লক্ষ্য করা গেছে, পানের দোকান, চায়ের স্টলেও এখন বিক্রি হচ্ছে এসব বিপদজনক সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও জনবহুল রাস্তার পাশে ‘আলু-মুলা’র মত সাজিয়ে রাখা হয়েছে সিলিন্ডারের পসরা।

    অভিযোগ উঠেছে, বাজারে মেয়াদউত্তীর্ণ নিন্মমানের সিলিন্ডার ও রেগুলেটরই বিক্রি হচ্ছে বেশী। প্রয়োজনের তাগিদে এসবই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। এ বিষয়ে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় বিষয়টি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। এতে করে দেখা দিয়েছে ভয়ানক বিস্ফোরন ও প্রাণহানীর আশংকা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরনের ঘটনায় এ আশংকা আরও প্রবল হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একসাথে ৪১ টির বেশী গ্যাস সিলিন্ডার রাখতে হলে ব্যবসায়ীর জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তবে একসাথে ৪১ টির কম সিলিন্ডারের জন্য শুধুমাত্র ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রই বাধ্যতামুলক।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ শামছুল আলম জানান, জেলার ৮০ ভাগ সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানেরই লাইসেন্স নেই। তাদের লোকজন দোকানে দোকানে গিয়ে লাইসেন্স করার জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্ভুদ্ধ করে থাকেন। এতে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাড়া দিলেও বড়-বড় ব্যবসায়ীরা অনাগ্রহ দেখান। যেকারনে দোকান গুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী, এল.পি.জি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পাকা মেঝেসহ আধা-পাকা ঘর ও অগ্নি-নির্বাপক সক্ষমতা থাকতে হবে। সচেতন হতে হবে বাস-বাড়ির ব্যবহারকারীদের। প্রয়োজনে নিতে হবে ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শ।

    জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানান, গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত জেলার ২৯টি অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

    তিনি জানান, তাদের অভিযান অব্যাহত আছে, না-না সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।