Category: হবিগঞ্জ

  • ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতাচ্ছেন হবিগঞ্জ জেলার হামজা

    হবিগঞ্জ নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ফুটবলার অতীতে দেশের বাইরের লিগে খেললেও তা আটকে ছিল প্রতিবেশী দেশের মধ্যেই। ক্লাব ফুটবলের মহাযজ্ঞ যে ইউরোপে, সেখানে মানের বিচারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের স্বপ্ন সুদূর পরাহতই। এমন একটি অবস্থায় বিশ্বখ্যাত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে যদি কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের নাম চলে আসে, তাতে বসতে হয় একটু নড়েচড়েই। এই প্রথম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতাচ্ছেন বাংলাদেশী ফুটবালার সিলেটর হবিগঞ্জ জেলার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। তিনি খেলছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলে।

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামের দেওয়ান গোলাম মোর্শেদ চৌধুরী এবং মা রাফিয়া চৌধুরীর তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় ঝাঁকড়া চুলের হামজা চৌধুরী। একটি বিশেষ কারণে হামজাকে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বেশ মাতামাতি। সেটি হলো মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুল সেই সঙ্গে এই তরুণ বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান। যে কারণে পাশ্চাত্য ফুটবলের রঙিন দুনিয়ায় বাংলাদেশের নামটিও বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। আর এই কারণেই হামজাকে নিয়ে গর্ববোধ করছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

    বিস্ময়কর হামজার ফুটবল প্রতিভা জানতে হলে জানতে হবে ইংলিশ ফুটবলের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সর্ম্পকে।

    হামজা-দেওয়ান

    বিশ্বকাপ ফুটবলের বাইরে ফুটবল জগতের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ আসর ইংলিশ ফুটবল লিগ। এই লিগের মোট চারটি ধাপ। দেশের সেরা ২০টি ক্লাব নিয়ে হয় প্রিমিয়ার লিগ। দ্বিতীয় সারির ২৪টি ক্লাব খেলে চ্যাম্পিয়নশিপ। তারপরে যথাক্রমে ‘লিগ ওয়ান’ এবং ‘লিগ টু’। এই দুটি লিগেও ২৪টি করে ক্লাব। চার ধাপের মোট ৯২টি ক্লাবের সমন্বয়ে গঠিত ইংলিশ ফুটবল লিগের প্রতিটি ধাপই একটি আরেকটির সঙ্গে যুক্ত। এসব লিগ পর্বের ক্লাবগুলো পেশাদার ক্লাব হিসেবে স্বীকৃত।

    প্রিমিয়ার লীগের ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন হয় লেস্টার সিটি। এই ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমে (২৮ নভেম্বর ২০১৭) হামজার অভিষেক ঘটে ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরে। এবারও শীর্ষস্থানীয় এই ক্লাবের মূল দলে আছেন বাঙালি পরিবারের সন্তান হামজা চৌধুরী। মোট ৩০ জনের সমন্বয়ে হয় ক্লাবের মূল দল। পারফরম্যান্সের ওপর মাঠে নামার বিষয়টি নির্ভর করে। লেস্টার সিটির অনূর্ধ্ব–২৩ দলের অধিনায়ক হামজা চৌধুরী অথচ বয়স ছুঁয়েছে কেবল ২১ বছর।

    তবে মাঠের ক্ষিপ্রতায় বয়সের সীমা ডিঙিয়েছেন মূল দলে গিয়ে দুনিয়ার বাঘা বাঘা ফুটবালকে পেছনে পেলে গত মৌসুমে লেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের মোট আটটি ম্যাচ খেলেন। এর আগে ২০১৫-১৬ মৌসুমে বার্টন অ্যালভিয়ন হামজাকে ভাড়া করে (লোন) নিয়ে যায়। ক্লাবটির পক্ষে ১৮ বছর বয়সেই খেলেন লিগ ওয়ান। ভালো খেলে ক্লাবটি ওই বছর চ্যাম্পিয়নশিপে উন্নীত হয়। পরের বছর বার্টন অ্যালভিয়ন আবারও হামজাকে ভাড়ায় নিয়েছিল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে।

    ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্যও খেলছেন হামজা। চলতি বছরের ২৬ মে অনূর্ধ্ব–২১ জাতীয় দলে তার অভিষেক। ইতিমধ্যে মেক্সিকো, বাহরাইন, আলজেরিয়া, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন। যারা ফুটবল প্রতিভা সম্পর্কে ধারনা রাখেন তারা সহজেই বুঝেন অচিরেই হামজা ইংল্যান্ড মূল দলে খেলবেন।

    হামজার জন্ম ইংল্যান্ডের লাফবারা শহরে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড়।

    হামজা দেওয়ানের মা রাফিয়া চৌধুরী জানান, ছোটবেলা তার ফুটবলের প্রতি ছিল বেশ ঝোঁক। যে কারণে চার বছর বয়স থেকেই ফুটবল খেলতে নিয়ে যেতাম। পাঁচ বছর বয়সে হামজাকে লাফবারা ফুটবল ক্লাবে ভর্তি করা হয়। তখনই নিজের চেয়ে বয়সে দু-এক বছরের বড়দের সঙ্গে খেলত হামজা। ছয় বছর বয়সে এক ম্যাচ খেলতে গিয়ে ফুটবল ক্লাব নটিংহাম ফরেস্টের খেলোয়াড় অনুসন্ধানী দলের নজরে পড়ে হামজা। কয়েক দিন পর অন্য একটি ম্যাচে লেস্টার সিটির অনুসন্ধানীরাও তার দিকে দৃষ্টি ফেলে। উভয় দলই তাকে নিতে চায়।

    হামজা দেওয়ান চৌধুরী (1)

    হামজার বাবা দেওয়ান গোলাম মোর্শেদ চৌধুরী বললেন, দুটি ক্লাব থাকে নিতে চাইলে আমরা শেষ পর্যন্ত লেস্টার সিটিতে হামজাকে ভর্তি করি। স্কুল ছুটির পর সপ্তাহে দুদিন করে প্রশিক্ষণ। আর শনি ও রোববার থাকত ম্যাচ। এ কারণে তাঁরা লেস্টার শহরে চলে আসি লাফবারা শহর থেকে । ২০১৩ সালে জিসিএসই (বাংলাদেশে এসএসসি) সম্পন্ন করার পর লেস্টার সিটি একাডেমিতে দুই বছরের বৃত্তি পায় হামজা। ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনারও দায়িত্ব নেয় তারা। সাধারণত ১৮ বছর বয়স হলেই পেশাদার ফুটবলার হিসেবে চুক্তি করতে হয়।

    হামজা চৌধুরী নিজকে বাঙ্গালী পরিচয়ে গর্বোবোধ করে জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানয়েছেন, বাংলাদেশের প্রতি আছে ভালোলাগা, ছয় মাস বয়স থেকে পরিবারের সঙ্গে হামজার বাংলাদেশে সফর শুরু। এ পর্যন্ত ২০ বার বাংলাদেশে গিয়েছেন। তিনি বাংলা বলতে পারেন সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায়।

    সর্বশেষ তিন বছর আগে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন হামজা। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর প্রশিক্ষণ ও খেলার চাপ বেশ বেড়ে গেছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ। থাকে ম্যাচ। ফলে বেড়ানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে যেতে চান এই ফুটবল তারকা। তখন মনে পড়ল প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের পর ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে বলা হামজার কথাগুলো। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনেই বাংলাদেশি। আমার পরিবার বিশাল। বাংলাদেশিদের পরিবার সবখানে।

    এই তরুণ বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করা এই তরুণ নিজের বাঙালি পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করেন।

    যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী জানান, প্রবাসে বাংলাদেশীদের কোন কাজে বির্তক সৃষ্টি হলে আমরা যেমন ব্যাথিত হই তেমনি বাঙ্গালীর ভাল কাজে গর্ববোধ করি। ইংল্যান্ডে হামজার জনপ্রিয়তা আমাদের বাংঙ্গালী কমিউনিটিকে গর্বিত করে। নতুন প্রজ‌ন্মের ব্রি‌টে‌নে আমা‌দের সন্তানরা যারা খেলাধুলায় ক্যা‌রিয়ার গড়তে চায় তা‌দের জন্য হামজা চৌধুরীরা প্রেরনার উৎস। এদেশশে জন্ম নেওয়া বাংলা‌দেশী‌দের কা‌ছে বাংলা‌দেশ তা‌দের মা বা বাবার দেশ থাক‌লেও হামজার বেলার ব্যা‌তিক্রম । হামজা নিয়‌মিত দে‌শে যে‌তে ভালবা‌সেন। বাং‌লা‌দেশ তা‌কে টা‌নে।

    বাংলাদেশে ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, এটা খুবই ভাল খবর যে বাংলাদেশেী বংশদ্ভুত একটি ছেলে ইংল্যান্ড মাতাচ্ছে। হামজা একজন জাতপ্রতিভা। তার কারনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিপাবে । দেশের ফুটবল প্রেমী জনগন এবং আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে হামজাকে অভিন্দন জানাই। আশা করছি তার থেকে নতুন প্রজন্ম উৎসাহ পাবে।

  • বানিয়াচংয়ে দিনমজুরের মেয়ে পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫ স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার

    বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ বানিয়াচং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়েছেন নাহিদা আক্তার। মুখে স্বতস্ফুর্ত হাসি থাকলেও দুশ্চিন্তার রেখা দেখা যায় তার মুখে। আর তা হল এতো ভালো ফলাফল করে ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালাতে পারবে না তার পরিবার।

    দারিদ্রতা আর নানা অসঙ্গতির সঙ্গে নিত্য লড়াই যেন নিয়তির ব্যাপার। তারপরও লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশটা বুঝি অযৌক্তিক। তবুও সে থামেনি। হার মানেনি দারিদ্রের কাছে। নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করেও জীবনে বড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। মূল লক্ষ্য যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দারিদ্র দুর করে পরিবারের দুখী মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানো। সে অনুযায়ী জীবনযুদ্ধে নেমে শত বাঁধা পেরিয়ে নাহিদা আক্তার দেখিয়েছে বিশেষ কৃতিত্ব।

    শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার পড়ালেখার একটুও ছেদ পড়েনি। তার স্বপ্ন বড়ো হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু চরম দারিদ্রতা তার সেই স্বপ্নপূরণের পথে বিশাল বাধা। এ বাধা ডিঙ্গিয়ে সেই স্বপ্নপূরণ হবে কিনা সেই চিন্তাই এখন সারাক্ষণ নাহিদার।

    বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের সাগর দিঘীর পূবপাড়ের লুৎফুর রহমান ও সুহেনা বেগমের মেয়ে নাহিদা। পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে নাহিদা সবার বড়। তার ছোট ভাই মশিউর রহমান স্থানীয় এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। মশিউরও পড়ালেখায় মেধাবী। তার অপর ভাই মাহবুবুর রহমান পার্শ্ববর্তী আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর সবচেয়ে ছোট ভাই সিদ্দিকুর রহমান সবেমাত্র একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। মেধাবী নাহিদা তার আগেও পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল।

    নাহিদার বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। যখন যে কাজ পান সেটাই করেন তিনি। একদিন কাজে গেলে তিনদিন বসে থাকতে হয়। এ অবস্থায় তার সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছে তার।

    নাহিদা শহরের ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। নাহিদা এই ইচ্ছা পুরণ হবে কিনা জানেনা সে। নাকি অর্থের অভাবে থেমে যাবে তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন?

    নাহিদার মা সুহেনা বেগম জানান, তার বাবা দিনমজুরের কাজ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লেখাপড়ার খরচ জুগাতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এবার মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে তিনি কি সিদ্ধান্ত নিবেন আদৌ কিছু বলতে পারছিনা। তার দিনমজুর এই স্বামীর নাহিদার পড়ালেখার খরচ জোগাতে সামর্থ্য নেই।

    প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিন মীর জানান,মেয়েটি অত্যান্ত মেধাবী। খুব শান্তশিষ্ট মেয়ে নাহিদা। তার এই ফলাফলে এলাকাবাসীরা খুশি। পুরাণবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ জানান,নাহিদা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। পড়ালেখায় ক্লাসের সবার চেয়ে সে সবসময় এগিয়ে থাকত। আমি দোয়া করব তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে যেন সে পৌছুতে পারে।

    এই বিষয়ে কথা হয় মেধাবী নাহিদা সাথে। তিনি জানান,অনেক কষ্ট করে আমার পরিবার আমাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য ভালো কলেজে ভর্তি হতে চাই। সেই স্বপ্ন পুরণ করে দারিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটাবো সেটা ই আমার লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন-শুধু বাবা মা নয় স্কুল শিক্ষকদের একান্ত সহযোগিতা আর প্রতিবেশীদের ভাল পরামর্শ আমার এই কৃতিত্ব এনে দিয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

  • ঢাকা সিলেট হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট গুলোতে জিম্মি যাত্রীরা

    সিলেট টু ঢাকা হাইওয়ে সড়কে সিলেটের যাত্রীরা এসমস্ত রেস্টুরেন্টে জিম্মি দীর্ঘ দিন থেকে। তাদের সাথে জড়িত সব ধরনের বাসের মালিক পক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ কমিশনের লোভে সিলেটের যাত্রীদের ইচ্ছে মত রেস্টুরেন্টে খাওয়া বাধ্য করে।

    এসব হোটেলে বাসী খাবার অধিক মূল্যে খাবার পরিবেষণ করা নিত্যদিনের রুটিন । দীর্ঘদিন থেকে এসমস্ত হোটেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও আজও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য গতকাল থকে  সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোষ্ট ভাইরাল হয়েছে। সিলেট টু ঢাকা রোডের হাইওয়েতে একজন ভুক্তভোগী কোন প্রতিকার না পেয়ে ‘পাকঘর রেস্টুরেন্ট ‘ নামে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক কতৃক ইফতারের সময় লাঞ্ছিত হওয়ার কারনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগটি পোষ্ট করলে তা রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় । পাঠকের সুবিধার্থে তা হুবহু তোলে ধরা হলো ।

    এখানে উল্লেখ্য যে পোষ্টটি ভুক্তভোগীর একান্ত ব্যক্তিগত থাকায় নিজের মতামত ব্যক্তি স্বাধীন থাকায় ধরুন আমরা- বানান,উচ্চারন,শব্দ প্রয়োগে কোন ধরনের সম্পাদনায় হাত দেইনি। ফেইসবুক থেকে হুবহু নেয়া …

    ভুক্তভোগী – কায়সার আহমেদ সাব্বিরঃ- 

    শেরপুর স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য চাচ্ছি।

    গতকাল সিলেট থেকে আসার পথে আমাদের বাস(এনা) এই রেস্তোরাঁয় দাঁড়ায় ইফতারের জন্য। যথারীতি সবাই নামে কিন্তু ফুড আইটেম এবং দাম অনেকের পছন্দ হয়না। তাই তারা খুচরা করে ইফতারের আইটেম নেয়। হুট করে মালিক চলে আসে, এবং স্টাফদের গালিগালাজ করে। কেন আমাদেরকে স্টাফরা খাবার দিলো?

    আমি বললাম ইফতারি দিছে এতে কি হইছে? সে বললো, যদি এখানে খাই তাহলে তার ১৯০ টাকার প্যাকেজটাই খেতে হবে, অন্য কিছু খাওয়া যাবে না। এখানে বলতে হয়, তার ইফতারের আইটেম ১৯০ টাকা হিসেবে কিছুই ছিল না। কেউ হয়তো ২০ টাকার ছোলা, ২০ টাকার পিয়াজি, ২০ টাকার জিলাপি নিয়েছিল। আমি ২০ টাকার ছোলা এবং ২/৪ টা পিয়াজি এবং ২০ টাকার জিলাপি নিয়ে আজানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, সাথে আরো কয়েকজন ছিল।

    You Can’t Believe….!
    দোকানের মালিক আমাদের হাত থেকে ইফতারির প্লেটটা টান মেরে নিয়ে নিলো ! জাস্ট অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।
    আজান দিলো। অই হোটেলের পাশেই একটা ছোট্ট চা বিড়ির দোকান ছিল, আমরা কথা না বাড়িয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম, কিছু একটা দিয়ে রোজা ভাংতে হবে। কেউ বিস্কিট কিনলো কেউ বা একটা পানি কিংবা চানাচুর নিলো।

    আমাদের মালিক এখানেও হাজির, স্ট্রেইট গালি দিলো দোকানদারকে। ইফতারির সময় তার দোকান বন্ধ করার জন্য হুমকি দিয়ে গেল। আমাদের মধ্যে একজন চেতলো। মালিক বললোঃ ভাই খাইলে খান নইলে ঝামেলা বাধায়েন না, আর ঠাস ঠুস দুই চারটা ইংলিশ মেরে দিলো।

    আজান শেষ। কেউ একটা বিস্কিট, কেউ এক মুট চানাচুর, কেউ এক ঢোক পানি, কেউ বা সিগারেটের একটা টান দিয়ে রোজা ভাংলো, শুনতেই খারাপ লাগতেছে তাইনা?  আমাদের ড্রাইভার, আর সুপারভাইজার ঠাসায়া খাইতেছে তখন। হোটলের লোক গুলা কেমন করে যেন আমাদের এই ১৫-২০ জনের দিকে তাকায়া ছিল ওদের কাছে টাকা নাই? ওরা কি রোজা রাখে নাই? এরকম ভাব ছিল।

    একতাই বল, শুনছেন না? এবার ১০/১২ জন মিলে ড্রাইভার আর সুপারভাইজারকে ধরলাম।
    আপনি কি এখানে ফ্রি খান? শেরপুরে এত বড় বাজার থাকতে আপনি এখানে খান কেন? আপনাদের মধ্যে কন্টাক্ট কি?
    সুপারভাইজার এর অমায়িক উত্তর আমরা চাইলে বাংলাদেশের সব হোটেলে ফ্রি খাইতে পারি, এখানের খাবার ভাল বলেই দাড়াই, এই যে দেখেন সবাই খাইতাছে।

    আমরা সবাই এবার আমাদের সোজা আঙ্গুল টা ব্যাকা করে ফেললাম। সিলেটের স্থানীয় কয়েকজন ক্ষেপে গেল। ড্রাইভার আর আর সুপারভাইজার তখন আছে সরির উপরে। সিনেমার মেইন ভিলেন আর তার ভাই( হুজুর টাইপ) আসলো শেষে মাফ চাইতে। তখন তারা ফ্রি ইফতার করাতে চাইলো, আবার বিভিন্নভাবে তাদের হোটেলের রুলস বুঝানো শুরু করলো।

    আমাকে সাইডে নিয়ে গিয়ে বলে ভাই আপনি খান, ইফতারি করেন, টাকা দিতে হবে না। আমি ডিরেক্ট মানা করে দিলাম। আমার সাথে আরো ১৫ জন ছিল তারা ইফতার করতে পারিনি, আমি কেনো করবো৷ মাফ চাইলো অনেক বার, ইফতারির আগের ব্যবহার আর পরের ব্যবহার সম্পুর্ণ আলাদা। কারন তারা চাচ্ছিল এ যাত্রায় ঝামেলা মিটে যাক কোনভাবে।

    আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন এই ঝামেলা কয়দিন পোহাবে সাধারণ মানুষ? যাদের পকেটে কম টাকা তারা কই খাবে? যাদের পকেটে টাকা আছে, তারাও কি টাকা অনুযায়ী খাবার পেল।  খাবার নিয়েও পলিটিক্স, ইফতারি নিয়েও সিন্ডিকেট।
    ইফতারের সময় আমরা মানুষ ডেকে ডেকে একটা পিয়াজি, একটা বেগুনি হাতে দেই, নে বাবা যতটুক আছে খা। আর এইসব লোভী ব্যবসায়ী হাত থেকে ইফতারির প্লেট নিয়ে যায়।

    বাস কোম্পানী কিংবা সুপারভাইজার এর পছন্দের হোটেল গুলোর কাছে আমরা সাধারণ মানুষ বন্দী। আপনাদের জন্য পরামর্শ-পাকঘর হোটেলটা এড়িয়ে চলুন। শেরপুর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ এইসব ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। প্লিজ। আমার এই ২৭ বছরের জীবনে এই প্রথম কেউ আমার হাত থেকে ইফতারির প্লেট টান দিয়ে নিয়ে গেলো। সহ্য করা কঠিন, খুব কঠিন।

    হোটেলের নামঃ- পাকঘর।
    ঠিকানাঃ- ঢাকা সিলেট বাইপাস, শেরপুর, মৌলভিবাজার
    মোবাইল নম্বরঃ-  ০১৭৬৩৬৩৫২৬৩

  • নবীগঞ্জে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংঃ আন্দোলনের হুশিয়ারী

    ছনি চৌধুরী, নবিগঞ্জ থেকেঃ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাড়িয়েছে । রমজান মাসেও তার ব্যতিক্রমী কিছু নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জনসাধারণ। ইফতার-তারাবি কিংবা সেহরির সময় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত কিছুদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দিচ্ছেন নানা আন্দোলনের হুশিয়ারী।

    প্রতিবারের ন্যায় এবারও রমজান মাসে শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে বিদ্যুৎয়ের অলৌকিক যাওয়া আসার খেলা। রমজানের ইফতার, তারাবিহ ও সেহরীর সময়ে লোডশেডিং ছাড়িয়েছে জনসাধারণের সহনীয়তার মাত্রা। বিদ্যুৎয়ের এ তীব্র বিভ্রাটে অতিষ্ঠ নবীগঞ্জের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ। এ যেন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে সবাই জিম্মি। কিছুতেই কমছেনা গরম। দিনে যেমন রোদের খড়তাপ তেমনি রাতে বইছে গরমের হাওয়া। সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

    সারাদিন রোজা পালন শেষে যখন ইফতার সামনে নিয়ে বসা ঠিক তখনই যেন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময়। সারাদিনতো এমনিতেই চলে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলা। তার উপর ইফতার-তারাবীহ-সেহরি এই সময়টুকুতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিয়ম মাফিক হয়ে গেছে। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন, রমজান আসলেই কি হয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষেও ? রমজানের প্রথম তারবীহ থেকে চলছে বিদ্যুতের এমন আসা যাওয়ার খেলা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি।

    রমজানে এমন লোডশেডিং-এ রোজাদার থেকে শুরু করে বৃদ্ধ শিশু ও অসুস্থ মানুষ বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র তাপদাহে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এর রেশ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পবিত্র রমজান মাসে যেখানে এ উপজেলার গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবী জানিয়ে আসছিলেন, বিশেষ করে ইফতার-তারাবিহ-সেহরীর সময়ে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সময়সহ দিনরাত অব্যাহত লোডশেডিংয়ের অসহনীয় যন্ত্রণা বিক্ষুব্ধ করে তুলছে তাদেরকে।

    এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেপার-পত্রিকায় টিভি চ্যানেলে আমরা দেখতে পাই দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে সরকারের এত বিদ্যুৎ যায় কোথায়? এভাবে লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমাদেরকে কেন ভোগান্তিতে ফেলছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। এর রহস্য কি?

    গ্রাহক আব্দুল মান্নান বলেন, রমজান আসলেই বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। দেশে এতো বিদ্যুৎ থাকতে আমরা অবহেলিত কেন? ইফতার-তারাবীহ-সেহরিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট করে আমাদের ধর্মপ্রান মুসলমানদের কেন কষ্টের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বিদ্যুত কর্মকর্তারা। অতি শীঘ্রই এর প্রতিকার না হলে আমরা বড় ধরণের আন্দোলনে যাবো। অন্যদিকে চলতি রমজানে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুতের এমন কর্মকাণ্ডে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিভাবকদের ধারণা।

    এতে করে প্রতিদিনের কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন একটু মেঘলা আকাশ হলেই বিদ্যুৎতের ভেলকিবাজি শুরু হয়ে। বিদ্যুতের চোর-পুলিশ খেলা এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। আর এ থেকে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি কার্যক্রম, ব্যবসা বাণিজ্য, লেখাপড়া ও চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজি থেকে রেহাই দিতে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়েছেন গ্রাহকরা, অন্যথায় আন্দোলনের হুমকিও দেন তারা।

    সাম্প্রতি বদলী জনিত কারণে নবীগঞ্জ ছেড়েছেন নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম আব্দুল বারী। তার অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(এজিএম) রুহুল আমীন। অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাপারে জানতে নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(এজিএম) রুহুল আমীন এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিছিব করেননি।

    উল্লেখ্য,গত বছরের (১৯ আগস্ট) রবিবার সারা দিন লাগাদার প্রায় ২৩ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড দাবাদহে অসহনীয় দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে রাতে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ জনতা। রাত ১০টায় শহরের নতুন বাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এর ওসমানী রোডস্থ ভাড়া বাসা এবং কলেজ রোডস্থ পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করে ডিজিএম এর অপসারণ দাবি করে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পল্লী বিদ্যুতের নবীগঞ্জ জোনাল অফিসে গিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাংচুর করে।

  • বাহুবলে কথা-কাটাকাটি জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

    বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে  শুক্রবার (১০ মে) জুম্মার নামাজের পর বাহুবল উপজেলার বাগদাইর গ্রামে।

    জানা যায়, বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বাজার হইতে বাগদাইর গ্রামে সিএনজির শ্রমিকরা ১৫০ টাকা ভাড়া নেয়, কিন্তু গ্রামের কিছু সাধারণ মানুষের জন্য সে ভাড়া অতিরিক্ত হয়েগেছে তাই কিছু লোক সিএনজির ভাড়া কমানোর দাবী জানান, এ সময় এক পক্ষ বলছে ১৫০ টাকা ভাড়াই সঠিক অপর পক্ষ বলছে না আমরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে পারবোনা।

    এ নিয়ে হাজী আকবর হোসেনের ছেলে মনহর আলীর একি গ্রামের আব্দুল হান্নানের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হলে এতে উভয় পক্ষের লোকজন দেশিও অশ্রু নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০জন আহত হয়।

    এমপি কন্যার ইসলাম গ্রহণ, ইউরোপজুড়ে তোলপাড়

    আহতরা হলেন মনোহর আলী ,রুবেল মিয়া ,জাহাঙ্গীর মিয়া,রমজান মিয়া,আবুল ফজল ,আব্দুল হান্নান,আকবর আলীসহ প্রায় ২০ জন লোক আহত হয়, এর মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় মনোহর আলী ৪০ কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় দুই জন নিহত

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পাথরবাহী ট্রাকের চাপায় দোকান মালিকসহ দুই জন নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১০ মে) সকালে মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড ডাক বাংলোর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- মাধবপুর শহরের পশ্চিম মাধবপুরের তৈয়ব আলীর ছেলে আইয়ুব আলী (৩৫) এবং পাশ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার ভাইগদিয়া গ্রামের আবন মিয়ার ছেলে জোনায়েদ মিয়া (২৮)।

    পুলিশ জানায়, সকালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পাথরবোঝাই একটি ট্রাক মাধবপুর ডাকবাংলোর কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইয়ুব আলীর দোকানে ঢুকে যায়। এতে ট্রাকচাপায় দোকান মালিক আইয়ুব আলী ও পরিবহন শ্রমিক জোনায়েদ মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও দুইজন।

    মাধবপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত হোসেন  বলেন, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

  • অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও মূল্য তালিকা না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে জরিমানা

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ শহরে অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও মূল্য তালিকা না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চৌধুরী বাজার ও ঘাটিয়া বাজার এলাকায় হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদের নেতৃত্বে এ ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

    এ সময় সুমন স্টোরের (মুদির মাল) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও মূল্য তালিকা না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে হক ট্রেডার্সের মালিককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি।

    হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিয়মিত আমাদের বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যদি কেউ অতিরিক্ত মূল্য রাখে কিংবা যে কোন ধরনের জালিয়াতির চেষ্টা করে তাদেরকে কঠোর ভাবে দমন করা হবে।

    রমজান মাসকে সামনে রেখে বাহুবলে ভেজাল খাদ্য বিরোধী অভিযান

    অপরদিকে, ঘাটিয়া বাজার এলাকায় বেশ কিছু কাপড়েরর দোকানেও অভিযান চালান জেলা প্রশাসক। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানে নির্ধারিত মূল্য থেকে কাপড়ের গায়ে অতিরিক্ত মূল্য তালিকা থাকায় দোকান মালিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়। ভ্রাম্যামান আদালতকে সহযোগীতা করেন সদর থানার এসআই পলাশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ।