Category: হবিগঞ্জ

  • চুনারুঘাটে গাঁজাসহ আটক ১

    চুনারুঘাটে গাঁজাসহ আটক ১

    হবিগঞ্জ চুনারুঘাট উপজেলায় গুইবিল সীমান্তে সোহাগ মিয়া (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে আটক করেছে বিজিবি।

    সে উপজেলার গাজিপুর ইউনিয়নের হাপ্টারহাওর গ্রামের জালাল উদ্দিনের পুত্র।

    বিজিবি’র গুইবিল ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার বুরহান উদ্দিন জানান, আজ (৮ জুন সোমবার) বিকেলে টহল কমান্ডার নায়েক আবুল হোসেন গোপন সংবাদ পেয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে আঁধা কেজি গাঁজাসহ সোহাগ কে আটক করেন।

    বিজিবি’র ৫৫ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি) নাসির উদ্দিন বলেন, মাদকের ব্যাপারে বিজিবি জির টলারেন্স নীতিতে আছে। তবে তাৎক্ষনিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করলে মাদক ব্যবসায়িরা ভয়ে থাকতো। তারা গত ৫ মাসে চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন কে দিয়ে কোন প্রকার মোবাইল-কোর্ট করাতে পারেন নি।

  • হবিগঞ্জে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

    হবিগঞ্জে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী হাছিনা বেগম (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইটাখোলা গ্রাম স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হাছিনা বেগম উপজেলার খড়কী গ্রামের শহীদ মিয়ার মেয়ে ও নিহত সাইফুর রহমান মুর্শেদ মিয়ার স্ত্রী।

    নিহত মুর্শেদের বড় ভাই জোনায়েদ মিয়া জানান, হাসিনা ও মুর্শেদ মিয়ার মধ্যে ১০ বছর আগে বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর তাদের সংসারে মীরা নামে ৭ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কিন্তু প্রায় দেড় বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অমিল চলছিল। এ কারনে হাসিনা বেগম তার পিতার বাড়িতে বসবাস করে জগদীশপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকুরী করত। নিহত স্বামী মুর্শেদ ইটাখোলা গ্রামে নিজ বাড়িতে একা থাকত।

    গত শনিবার (৬ জুন) বড় বোন জোছনার বাড়ি থেকে মুর্শেদ মিয়া সকাল ১০ দিকে তার ঘরে আসে।

    রোববার (৭ জুন) বড় বোন জোছনা বেগম ফোন করে জানতে চায় মুর্শেদ কোথায় আছে। পরে তারাঘরে গিয়ে দেখতে পায় মুর্শেদের ঘরের দরজায় বাহিরে তালা। তার কোন সাড়া শব্দ নেই।

    সোমবার (৮ জুন) সকালে আবার বড় বোন আবার ফোন দিলে দরজার ফাঁক দিয়ে মুর্শেদের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুর্শেদের পরিবারের অভিযোগ, হাছিনাা বেগম তার স্বামীকে কয়েকজন মিলে হত্যা করেছে।

    মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর বলেন, লাশের বিভিন্ন আলামত দেখে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যা কান্ড।

    খবর পেয়ে মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র এএসপি নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্ত্রী হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • হবিগঞ্জের তালহাকে ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে লাগে অনেক টাকা

    হবিগঞ্জের তালহাকে ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে লাগে অনেক টাকা

    একটি মানবিক আবেদন।
    ছেলেটির নাম তালহা, বয়স মাত্র ৬।
    উৎকন্ঠায় তালহার পরিবার। তাদের আদরের ছয় বছরের ছেলে মরণব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ।
    নিম্ন বিত্তের বাবার পক্ষে কিভাবে সম্ভব ছেলের চিকিৎসা চালানো ?
    তালহার পিতা মোঃ আব্দুন নূর একজন সাধারণ চাকুরিজীবী।
    সদা হাস্যজ্বল লোকটি একজন সমাজকর্মী, পরোপকারী, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, একটি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ও একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা। চমৎকার ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন ভাল মানুষ। বাড়ি হবিগঞ্জ সদরের পৈল গ্রামে।
    তালহার চিকিৎসা করার জন্য কয়েক লক্ষ টাকার প্রয়োজন।

    কয়েকমাস যাবত চিকিৎসা করে বর্তমানে তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই হবিগঞ্জ অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম উদ্যোগ নিয়েছে তালহার চিকিৎসার জন্য একটি আর্থিক তহবিল গঠন করার। যার নাম দিয়েছি (শিশু তালহার চিকিৎসায় আমরা)। সংগৃহীত তহবিলের মাধ্যমে তালহার চিকিৎসার ব্যয় সম্পাদন করা হবে।
    সমাজে আমরা যারা সচ্ছল আছি তারা ইচ্ছে করলেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আর্থিক সহযোগীতার মাধ্যমে তালহার পাশে দাড়াতে পারি।
    আর্থিক সহযোগীতার জন্য নিম্নের ব্যাংক একাউন্ট অথবা বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন।

    মোঃ আব্দুন নূর
    সঞ্চয়ী হিসাব নংঃ ০০৫৫০৩১০০০০১৪২
    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
    হবিগঞ্জ শাখা।
    বিকাশ নম্বরঃ
    01723326736( পার্সোনাল )
    01727202082 ( পার্সোনাল )
    01717568280 ( পার্সোনাল )
    রকেট নম্বরঃ
    017233267365( পার্সোনাল )
    নগদ নাম্বারঃ
    01723326736( পার্সোনাল )

    মানবিক আবেদনটি পড়ে আমরা সবাই সাধ্যমতো সহযোগিতা করি। আর যদি সহযোগিতা করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে কমপক্ষে তালহার সুস্থতার জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি। মহান আল্লাহ যেন তালহাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে দেন।

  • মাধবপুরে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    মাধবপুরে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়  অভিযান চালিয়ে ৩ মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    গতকাল রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল অভিনব কৌশল অবলম্বন করে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করে।

    আটককৃতরা হলো, মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ছাবু মিয়া (৪৫), একই ইউনিয়নের ইক্তেয়ারপুর গ্রামের নূর আহমদ এর ছেলে সোহেল মিয়া (৩২) ও একই উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে শাহালম মিয়া (৪২)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা গোপন সূত্রে জানতে পারেন জগদীশপুর হাইস্কুলে এন্ড কলেজের পাশে একটি ছোট দোকানে এক ব্যাক্তি ইয়াবা বিক্রি করে।

    খবরের সত্যতা নিশ্চিত হতে ক্রেতা সেজে তিনি ওই দোকানের মালিক শাহালম মিয়ার নাম্বারে ফোন করে ১০ পিস ইয়াবা কিনতে চাইলে সে দোকানে যাওয়ার জন্য বলে। তিনি বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে পুলিশের একটি দল নিয়ে সাদা পোশাকে ওই দোকানে গিয়ে ইয়াবা চাইলে দোকানদার ১০ পিস ইয়াবা দেয়। তখন পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সোহেল মিয়ার নিকট থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বলে জানায়।

    পুলিশের নির্দেশে সে সোহেল মিয়াকে ফোন করে আরও ইয়াবা নিয়ে শাহজাহানপুর গ্রামের একটি দোকানের সামনে আসতে বলে। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সোহেল মিয়া ১শ ৯০ পিস ইয়াবা নিয়ে আসলে ওঁত পেতে থাকা পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় ছাবু মিয়ার নিকট থেকে সে ইয়াবা এনেছে।

    পরে আটককৃত ২ জনকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পুলিশ বনগাঁও গ্রামের ছাবু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরো ১০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে।

    তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের করা হবে।

  • সিলেট বিভাগের সবগুলো জেলাই রেড জোনে !

    সিলেট বিভাগের সবগুলো জেলাই রেড জোনে !

    দেশে চলমান করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আক্রান্তের আধিক্য বিবেচনায় রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়ন হবে স্বাস্থ্যবিধি ও আইনি পদক্ষেপ।

    সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ কথা জানানোর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হচ্ছে ৭৫টি।

    মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শনিবার (৬ জুন) সর্বশেষ আপডেট করা তালিকায় সিলেট বিভাগের সব ক’টি জেলাকেই বলা হচ্ছে পুরোপুরি লকডাউন। বিভাগের জেলাগুলো হলো- হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট।

    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৭ জুন) থেকেই কিছু জায়গায় জোনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লকডাউন শুরু হয়েছে। বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা সংক্রমণমুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রিন জোনে সতর্কতা এবং ইয়েলো জোনে সংক্রমণ যেন আর না বাড়ে সেজন্য পদক্ষেপ থাকলেও রেড জোনে করোনার বিশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী কঠোর হবে পুলিশ।

  • শায়েস্তাগঞ্জের নুরপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামবাসী পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে

    শায়েস্তাগঞ্জের নুরপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামবাসী পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে

    শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের বাছিরগঞ্জ বাজার ঘেষা চানপুর গ্রাম। এই গ্রামে প্রায় ৪ হাজার জনসংখ্যার বসবাস। ভোটার সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি।

    শায়েস্তাগঞ্জ-সুতাং সড়ক থেকে দুটি রাস্তা প্রবেশ করেছে এই গ্রামে এবং রাস্তা দুটি গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে। আবার কারো কারো বাড়ির উঠুনে পর্যন্ত পানি প্রবেশ করেছে। ফলে গ্রামবাসী হয়ে পড়েছেন ঘরবন্দি। জরুরী প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হলে পায়ের জুতা হাতে নিয়ে রাস্তায় কোথাও হাটু পানি, কোথায় কোমর পর্যন্ত পানি ভেঙ্গে চলাচল করছে।

    স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ওয়াহিদুর রহমান দুদু বলেন- আমাদের গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য এমপি সাহেবের কাছে গেছি, ডিসি সাহেবের কাছে গেছি, পানি উন্নয়ন বোর্ডে গেছে। সব জায়গায় আমরা গেছি। এপর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা হয় নাই।

    গ্রামের সামাজিক সংগঠন ‘অঙ্গীকার’ এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন বলেন- বাছিরগঞ্জ বাজারের রাস্তার পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের খালটি ভরাট করে দালান ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তাই পানি নিষ্কাশনের আর পথ নেই। গ্রামের মানুষ এবারই পানিবন্দী নয়, গত কয়েক বছর যাবত এই দুর্দশা গ্রামবাসীর। এই কষ্ট লাঘবের জন্য গেল বছর মানববন্ধন পযর্ন্ত করেও এর কোন সুরাহা হচ্ছে না। আমরা আশা করি এবার শীঘ্রই পানিবন্ধী থেকে মুক্তি পাবে গ্রামবাসী।

    স্থানীয় পাঁচ গ্রামের নেতা মোঃ আব্দুল মালেক বলেন- পানি নিষ্কাশনের জন্য গত বছর মানববন্ধন করে এমপি সাহেবের কাছে গেছি, আগের ডিসি মহোদয়ের কাছে গেছি। তারা সবাই দেখে গেছেন, তদন্ত করে গেছেন এবং তারা অবগত আছেন। কোন উদ্দেশ্যের কারণে যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হচ্ছে না জানি না।

    নুরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, চানপুর গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে খালটি ছিল তাতে কিছু মানুষ ঘর বানিয়ে খালটি বন্ধ করে ফেলেছে। তাই পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। গ্রামবাসীর চলাফেরা মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

  • দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে মা বাবার করোনা জয়ের গল্প

    দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে মা বাবার করোনা জয়ের গল্প

    এম এ মজিদ, হবিগঞ্জঃ “আমরা স্বামী স্ত্রী এবং দেড় বছরের কন্যা সন্তান সবাই করোনা আক্রান্ত। এর মধ্যে আমার অবস্থা অবনতি হয় বেশি। শ্বাসকষ্ট, একই সাথে প্রচন্ড জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা। স্ত্রীর অবস্থাও ভাল না, জ্বর ও ব্যথায় উঠে দাড়ানোর অবস্থায় ছিল না। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয় ১ বছর ৪ মাসের কন্যা সন্তান। নাক দিয়ে পানি পড়া, স্বাভাবিক শ্বাস নিতে না পারা, জ্বর, ব্যথা। মেয়েটা ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। একটা পর্যায়ে মনে হল, আমাদের পৃথিবী শেষ পর্যায়ে। চিন্তা করলাম, শেষ যুদ্ধটা করবই। অন্তত আমাদের যা হবার হবে, সন্তানটাকে বাচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। ঠিক এই চিন্তা যখন আমাদের মাথায় আসল, নিজেদের কষ্টটা ভুলতে লাগলাম”। কথা বলছিলাম, এনজিও আশা’র লোন অফিসার হবিগঞ্জের যুবক ইমতিয়াজ উদ্দিন ইমন, তার স্ত্রী পুলিশের এসবি শাখায় কর্মরত নারী পুলিশ সদস্য ও তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের কথা। করোনার সাথে যুদ্ধ করে এখন তারা তিনজনই সুস্থ। তবে সুস্থ হওয়ার পরও সমাজের কিছু মানুষের কারণে তারা মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেনি। কিছু মানুষ মনে করে করোনা রোগী মানেই পঁচে গেছে, তাদের ধারে কাছে যাওয়া যাবে না।

    ১৬ মে প্রথমে ইমতিয়াজ উদ্দিন ইমন জ্বর ও ব্যথায় আক্রান্ত হন। ডাক্তার প্রদীপ দাসকে ফোন করে কিছু ঔষধ লিখে নেন। জ্বর হওয়ার পর নিজে থেকেই আইসোলেশনে চলে যান ইমন। কিন্তু স্ত্রী কোনভাবেই মানছিলেন না। যা হবার হবে, স্বামীর যতœ করতেই হবে। আক্রান্ত স্বামীর সেবা করতে থাকেন পুলিশ সদস্য স্ত্রী। দুই দিনের মাথায় আক্রান্ত হন স্ত্রী এবং ১ বছর ৪ মাসের একমাত্র সন্তান। তিনজনেরই একই উপসর্গ। বুঝতে বাকী নেই সবাই করোনা আক্রান্ত। ২০মে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করা হয় তিনজনের। ২২মে তিনজনেরই রিপোর্ট আসে করোনা পজিটিভ। প্রথমে ভেঙ্গে পড়েন তারা। মৃত্যুর হাতছানি যেন চারদিক থেকেই তাদেরকে ডাকছে। মেয়ের শ্বাস কষ্ট দেখে নিজেদের শ্বাস কষ্টের কথা ভুলে যান ওই দম্পতি। ডাক্তারদের দেয়া ঔষধ সেবনের পাশাপাশি গরম পানি পান, গরম পানির ভাপ নেয়া ও গরম পানির গারগল করা নিত্যসঙ্গী করা হয়। কিন্তু ১ বছর ৪ মাস বয়সী বাচ্চার দ্বারা কিভাবে এসব সম্ভব? মেয়ের চোখের পানির সাথে মা বাবার চোখের পানি একাকার হয়ে যায়। বিভিন্ন কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে উপরুক্ত থেরাপী দেয়া অব্যাহত রাখেন ওই দম্পতি। অবস্থার অবনতি হতে থাকলে স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও প্রায় একই চিকিৎসা। এরই মধ্যে ইমনের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে নিজেও ভর্তি হন একই হাসপাতালে। এবার হাসপাতালে চলে তাদের প্রায় একই ধরনের যুদ্ধ। আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকেন তারা। ৩ জুন আবার তারা নমুনা পরীক্ষা করান। ৪ জুন আসে করোনা নেগেটিভ। ইমতিয়াজ উদ্দিন ইমন মনে করেন-শক্ত মনোবল ও হেরে না যাওয়ার প্রত্যয় থাকতে হবে। পরিবারের শিশুরা আক্রান্ত হলে তাদেরকে এক মিনিটের জন্য ছেড়ে যাবেন না। পাশাপাশি কিছু ঔষধ আর গরম পানি থেরাপী অব্যাহত রাখলে করোনা আক্রান্ত হলেও তা থেকে সেড়ে উঠা সম্ভব। কিন্তু সুস্থ হলে আপনাকে আরেকটা যুদ্ধে নামতে হবে। সেটা হল মানসিক অবহেলা আর অবজ্ঞার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সেটা করা লাগে সমাজের গুজব ছড়ানো কিছু লোকের বিরুদ্ধে। অথচ করোনা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি সুস্থ হয়ে করোনা নেগেটিভ হলে তার প্লাজমা দ্বারা অন্য করোনা রোগী সুস্থ হতে পারে। দ্বিতীয়বার কেউ করোনা আক্রান্ত হলেও করোনা ভাইরাসটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে তার মধ্যে প্রবেশ করে। ইমতিয়াজ উদ্দিন ইমন বলেন- করোনা আক্রান্ত হয়ে ডাক্তার নার্স, আমার ও আমার স্ত্রীর পরিবারের লোকজন, আত্বীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, অফিসের সহকর্মী, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবাই যেভাবে সাহস যুগিয়েছেন, তা বিরল। কিছু মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টালে করোনা কষ্টসাধ্য হলেও জয় করা সম্ভব।

    লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী