Category: হবিগঞ্জ

  • ক্ষণজন্মা এক ব্যক্তিত্ব আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ:)

    ক্ষণজন্মা এক ব্যক্তিত্ব আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ:)

    মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিকঃ এদেশে যুগে যুগে, কালে কালে অনেক মহামানবের আগমন-আর্বিভাব ঘটেছে। যারা নিজেদের জীবন বাজী রেখে সৃষ্টিকর্তার মনোনীত ধর্মকে পৃথিবীর বুকে প্রচার-প্রসার করেছেন, উম্মতে মুহাম্মদীকে সত্য সঠিক পথে পরিচালিত করতে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে হযরত শাহজালাল, খানজাহান আলী, শাহ মখদুম (রহ:) অন্যতম।

    তাঁদের বদৌলতে এ অঞ্চলের মানুষ ঈমানের নূরে নূরান্বিত হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যারা রাসুল (সা:)-এর অনুপম আদর্শ নিজেদের মধ্যে লালন করতেন। মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করতেন। সমাজ ও মানবতার কল্যাণে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিতেন। এসব বুযুর্গের আধ্যাত্মিক শক্তির বলেই জাহেলিয়্যাত পরাজিত হয়। স্বর্ণযুগের এসব মনীষীদের মধ্যে উজ্জ্বল নিদর্শন পাওয়া যায় বিশিষ্ট সংগঠক, সমাজ সেবক, কবি, পীর ও বীর ভারতীয় উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট শামসুল উলামা আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ:)।

    যিনি বাল্য কালেই দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। কেবল গতানুগতিক আলেম বা পীরের মতো কাজ করেননি। তিনি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত বন্দেগী, তসবিহ তাহলিল, জিকির মুরাকাবার পাশাপাশি সৃষ্টির সেবা ইবাদতের ন্যায় বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এজন্য তাঁর অবদান তাঁর চলে যাওয়ার পরেও পত্র-পল্লবে বিকশিত হচ্ছে।

    শুধু তাই নয়, তাঁর কিরাত পদ্ধতির ফলে সৃষ্ট লাখো ছাত্র, দ্বীনি উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে তৈরি শত সহস্র শিষ্য ও আধ্যাত্মিক দীক্ষাপ্রাপ্ত অসংখ্য মুরিদ ছাড়াও তাঁর রয়েছে ঔরসজাত নেক সন্তান। যা একজন মানুষের পরকালীন অব্যাহত মর্যাদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে থাকে। এদিক দিয়ে আল্লামা ফুলতলী (রহ:) অনন্য।

    আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ:) ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থে সময়ে সময়ে গড়ে তুলেছেন জাগরণী আন্দোলন, ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ দেখলেই ফেটে পড়েছেন বিক্ষোভে। শাসক-শোষকের বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে গড়ে তুলেছেন সংগ্রামী দূর্গ। দেশ, জাতি ও ধর্মের দুর্যোগময় মুহূর্তে তিনি কখনো নীরব থাকেননি।

    আল্লামা ফুলতলী (রহ:)-এ দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে নানাবিধ সংষ্কার সাধন, তাদের আত্মিক পরিশুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করণ, সর্বোপরি ইসলামের সঠিক আকীদা বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন গঠনে তাঁর জীবনী উত্তম দৃষ্টান্ত।

    স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী কোন আক্রমণ হলে তিনি ঘরে বসে থাকতেন না। বরং জানমাল দিয়ে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তেন। বুশ-ব্লেয়াররা ইরাক আক্রমণ করলে যুদ্ধ বিরোধী এক মহা-সমাবেশে আল্লামা ফুলতলী (রহ:) বলেছিলেন-

    “মানুষের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে একমাত্র ধন ও সম্মান নিয়ে। ইরাক আমেরিকার সম্পদ আত্মসাৎ করেনি কিংবা তার সম্মানে আঘাতও হানেনি। কারণ ছাড়া একমাত্র পশুই যুদ্ধ করতে পারে। কোন মানুষ কারণ ছাড়া যুদ্ধ করতে পারেনা। ইরাকে হামলা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে পশু না মানুষের পরিচয় দিতে চান “ (তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব- ১৬/৩/২০০৩)।

    হযরত শাহজালাল (রহ:)-এর মাজারে বোমা হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মহা-সমাবেশে আল্লামা ফুলতলী (রহ:) বলেন-

    “বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় আল্লাহর ওলীর পবিত্র প্রাঙ্গণকে কলংকিত করার প্রচেষ্টা মোকাবেলায় আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত রয়েছি। তিনি বলেন, সরকারের কোন মন্ত্রী কিংবা উচ্চ পদস্থ কোন সরকারি কর্মকর্তার বাসায় এ ধরনের হামলা হলে সরকারের তোড়জোড়ের শেষ থাকতো না। অথচ যার প্রচেষ্টায় সিলেট তথা ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানরা বীরদর্পে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে সেই আধ্যাত্মিক সম্রাট শাহজালাল (রহ:)-এর দরগাহ প্রাঙ্গণে বোমা হামলায় সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক।” (তথ্যসূত্র: দৈনিক সিলেটের ডাক ও দৈনিক জালালাবাদ : ২৪/১/২০০৪)।

    বিগত জোট সরকার মাদরাসার ফাজিল-কামিলকে ডিগ্রী ও মাস্টার্সের মান দেয়ার নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাদরাসার ফাজিল-কামিলকে ন্যস্ত করে মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা বিনষ্ট করার চক্রান্ত করেছিল। তখন আল্লামা ফুলতলী (রহ:)-এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তারই অধীনে ফাজিল-কামিলকে ডিগ্রী ও মাস্টার্সের সমমান দেয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আল্লামা ফুলতলী (রহ:) বিগত ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে পাঁচ শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে সিলেট থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করেন।

    আরো পড়ুনঃ শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক

    এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে, জোট সরকারের ভিত নড়ে যায়। ফলে তৎকালীন সরকার মাদরাসার ফাজিল-কামিলকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সরকার ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে মাদরাসার ছাত্ররা ফাজিল-কামিল পাশ করে ডিগ্রী ও মাস্টার্সের যে মান পাচ্ছেন তা আল্লামা ফুলতলী (রহ:)-এর আন্দোলনের ফসল।

    আল্লামা ফুলতলী (রহ:) জীবনে তাঁর ধন-সম্পদ গরীব-দুঃখীর মধ্যে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। শত শত সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি কোনো দিনই কারো কাছে বিনিময় চাননি এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়ার চেষ্টাও করেননি। বরং তিনি অতিসাধারণভাবে জীবন যাপন করতেন।

    আল্লামা ফুলতলী (রহ:) নিজেই বলেছেন-

    “আমি কোন সময়ই কোন সরকারের সঙ্গে যাইনি। পাকিস্তান আমলে দেওয়ান বাছিত সাহেব আমাকে মন্ত্রী করারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ‘আমি বলেছি- সিটে বসলে দেবতা আর সিট থেকে নামলে ডোরাসাপ। আমাকে দিয়ে এমনটি হবেনা।”

    আল্লামা ফুলতলী (রহ:) বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। বৃটিশ বেনিয়া বিতাড়ন এবং মুসলমানদের অধিকার রক্ষার জন্য ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ প্রতিষ্ঠিত হলে আল্লামা ফুলতলী (রহ:) জমিয়তের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনসহ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জমিয়তের গায়ে কংগ্রেসের ছোয়া অনুভূত হলে বিশেষ করে জমিয়ত নেতা দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ:) দ্বিজাতি তত্ত্বের বিপক্ষে অবস্থান করলে  আল্লামা ফুলতলী (রহ:) তখনই ঘোষণা দিয়ে জমিয়ত ত্যাগ করেন।

    ১৯৫০ সালে ভারতের আসাম প্রাদেশিক সরকার ‘মুসলিম এডুকেশন বোর্ড’ বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারি করলে আল্লামা ফুলতলী (রহ:) প্রতিবাদ জানিয়ে আমরণ সংগ্রামের ডাক দেন। তাঁর প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সহ্য করতে না পেরে তৎকালীন আসাম সরকার আল্লামা ফুলতলী (রহ:) উপর গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করে। এমনকি পরবর্তীতে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেয়।

    ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান আমলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নেজামে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আল্লামা ফুলতলী (রহ:)’র অবদান অত্যন্ত প্রশংসিত।

    পাকিস্তানি সেনারা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলের উপর যখন অত্যাচারের স্ট্রিম রোলার চালাচ্ছিল তখন এসব অসহায় জনগণের মধ্যে অবিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন আল্লামা ফুলতলী (রহ:)। নির্যাতন-নিপিড়ন, গণহত্যা বন্ধ করার জন্য আল্লামা ফুলতলী (রহ:) পাক-সেনাদের প্রতি বারবার ‘খবরদার’ বলে তাদেরকে ধমক দিয়েছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধে আল্লামা ফুলতলী (রহ:)-এর অবদান সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম. এ. জি ওসমানী বলেছেন-

    “উনি যদি সে সময় সিলেটে না থাকতেন তাহলে হাজার হাজার মা বোনের লাশ নদীতে ভাসতো।”

    মানুষ দুনিয়া জীবনে ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু কিছু মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেও তাঁরা মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকেন যুগ থেকে যুগান্তর, কাল থেকে কালান্তর। তাঁদের স্মৃতি-মহিমা কখনো ক্ষয় হয় না, লয় হয় না। আল্লামা ফুলতলী (রহ.) ছিলেন এক আদর্শ মহাপুরুষ।

    ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে বিদায় নেন নশ্বর পৃথিবী থেকে এই ক্ষণজন্মা মনীষী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর এ ওলীর দরজাকে বুলন্দ করে দিন এবং তাঁর সকল খিদমতগুলোকে সমৃদ্ধ করে দিন। আমিন।

    লেখক: প্রাবন্ধিক
  • শীতে কাঁপছে শায়েস্তাগঞ্জ

    শীতে কাঁপছে শায়েস্তাগঞ্জ

    সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুরঃ আমাদের দেশে এসময়ে শীতের তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। প্রকৃতির এ ধারায় সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার র্সবত্রই চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

    গত দুইদিন থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে শীত জেঁকে বসেছে। জেলার শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ, বাহুবল, ও মাধবপুর উপজেলার বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে পাহাড়ি এলাকা। আর এ শীতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনুভূত হয় ঘনবন বেষ্টিত লোকালয়।

    শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার লোকজনও শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে শীতে কাঁপছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রীমঙ্গল এলাকায় শীতের তীব্রতা এমনিতেই অত্যাধিক থাকে।

    এতে করে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা শ্রীমঙ্গলের পার্শবর্তী হওয়ার কারণে এমন হীমের প্রভাব এখানেও কম নয়। হবিগঞ্জ জেলার উল্লেখিত পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত চা শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তীব্র শীতের উৎপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবন।

    এদিকে শৈত্যপ্রবাহে দূর্ভোগে পড়েছেন স্কুল কলজেগামী শিক্ষার্থীসহ শ্রমজীবী মানুষজন। এ কনকনে শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শিশু  ও বৃদ্ধরা। যার ফলে ঠান্ডাজনিত রোগ বালাই সহজেই কাবু করতে পারছে। অন্যদিকে এ শৈত্যপ্রবাহ খুশির র্বাতা নিয়ে এসেছে শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীদের জন্য।

    আরো পড়ুনঃ তার বিহীন আকাশ দেখল সিলেট বাসী

    ঠাণ্ডার তীব্রতা বাড়তে থাকায় শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বাড়ছে কেনাকাটা। শায়েস্তাগঞ্জের শীত নিবারণের কাপড়ের র্মাকেট গুলোতে সকাল থেকে মধ্য রাত র্পযন্ত ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা।

    নতুন শীতবস্ত্র বিক্রির দোকান ছাড়াও ফুটপাথের পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রির দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সবাই যার যার সাধ্যমত নতুন পুরাতন শীতবস্ত্র ক্রয় করছেন।

  • নবীগঞ্জে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা

    নবীগঞ্জে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা

     

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে ঘোষিত মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষে নবীগঞ্জে এক প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আজ সোমবার সকাল ১১ ঘটিকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পালের সভাতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্টান হয়।

    এই সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংঠনিক সম্পাদক মুস্তাক আহমেদ মিলু, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সরওয়ার শিকদার, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম সুমন, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল চন্দ্র দাশ প্রমুখ।

    অনুষ্টানে বলা  হয় আগামী ১০ জানুয়ারী সকাল ১০টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য ও মুজিববর্ষের শুভ উদ্বোধন করবেন। এর পর উপজেলায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের নিয়ে একযোগে নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড় থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত। ওই দিন উপজেলার সকল প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক, নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সকল শিক্ষার্থী, নবীগঞ্জ জে.কে উচ্চ বিদ্যালয় ও হিরা মিয়া গার্লস উচ্চ বিদ্যালয়সহ পৌর এলাকার আশে পাশে স্কুল এবং মাদ্রাসার নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ১১ জানুয়ারী বিকাল ৩ থেকে ৫টা পর্যন্ত উপজেলা মিলনায়তনে “বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শক” শীর্ষক আলোচনা সভা ও শিশু কিশোরদের অংশগ্রহনে “বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শক” শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

  • লাখো মুসল্লীর অংশ গ্রহণে সম্পূর্ণ হলো হবিগঞ্জী হুজুরের জানাজা

    লাখো মুসল্লীর অংশ গ্রহণে সম্পূর্ণ হলো হবিগঞ্জী হুজুরের জানাজা

    লাখো মুসল্লীর  উপস্থিতিতে দেশের প্রখ্যাত আলেম হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা হাফেজ তাফাজ্জুল হক মুহাদ্দিসে হবিগঞ্জীর নামাজে জানাজা সম্পূর্ণ হয়।

    তার নিজ প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের উমেদনগরে জামেয়া আরাবিয়া উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসা ময়দানে আজ সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। জানাজায় ইমামতি করেন হুজুরের বড় সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা মসরুরুল হক্ক।

    জানাজার শেষে হুজুর কে দাফন করা হয়েছে তার নিজ মাদ্রাসায়।

    উল্লেখ উক্ত মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে হুজুরের বড় ছেলে কে দায়িত্ব দেয়া হয়।

    আল্লামা হবিগঞ্জীকে শেষবারের মতো দেখতে লাখো জনতা উপস্থিত হয়েছিল জানাজার মাঠে।

    রাস্তায় মুসল্লীর একাংশ

    মাঠে জায়গা না পেয়ে মুসল্লীরা রাস্তায় জানাজার নামাজ আদায় করেন।

    তার জানাজায় অংশ নিতে জনস্রোতে পরিণত হয় হবিগঞ্জের উমেদনগর মাদরাসা মাঠ এবং পুরো হবিগঞ্জ।

    জানাজায় স্থানীয় আলেমরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন হাজারো আলেম ও ছাত্র-জনতা।

    জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন সিলেটের মেয়র  জনাব আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জনাব কামরুল হাসান এবং সাবেক মেয়র জিকে গউছ  এবং স্থানীয় নেত্রীবৃন্দ।

    হবিগঞ্জের  এই আলেম গতকাল শনিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চার ঘটিকায় মারা যান।

  • আল্লামা তাফাজ্জুল হকের জানাজার নামাজ সকাল দশটায়

    আল্লামা তাফাজ্জুল হকের জানাজার নামাজ সকাল দশটায়

    হবিগঞ্জ তথা দেশের পূর্বাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন আল্লামা তাফাজ্জুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

    গতকাল (৫ জানুয়ারি) রোববার বিকাল ৪ টা ৩৫ মিনিটে সিলেটের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি।

    আজ সকাল (৬ জানুয়ারি) ১০ ঘটিকায় নিজের প্রতিষ্ঠিত জামিয়া আরাবিয়া উমেদ নগর মাদ্রাসার মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

    হবিগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া টাইটেল মাদরাসা, হবিগঞ্জ তেতৈয়া মাদানীনগর মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা, নুরুল হেরা জামে মসজিদসহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা তাফাজ্জুল হকের মৃত্যুতে হবিগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাজার হাজার মাদরাসা ছাত্রছাত্রীর উস্তাদের মৃত্যুতে ইতিমধ্যে তার হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার বাসভবন এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছেন।

    তার আমন্ত্রণে সৌদী আরবের দুই পবিত্র মসজিদের ইমাম, বায়তুল মোকাদ্দসের ইমামসহ দেশ ও বিদেশের বহু আলেম হবিগঞ্জের জামেয়া মাদরাসায় এসেছেন।

    আল্লামা তাফাজ্জুল হকের জীবনী সম্পর্কে জানা যায়, ১৯৪৪ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা আব্দুন নুর ছিলেন বড় মাপের আলেম। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। লেখাপড়ার শুরুটা বাবার হাত ধরেই। তারপর রায়ধর মাদরাসা। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায়। বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক শায়খুল হাদীস আল্লামা আহমদ শফি আল্লামা তাফাজ্জুল হকের শিক্ষক।

    চট্টগ্রাম থেকে আল্লামা তাফাজ্জুল হক চলে যান পাকিস্তানে। পাকিস্তানের লাহোর জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় তিনি লেখাপড়া করেন। সেখানকার তার উস্তাদ শায়খুল হাদিস আল্লামা রসুল খান ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আলেমে দ্বীন।

    লাহোর থেকে জ্ঞান আহরনের উদ্দেশ্যে আল্লামা তাফাজ্জুল হক চলে যান ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায়। সেখানে তিনি উস্তাদ শায়খুল হাদিস ফখরুদ্দিনের (র) সান্নিধ্য লাভ করেন। আল্লামা ফখরুদ্দিন (র) ছিলেন একাধারে পীর ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা।

    ভারত, পাকিস্তানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান আহরণের পর তিনি চলে আসেন বাংলাদেশে। শিক্ষকতার পেশা দিয়ে তার জ্ঞান বিতরণ কার্যক্রম শুরু।

    রায়ধর মাদরাসার মুহাদ্দিস হিসাবে তিনি প্রথম শিক্ষকতার পেশা শুরু করেন। একবছর তিনি সেখানে ছিলেন। পরে চলে যান কুমিল্লার বরুরায়। সেখানেও তিনি শিক্ষকতা করেন। ময়মনসিংহের জামেয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসাসহ ময়মনসিংহ জেলায় তিনি বেশ কয়েক বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

    স্বাধীনতার পর পর তার উস্তাদরা তাকে পাঠিয়ে দেন নিজ জেলা হবিগঞ্জে। প্রথমে তাকে মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় উমেদনগর মাদরাসায়। ১৯৫৭ সালে শায়খুল হাদিস মিছবাহুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত উমেদনগর মাদরাসায় তখনো দাওরায়ে হাদিস বিভাগ ছিল না। আল্লামা তাফাজ্জুল হক এসে দাওরায়ে হাদিস বিভাগ চালু করেন। এরপর নিরন্তরভাবে হাদিস শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন তিনি। ৭১ থেকে ২০২০ সাল। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হাদিস শাস্ত্র পড়িয়ে কয়েক হাজার মুহাদ্দিস তৈরী করেন। যারা এখন দেশ বিদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    “শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক”

    শুধুই কি পুরুষরা হাদিস শিক্ষা অর্জন করবে? মহিলারা বাদ যাবে কেন? শুধু এই চিন্তায় তিনি ১৯৯৭ সালে হবিগঞ্জের তেতৈয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন মাদানী নগর মহিলা মাদরাসা। এই পর্যন্ত মহিলা মাদরাসা থেকে ২২৫ জনেরও বেশি মহিলা মুহাদ্দিস সনদ নিয়ে বের হয়েছেন। তারা এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি পরিবারে হাদিস শিক্ষা প্রদান করছেন।

    শায়খুল হাদিস তাফাজ্জুল হক বিয়ে করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের বড় হুজুর হিসাবে খ্যাত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রবক্তা এবং ব্রিটিশদের কালো পতাকা প্রদর্শনকারী মাওলানা আরিফে রাব্বানীর কন্যাকে।

    তাফাজ্জুল হকের পাঁচ ছেলের সবাই প্রখ্যাত মাওলানা। তাদের মাঝে চারজন কোরআানে হাফেজ। চার কন্যার মধ্যে সবাই টাইটেল পাশ আলেমা। নাতী নাতনীদের প্রায় সবাই কোরআনে হাফেজ ও মাওলানা।

  • আল্লামা তাফাজ্জুল হক এর ইন্তেকালে এমপি মজিদ খানের শোক প্রকাশ

    আল্লামা তাফাজ্জুল হক এর ইন্তেকালে এমপি মজিদ খানের শোক প্রকাশ

    উপমহাদেশের শীর্ষ হাদিস বিশারদ আল্লামা তাফাজ্জুল হক (৭৬) হবিগঞ্জী হুজুর এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান এম.পি ।

    শোক বার্তায় এডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান এম.পি মরহুম আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী হুজুর এর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তার নেক আমল সমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন।

    আরো পড়ুনঃ-
    আল্লামা তাফাজ্জুল হক হুজুর আর নেই
    আল্লামা তাফাজ্জুল হকের জানাজার নামাজ সকাল দশটায়

    মরহুম আজ রোববার বিকাল ৪ টা ৩৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেটের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রজিউন)। তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎ বিভিন্ন রোগ সহ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি ৫ ছেলে, ৪ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

  • আল্লামা তাফাজ্জুল হক এর ইন্তেকালে জেলা শিবিরের শোক প্রকাশ

    আল্লামা তাফাজ্জুল হক এর ইন্তেকালে জেলা শিবিরের শোক প্রকাশ

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা তাফাজ্জুল হক (৭৬) হবিগঞ্জী হুজুর এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি তারেকুল ইসলাম এবং জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

    এক যৌথ শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ এই শোক প্রকাশ করেন।

    শোক বার্তায় শিবির নেতৃবৃন্দ মরহুম আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী হুজুর এর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোআ করেন, আল্লাহ যেন তার নেক আমল সমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন।

    মরহুম আজ রোববার বিকাল ৪ টা ৩৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রজিউন)। তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎ বিভিন্ন রোগ সহ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি ৫ ছেলে, ৪ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।