Category: হবিগঞ্জ

  • চা-কফি ও কফি মেশিনের পরিবর্তে ৩ ট্রাক বালু প্রেরণ

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চা-কফি ও কফি মেশিনের পরিবর্তে ৩ ট্রাক ভর্তি ২৪ হাজার কেজি বালু প্রেরণ করে রোজ ক্যাফে কোম্পানির সাথে প্রতারণা করেছেন হবিগঞ্জের এক ডিলার, এমন অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হরমুজ আলী নামে ওই ডিলারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে বালুর কার্টন ভর্তি গাড়িগুলো জব্দ করে পুলিশ। এ সময় রোজ ক্যাফে বাংলাদেশ লিমিটেডের অপারেশন ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম খানের দায়ের করা মামলায় ওই ডিলারকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ শহরে হরমুজ আলীর মালিকানাধীন ‘আদি খাঁজা বেনু’ নামে প্রতিষ্ঠান রোজ ক্যাফে কোম্পানির পরিবেশক হিসেবে সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত ছিল। সম্প্রতি ডিলার এবং কোম্পানির মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে ‘আদি খাঁজা বেনু’র ডিলারশিপ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।

    তিনি আরো জানান, জামানতের টাকা ফেরত পেয়ে গত ৯ মার্চ কোম্পানির মালামাল গাড়িতে করে ফেরত পাঠান ডিলার হরমুজ আলী। এতে ১২ হাজার প্যাকেট চা, ১২ হাজার প্যাকেট কফি এবং ৩৪টি কফির মেশিন থাকার কথা ছিল। কোম্পানির হিসাবমতে যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কিন্তু গাড়িতে এসব চা-কফির প্যাকেট কিংবা কফির মেশিন নয়, পাওয়া যায় ২৪ হাজার কেজি বালু। এছাড়া অনেকগুলো খালি কার্টনও পাওয়া যায়। পরে রোজ ক্যাফে কোম্পানি এগুলো হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় পাঠিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

    হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, প্রতারণার অভিযোগে ৯ মার্চ কোম্পানির অপারেশন ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম খান বাদী হয়ে হরমুজ আলী এবং তার ছেলে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হরমুজ আলীকে রাতে গ্রেফতার করলেও তার ছেলে পলাতক রয়েছেন।

    মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম জানান, এত বড় প্রতারণা এর আগে কোনো কোম্পানির সাথে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন তিনি।

  • নবীগঞ্জে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভরাডুবির নেপথ্যে!

    এম এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জঃ গত রোববার নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর চরম ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক( নির্বাচনের সময় অব্যাহতি প্রাপ্ত) ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের কাছে।

    চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২শ ৩০ ভোট, তার নিকঠতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী এড. আলমগীর চৌধুরী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন,২৬হাজার ১শ ১৩ ভোট। ভোটের ব্যবধান হচ্ছে ২১ হাজার ১শ ১৭ ভোট।

    উক্ত নির্বাচনী ফলাফল এর নেপথ্যে কারন নিয়ে নবীগঞ্জে সর্বমহলে তীব্র আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীকে সর্মথন দেয়া নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়।

    উপজেলা যুবলীগের বৃহৎ অংশ ও আওয়ামীলীগের একটি অংশ আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে যুবলীগের বর্ধিত সভা করে ৬ ইউনিয়ন কমিটি স্থগিত করা হয়। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের কে নির্বাচনের সময় অব্যাহতি প্রদান করে নতুন আহবায়ক করা হয় যুন্ম আহবায়ক শাহ গুল আহমদ কাজলকে এবং আওয়ামীলীগ পৃথক একটি বর্ধিত সভা করে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী সহ কতিপয় নেতাকে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়। ঐদুটি বর্ধিত সভায় সিন্ধান্ত হয় দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ে করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবে।

    কিন্তু বাস্তবে প্রতিপক্ষরা আরো শক্ত অবস্থানে চলে যায়। আওয়ামীলীগের মধ্যে বাহিরের কোন কোন্দল প্রকাশ্যে না আসলেও ভিতরে একটি বৃহৎ অংশ দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করেন।আর যুবলীগের বিদ্রোহীরা আধাজ্বল খেয়ে মাঠে নামে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে। তারা দলীয় প্রার্থীর ভুল ত্রুটি জনসম্মূখে তুলে ধরেন।তাই দলের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়।

    ফলে আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসাবে পরিচিত নবীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি, জামাতসহ নিরদলীয় ভোটারগন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের দিকে ঝুকে পড়েন। বিএনপি ও জামাত নির্বাচনে না আসায় তাদের নেতা কর্মী সর্মথক অনেকেই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের ঘোড়াকে সর্মথন করেন।

    তাদের ক্ষোভ হলো সেলিম জিতলে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হবে এবং তাদের জাতীয় নির্বাচনের একটি প্রতিশোধ হবে । তাই বিরোধী বলয়ে একটি ভোট আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী পাননি।

    এছাড়া আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয় তিনি না কি দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরীসহ বিভিন্ন নিয়োগ বানিজ্যে জড়িত ছিলেন। এতে সাধারণ জনগনের তীব্র প্রভাব ফেলে। বিরোধী বলয়ে অপপ্রচার আর দলের একটি অংশের বিরোধীতার কারনে চরম ডুবি হয় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ।

    বিএনপি জামাত বলয়ে ভোট সব একপক্ষে চলে যাওয়ার কারনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের ঘোড়াকে নিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এব্যাপারে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর বলেন, আমার সাথে দলের একটি বৃহৎ অংশ যুবলীগের কিছু লোক বেঈমানি করেছে।নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী সরাসরি তার লোকজন নিয়ে আমার ও নৌকার বিরুধীতা করেছে।

    দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কিছুতেই নৌকার পরাজয় হতো না। তারা জামাত বিএনপির সাথে হাত মিলিয়ে আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমি সর্বদলীয় ভোটে জয়লাভ করলেও আমি আওয়ামীলীগ পরিবারের লোক। দলীয় রাজনীতির সাথে আছি থাকবো তিনি বলেন আমি কারো সাথে আতাত করে জয় লাভ করি নাই, জনগন ভালবেসে দুর্নীতির বিরোদ্ধে ভোট দিয়েছে তাই চলার পথে সবার সহযোগিতা চাই।

    নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি দলীয় প্রার্থীর বিরুধিতা করি নাই।

  • বাহুবলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অর্ধশতাধিক আহত

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার স্নানঘাট বাজারে নির্বাচন নিয়ে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাসের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ে অাসেন।

    জানা যায়, উপজেলার স্নানঘাট গ্রামের চান মিয়া মেম্বারের ছেলে তোফাজ্বল মিয়া উপজেলা নির্বাচনে অানারস প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিয়ে ষ্ট্যাটাশ দেয়। পরে নৌকা প্রতিকের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অাব্দুল হাইকে নিয়ে ফেসবুকে বাজে ষ্ট্যাটাশ দিলে একই গ্রামের যুবলীগ নেতা তবারক অালী কমেন্ট করে প্রতিবাদ করেন।

    এর জের ধরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

    পরে বাহুবল মডেল থানার ওসি মোঃ মাসুক অালীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে অাসেন।

  • বাহুবলে প্রতিপক্ষের মারধোরের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবলে প্রতিপক্ষের মারধোরের ঘটনায় রাখাল সন্নাসী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (১১ মার্চ) বিকালে উপজেলার চিচিরকুট গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। নিহত ব্যক্তি চিচিরকুট গ্রামের মহিন্দ্র সন্নাসীর ছেলে।

    জানা যায়, গত ৫ মার্চ অাইপিএল খেলার বাজী ধরে নিহতের ছেলের সাথে। নিহত ছেলে বাজীর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে তার বাবার কাছে যায়। নিহত ব্যক্তিও ওই বাজীর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে একই গ্রামের ছালেক মিয়া তাকে মারধোর করে। এতে তিনি অাহত হন। বাড়ীর লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ৯ মার্চ বাড়িতে নিয়ে অাসেন স্বজনরা। বাড়িতে অাজ সোমবার বিকালে বাড়িতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

    অন্য একটি সূত্র জানায়, হালকা খিল গুষির ঘটনা ঘঠেছিল। তখন কোন রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেনি। তিনি ৫২ বছরের বয়স্ক ব্যক্তি,  তিনি অসুস্থও ছিলেন।

    বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, বিষয়টি শুনে অফিসার পাঠিয়েছি।

  • নবীগঞ্জে টাকা ছিনিয়ে নেয়া কালে ৪ ছিনতাইকারী আটক

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শেরপুর রোডের এক্সিম ব্যাংকের সামনে থেকে সোমবার দুপুরে এক বৃদ্ধ মহিলা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়ী যাওয়ার সময় টাকা ছিনিয়ে নেয়া কালে ৪ ছিনতাইকারী কে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

    পরে তাদের উত্তম মাধ্যম দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে।

    জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গুজাখাইর গ্রামের জনৈক এক বৃদ্ধ মহিলা এক্সিম ব্যাংক থেকে ২১৭০০ টাকা উত্তোলন করে নিচে নেমে আসলে ছিনতাইকারীরা তার হাত থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতারা তাকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

    আটককৃতরা হল, মৌলভী বাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালিগাও গ্রামের মৃত মতি মিয়ার পুত্র সালা উদ্দিন (৩৫), দক্ষিন রাসঠিলা গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে রফিক মিয়া (২৫) একই জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার পৌরবাশা গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া (৫৫), রামনগর গ্রামের মৃত সুধির কাপালীর ছেলে বিকাশ কাপালী (২৯)। তাদের বিরুদ্বে সংশিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • হবিগঞ্জের ৮ উপজেলার ৮ জন চেয়ারম্যানসহ ৩৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের ৮ উপজেলার ৮ জন চেয়ারম্যানসহ ৩৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান ১৮ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৮ জন।

    সবচেয়ে বেশি জামানত হারানো চেয়ারম্যান হলেন নবীগঞ্জে। এ উপজেলায় ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী ছাড়া বাকি ৮ জনই জামানত হারিয়েছেন। তবে সদর উপজেলায় কোনো প্রার্থী জামানত হারাননি।

    বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে যারা জামানত হারিয়েছেন তারা হচ্ছেন চুনারুঘাটে স্বতন্ত্র প্রভাষক আবদুল করিম ও ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থী আজিজুর রহমান, লাখাইয়ে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী রফিক আহমেদ, বানিয়াচংয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহীন, নবীগঞ্জে স্বতন্ত্র গাজী খালেদা ছরওয়ার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হাই, ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থী মাওলানা আবু ছালেহ ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী হায়দর মিয়া।

    ভাইস চেয়ারম্যান পদে যারা জামানত হারিয়েছেন তারা হচ্ছেন আজমিরীগঞ্জে আবদুল জলিল, শাহ বাহার উদ্দিন, মনিরুজ্জামান মনু, অসীম চৌধুরী সাগর, জাহিদ হাসান জীবন, হিরেন্দ্র পুরকায়স্থ, নাজমুল হাসান, হিফজুর রহমান, বাহুবলে শশাংক রঞ্জন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. তারা মিয়া, এসএম শফিকুল ইসলাম তালুকদার, ফিরোজ আলী মিয়া, নিহার রঞ্জন দেব, বানিয়াচংয়ে আবু আশরাফ চৌধুরী বাবু, মন্টু লাল দাশ, হাজী আবেদুল ইসলাম, নবীগঞ্জে মোস্তাক আহমদ ফোরকানী, জাতীয় পার্টি প্রার্থী মুরাদ আহমদ।

    মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত হারানো প্রার্থীরা হচ্ছেন আজমিরীগঞ্জে আলিমা খাতুন, মাধবপুরে নাজমা পাঠান, মরিয়ম বেগম বাবুনী, চুনারুঘাটে শাহেনা আক্তার চৌধুরী, বাহুবলে জ্যোৎস্না আক্তার, লাখাইয়ে মোছা. ফয়েজুন্নেছা বেগম, হেনা আক্তার, নবীগঞ্জে সাজেদা মজিদ।

  • ২ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন হলো ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক

    হবিগঞ্জ নিউজঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন হলো হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ দেশের ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের। দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারের অনুদানের আওতায় হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ ছাড়াও রয়েছে জামালপুর, শেরপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    সোমবার (১১ মার্চ) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়। কনফারেন্সের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদি বক্তব্য রাখেন। এ ভিডিও কনফারেন্সে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পসহ চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

    প্রকল্প চারটি হচ্ছে, ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১০০টি বাস ও ট্রাক সরবরাহ, ১১টি পানি বিশুদ্ধিকরণ প্লান্ট এবং সার্ক দেশগুলোতে ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হলো। তিনি বলেন, ভারত থেকে বিআরটিসির জন্য বাস পাওয়ায় আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হবে। এছাড়া যানবাহন সংকটেরও অনেকটা সমাধান হবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।

    পানি শোধনাগার, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অন্য যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন হলো, সেগুলো বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে আসবে- বলেন শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নরেদ্র মোদির সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের ঠাঁই হবে না। এছাড়া কাশ্মীরে নিহতদের জন্য সমবেদনা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ঘৃণা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

    অপরদিকে, নরেদ্র মোদি শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টরে আমরা বাংলাদেশকে যে সহযোগিতা করছি তাতে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

    ‘শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা গৌরবের’ বলেও মনে করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন আমি তার সফলতা কামনা করি।’

    মোদি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বাংলায় বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক’।

    বিআরটিসি সূত্র জানায়, ভারত থেকে প্রাপ্ত ঋণে কেনা ৬০০ বাস ও ৫০০ ট্রাকের মধ্যে ৩০০টি ডবল ডেকার, ১০০টি নন-এসি, ১০০টি সিটি-এসি ও ১০০টি ইন্টারসিটি এসি বাস। ট্রাকগুলোর মধ্যে ৩৫০টি ১৬ দশমিক ২ টন বহন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ১৫০টি ১০ দশমিক ২ টন বহন ক্ষমতাসম্পন্ন।

    এখন পর্যন্ত ৪৭টি বিআরটিসি বাস ও ২৫টি ট্রাক বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বাকি বাস ও ট্রাক চলতি বছরের জুনের মধ্যে পৌঁছাবে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন। বাকি যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন হয় সেগুলো হলো- পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া পৌরসভায় ১১টি পানি বিশুদ্ধিকরণ প্লান্ট এবং সার্ক দেশগুলোতে ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এনকেএন সম্প্রসারণ।