Category: হবিগঞ্জ

  • কুখ্যাত মাদক সম্রাট শাহীনসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ী আটক

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের দক্ষিণ লেঞ্জাপাড়া গ্রামের কুখ্যাত মাদক সম্রাট শাহীন মিয়া, তার ভাই ও নারীসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের উত্তর দিকে খোয়াই নদীর বেড়ী বাধের উপর থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন দক্ষিন লেঞ্জাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ পুত্র মাদক সম্রাট শাহীন মিয়া (৪০), তার ভাই সুমন মিয়া (৩০), লেঞ্জাপাড়া গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে চাঁন মিয়া (২৫), শায়েস্তাগঞ্জের মুকসুদ আলী ছেলে বকুল মিয়া (৩০), লস্করপুরের ফুল মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন জিলু (২২), লাখাইয়ের ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত আসকর আলী কন্যা নার্গিস আক্তার (৩০)।

    গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারকৃত মাদক সম্রাট শাহীন মিয়া মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে সংবাদ পান শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের উত্তর দিকে খোয়াই নদীর বেড়ী বাধের উপর মাদক সম্রাট শাহীনসহ তার সহযোগীরা ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় করছিল।

    এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মানিকুল ইসলাম নেতৃত্বে এসআই দেবাশীষ তালুকদার, এসআই আব্দুল করিম, এসআই মোজাম্মেল হকসহ একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ১০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মানিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বৃদ্ধা হত্যার ৪ দিন পর ঘাতক গ্রেফতার

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ঘরে প্রবেশ করে মিলু রাণী সূত্রধর (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার ৪ দিন পর গত শনিবার গভীর রাতে ভৈরবের ঘুমড়াকান্দা মহল্লা থেকে ঘাতক ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের অবিনাশ সূত্রধরের পুত্র রনজিৎ সূত্রধর (২৪) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ঘাতক রনজিৎ ভৈরবের ঘুমড়াকান্দা মহল্লা অবস্থান করচ্ছে। শনিবার রাতেই ইনাতগঞ্জ ফাড়ির ইনচার্জ সামছুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ভৈরবের ঘুমড়াকান্দা মহল্লা অবস্থান নিয়ে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।

    পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক রনজিৎ ঘটনা সাথে জড়িত থাকার স্বীকার করে।

    ঘাতক রনজিৎ পুলিশকে জানায়, নিহত মিলু রাণী সুত্রধর তার সম্পর্কে ঠাকুর মা হয়। সে তার ঠাকুর মায়ের কাছে ঘটনার ১০/১২দিন পূর্বে ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছিল। ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রনজিৎ তার ঠাকুর মায়ের কাছ থেকে টাকা আনতে তাদের বাড়িতে যায়। সে তার ঠাকুর মায়ের কাছে টাকা খুজলে তিনি কিসের টাকা জানতে চান এবং তিনি তার টাকার কথা অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে টাকা নিয়ে বাকবিন্ডা ঘটেলে। তার পিসি শিল্পী সূত্রধর তাকে দা দিয়ে কুপ দেয়। সে প্রাণ রক্ষায় দা কেড়ে নিয়ে তাদের এলোপাতারি কুপ মারতে তাকে।

    উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ইছবপুর গ্রামের মৃত চাঁনমণি সূত্রধরের স্ত্রী মিলু রানী সুত্রধর ও তার কন্যা শিল্পী রানী সুত্রধরের উপর তাদের বসত ঘরে প্রবেশ করে রনজিৎ হামলায় চালায় এতে ঘটনাস্থলে মিলু রানী সুত্রধর নিহত হন। এবং তার মেয়ে শিল্পী রাণী সুত্রধর এখনো সিলেটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের সাড়শী অভিযানে হত্যাকান্ডের ৪দিন পর ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

    নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন বলেন,আটককৃত রনজিৎ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে কিভাবে হত্যাকান্ড করছে তার বর্ননা দিয়েছে। আমরা ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা কিংবা অন্য কোন কারন রয়েছে কিনা তা উদঘাটনে জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

  • হবিগঞ্জে ঝুঁকিতে ১১ লাখ শিশু!

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা প্রভৃতি) কারণে বাংলাদেশে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এক কোটি ৯৪ লাখ শিশু।

    তন্মধ্যে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৭ জন শিশু। নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন সিমন ইনগ্রাম।

    ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের ২০টি জেলা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব জেলায় ১৮ বছরের নিচে প্রায় দুই কোটি শিশু ঝুঁকির মধ্যে আছে।

    ঝুঁকির মধ্যে থাকা ২০টি জেলা হচ্ছে- সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, পিরোজপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা, ভোলা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, রাজশাহী, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, নীলফামারী ও সিরাজগঞ্জ।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলায় ১৮ বছরের নিচের বয়সী ১৪ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন এবং ৫ বছরের নিচের বয়সী ৪ লাখ ২৪ হাজার ২৭৫ জন শিশু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে।

    অন্যদিকে, হবিগঞ্জে ১৮ বছরের নিচের বয়সী ১১ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৩ জন এবং ৫ বছরের নিচের বয়সী ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫১৭ জন শিশু একই ধরনের ঝুঁকিতে আছে।

  • হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হবে।

    বিএনপির একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ৪টার সময় ঢাকাস্থ বিএনপির কার্যালয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক খোজ-খবর নিতে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে স্কাইপির মাধ্যমে রূদ্ধতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকের শুরুতেই তারেক রহমান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থার খোজ-খবর দেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ জাহিদ হাসান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সদ্য বিলপ্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিকে গউছ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাম্মী আক্তার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক এডভোকেট সম্পাদক এনামুল হক সেলিম।

    দীর্ঘ বৈঠক শেষে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন একটি শক্তিশালী গ্রহনযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নির্দেশ দেয়া হয়।

    এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন জানান, বৈঠক শেষে জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়েছে।

    তিনি বলেন প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে পরে পর্যায়ক্রমে কাউন্সিলরের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

    অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সদ্য বিলপ্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিকে গউছ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাম্মী আক্তার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক সেলিম এর সাথে পরামর্শ করে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির একটি আহ্বায়ক কমিটি দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যাচাই-বাচাই করে কমিটি অনুমোদন দেবেন কেন্দ্রীয় কমিটি।

    এদিকে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শহরজুরে আলোচনা ছিল হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত নিয়ে এবং কারা আসছে নতুন কমিটি। শহরের অধিকাংশ স্থানেই বিএনপির ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আলোচনার বিষয়বস্ত ছিল জেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে। এখন দেখার পালা কারা আসছে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্বে।

  • নবীগঞ্জে তিন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে তিন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে এ কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

    এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টায় করগাঁও ইউনিয়নের করগাঁও গ্রামের একটি হাওরে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের আব্দুল হাইর ছেলে আ. মুমিন (৩৮), প্রয়াত আব্দুল হামিদের ছেলে সায়েদুল ইসলাম (৩২) ও মৃত কদ্দুস মিয়ার ছেলে নূরুল আমীন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেন নবীগঞ্জ থানার এসআই নাজমুল ও এসআই শামছুল।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়ার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    পরে শনিবার দুপুরে তাদেরকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল গণি ওসমানীর কার্যালয়ে হাজির করলে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেক জুয়াড়িকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।

    তাদের আটক ও দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিন জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাঁজা দেওয়ার পর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • দিনারপুর অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও পাহাড় খেকো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ মন্ত্রীর

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের পাহাড়ী অঞ্চল বলে খ্যাত দিনারপুর পরগনায় নির্বিচারে পাহাড় কেটে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে চলছে কয়েকটি পাহাড় খেকো চক্র। পাহাড় সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে দিনারপুরঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্য্য হারিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এতে হতাশা দেখা দিয়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে।

    অবাধে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির ঘটনায় পাহাড় খেকোদের খুঁটির জোর নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ২ এপ্রিল বিভিন্ন সমকাল পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়।

    এছাড়া দৈনিক সমকাল পত্রিকায় ‘দিনারপুর পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপর্যয় চলছেই’ শিরোনামে একটি সংবাদ ফলাও করে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সংবাদটি নজড়ে পড়ে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপির।

    তিনি খোঁজ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দিনারপুর অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও পাহাড় খেকো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (ডিজি) সুলতান আহমেদকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    সূত্রে প্রকাশ, নবীগঞ্জের দিনারপুর অঞ্চল বাংলাদেশের পাহাড়ীয়া দ্বীপ হিসেবে দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করলেও পাহাড় খেকোদের নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে বেশী দিন পাহাড়ীয়া দ্বীপ হিসেবে অর্জিত খ্যাতি রাখতে পারবেনা আশংকায় ওই এলাকার সচেতন মহল। অবৈধভাবে পাহাড়ী এলাকায় জনবসতি জন্য প্রতিনিয়ত নির্বিচারে পাহাড় ও পাহাড়ী গাছ কাটা হচ্ছে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া, পানিউমদা ও গজনাইপুর ইউনিয়নে ও বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট, পুটিজুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায়। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে ধ্বংসের পথে আজ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

    পাহাড়কাটায় বর্ষাকালে পাহাড়ী ঢালুতে বসবাসকারী লোকজনদের জীবন হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিবছর বর্ষাকালে পাহাড় ধসে পাহাড়ী ঢালুতে বসবাসকারী অনেক মানুষ মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করে। অপরদিকে পাহাড়খেকো চক্র কর্তৃক নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে প্রতিনিয়ত কয়েকশত বছর ধরে গড়ে ওঠা দিনারপুর পরগনার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার দরুন জলবায়ু, পরিবেশ, মাটি, পানি ও প্রাণীবৈচিত্রের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। সেই সঙ্গে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে সবুজ বনভূমি।

    তাছাড়া ইচ্ছামত পাহাড় কাটার ফলে বেশি বেশি ভূমিকম্পন হতে পারে বলে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণা সূত্রে জানা যায়। এ দিনারপুর পরগনার মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও পাহাড় সম্পর্কিত নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব এবং সুস্পষ্ট জ্ঞান না থাকা, পাহাড় রক্ষা ও কাটা সম্পর্কিত উপযুক্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা না করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতার অভাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত লাভ, পরিবেশ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের অভাবসহ ইত্যাদি কারণে দিন দিন পাহাড় কাটা বেড়ে চলছে।

    অপরদিকে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে পাহাড় কাটতে পারবে না, অন্যথায় আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ১০ বছরের জেল কিংবা ১০ লাখ টাকার জরিমানা প্রদানের নিয়ম নীতি থাকলেও মানছেননা কেউই।

    এদিকে, গত ১০/১২ দিন ধরে গনজাইপুর ইউনিয়নের রামলোহ এলাকার একটি মাদ্রাসার পিছনে উচু একটি টিলা থেকে অবাধে মাটি কেটে ট্রাকে করে প্রতিনিয়ত বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবগত করা হলেও তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

    শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩ টার সময় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মাটি কাটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার লোকজন।

    এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউণ গণি ওসমানী বলেন, পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় তহসিলদারকে সরেজমিনে গিয়ে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

    তিনি বলেন এখনো প্রতিবেদন দেয়নি তহসিলদার, তবে খোঁজ নিয়ে দেখছেন যদি কেউ মাটি কেটে বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ব্যাপারে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গনমাধ্যমে দিনারপুর অঞ্চলের পাহাড় কাটার সংবাদটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজিকে বলে দিয়েছি।’

  • মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার স্বাক্ষীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে প্রতিপক্ষ

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে মামদপুর গ্রামে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার স্বাক্ষী আব্দুল আলী(৬৬) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

    গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় মামদপুর গ্রামের বিয়ানীবাজারে এঘটনা ঘটে। পুলিশ ও

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত সময় মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার স্বাক্ষী মামদপুর গ্রামের মৃত আরজদ আলীর পুত্র আব্দুল আলীর সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয় একই গ্রামের ছনওয়ার মিয়ার পুত্র মুজিবুর রহমানের সাথে।

    এঘটনার জের ধরে বিয়ানীবাজারে একা পেয়ে মুজিবুর রহমান নেতৃত্বে মুহিত মিয়া,সোহেল মিয়া,এমরান মিয়া রকি মিয়া,রাব্বি মিয়ারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

    এসময় আব্দুল আলীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    এব্যাপারে যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষী আব্দুল আলী রক্তাক্ত অবস্থায় বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী গোলাপের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হওয়ায় সেই আক্রোশেই আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

    এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষী আব্দুল আলী একই গ্রামের মুজিবুর রহমানকে গালাগালি করেছেন দাবী করে আব্দুল আলীর কাছে গালিগালাজ করার কারণ জানতে চান মুজিবুর রহমান । এসময় আব্দুল আলী গালিগালাজ করেননি বলে জানান। এঘটনার জের ধরে বাক-বিতন্ডা হয় । এক পর্যায়ে আব্দুল আলীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এনে নবীগঞ্জ উপজেলার গজানাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া (৬৬)সহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন গজনাইপুর ইউনিয়নের লোগাঁও গ্রামের রইছ উল্লার মেয়ে বীরাঙ্গনা সুকুরী বিবি (৬৫)।