Category: হবিগঞ্জ

  • বাহুবলে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু

    বাহুবলে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায়  মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে পৃথক স্থানে শিশু- কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই জন।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার নোয়াঐ ও জারিয়া বিলে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের নোয়াঐ গ্রামের দরদ মিয়ার ছেলে ওড়কাইদ (১১) ও সাতকপান ইউনিয়নের মানিকা গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে নরছ উদ্দিন (১৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াঐ গ্রামের ওড়কাইদ তার বড় ভাই জুনাইদসহ আরো দুজনকে নিয়ে সকালে বাড়ির পাশের বিলে মাছ মারতে যায়। সকাল ৯টায় আকাশে বজ্রপাতের সৃষ্ঠি হয়। এসময় বজ্রপাতে ওড়কাইদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ বজ্রপাতে তার ভাই জুনাইদ বন্ধু উসমান আহত হয়। আহত দুজনকে বাহুবল হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বজ্রপাতে নিহতের ঘটনাটির  সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে ভাংচুর

    চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে ভাংচুর

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের ঝুড়িয়া বড়বাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র নিরীহ প্রতিবন্ধী বাবুল মিয়া ওরফে বকুল মিয়ার  বসতঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

    জানা যায়,  প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করায় আজ  বুধবার ভোর ৬টায় উপজেলার ঝুড়িয়া বড়বাড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী বাবুল মিয়া ওরফে বকুল মিয়ার বসতবাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

    স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চুনারুঘাট থানার এস.আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মো: হেলাল উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামীদের ফেলে যাওয়া একটি রামদা, শাবল, টিন খোলার পাঞ্জা জব্দ করেন। এসময় আসামীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ঝুড়িয়া বড়বাড়ি গ্রামে বকুল মিয়া ও তার স্ত্রী ছুকেরা খাতুন বাড়িতে গৃহস্থালি কাজ করাবস্থায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে বকুল মিয়ার সাথে তার ছোট ভাই সবুজ মিয়া কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র দা এনে বড় ভাই বকুল মিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

    এসময় বকুল মিয়ার স্ত্রী ছুকেরা খাতুন বাধা দিলে সবুজ মিয়া দা দিয়ে কুপিয়ে ছুকেরা খাতুনের দুই হাতে ও দুই পায়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় বকুল মিয়া ৬ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে সি.আর ১০৫/২০ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানাকে এফ.আই.আর গণ্যের আদেশ দিলে চুনারুঘাট থানায় মামলা রুজু হয়। যার চুনারুঘাট থানার মামলা নং- ১৩, তাং- ১২/০৩/২০২০ ইং, জি.আর নং- ৬১/২০ (চুনা:)।

    মামলার আসামীরা হল- ঝুড়িয়া বড়বাড়ি গ্রামের মৃত হাসিম মিয়ার পুত্র মানিক মিয়া, কাজল মিয়া, সবুজ মিয়া, ফজলু মিয়া, বিলাল মিয়া, জমিলা খাতুন। মামলা দায়েরের পর থেকে মামলার আসামীরা বাদী প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া ও তার স্ত্রী ছুকেরা খাতুনকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। বকুল মিয়ার সাথে তার আপন ভাই সবুজ মিয়া গংদের দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল বুধবার ভোরে সবুজ মিয়ার নেতৃত্বে অপরাপর বিবাদীগণ প্রতিবন্ধী বকুল মিয়ার বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় বিবাদীগন বকুল মিয়ার বসতঘরের ছাউনীর ৭ বান্ডিল ঢেউটিন খুলে নিয়া যায়।

    পুলিশের হস্তক্ষেপে বকুল মিয়া ও তার পরিবার বিবাদীগণের কবল থেকে প্রাণে রক্ষা পায়। বকুল মিয়ার মামলা দায়েরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলার আসামীরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

    এদিকে অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটি তাদের নিরাপত্তার জন্য বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হবিগঞ্জ ফৌ: কা: বি: ১০৭ ধারায় সবুজ মিয়া সহ ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীদের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকির ফলে বকুল মিয়া তার নিরাপত্তার জন্য চুনারুঘাট থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন, যার নং- ২৭৪/১৬, তাং- ৭/৪/১৬।

    ইতিপূর্বে গত ২০১৯ সালে প্রতিবন্ধী বকুল মিয়াকে তার ভাইয়েরা সবুজ মিয়া, ফজলু মিয়া, মানিক মিয়া ও কাজল মিয়া গংরা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। উক্ত ঘটনা তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাছাড়া বিবাদী সবুজ মিয়া গংদের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া বাদী হয়ে গত ২০১৬ সালে একটি দ্রুত সি.আর মামলা দায়ের করেন, যার নং- ০৮/১৬, ০৪/১৬। বিবাদী ফজলু মিয়া গংরা বকুল মিয়ার মাতা আতকরা খাতুনকে মারপিট করে জখম করে।

    উক্ত ঘটনায় আতকরা খাতুন বাদী হয়ে ফজলু মিয়া গংদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হবিগঞ্জ মামলা দায়ের করেন। এদিকে আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া র‌্যাব-৯ অধিনায়ক, শ্রীমঙ্গল বরাবরে একটি আবেদনও দাখিল করেছেন। বর্তমানে বিবাদীদের ভয়ে প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া তার পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ইনাতাবাদ সাকিনে বসবাস করছেন। নির্যাতিত অসহায় প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া সুবিচার পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

  • করোনায় মারা গেলেন হবিগঞ্জের ছেলে ডাঃ দেওয়ান মঞ্জুর চৌধুরী

    করোনায় মারা গেলেন হবিগঞ্জের ছেলে ডাঃ দেওয়ান মঞ্জুর চৌধুরী

    করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান ডাঃ দেওয়ান মঞ্জুর রশীদ চৌধুরী। রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তার মৃত্যুতে হবিগঞ্জ ও সিলেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন।

    কিডনি বিশেষজ্ঞ মনজুর রশিদ চৌধুরী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ১৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর নেওয়ার পর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে তার চেম্বার ছিল।

    কোভিড পজেটিভ হওয়ার পর কর্মস্থল আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ১৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মরহুমের গ্রামের বাড়ী নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের শতক গ্রামে। তার ফুফাত ভাই ডাঃ দেওয়ান আলী আহসান চৌধুরী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • হবিগঞ্জে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম জোটের বিক্ষোভ

    হবিগঞ্জে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম জোটের বিক্ষোভ

    বাংলাদেশে  গণপরিবহনে ৬০% ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাম গণতান্ত্রিক জোট হবিগঞ্জ জেলার আয়োজনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার(২ জুন) দুপুর ১২ টায় চৌধুরী বাজার খোয়াই মুখে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বাম জোটের নেতা, সিপিবি হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বাসদ (মার্কসবাদী) হবিগঞ্জ জেলার সংগঠক শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক পীযুষ চক্রবর্তী,বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক এড.জুনায়েদ আহমেদ,গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আহবায়ক এড.রনধীর দাস,সিপিবি নেতা মহিবুর নুর চৌধুরী ইমরান, বাসদ নেতা হুমায়ন খান, এ.আর.সি. কাউসার প্রমূখ।

    তারা খুব শীগ্রই যেনো ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহারের করে সেই দাবি জানান।

  • জজকোর্টেও সুশান্ত দাস গুপ্তের জামিন নামঞ্জুর

    জজকোর্টেও সুশান্ত দাস গুপ্তের জামিন নামঞ্জুর

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক ও আমার এমপি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা সুশান্ত দাস গুপ্তের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন জেলা ও দায়রা জজ।

    মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বাদী ও বিবাদী পক্ষের শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন এ আদেশ দেন।

    হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পদক সায়েদুজ্জামান জাহির গত ২০ মে দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে হবিগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আমার হবিগঞ্জের সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্ত, নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন ও প্রতিবেদক তারেক হাবিবকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন।

    ২১ মে ভোর ছয়টায় হবিগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সুশান্ত দাশ গুপ্তকে শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে।

    বাকি সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে গত ২৭ মে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুশান্ত দাশের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। মঙ্গলবার বাদী পক্ষে ছিলেন পিপি সিরাজুল হক চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থসহ প্রায় ২০ আইনজীবী।

    অপরদিকে বিবাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহিত আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল হাই ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া।

    বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহিত আহমেদ চৌধুরী জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।

    মামলার বাদী হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির আরজিতে উল্লেখ করেন যে, বাদি পক্ষ দৈনিক আমার হবিগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ আবু জাহিরকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সাংসদ আবু জাহির প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য।

    এতে প্রেস ক্লাবের সম্মান ক্ষুণ্ন হওযায় তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন। সুশান্তের পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের দাবিতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

  • মাধবপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ী চলাচল বিষয়ে শ্রমিকদের নিয়ে সীমিত আকারে সভা অনুষ্ঠিত

    মাধবপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ী চলাচল বিষয়ে শ্রমিকদের নিয়ে সীমিত আকারে সভা অনুষ্ঠিত

    মোঃজাকির হোসেন মাধবপুর
    প্রতিনিধিঃ

    হবিগঞ্জের মাধবপুর থানাধীন বাস-ম্যাক্সি মাইক্রোবাস
    সিএনজিসহ সকল যানবাহনেরশ্রমিকদের নিয়ে সীমিত আকারে সভা অনুষ্ঠিত হয়, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টায়, এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন, ও মাধবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মেসলে উদ্দিন, এবং
    ঢাকা-সিলেট গাড়ীর পক্ষ থেকে ছিলেন মোঃ মাতু মিয়া,
    হবিগঞ্জ মটর মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ছিলেন আঃ কুদ্দুস ও রফিকুল ইসলাম শামীম, ম্যাক্সি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ছিলেন লিটন পাঠান, বি-বাড়িয়া বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ছিলেন
    হাজী মোঃ গোলাপ খাঁন, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহ সেলিম ছিলেন, সিএনজি অটোরিকশা সমিতির পক্ষ থেকে ছিলেন জর্জ মিয়া, উক্ত
    সভায় এ সময় মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইকবাল হোসেন,বললেন করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতিতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথস্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ী চলাচল করতে অনুরোধ জানান , তিনি আরও বলেন হবিগঞ্জ জেলাসহ দেশে সকল
    রুটে গাড়ী চলাচল শুরু হচ্ছে। মাধবপুর ট্রাফিক জোনের ইন্সপেক্টর ফারুক আল মামুন ভুইয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ও যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে গাড়ী
    চলাচল অব্যাহত রাখতে হবে।

    অন্যথায় নিয়ম অমান্যকারী
    সংশ্লিষ্ট গাড়ী চলাচল বন্ধ
    করে দিয়ে গাড়ীটিকে আটক
    রেখে মালিকের
    বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয়
    আইনানুগ ব্যবস্থা

    গ্রহণ করা হবে। মাধবপুর
    থানায় সীমিত আকারে
    অনুষ্ঠিত সভায়, ম্যাক্সি
    মালিক সমিতির পক্ষ থেকে
    লিটন পাঠান বলেন,
    বাস-ম্যাক্সি চলাচলের
    ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা
    মোতাবেক ধারণ ক্ষমতার
    অর্ধেক যাত্রী গ্রহণ,
    বাস-ম্যাক্সি ভাড়ার

    ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার
    চেয়ে অতিরিক্ত,
    ৬০% ভাগের অতিরিক্ত ভাড়া
    গ্রহণ না করা, গাড়ী যাত্রার
    সময় গাড়ীতে জীবানুনাশক
    স্প্রে করা, যাত্রীদের
    মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা
    প্রতিটি যাত্রী
    গাড়ীতে উঠার পূর্বেই
    হ্যান্ড,

    স্যানিটাইজেশন করা এবং
    শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার
    ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
    এছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের
    গাড়ীতে না তোলা এবং পথে
    কোথাও। অতিরিক্ত যাত্রী না
    তোলার ব্যাপার সহ উল্লেখিত
    সকল নিয়ম কঠোর ভাবে মেনে
    চলার নির্দেশ দেয়া হয়।

  • ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    ” ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ ”

    [ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ]

    সিলেট বিভাগের ঐতিহ্যবাহী অনত্যম সেরা বিদ্যাপীঠ সরকারি বৃন্দাবন কলেজ, হবিগঞ্জ। সরকারি এই কলেজটির রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস।

    ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ‘ হবিগঞ্জ কলেজ ‘ কিছুদিন পর ‘ বৃন্দাবন কলেজ ‘ এবং ১৯৭৯ সালের ৭ মে জাতীয়করণের ফলে এর নামকরণ হয় ‘ হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ‘। এক সময় বৃন্দাবন ডিগ্রি কলেজ নামে পরিচিত ছিল কলেজটি। বর্তমানে কলেজটির নাম বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ।

    সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :

    ১৯৩১ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ম বিভাগে ২৬ জন, ২য় বিভাগে ১০জন ও ৩য় বিভাগে ২ জন সহ মোট ৩৮ জন পাশ করার গৌরব অর্জন করে।

    ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব সাফল্য উদ্যোক্তাদের একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য বেশ উদ্যোগী করে তুলেছিল। এলাকার ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, এটাই ছিল তাদের স্বপ্ন।

    এরপরই কতিপয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। কলেজের জন্য হবিগঞ্জ শহরের মনোহরগঞ্জ বাজারে (বর্তমান কলেজ কোয়ার্টার ও রাজনগর এলাকার কিছু অংশ) পরিত্যক্ত লম্বা আকৃতির একতলা দালান ঘরে বাঁশের পার্টিশন দিয়ে ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে হবিগঞ্জ কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে সিলেট বিভাগের অনত্যম বিদ্যাপীঠ বর্তমান সরকারি বৃন্দাবন কলেজ।

    কলেজের প্রয়োজনীয় জমি ও অর্থের যোগান না থাকা স্বত্তেও উদ্যোক্তাগণ হবিগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করায় ব্যপক প্রসংশিত হন।

    প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হবিগঞ্জ জেলার প্রাণকেন্দ্রে ৬.২০ একর জমির উপর চতুর্দিকে দেয়াল ঘেরা মনোরম শ্যামল ছায়ায় অবস্থিত। কলেজটি অমলিন, উজ্জ্বল ও উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনায় মহিমান্বিত।

    বর্তমান কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তর সীমানা থেকে মাত্র কয়েক’শগজ দূরে মনোহরগঞ্জ বাজারের পশ্চিম প্রান্তে একটি লম্বা বাশের চালাঘর, তাতে বাশের পার্টিশন দিয়ে ২/৩ টি কক্ষ নির্মাণ করা হল। একটি ছোট একতলা বিল্ডিং-এ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বসার জায়গা করা হল। এক পাশে অফিস। ৩০/৩৫ জন ছাত্র নিয়ে হবিগঞ্জ কলেজ শুধুমাত্র মানবিক বিভাগ নিয়ে একটি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

    বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা কয়েকজন তরুণ শিক্ষককে নিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। হবিগঞ্জ বারের এম. এ পাস কয়েকজন আইনজীবিও খন্ডকালীন অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কলেজের লেখাপড়া খুবই ভাল চলছিল। কিন্তু সমস্যা হল নবপ্রতিষ্ঠিত কলেজের অধ্যক্ষের পদটি অলংকৃত করার জন্য কোন যোগ্য লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। কলেজের নেতৃস্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব রায় সাহেব নদীয়া চন্দ্র দাস পুরকায়স্থের বিশেষ অনুরোধক্রমে কলকাতা রিপন কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এবং একই সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের খন্ডকালিন অধ্যাপক রায়চাঁদ-প্রেমচাঁদ বৃত্তিধারী ঈশান স্কলার বাবু বিপিন বিহারি দে রাজি হলেন ‘হবিগঞ্জ কলেজ’ এর অধ্যক্ষ হতে। বাবু বিপিন বিহারী দে নিজ জেলা তৎকালীন বৃহত্তর সিলেটের শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখার লক্ষ্যে কলকাতার অধ্যাপনার জীবন ত্যাগ করে ১৯৩১ সালের জুন মাসে নব প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

    অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী দে মহোদয়ের মাসিক বেতন নির্ধারণ হয় মাত্র ২৫ টাকা এবং অধ্যাপকদের মাসিক বেতন নির্ধারণ হয় ১৬ টাকা।

    কিন্তু ঐ সময় একজন অধ্যক্ষের বেতন দেয়ার মত প্রয়োজনীয় তহবিল কলেজের ছিল না। অন্যদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজের অধিভূক্তির পূর্বশর্ত ছিল ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্থায়ী সংরক্ষিত তহবিল প্রদর্শন এবং কোন প্রাদেশিক সরকারের স্বীকৃতি। উল্লিখিত পরিমাণ টাকার সংরক্ষিত তহবিল ঐ সময়ে প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি।

    এ উভয়বিধ আর্থিক অসুবিধা দূর করার জন্য উদ্যোক্তাগণ শুরু থেকেই জোর প্রচেষ্টা চালান। এলাকার ধনী ব্যক্তিদেরকে অনুরোধ করা স্বত্তেও দশ হাজার টাকার সংরক্ষিত তহবিল সংগ্রহের সম্ভাবনা নাই দেখে কলেজ পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নিলেন, যে ব্যক্তি কলেজকে দশ হাজার টাকা দান করবেন বা তার সমমূল্যের সম্পদ দান করবেন তার ইচ্ছানুসারে হবিগঞ্জ কলেজের নামকরণ হবে। এমতাবস্থায় কলেজ কমিটির সদস্য গিরীন্দ্র নন্দন চৌধুরী ও নদীয়া চন্দ্র দাস পুরাকায়স্থ সহ অন্যান্যদের অনুরোধে বানিয়াচং এর বিথঙ্গল গ্রামের বৃন্দাবন চন্দ্র দাস কলেজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনার শর্তে কলেজের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে রাজি হন। ফলশ্রুতিতে বর্তমান বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামের অধিবাসী বিত্তশালী মহাজন বাবু বৃন্দাবন চন্দ্র দাস কলেজে ১০ হাজার টাকা দিতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

    দূরদর্শী ও বুদ্ধিমান বৃন্দাবন দাস কলেজের আর্থিক স্বচ্ছতা ও অগ্রগতির জন্য তারই অনুরোধে পুরোহিতের ছেলে সুরেশ চক্রবর্তীকে হেড ক্লার্ক হিসাবে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করেন এবং তা কলেজ পরিচালনা পরিষদের নিকট গৃহীত হয়। হেড ক্লার্ক হিসাবে নিয়োগ পায় সুরেশ চক্রবর্তী।

    মাতৃভক্ত বৃন্দাবন দাসের ইচ্ছা ছিল তার মায়ের নামে যেন কলেজের নামকরণ করা হয়। কিন্তু তার মা এতে রাজি হয়নি। কারণ তার ছেলের নামের সাথে পবিত্র তীর্থ স্থানের নামের মিল থাকায় তিনি ছেলের নামেই কলেজের নাম করণের প্রস্তাব করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ছেলেকে।

    এরপর বৃন্দাবন দাসের মায়ের ইচ্ছায় এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক হবিগঞ্জ কলেজের নামকরণ করা হয় ‘ বৃন্দাবন কলেজ ‘।

    বৃন্দাবন চন্দ্র দাস কলেজের দশ হাজার টাকা এক কালীন প্রদান করতে পারেননি। প্রথমে তিনি নগদ তিন হাজার টাকা প্রদান করেন এবং বাকী সাত হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি জমি দান করেছিলেন। ৭০০০ টাকার পরিবর্তে বাবু বৃন্দাবন দাস কলেজের প্রিন্সিপাল বাবু বিপিন বিহারী দে বরাবরে ২৫/০৩/১৯৩২ খ্রি: তারিখে (রেজি: নং ৮১২ অনুযায়ী) একখানা একরার নামা দিয়েছিলেন যা ৬০ কেদার (৬০ বিঘা) ভূমির দলিল হিসেবে পরিচিত ছিল। জমিগুলো মাধবপুর থানার বেজুরা ও নবীগঞ্জ থানার দিনারপুর মান্দার কান্দি ও বানিয়াচং এলাকায় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি পুনরায় ৭ হাজার টাকা স্ব ইচ্ছায় দান করেন। এবং পূর্বের দেওয়া ঐ জমি তিনি আর ফিরিয়ে নেননি। পরবর্তীতে ঐ জমিগুলো বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ কলেজের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়। দলিল সম্পাদনের ৫ মাস পরই তিনি মুত্যুবরন করেছিলেন। তাই এর পর আর কোন উন্নয়ন কাজে অংশ গ্রহণের সুযোগ তিনি পাননি।

    কে ছিলেন বৃন্দাবন চন্দ্র দাস ??

    হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারী কলেজ এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের পরিচিতি ১৮৫০ সালে বর্তমান সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন বৃন্দাবন চন্দ্র দাস। তার পিতা বিষ্ণু রাম চন্দ্র দাস ও মাতা মহামায়া দাস ওরফে ভ্রমরা দাসের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। বিষ্ণু চন্দ দাস পেশায় ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক।

    কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া বৃন্দাবন চন্দ্র দাস অর্থের অভাবে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে কিশোর বয়সেই ব্যবসার কাজে জড়িয়ে পরেন। তার মেধা, মিতব্যয়ীতা ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তিনি একজন সফল ব্যাবসায়ী হিসাবে বেশ খাতি অর্জন করেছিলেন। মহাজনী, মিরাশদারী, মহালদারী, (চিত্তরঞ্জন কটন মিলস ও অল ইন্ডিয়া সুগার মিলসের-এর শেয়ার হোল্ডার) সহ আরও বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

    ব্যাবসায় সফলতার মাধ্যমে তিনি ৫৬ টি তালুকের মালিক ও ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে চৌধুরী উপাধী লাভ করে ছিলেন। চৌধুরী উপাধী লাভ করেও তিনি নামের সাথে চৌধুরী উপাধী যুক্ত করেননি। ব্যক্তি জীবনে তিনি মিতব্যয়ী, জনদরদী ও শিক্ষ্যানুরাগী ছিলেন। ১৯৩২ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন এবং মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

    বৃন্দাবন চন্দ্র দাস সংরক্ষিত কলেজ তহবিল গঠন এর টাকা দান করার পর অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী দে প্রয়োজনীয় সংরক্ষিত তহবিল দেখিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট কলেজ অধিভূক্তির আবেদন করেন। হবিগঞ্জ তখন আসাম প্রদেশের অন্তর্গত সিলেট জেলার একটি মহকুমা। আসাম প্রদেশ সরকার নীতিগতভাবে কোন মহকুমায় কলেজ প্রতিষ্ঠায় স্বীকৃতি দিতেন না। বিশেষ করে সিলেট জেলায় মুরারিচাঁদ কলেজ (এম. সি কলেজ, সিলেট) বিদ্যমান আছে। উল্লেখ্য, তখন আসাম প্রদেশে মাত্র তিনটি কলেজ ছিল। শিলং, গৌহাটি ও সিলেট এই তিন স্থানে তিনটি কলেজ। জনাব বিপিন বিহারী দে আসাম প্রদেশ সরকারের স্বীকৃতি লাভে ব্যর্থ হয়ে বেঙ্গল সরকারের কাছে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গল সরকারের স্বীকৃতি পেয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্তি লাভ করে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ আসাম প্রদেশের চতুর্থ কলেজ হল।

    ১৯৩৩ সালে কলেজের ১ম ব্যাচের ৩১ জন ছাত্ররা আই, এ পরীক্ষা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র দিতে রাজী হয়নি। পরীক্ষা কেন্দ্র হয় মুরারী চাঁদ কলেজে (এম,সি কলেজ, সিলেট)। ৩১ জনের সবাই পাশ করে এবং ভাল ফলাফলের জন্য ১৯৩৪ থেকে আই,এ পরীক্ষার কেন্দ্র কলেজে স্থাপিত হয়।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৩৯-১৯৪০ সালের শিক্ষাবর্ষে বি. এ (পাস) কোর্স চালু হয়। এবং ১৯৪০-১৯৪১ সালের শিক্ষাবর্ষে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় English, Political Economy and Political Philosophy – এই তিন বিষয়ে বি. এ. (অনার্স) কোর্স চালু করা হয়।

    তখনকার সময়ে আসাম প্রাদেশিক সরকার হবিগঞ্জ মহকুমার মুনসেফদের বাসস্থানের জন্য নির্ধারিত নিষ্কর ভুমি হইতে (বর্তমানে অবস্থানরত) ২ একর ৯৯ শতক জায়গা উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের জন্য কলেজকে লীজ হিসাবে দান করেন।

    ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীনে চলে আসে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে কলেজে অনার্স কোর্স পড়ার বিধান না থাকায়, বৃন্দাবন কলেজ সহ পূর্ববাংলার সব কলেজ থেকে অনার্স কোর্স উঠিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৪৯-১৯৫০ সালের শিক্ষাবর্ষে কলেজে ইন্টারমেডিয়েট কমার্স কোর্স ও ১৯৫৩-১৯৫৪ সালের শিক্ষাবর্ষে বি. কম (পাস) কোর্স চালু হয়। ১৯৬০ সালে সারাদেশের কলেজ সমুহে অনার্স কোর্স চালু করা হলেও, নাম জঠিলতার কারনে বৃন্দাবন কলেজের অনার্স কোর্স চালু করা হয়নি। ১৯৬০-১৯৬১সালের শিক্ষাবর্ষে ইন্টারমেডিয়েট বিজ্ঞান শাখা ও ১৯৬৭-১৯৬৮সালের শিক্ষাবর্ষে বি. এস. সি (পাস) কোর্স চালু করা হয়। এভাবে কলেজটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে পরিণত হয়। তখন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ, বৃন্দাবন ডিগ্রি কলেজ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    বাংলাদেশে সরকার গঠিত হওয়ার প্রায় ০৭ বছর পর ১৯৭৯ সালের ৭ই মে বৃন্দাবন কলেজটিকে (সরকারিকরণ) জাতীয় করণ করা হয়। কলেজের নাম হয় বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ। অবশেষে ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চালু করা হয় অনার্স কোর্স। তখন মোট ৭ টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ হতে সর্বপ্রথম মোট ৫ টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স প্রবর্তন করা হয়।

    বর্তমানে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান শাখা সহ স্নাতক (পাস) কোর্সে বি. এ, বি. এস. এস, বি. বি. এ এবং বি. এস. সি কোর্স চলমান আছে। একই সঙ্গে মোট ১৪ টি বিষয়ে (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন) স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স কোর্স চালু আছে।

    সর্বশেষ ২০১৯ সালে ইসলামী শিক্ষা, আইসিটি ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন তখনকার অধ্যক্ষ জনাব, প্রফেসর মো: এলিয়াছ হোসেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে বিভাগ তিনটির জন্য আলাদা রুম ও ক্লাস রুমের ব্যবস্থা করা হয়। ২০১৮ সালে আরবী ও ইসলাম শিক্ষার জন্য ০২ জন শিক্ষক নির্ধারণ করা হয়। আইসিটি বিভাগের জন্য ০২ জন এবং শারীরিক শিক্ষা বিভাগের জন্য ০১ জন অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারিভাবে বিভাগ গুলোতে এখনও কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিভিন্ন বিভাগে ১২ টি নতুন অধ্যাপক, ১৮ টি সহযোগী অধ্যাপক, ৩২ টি সহকারী অধ্যাপক ও ২০ টি প্রভাষক পদ সৃষ্টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

    কলেজে বর্তমানে প্রায় ৭৩ টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ৫৮ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা ও প্রায় ২০ হাজার ছাত্র ছাত্রী রয়েছে।

    দেশরত্ন শেখ হাসিনা কাম একাডেমিক ভবনে আধুনিক আই সি টি ল্যাব এবং ফরেন ল্যাংগুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার চালু রয়েছে। ০২ টি আধুনিক ছাত্রীনিবাস ও ৩০০ আসনের ০২ টি আধুনিক ছাত্রাবাস ভবন সদ্য নির্মাণ করা হয়েছে।

    জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে এবং হবিগঞ্জ ০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য (২০০৮-বর্তমান) আলহাজ্ব এডভোকেট মো: আবু জাহির এম. পি মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ২০১৮ সালে কলেজ ক্যাম্পাস ব্রডব্যান্ড সংযোগসহ ওয়াই ফাই নেটওয়ার্কের আওত্ত্বায় আনা হয়।

    ২০০৮ সাল থেকে – এ পর্যন্ত মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মো: আবু জাহির এম. পি মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ও কলেজ প্রসাশনের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ আজ একটি মডেল কলেজে পরিণত হয়েছে। গড়ে ওঠেছে বিজ্ঞান ভবন, একাডেমিক ভবন সহ আরও অনান্য নতুন ভবন। সংস্কার করা হয়েছে পুরাতন সব কয়টি স্থাপনা ও প্রসাশনিক ভবন। কলেজে ০৮ টি শ্রেণিকক্ষে স্ক্রিনসহ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষকগণ এখন মাল্টিমিডিয়া ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

    কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা এখন পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত পোশাক পড়ে কলেজে আসে। সকল ভর্তি কার্যক্রম, ফরম ডাউনলোড, নির্ধারিত ফি পরিশোধ, নিশ্চায়ন, রেজিস্ট্রেশন পভৃতি কার্যক্রম এখন অনলাইনে সম্পাদিত হয়। ছাত্র/ছাত্রীদের অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর অনলাইনে প্রেরণ করা হয়। ভর্তির মেধা তালিকা, উপবৃত্তি, চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল, নোটিশ ইত্যাদি কলেজ ওয়েবসাইটে (www.bc.gov.bd) প্রকাশ করা হয়।

    তথ্যসূত্র :

    ০১/ একাডেমিক ক্যালেন্ডার, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ।
    ০২/ বাংলাদেশ লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা (হবিগঞ্জ), বাংলা একাডেমী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
    ০৩/ Wikipedia, Google
    ০৪/ হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস, লেখক : মো. সায়েদুর রহমান।

    লেখক : কে. এম. আবু বকর
    সিনিয়র শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ।

    বি: দ্র: লেখকের অনুমতি ব্যতিত লেখাটির আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশ কপি/পেস্ট করা নিষিদ্ধ। তবে লেখাটি যে কেউ শেয়ার করতে পারবেন।