Category: হবিগঞ্জ

  • মেহনতি মানুষের অধিকার দিবস

    মেহনতি মানুষের অধিকার দিবস

    মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিকঃ মানুষ তো রোবট নয়। রোবটের কোনো দেহঘড়ির ছন্দ নাই; কিন্তু মানুষের শরীরের একটি জৈবছন্দ আছে। শিল্পবিপ্লবের পর বিশ্বে যখন কলকারখানায় শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজন দেখাদিল, তখন প্রথমদিকে তাহাদের ব্যবহার করা হতো যন্ত্রের ন্যায়।

    তৎকালীন শিল্পকারখানায় কাজ করতে হতো ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৮ ঘণ্টার অধিক কাজ করতে হতো। কাজের পরিবেশের কারণে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যহীনতা ও মৃত্যুঝুঁকি ছিল নিত্যসঙ্গী। মেহনতি মানুষের সংগ্রাম, সংহতি আর বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মহান মে দিবস আজ।

    ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের সূচনা হয়েছিল শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। সেদিন অনেক শ্রমিক জীবন দিয়েছিলেন। সেই আত্মদানের পথ ধরে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

    কিন্তু বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অভাবনীয় এক সংক্রমণে জিম্মি আজ পৃথিবী। অতি ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস যার নাম কভিড-১৯। মানুষের জন্য এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। দেশে ক্রান্তিকালে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়া মেহনতি দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি অসহনীয় অবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছে।

    বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যাবহুল একটি দেশে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ বয়ে আনতে পারে করুণ ট্র্যাজেডি। কর্মহীন হয়ে পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

    মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে মানুষের শ্রমের বিনিময়ে। এক পক্ষের দিক নির্দেশনায় অপর পক্ষের কায়িক শ্রমে সভ্যতার ইট একটি একটি করে গাঁথা হয়েছে; কিন্তু অধিক কায়িক শ্রমে ব্যক্তির কার্যসম্পাদন ক্ষমতা ও দক্ষতা নষ্ট হয়ে যায়।

    বর্তমানে যখন মে দিবস পালিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী শ্রমিকশ্রেণির অবস্থা কভিড-১৯ জন্য ভালো বলা যাচ্ছে না। এই মানবগ্রহ ধনসম্পদে অনেক উন্নত হলেও এর পেছনে যে মূল চালিকা শক্তি শ্রমিকশ্রেণির ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি।

    শ্রমের উদ্বৃত্ত মূল্যে গুটিকয়েক মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়েছে বিশ্বের সিংহভাগ সম্পদ। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। মে দিবসের পথ ধরেই বিশ্বের উন্নত দেশে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি কাজের ব্যাপক পরিবর্তন এলেও আমাদের দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি, কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এসব ক্ষেত্র ছাড়াও শ্রমিকেরা বেতনবৈষম্যের শিকার।

    অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম বন্ধ, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। অথচ বাংলাদেশে শ্রমিক শ্রেণির দুর্দশা ঘোচেনি আজও।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মপরিবেশ অনেকটা ভালো হলেও শ্রমিকদের মজুরি রয়ে গেছে নিম্ন পর্যায়ে। আমাদের দেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও ন্যুনতম মজুরিকাঠামোয় তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া অপূর্ণই রয়ে গেছে। ফলে এই শিল্পে অস্থিরতা কাটেনি।

    শিল্পমালিক যদি শ্রমিকের কাছ থেকে বেশি কাজ আদায় করতে চান তাহলে তাদের উপযুক্ত মজুরি দিতে হবে। দুঃখের বিষয় হলো, তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের শ্রমবাজারে এখনো কোথাও কোথাও আমেরিকার উনিশ শতক বিরাজ করছে।

    আজকের মে দিবসে আমরা পথেঘাটে নানাপ্রান্তে এখনো এমন অনেক দিনমজুর দেখি যাহারা বোঝে না মে দিবস বা শ্রমদিবস কী জিনিস। মে মাসের কাঠফাটা রোদে কেহ মাটি কাটতেছে, কেহ রিকশায় প্যাডেল মারতেছে, কেহ ইটভাটার আগুনকে পরোয়া না করে শ্রম দিয়া যাচ্ছে। এই সকল শ্রমিকের লক্ষ্য একটাই সারা দিন রোদে পুড়ে হাড়ভাঙা খাটুনির পর একমুঠো চালডাল নিয়ে বাড়ি ফেরা। এরা কেবল বোঝে একদিন কাজ না করলে ওইদিন না খেয়ে থাকতে হবে।

    বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার। হে মার্কেটের শ্রমিকেরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করলেও বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের এখনো তার চেয়ে অধিক কাজ করতে হয়। তাঁদের চাকরি ও বেতন-ভাতারও নিশ্চয়তা নেই। তৈরি পোশাক খাতে ৮০ ভাগই নারী একধরনের নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতির মধ্যে তাঁদের জীবনযাপন করতে হয়।

    এর পাশাপাশি দুঃসংবাদ হলো, একদিকে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের অনেকে বেকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে বিদেশগ্রামী শ্রমিক একেবারে কমে গেছে। সরকার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক তৈরি করতে না পারায় বিদেশে তাঁদের চাহিদা কমে গেছে।

    শ্রমিক শ্রেণির অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। যা শ্রমিক শ্রেণির জন্য যথেষ্ট নয়। একে আরও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি শ্রমিক শ্রেণির মানবেতর জীবনের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের সবাইকে।

    সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষের মতো শ্রমিকদের একটি মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেণি হিসেবেই দেখা উচিত। মহান মে দিবস পালন তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের শ্রমিকের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়ন, ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা থাকবে।

    এছাড়া মালিকদের উপলব্ধি করতে হবে, শ্রমিকদের ঠকিয়ে শিল্পের মুনাফা আদায় বা অর্থনীতির বিকাশ নিশ্চিত করা যাবে না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এটাই মহান মে দিবসে আমাদের প্রত্যাশা।

    লেখক: প্রাবন্ধিক
  • করোনার প্রভাবে মাধবপুরে সবজি চাষিরা দিশেহারা

    করোনার প্রভাবে মাধবপুরে সবজি চাষিরা দিশেহারা

    মোঃজাকির হোসেনঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে টমেটো সিনাত বেগুন ও কাঁচামরিচ চাষ করে দিশেহারা কৃষকরা।করোনার কারণে দূরের পাইকাররা আসে না উপজেলার চৌমুহনী পাইকারি কাঁচাবাজারে।

    তাই বিক্রি নেই টমেটো সিনাত বেগুন ও কাঁচামরিচের।কেজি প্রতি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা সিনাত বেগুন ১৫ টাকা আর কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা।

    উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের কৃষক রাসেল মিয়া ২৪০ শতক জমি ১ লাখ টাকায় লিজ নিয়ে চাষ করেছে টমেটো সিনাত বেগুন ও কাঁচা মরিচের।

    জমিতে প্রথমদিকে মোটামুটি ভাল ফলন হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই খড়ার কারণে অনেক টমেটো নষ্ট হয়ে যায়। করোনার কারণে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, এলাকার পাইকাররা বাজারে আসে না।পানির দামে গ্রামের বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে টমেটো সিনাত বেগুন ও কাঁচামরিচ।

    সোহেল মিয়া নামে এক শ্রমিক জানান, বর্তমান বাজারে টমেটোর দাম কম তাই যে টাকা দিয়ে জমিতে টমেটো সিনাত বেগুন কাঁচামরিচ উৎপাদন করা হয়েছে তা বিক্রি হবে না। বাজারে টমেটোর দাম না থাকায় কৃষকরা শ্রমিকদের ঠিক মত বেতন দিতে পারছে না। প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ টাকা দিতে হয়।

    কৃষক রাসেল মিয়া জানান, ২৪০ শতক জায়গায় টমেটো সিনাত বেগুন ও কাঁচা মরিচ চাষ করতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার মত খরচ হয়। ৫০ হাজার টাকার মত এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। অনেক জমিতে ভাইরাসের আক্রমণ করেছে। টমেটো প্রথমদিকে ভাল ফলন হলেও খড়ার কারণে অনেক টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে। খড়ার কারণে অনেক লস হয়েছে। বেশি ক্ষতি হচ্ছে করোনায়। দূরের পাইকাররা আসছে না বাজারে। গাড়ি আসতে জায়গায় জায়গায় বাধার সৃষ্টি হয়।

    মাধবপুর উপজেলা উপকৃষি কর্মকর্তা তাপস চন্দ্র দেব জানান, বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করেছেন। কৃষকদের ৪% সুদে ঋন সুবিধা দেওয়া হবে। যদি এটি চলমান হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋনের আওতায় আনতে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

  • হবিগঞ্জে নতুন করে আরও ২ জনের করোনা শনাক্ত

    হবিগঞ্জে নতুন করে আরও ২ জনের করোনা শনাক্ত

    হবিগঞ্জে আজ নতুন ২ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছেন। দুজনেই সদর উপজেলার।

    একজন চিকিৎসক ও একজন এনজিও এর স্বাস্থ্যকর্মী। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৫৪ জন।

    একদিকে জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারি করোনায় আক্রান্ত, অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ তিনটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

    জানা গেছে রবিবার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল চালু হবে।

    সব মিলিয়ে করুণ অবস্থায় পৌঁছেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জে ইতোমধ্যে ৫৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ১৯ জনই স্বাস্থ্য বিভাগের।

    মূলত ২০ এপ্রিল লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স করোনায় আক্রান্ত হন। পরদিন ২১ এপ্রিল লাখাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও একজন নার্স আক্রান্ত হন।

    ওইদিন রাতেই লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

    এছাড়া চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও ব্রাদার এবং মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রাদারও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

    সবশেষ ২৫ এপ্রিল একদিনেই হবিগঞ্জে ২১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। যাদের মধ্যে ১১ জনই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারি। এ অবস্থায় পরদিন রাতে জেলার ৩৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ৩ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

    এতে বিপর্যয় দেখা দেয় চিকিৎসা সেবায়। জরুরী চিকিৎসা সেবায় বিত্তশালীরা প্রাইভেট হাসপাতালে ঝুঁকলেও বিপাকে পড়েন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষরা।

  • শায়েস্তাগঞ্জে বৃষ্টিতে ভেসে গেল সুতাং নদীর উপর নির্মিত বিকল্প সড়ক

    শায়েস্তাগঞ্জে বৃষ্টিতে ভেসে গেল সুতাং নদীর উপর নির্মিত বিকল্প সড়ক

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত সুতাং নদীর উপর ব্রীজটি দীর্ঘদিন যাবত ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে।শেষ ২-৩ বছর ধরে ব্রীজ দিয়ে কেবল মাত্র হালকা যানবাহন চলাচল করছে। সেজন্য নতুন করে ব্রীজটি ভেঙ্গে নির্মাণ করার জন্য কাজ কিছুটা চলমান রয়েছে।

    এদিকে ব্রীজটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করার উদ্দেশে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নদীর উপর দিয়ে বিকল্প একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। গতরাতের প্রবল বৃষ্টিতে বিকল্প সড়কটি নদীতে তলিয়ে গেছে। সুতাং এই ব্রীজটি দিয়ে হাজারো মানুষসহ স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করে। বাজারের ভিতর দিয়ে শায়েস্তাগঞ্জের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সুতাং ব্রীজ।

    দেখা যায় যে, সুতাং নদীর উপর দিয়ে সুতাং হয়ে বাছিরগঞ্জ বাজার তথা, শায়েস্তাগঞ্জে যাওয়ার জন্য হালকা বাশ দিয়ে কিছু মাটি ফেলে একটি রাস্তা করে দেয়া হয়েছিল সেটি বর্ষার আগেই তলিয়ে গেছে।এই রাস্তার উপর ভিত্তি করেই এদিকে সুতাং নদীর মুল ব্রীজটি ভাঙ্গার কাজ ও ক্রমশ এগিয়ে চলছে।

    এ ব্যাপারে নুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো, মুখলিছ মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি এলজিইডির অধীনে রয়েছে। তিনি মজবুত করে সড়কটি নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহব্বান জানান।

    এ বিষয়ে ব্রীজটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না, খোজ নিয়ে দেখছেন। রাস্তাটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে কিনা জিঞ্জেস করা হলে তিনি বলেন, এখনতো মানুষ পুরাতন ব্রীজকেই ব্যবহার করছে।বর্তমান অবস্থায় কোন কাজ করা যাচ্ছেনা, পরে আমরা চিন্তা করব। কিন্তু পুরাতন ব্রীজের ডানপাশের পিলারগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, এবং ব্রীজের মধ্যাংশে গর্ত করা হয়েছে সেজন্য মানুষ চলাচল করতে পারেনা, বললে তিনি বলেন, এ বিষয়টিত আমি জানিনা,

    বিকল্প একটি মজবুত রাস্তা নির্মাণ না করে দীর্ঘ মেয়াদী এই ব্রীজের নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু করা হলে এলাকাবাসীকে পোহাতে হবে হাজারো দুর্ভোগ। তাই এলাকার সচেতনমহল একটি মজবুত রাস্তা পুনরায় করে সুতাং নদীর ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য উর্ধতনমহলের সুদৃষ্টি কামনা করছেন

  • মাধবপুর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে ভাতা প্রদান শুরু

    মাধবপুর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে ভাতা প্রদান শুরু

    মোঃ জাকির হোসেন: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড এর যৌথ তত্ত্বাবধানে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে।

    আজ (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০.০০ ঘটিকা হইতে ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড এর মাধ্যমে সামাজিক দুরত্ত্ব বজায় রেখে ১নং ওয়ার্ডে ৬ মাসের একত্রে ৮৭ জন মহিলা ও পুরুষ কে ২,৫৮,০০০/-(দুই লক্ষ আটান্ন হাজার টাকা) বয়স্ক, ভাতা প্রদান করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন তৌফিকুল আলম চৌধুরী, মাধবপুর উপজেলা অফিসার (ARO) মোঃ তরিকুল ইসলাম, ব্যাংক এশিয়ার ইউনিয়ন কর্মকর্তা সালমান শাহ, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ইয়াসমিন আক্তার শাহেনা বেগম ও উদ্যোক্তা বিষ্ণু সরকার।

    মাধবপুর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ

    উল্লেখ্য পূর্বে ভাতা ভোগীদের উপজেলার নোয়াপাড়া থেকে ভাতা আনতে হতো। তবে ভাতা ভোগীদের সুবিধার্থে আজ থেকে ভাতা ভোগীরা শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই ভাতা নিতে পারবে।

    উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা সোলায়মান মজুমদার জানান, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইস্তেহার পূরণ হল আর এর মাধ্যমে ভাতাভোগীরা কোন ঝামেলা ছাড়া তাদের নিজ নিজ একাউন্ট থেকে নিজের ইউনিয়ন অফিসে এসে টাকা উত্তোলন করতে পারবে।

  • মাধবপুরে স্কুল শিক্ষকের পরিবারকে মারপিট করে জমি দখলের চেষ্টা

    মাধবপুরে স্কুল শিক্ষকের পরিবারকে মারপিট করে জমি দখলের চেষ্টা

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সোয়া বই গ্রামের ও দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক সহ তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর আক্রমণ চালায় একই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবু তাহেরের নেতৃত্বে সেলিম মিয়া শহিদ মিয়া চান মিয়া ফারুক মিয়া জহিরুল হক সহ ১৭/১৮জন।

    গত১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে আমিনুল হকের বাড়িতে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র লাঠি শাবল লোহার রড নিয়ে আক্রমণ করে। তাদের আক্রমনে পরিবারের সকলই রক্তাক্ত জখম হয়।

    শিক্ষক আমিনুল হকের ছেলে শামীম ওসমান প্রতিপক্ষের হামলায় চোখে গুরুতর আঘাত পায় এবং মূল্যবান স্বর্ণ অলংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    চিকিৎসার জন্য তাদেরকে মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শামীম ওসমানকে বি-বাড়িয়া জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    ঘটনার বিবরণে জানা যায় আমিনুল হক তাহার ভাই নুরুল হকের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে একটি জমিখরিদ করে মাল্লিক ও দখলকার হন। তারপর থেকে বিবাদী গন জমি দখলের চেষ্টায় জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা করিতেছে।

    এ ঘটনায় মাধবপুর থানা একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। সততা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কামরুল ইসলাম। তিনি আরও জানান আসামীদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • বানিয়াচংয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বানিয়াচংয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের গুনই গ্রামে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্য হয়েছে।

    জানা যায় শিশু বাচ্চাটি গুনই গ্রামের আব্দুল হাশিমের মেয়ে নিসফা আক্তার(৭)।

    আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) ইফতারের কিছুক্ষণ পূর্ব থেকে শিশুটিকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ইফতারের পর শিশুটিকে বাড়ীর পাশে একটি ডোবায় অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায় পরে স্থানীয় ডাক্তার শিশুটি কে মৃত বলে নিশ্চিত করেন।

    শিশুটি  কিভাবে পানিতে ডুবলো তার সঠিক তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।