Category: হবিগঞ্জ

  • মাধবপুরে স্কুল ছাত্রী কে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

    মাধবপুরে স্কুল ছাত্রী কে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের কালিকাপুর নোয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পুলিশ ধর্ষক রুবেল মিয়া  (২১) নামে এক যুবক কে গ্রেফতার করে।

    পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ঘটিকার দিকে কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ওই ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হলে পূর্বথেকে উৎপেতে থাকা ওই গ্রামের মৃত ছাবু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া তাকে ঝাঁপটে ধরে মুখ চাপা দিয়ে জোরপূর্বক ঘরে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করে। ঘরে ফিরে আসতে ওই ছাত্রী দেরী দেখে তার স্বজনরা তাকে খোঁজাখুজি ও ডাকাডাকি করতে থাকে। শব্দ শুনে ধর্ষক তাকে রাত ১টার দিকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে ওই ছাত্রী বাড়ীতে এসে বিষয়টি পরিবারকে অবহিত করেন। ধর্ষিতার বাবা একজন প্রতিবন্ধী ও মা লেবাননে বসবাস করেন।

    এ ব্যাপারে ধর্ষিতার চাচা ফকির আব্দুল আহাদ রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সকালে মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুল ইসলাম কালিকাপুর নোয়াগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে।

    মাধবপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত গোলাম দস্তগীর আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এ ব্যাপারে মাধবপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ও ২২ ধারা জবানবন্দী গ্রহণের জন্য হবিগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    ধর্ষিতার চাচা ফকির আব্দুল আহাদ জানান, ধর্ষিতাকে প্রেম নিবেদন করে প্রায়ই রুবেল উত্যক্ত করত। এদিকে ধর্ষক রুবেল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

  • চুনারুঘাটে সামাজিক বনায়নের ২৫টি গাছ কেটে নিয়েছে পাচারকারীরা

    চুনারুঘাটে সামাজিক বনায়নের ২৫টি গাছ কেটে নিয়েছে পাচারকারীরা

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সতং সড়কের পশ্চিম দ্বিমাগুরুন্ডা মোড় থেকে সামাজিক বনায়নের প্রায় ২৫টি গাছ কেটে নিয়েছে পাচারকারী সংঘবদ্ধ একদল দুঃবৃত্ত। বেশ কয়েকদিন ধরে রাতের আধারে সড়কের গাছগুলি এক একে ওই গাছ কাটা হচ্ছে।

    বন বিভাগ ও স্থানীয় লোকজন জানান, বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ প্রায় সাত বছর আগে বন বিভাগের সহযোগিতায় রাস্তার পাশে প্রায় দুই হাজার মিনজিয়াম গাছ লাগানো হয়। কিছু গাছ মরে গেছে। বাকিগুলো কাটার সময় এখনো হয়নি। রাতের আধারে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে পাচারকারীরা। মঙ্গলবার দিন দুপুরে সড়ককের কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে গেছে পাচারকারীরা।

    কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো:আলাউদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সত্যজিত রায় দাশের নির্দেশে চুনারুঘাট সদর অফিসের স্টাইকিং ফোর্স (ওসি) শুভময় বিশ্বাসকে ঘটনার স্থলে পাঠাই, তিনি সরেজমিন ঘটনার স্থলে গিয়ে গাছের কাটা মোথা ও ডালপালা দেখতে পান।

    স্থানীয়রা জানান সকালে অজ্ঞাত ৩/৪জন ব্যক্তি গাছগুলো কেটে নিয়ে যান। সরেজমিনে দেখা যায়, সুতাং সড়কের দুই পাশের গাছগুলো বড় হয়ে গেছে। গাছের সারিতে বেশ কিছু কাটা গাছের গুঁড়ি দেখা যায়। আবার এক জায়গায় দেখা যায়, গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কাটা গাছ পাশেই পড়ে আছে।

    এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ মাসে ওই সড়কের অর্ধশত গাছ কাটা হয়েছে। আর গোটা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক থেকে কাটা হয়েছে অসংখ্য গাছ। বেশি কাটা হচ্ছে ওই ইউনিয়নের সতং এলাকার মূল্যবান গাছগুলো।

    অপরদিকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ভৈরবে ২৯ টুকরা প্রায় শতাধিক ঘনফুট সেগুন কাঠ পিক আপ ভর্তিসহ চুনারুঘাটের নাছির উদ্দিন (৩৫) ও রুমেল মিয়া (২৫) কে আটক করেছে ভৈরব থানা পুলিশ।

    ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহীন মিয়া জানান, চক্রটি মৌলভীবাজারের একটি নকল চিপিং এর মাধ্যমে গাছগুলো ঢাকা পাচারের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • মুজিববর্ষ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি

    মুজিববর্ষ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি

    আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। আজ শত বছর পূর্ণ হলো বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তানের।

    সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত শূন্যঘণ্টা শেষে ১৭ মার্চের সূচনালগ্নে শুরু হওয়া বহুল প্রতীক্ষিত মুজিব জন্মশতবর্ষ বছরজুড়ে উদযাপিত হবে।চলবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

    স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত আটটায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনটি এখন জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হয়।

    সেই প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও শিশু দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি  হাতে নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

    কর্মসূচির মধ্যে-মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে নীমতলা কালেক্টর প্রাঙ্গনে তোপধ্বনি।

    একই সাথে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ।

    সকাল ৮টায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাস্তা-ঘাটসহ হাটবাজার পরিস্কার অভিযান। সকাল ৯টায় নিমতলা কালেক্টর প্রাঙ্গনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মুজিবর্ষের জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন।

    রাত ৮টায় নিমতালা কালেক্টর প্রাঙ্গনে আতশবাজি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গ্রন্থ, স্মরণিকা ও দেয়ালপত্রিকা প্রকাশিত হবে।

    সেই সাথে মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • চুনারুঘাটে ১৬ লক্ষ টাকার ভারতীয় চা পাতা জব্ধ

    চুনারুঘাটে ১৬ লক্ষ টাকার ভারতীয় চা পাতা জব্ধ

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় চা পাতা জব্ধ করেছে বিজিবি।

    বিজিবি’র চিমটিবিল ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কাউছার মিয়া জানান, গত রবিবার রাতে তাদের কাছে খবর আসে সীমান্তের ৭৫ এর ৩ এস পিলারের পার্শ দিয়ে ভারতীয় চা পাতা প্রবেশ করছে। সে মোতাবেক তিনি হাবিলদার মহসিন সহ টহলে বের হন। হঠাৎ চোরাকারবারীদের দেখে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায় এবং সেখানে বিপুল পরিমান ভারতীয় চা পাতা জব্ধ করেন।

    জব্ধ চা পাতার বাজার মুল্য ১৬ /১৭ লক্ষ টাকা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চা পাতার সিজার লিস্ট তৈরী হচ্ছিল।

    উল্লেখ্য ইদানিং সিমান্তের ৭৫ পিলারের চাকলাপুঞ্জি ১নং বাগানের পার্শ দিয়ে চোরাকারবারিদের নিরাপদ রোডে পরিনত হয়েছে জব্ধ চা পাতা শায়েস্তাগঞ্জ কাস্টমে হস্তান্তর করা হবে।

  • ৩২ কোটি টাকা আমানত পইলের সাবের কাছে

    ৩২ কোটি টাকা আমানত পইলের সাবের কাছে

    সৈয়দ আহমদুল হক হবিগঞ্জ জেলার সকল মানুষের কাছে অর্জন করেছিলেন আস্থা আর বিশ্বাস। যে কারণে জেলা জুড়ে একজন ন্যায় বিচারক হিসেবে তিনি গড়েছিলেন বিশেষ খ্যাতি। আর এ বিশেষ খ্যাতির সর্বশেষ অবস্থা শুনে বিস্মিত হয়েছেন জানাযার নামাজে অংশ নেয়া লাখো মুসল্লী ও ভক্ত আশেকান।

    জানাযার নামাজ পূর্ববর্তী মরহুম সৈয়দ আহমুদল হকের ছেলে পইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ বলেন, ‘তার বাবা সারাটি জীবন সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে গেছেন। জীবনের শেষ মুহুর্তে এসেও তিনি এ লক্ষ্যে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ থাকার পর বাড়িতে এসে মৃত্যুর তিন দিন পূর্বেও তিনি তার কর্মময় জীবনের আমানত থাকা বিভিন্ন সালিশ ও বিচারকার্যের প্রায় ৩২ কোটি টাকার হিসাব কাগজে কলমে স্পষ্ট করে লিখে গেছেন। যা মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার ছেলেকে অবগত করে গেছেন’।

    এসময় জানাযার অংশ নেয়া লাখো মুসল্লী বিস্মিত হয়ে যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফের এমন বক্তব্য শুনে । অনেককেই মন্তব্য করেন, পইলের সাব হওয়ার কারনেই এটি তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। যে কারো পক্ষে এটা সম্ভব নয়। আবার অনেকেই বলেছেন পইলের সাবের কাছে হাজার কোটি টাকা থাকলেও একটি পয়সা খেয়ানত হবে না সেই বিশ্বাস রেখেইে মানুষ তার কাছে টাকা পয়সা আমানত হিসেবে রাখতো।

    ১৯৪৯ সালের ৩১শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের সাহেব বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আহমদুল হক। বাবা সৈয়দ জাহেদুল হক ছিলেন পইল ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আহমদুল হক ১৯৬৮ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে বিকম ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর কয়েক বছর একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। একপর্যায়ে জনগণের চাওয়ার মূল্যায়ন করতে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে নির্বাচন করে কয়েকবার পইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৫ সালে প্রথম সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। এরপর সবক’টি উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। সেখানেও চার বার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত চিকিৎসা করানো হয় তার। কিন্তু এতে কোন উন্নতি হয়নি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পইল গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

  • শিশুরা বুদ্ধিমত্তা পায় ‘মা’ থেকে

    শিশুরা বুদ্ধিমত্তা পায় ‘মা’ থেকে

    মায়ের সাথে শক্তিশালী আবেগীয় বন্ধনে যুক্ত থাকা শিশুরা বেশি নিরাপত্তা বোধ নিয়ে বড় হয়।

    আমাদের দেশে প্রবাদ আছে – “বাপকা ব্যাটা, সেপাইকা ঘোড়া”। প্রবাদ তৈরি হয় কাকতালীয় ঘটনা, প্রাকৃতিক ঘটনা এবং গুজবের ভিত্তিতে। উপরের এই প্রবাদের বৈজ্ঞানিক সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আধুনিক বংশগতিবিদ্যা বিষয়ক বিজ্ঞান। কারণ আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে সন্তানের গুণাবলী বিকাশ ও নির্ধারণে বাবার চেয়ে মায়ের জিনই বেশি কার্যকর বা বড় প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

    আমাদের সংস্কৃতি, শিল্প ও সাহিত্যের বেশিরভাগটা তৈরি হয়েছে সন্তানের মঙ্গলানুষ্ঠান আর সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের ভালবাসাকে কেন্দ্র করে। সন্তানের সৌন্দর্য-বীরত্ব-কৃতিত্ব সবকিছুতে বাবার গুণের ছাপ থাকে বলে ধরে নেয়া হয়। কেননা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে ওঠা সন্তানেরা পরিচিত হয় বাবার পরিচয়ে। তাই এই সাধারণ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত যে সন্তানরা সব সময় সবকিছু বাবার কাছ থেকেই পায় সেটা হোক গুণ বা দোষ। অথচ বাস্তবতা হল ভিন্ন। বরং সন্তানের বুদ্ধিমত্তার প্রায় সবটাই আসে মায়ের কাছ থেকে।

    বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

    সাইকোলজি স্পট নামের একটি মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ম্যাগাজিন এই গবেষণামূলক তথ্য সর্বপ্রথম প্রকাশ করে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বংশগতি বিদ্যা বিভাগের গবেষকরা নব্বইয়ের দশকে একটি পরীক্ষা চালান মানব মস্তিষ্ক ও শরীর নিয়ে। প্রথমেই তারা আবিষ্কার করেন, শিশুরা বুদ্ধিমত্তার ৪০-৬০ শতাংশ পরিবার ও বংশ থেকে এবং বাকিটা পরিবেশ থেকে বড় হবার সময় অর্জন করে। এখন প্রশ্ন হল , এই ৪০-৬০ শতাংশ বুদ্ধিমত্তা সে কিভাবে অর্জন করে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বুদ্ধিমত্তা বিকাশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে এক্স ক্রোমোজোম। অর্থাৎ এক্স ক্রোমোজোমকে বলা হয় বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জিনের বাহক। নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। তাই এটা সুস্পষ্ট যে, শিশুর দেহে বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিকারী জিন মায়ের কাছ থেকেই বেশিরভাগটা আসে। কারণ নারীরা দুইটি এক্স ক্রোমোজোম বহন করেন। আর পুরুষের দেহে থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। বাবার কাছ থেকে যে অ্যাডভান্সড কগনিটিভ ফাংশন জন্ম সূত্রে শিশু লাভ করে, তার কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় একসময়। বুদ্ধিমত্তা বিকাশের জিন হল ‘কন্ডিশন্ড জিন’। মায়ের কাছ থেকে আসা এই জিন শিশুর দেহে কাজ করেতে থাকে। আর বাবার কাছ থেকে আসা জিনেরা অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। তাই বুদ্ধিমত্তার জন্য যে জিন দরকার তা মায়ের দেহ থেকে আসতে হবে। গবেষণাগারে জন্মানো ইঁদুরের ওপর একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। তাদের মস্তিষ্ক বড় করতে মায়ের বাড়তি জিন প্রয়োগ করা হয়। দেখা গেছে তাদের দেহের আকার ছোট হয়েছে এবং মস্তিষ্ক বড় হয়েছে। আর যেসব ইঁদুরের মাঝে বাড়তি বাবার জিন দেওয়া হয়েছিল তাদের মস্তিষ্ক ছোট এবং দেহ বড় আকারের হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেন, ইঁদুরের মস্তিষ্কের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন অংশে বাবা ও মায়ের জিন কার্যকর হচ্ছে। বাবার জিন দেহের লিম্বিক সিস্টেমে মূলত কাজ করে। এই অংশটি সাধারণত সেক্স, খাবার ও আগ্রাসী মানসিকতা তৈরিতে কাজ করে। বিজ্ঞানীরা দেখেন সেরেব্রাল কর্টেক্সে বাবার কোনও জিন নেই, অথচ এই অংশই কগনিটিভ ফাংশনের কাজটুকু করে যা বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও বিকাশে ঘটায়।

    তবে ইঁদুর আর মানুষের মস্তিষ্কের কিছু ভিন্নতা রয়েছে। তাই গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক মানুষের উপরই গবেষণা চালিয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হবার জন্য। তারা ১৯৯৪ সাল থেকে ১৪-২২ বছর বয়সী ১২৬৬৮ জন নারী পুরুষের মস্তিষ্ক ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। এতেও দেখা গেছে মায়েদের কিংবা নারীদের আই কিউ লেভেল অনেক ভাল। এবং যেসব পুরুষদের আই কিউ লেভেল ভাল তাদের সেরেব্রেল কর্টেক্সেও মায়ের জিনই রয়েছে।

    এই গবেষণায় দেখা গেছে শুধু মায়ের কাছ থেকে আসা জিনের কারণেই নয়, মায়ের সাথে শক্তিশালী আবেগীয় বন্ধনও শিশুদের বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করেছে। এই বিষয়টি অবশ্য ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও নিশ্চিত করেছে। তাদের মতে, মায়ের সান্নিধ্য শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে অপরিহার্য। কয়েক হাজার শিশুর জন্মের পর থেকে মায়েদের উপর করা ৭ বছরের এই গবেষণাটি দেখিয়েছে, মায়ের সান্নিধ্যে থাকা শিশুদের ১৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস নামের একটি অংশ ১০ শতাংশ বড় হয় যারা মায়ের সান্নিধ্যে কম থাকে সেই শিশুদের তুলনায়। মস্তিষ্কের এই অংশটি স্মৃতি, শেখার ক্ষমতা ও চাপ ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত। মায়ের সাথে শক্তিশালী আবেগীয় বন্ধনে যুক্ত থাকা শিশুরা বেশি নিরাপত্তা বোধ নিয়ে বড় হয়, ফলে তারা সাহসী হয় এবং তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বেশি থাকে। আর যখন মায়েরা শিশুদের প্রয়োজনীয় সময়ে মনোযোগ দেন এবং সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন কিংবা কোন কাজ যৌথভাবে করে সন্তানের সাথে, তখন শিশুরা নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য ও গুণ আবিষ্কার করে এবং এর বিকাশ ঘটাতে শেখে।

    তবে আরেকটি আশ্চর্যজনক তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, আর তা হল শিশুর মস্তিষ্কের যে অংশের জন্য তারা বেশি আবেগী ও অনুমান (Intuition) ক্ষমতাসম্পন্ন হয় সেই অংশ বাবার কাছ থেকে পাওয়া জিনের কারণেই কার্যকর হয়। অর্থাৎ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা তৈরিতে আবার বাবার জিনের ভূমিকা বেশি। তাই বাবা যে শিশুর বুদ্ধিমত্তা বিকাশে একেবারে কোন কাজে আসেনা, তা ঠিক নয়।

    তবে মায়ের জিন এবং ভালবাসা ছাড়া যে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ পূর্ণভাবে ঘটেনা, এটা এখন সত্য। তাই নারী কিংবা মায়েদের বদৌলতেই আসলে সভ্যতার এত উতকর্ষ ঘটেছে, তা নিশ্চিত। নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘’আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো”। নেপোলিয়নও অন্তত নারীদের শিক্ষা ও বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। পশ্চাৎপদ ও নারী-পুরুষ সমতায়ন ও ক্ষমতায়নে অবিশ্বাসীদেরও এই উপলব্ধি হওয়াটাও এখন সময়ের দাবি।

    তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ফোর্বস ম্যাগাজিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, যুগান্তর।

    পোস্ট সূত্র : তারামন বিডি.কম ।

    লেখক :

  • গুঙ্গিয়াজুরি হাওরে সেচ প্রকল্প বন্ধ, তদন্ত শুরু

    গুঙ্গিয়াজুরি হাওরে সেচ প্রকল্প বন্ধ, তদন্ত শুরু

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গুঙ্গিয়াজুরি হাওরে সেচের অভাবে ৩ হাজার বিঘা বোরো জমি অনাবাদি থাকায় ক্ষতিপূরণ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্থ জমি ও বন্ধ থাকা সেচ প্রকল্প  করেছে আদালত গঠিত কমিশন। 

    গতকাল শনিবার সকালে যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১ এর নির্দেশ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সবুজ এসব জায়গা নিজে  পরিদর্শন করেন এবং তথ্য সংগ্রহ করেন।

    জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী জয়নাল আবেদীন ছালেক দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে গুঙ্গিয়ারজুরি হাওরের সেচ প্রকল্পটি নিজের দখলে রেখেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেচ প্রকল্পের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ১৩ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে।

    একের পর এক নোটিশ দেয়ার পরও তিনি বিদ্যুৎবিল পরিশোধ না করায় সম্প্রতি পিডিবি কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ফলে বিশাল এই হাওরের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি আনাবাদি পড়ে রয়েছে। পানির অভাবে নিজেদের জমি চাষ করতে না পারায় রামপুর, গোবিন্দপুর, আওরা মজলিসপুর, লামাপইলসহ আশপাশের সাত গ্রামের হাজারো কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। জমি চাষ করতে না পারায় সারা বছরের খাবার ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।

    এ ঘটনায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পক্ষে জনৈক শাহ আলম বাদি হয়ে প্রবাসী জয়নাল আবেদীন ছালেক ও তার ভাই স্থানীয় তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনু মিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পৌণে ৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কমিশন গঠন করে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিরবার ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও বন্ধ থাকা সেচ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করেছে আদালত গঠিত কমিশন।

    এ ব্যাপারে আদালত নিযুক্ত পরিদর্শক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সবুজ বলেন- ‘আদালতের নির্দেশে আমি পরিদর্শনে এসেছি। হাওরজুড়ে প্রচুর ফসলি জমি অনাবাদি রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’ এদিকে, নিজেদের পক্ষে আদালতের রায় হবে এবং তারা যথাযত ক্ষতিপূরণ পাবেন, এমন আশায় বুক বেধে রখেছেন ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় কৃষকরা।