শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকার এবং দলের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আগেও ছিল এবং এখনও এ চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। এদেশে একটা ষড়যন্ত্র সবসময়ই চলে আসছে; আওয়ামী লীগ অথবা বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। শুক্রবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এখনও ভীষণভাবে সক্রিয় উল্লেখ করে এমপি আবু জাহির বলেন, নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য সন্ত্রাস ও বোমাবাজীর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায় বিএনপি। যদিও জনগণের মধ্যে তাদের কোনো ভিত্তি নেই, কিন্তু তারা ক্ষমতা লিপ্সু। ক্ষমতার লোভে তারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং খুনি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিতে কাজ করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সালেক মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মাসুকের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তৃতা করেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মুজিবুুর রহমান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সৈকত, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুকিত, আব্দুল্লাহ সরদার, ব্রাহ্মনডুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসাইন মোঃ আদিল জজ মিয়া, শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল খান, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট পারভীন আক্তার, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেরা সালেক হ্যাপি, সাধারণ সম্পাদক আসমা আব্দুল্লাহ, পৌর কাউন্সিলর মাখন মিয়া, জেলা যুবলীগ নেতা ফরিদ আহমেদ, পৌর যুবলীগ সভাপতি আব্দুল মুকিদ, সাধারণ সম্পাদক টিএম আফজাল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন মাখন, কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি জয়নাল সরদার, রায়হান মিয়া, আব্দুল হামিদ, তাজুল ইসলাম, ইয়াসিন আহমেদ সপন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ শুরু হলো (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ) আইপিএল এর ক্রিকেট আসর। এ খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র শুরু হয়েছে জমজমাট জুয়ার আড্ডা। মধ্য বয়সী থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এমনকি সিএনজি চালক, রাজমিস্ত্রি, যোগালী ও দিন মজুরেরা পর্যন্ত এ জুয়া খেলার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।
এ খেলায় অংশ গ্রহন করে কেউ রাতারাতি পকেট ভারী করছে আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে শুন্য পকেটে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
সম্প্রতি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, শহরতলীর গোবিন্দপুর গ্রামে জনৈক জুয়াড়ি ব্যক্তি আইপিএল ক্রিকিট খেলার বাজিতে হেরে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী রুনা আক্তার(২৫) প্রহার করে ক্ষত বিক্ষত করে। এক পর্যায়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৭ মার্চ ২০১৯ থেকে শুরু হওয়া এই আইপিএল বিশ্বের সকল তারকা ক্রিকেটারদের মিলন মেলা। এ ক্রিকেট খেলার উন্মাদনার ঝড় বইছে শায়েস্তাগঞ্জের সর্বত্র। ক্রিকেট প্রেমিক যুবসমাজের মাঝে বিরাজ করছে এক প্রকারের ক্রিকেট উন্মাদনা।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, যুবসমাজের একটি বড় অংশ এই খেলাটিকে জঘন্য জুয়ার আসরে পরিনত করেছে। তারা মূলত আইপিএল খেলা উপভোগ করে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যেই।
খেলা শুরু হলে প্রতি ওভারে ওভারে জুয়া খেলায় টাকার অংক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
অপরদিকে প্রতি রানে-রানে প্রতি বলে-বলে ধরা হয় হাজার হাজার টাকার বাজি। কোন ব্যাটসম্যান বেশী রান তোলবে, কোন বোলার অধিক উইকেট শিকার করবে, কোন তারকা ব্যাটসম্যান কতটি ছক্কা অথবা চার হাঁকাবে এ নিয়ে চলে জুয়ার দর কষাকষি। সবশেষে পছন্দের দলের হার জিত নিয়েও চলে বড় অংকের টাকার খেলা। এভাবে প্রতিটি খেলা উপলক্ষ্যে উপজেলার সর্বত্র চলে লক্ষ লক্ষ টাকার বাজি ও মোটা অংকের টাকার জুয়া খেলা।
যেখানে খেলা দেখার লোকসমাগম বেশী হয় মূলত সেখানেই এই জুয়ার আসর জমজমাট হয়।
সাধারণত পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে অথবা যেখানে বড় স্ক্রীনে বিপিএলের খেলা দেখানো হয় সেখানেই এ জুয়ার আসর বসে, যা কেউ বুঝতে পারে কেউ পারেনা। এসব জুয়াড়িরা কৌশলগত কারণে বরাবরই থেকে যায় প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে। এভাবে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে ও প্রত্যন্ত গাঁয়ে বিপিএলকে ঘিরে বসছে জুয়ার আসর। ফলে জুয়াড়িদের পাতা ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ উদীয়মান যুবসমাজ। সচেতন অভিভাবক মহল চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তাদের সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে।
এদিকে খেলা চলাকালে শায়েস্তাগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের টহলের খবর পেয়ে ওই জুয়াড়িরা আড়ালে চলে যায়। টহল পুলিশ চলে গেলে পরক্ষনেই আবার জুয়ার আড্ডায় ফিরে আসে তারা। অত্র এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল ও জনগণের দাবী প্রশাসন কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে ওই সমস্ত যুবসমাজকে অনৈতিক জুয়ার জাল থেকে বের করে আনতে দৃষ্টি দিবেন।
আজ ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস । বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে। অস্ত্রের যোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই সভায়।
প্রতি বছর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ বছরও এ দিনটিকে জাতীয়ভাবে তেলিয়াপাড়া দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধ এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিসৌধ
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান বলেন, এবার অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ, হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ উল্ল্যা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাধবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী, তৎকালীন মেজর সিআর দত্ত, মেজর জিয়াউর রহমান, কর্নেল এম এ রব, রব্বানী, ক্যাপ্টেন নাসিম, আব্দুল মতিন, মেজর খালেদ মোশাররফ, কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী, ভারতের ব্রিগেডিয়ার শুভ্রমানিয়ম, এমপিএ মৌলানা আসাদ আলী, লে. সৈয়দ ইব্রাহীম, মেজর কেএম শফিউল্লাহ প্রমুখ।
জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে নেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এম এ জি ওসমানী।
তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল
১নং সেক্টরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। দুই নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমে খালেদ মোশাররফ পরে মেজর হায়দার। তিন নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর শফিউল্লাহ পরে মেজর নূরুজ্জামান। চার নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সি আর দত্ত। পাঁচ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। ছয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার বাশার। সাত নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কাজী নূরুজ্জামান। আট নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর ওসমান চৌধুরী পরে মেজর এম এ মনছুর। নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর আব্দুল জলিল এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন এমএ মঞ্জুর। দশ নম্বর সেক্টর নৌ-বাহিনীর সৈনিকদের নিয়ে গঠন করা হয়। এগারো নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও পরে ফ্লাইট লে. এম হামিদুল্লাহ।
আর জিয়াউর রহমানের নামের অনুসারে ‘জেড ফোর্স’ জিয়াউর রহমানের দায়িত্বে, মেজর শফিউল্লাহর নাম অনুসারে ‘এস ফোর্স’ মেজর শফিউল্লাহর দায়িত্বে এবং খালেদ মোশাররফের নাম অনুসারে অপর ব্রিগেড ‘কে ফোর্সে’র দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফের ওপর।
সভায় ১০ এপ্রিল দ্বিতীয় বৈঠক ও সরকার গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি।
সেক্টর বিভক্তি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও এই মিটিং ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম মিটিং এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই কারও।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও তখনকার সময় হবিগঞ্জের এসডিও আকবর আলী জানান, আমি জানতাম ৪ এপ্রিলের মিটিং এর বিষয়ে। কিন্তু আমি মিটিংয়ে যাইনি।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ ইব্রাহিম জানান, স্বাধীনতা ঘোষণার পর ৪ এপ্রিল প্রথম কোন আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমিও সেই মিটিংয়ে ছিলাম। মিটিংয়ে জেনারেল ওসমানীকে সেনা প্রধান করা হয় । তিনি তখন বিভিন্ন অফিসারকে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে সেগুলো সেক্টর হিসাবে অনুমোদন পায়। জেনারেল ওসমানী আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য এবং রাজনীতিবিদদেরকে নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।
৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কে. এম শফিউল্লাহ্ তাঁর হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখান থেকে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠে।
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডারগণ বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনানায়কদের পদচারণায় মুখরিত।
১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচন্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেডকোয়ার্টার তুলে নেয়া হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোর পাশে নির্মিত হয় বুলেট আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান (অব.) মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম পিএসসি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও সেটি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ ছিল না দীর্ঘদিন যাবত। ২০১১ সালের ৭ মে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করার কথা ঘোষণা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, সাবেক চিফ হুইপ ও তখনকার বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। সভায় উপস্থিত এলজিইডির তখনকার প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয় প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য। পরবর্তীতে এলজিইডি ৩ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই প্রকল্পের কোন কাজই হয়নি।
উপরন্তু ন্যাশনাল টি কোম্পানি স্মৃতিসৌধকে প্রথক করে ঐতিহাসিক বাংলোটিকে বাউন্ডারি দিয়ে আলাদা করে ফেলে। এক সময় সেখানে তার কাটার বেড়া থাকলেও ছিল একটি পকেট গেইট। কিন্তু বর্তমানে বাউন্ডারি থাকায় কেউ দেখতে পারেন না বাংলোটিকে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হবিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সকল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তেলিয়াপাড়ায় কোন কাজই হয়নি। ১০০ একর জমিতে সেখানে কমপ্লেক্স করে বিভিন্ন ভাস্কর্য করার কথা ছিল। ন্যাশনাল টি কোম্পানির বাধার জন্য সেখানে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) কবির হোসেন বলেন, তেলিয়াপাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান স্মৃতি বিজড়িত স্থান। অবশ্য্ এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি অবিলম্বে সেখানে রেস্ট হাউজ, টয়লেট নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ঐতিহাসিক বাংলোটিকে জাদুঘর করার দাবি জানান।
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজারে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে রাজার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন পালন করেছে।
বুধবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশাল মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে রাজার বাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
আহম্মাদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সনজু চৌধুরীর আহবানে উক্ত মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শত-শত শিক্ষার্থী চুনারুঘাট-বাল্লা সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে।
উক্ত মানববন্ধনে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন, ডাঃ হাফিজুর রহমান বাবুল, মিরাশি ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বাজার সভাপতি আবুল কাশেম, সাংবাদিক নুরুল আমিন, রাজার বাজার সঃ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান, বাজার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল আহম্মেদ, অর্থ সম্পাদক আহম্মদ আলী মীর, ছাত্রলীগ নেতা শফিকুর ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান শামীম, ছাত্রদল নেতা আরিফ আহম্মদ রোমন, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা কার্তিক চন্দ্র দেব, ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রাজিব দেব রায়, প্রবাসি আওয়ামীলীগ নেতা সমিরন শীল, আঃ জাহির প্রমুখ।
মানববন্ধনের আহবায়ক সনজু চৌধুরী বলেন, রাজার বাজারে বালু উত্তোলনের কারনে উপজেলার একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ‘রাজার বাজার সঃ উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজার বাজার সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। রাজার বাজারে বসবাসরত জনগনের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারনে খোয়াই নদী গভীর হয়ে নদীর দু’কুল ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হচ্ছে। রাজার বাজারে খোয়াই সেতুর মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন। স্কুলের পাশ দিয়ে সারাদিন ট্রাক-ট্রাকটরের শব্দে মারাত্মক শব্দ দুষন হচ্ছে। এতে লেখা পড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে মানববন্ধন কর্মসুচী থেকে সনজু চৌধুরী ভবিষ্যত কর্মসুচী ঘোষনা দিয়ে বলেন, স্কুল চলাকালিন সময়ে অর্থাৎ সকাল ৮ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত স্কুলের পাশ দিয়ে কোন ধরনের বালুবাহি ট্রাক-ট্রাকটর চলতে পারবে না। ভবিষ্যতে রাজার বাজারে খোয়াই নদীর অংশে বালু লিজ প্রদান করলে জনগনকে সাথে নিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হবে।আজকের মানববন্ধন কর্মসুচীর প্রতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষিত মহলসহ এলাকাবাসি একাত্মতা জানান।
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরের সামনে অটোরিক্সা (সিএনজি) চাপায় এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। রাজমিস্ত্রির নাম মানিক মিয়া (৪০)। তিনি মাধবপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝড়ের পূর্ব মূর্হূতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক পারাপারের সময় উল্লেখিত এলাকায় একটি দ্রুতগতির অটোরিক্সা তাকে চাপা দিলে পথচারীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে আব্দুল কাদির (৩৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর (গরুর ঘর) থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কৃষক হোসেনপুর গ্রামের মৃত আমীর উদ্দিনের ছেলে।
মৃতের পরিবার জানায়, গরু চুরির আশঙ্কায় মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) রাতে গোয়ালঘরে গিয়ে ঘুমান কাদির। সকালে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়।
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেখে জানা যাবে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে চম্পা বণিক (২২) নামে এক কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা করেছে।
সে পৌর শহরের চৌধুরী বাজার কামারপর্টি এলাকার নারায়ন বণিকের কন্যা এবং হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্রী।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (এসআই) পলাশ চন্দ্র দাস জানান, চম্পা বণিক নামে ওই কলেজ ছাত্রী সকলের অগোচরে গিয়ে নিজ ঘরের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রতিবেশীরা বিষয়টি আচ করতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই আরো জানান, কী কারণে ওই কলেজ করেছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চলাচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।