Category: হবিগঞ্জ

  • আইনজীবীদেরকে কেন সম্মানের চোখে দেখবেন

    আইনজীবীদেরকে কেন সম্মানের চোখে দেখবেন

    এম এ মজিদঃ প্রথমেই বলে নেই আমি পৃথিবীর সকল পেশা, ধর্ম, জাতী, বর্ণ, নৃগোষ্টি সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কাউকে আমি ছোট করে দেখি না, কোন পেশাকেই আমি অসম্মানের মনে করিনা। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার পেশাকে সবার উপরে রাখি এ জন্য যে, যদি আমি আমার পেশাকে ভালই না বাসি তাহলে এ পেশায় আসলাম কেন? আমার মনে হয় সবারই সব পেশাকে সম্মানের সাথে দেখে নিজের পেশাকে সবার উপরে রাখা দোষের কিছু নয়।

    দেশের ৫১ হাজার আইনজীবী নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষের মাথা ব্যথা চোখে পড়ার মতো। অথচ ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৪০ লাখ মামলা পরিচালনার জন্য ৫১ হাজার এডভোকেট খুব যথেষ্ট বলে মনেই হয় না। আমার কিছু বন্ধু আছে যারা কলেজের শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, পুলিশ কিংবা অন্য পেশার সাথে সম্পৃক্ত। তাদের বেশির ভাগ আইন পেশাকে খারাপ চোখে দেখেন।

    আমি তাদের খারাপ চোখে দেখাকে সম্মান করি। আসলে তাদেরকে বিষয়টা ঠিকভাবে কেউ বুঝায়নি, তারাও বুঝেনি। জেলা সদরে এতো আইনজীবী দেখে তারা মনে করে পুরো জেলা আইনজীবীরাই দখল করে আছেন। বিষয়টি ঠিক এমন না। আমি শুধু তিনটি পেশার মানুষের তুলনা করতে চাই। কলেজ শিক্ষক, রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তার ও আইনজীবী।

    হবিগঞ্জে ৯টি থানায় অন্তত ২৫টি কলেজ রয়েছে। রয়েছে একাধিক ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা। ওইসব কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকের সংখ্যা কত হবে? সরকারী বেসরকারী মিলিয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৩ হাজারের নিচে হবে না। সকল শিক্ষককে যদি বলা হতো আপনারা জেলা সদরে অবস্থান করে শিক্ষাদান করবেন, প্রাইভেট পড়াবেন, ইচ্ছা মতো ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা নিবেন, নিজেদের সাইনবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, তাহলে বিষয়টা কেমন হতো।

    একবার চিন্তা করে দেখুন, শিক্ষকদের সাইন বোর্ডে শহরে তলিয়ে যেত, রাস্তাঘাটে হাটা যেত না, একেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি ১৫ জন শিক্ষক থাকেন, তাহলে গ্র“প থাকে ৯টা। আমি অন্তত ১ ডজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলাদলি কোন্দল রেষারেষি গ্র“পিং অর্থ আত্বসাত ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ লিখেছি। সংবাদ লেখার জন্য শিক্ষকদের একটি অংশ প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করেন। সংবাদ লিখলে এসব নিয়ে প্রতিদিনই সংবাদ লেখা যাবে। বাস্তব আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না।

    হবিগঞ্জে ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৭৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১টি জেলা সদর হাসপাতাল, ১টি মাতৃ মঙ্গল, ১টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। রয়েছে জেলা সদরসহ উপজেলা সদর গুলোতে প্রতি পাড়ায় পাড়ায় ক্লিনিক। ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রতিদিন কতজন শুধু রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তার চিকিৎসা প্রদান করেন। প্রতিদিন অন্তত দেড় হাজার রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তার ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। এর বাহিরে রয়েছেন হোমিও প্যাথিক ডাক্তার, হাতুড়ে ডাক্তার, ফার্মেসী ডাক্তার ইত্যাদি।

    তারপরও আমরা মনে করি ডাক্তারের সংখ্যা কম, আরও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রয়োজন। শুধু দেড় হাজার রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তারকে যদি বলা হতো আপনারা শুধু জেলা সদরে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন, নিজেদের সাইন বোর্ড ব্যবহার করবেন, ইচ্ছা মতো রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেবেন। তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়াতো। ডাক্তার ও রোগীর ভিড়ে এমনিতেই শুক্রবারে শহরে চলাচল করা যায় না।

    যদিও নির্লজ্জভাবে কোনো কোনো চিকিৎসক শহরে বা গ্রামে গঞ্জে নিজের সাফাই গেয়ে মাইকিং করান। খুব ভাল ছাত্র হিসাবে একটি মেডিকেল কলেজে পড়ে, ডাক্তার হয়ে, সেবা দিতে গিয়ে, টাকা রুজি করতে গিয়ে, মাইকিং করা লাগবে, এতো নিচু একটা মানুষ হয় কিভাবে। তারা নিজেরা যখন নিজেদের মাইকিং শুনেন, কেমন লাগে আমার জানতে বড় ইচ্ছা হয়। আমি মনে করি না কোনো ইজ্জত সম্পন্ন ডাক্তার মাইকিং করে, গাড়িতে, বাড়িতে, দেয়ালে, পোষ্টারিং করে রোগী সংগ্রহ করতে পারেন।

    যদি কোনো ক্লিনিক এমন করেও তাদেরকে তাৎক্ষনিক বন্ধের নির্দেশ দেয়া ডাক্তারের নৈতিক দায়িত্ব। ডাক্তার সাহেব কোথায় রোগী দেখবেন তা পরের বিষয়, কিন্তু ডাক্তার সাহেবের সাইন বোর্ড পাওয়া যায় হাটে, বাজারে, রাস্তায়, মহাসড়কের পাশের গাছে ঝুলানো, বিদ্যুতের খুটিতে ঝুলানো। একইভাবে আপনি অন্য যে কোনো পেশাকে কনসাইস করে যদি এক জায়গায় জড়ো করেন, তাহলে বিষয়টি কেমন হবে। উদাহরণ হয়তো আরও অনেক দেয়া যেত।

    এবার আসা যাক, আইন পেশার দিকে। হবিগঞ্জের ২০ লাখ মানুষের আইনী সেবা দিতে সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীর সংখ্যা ৬শ। (যেখানে কলেজ ও সমমানের শিক্ষার্থীর জন্য ৩ হাজারের বেশি শিক্ষক, ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য দেড় হাজারের বেশি ডাক্তার)।

    এরশাদ সরকারের পতনের পর উপজেলা কোর্ট গুলোকে বাতিল করে জেলা সদরে নিয়ে আসা হয়। আইনজীবীরা জেলা সদরে বসবাস শুরু করেন। ৬শ আইনজীবীর মধ্যে ৩শ আইনজীবীর মতো শহরে থাকেন, বাকীরা কিন্তু নিজ নিজ বাড়িতেই থাকেন। শহরে বসবাসকারী ৩শ আইনজীবীর মধ্যে অন্তত ২০০ আইনজীবীর সাইন বোর্ড রয়েছে।

    আইনজীবীদের সাইন বোর্ড টাঙ্গানোর বিষয়েও কিন্তু আইন আছে। একজন আইনজীবী তার বাসাকে চিহ্নিত করতে ৫০ গজের বেশি দুরুত্বে সাইন বোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না, সাইন বোর্ডটি হতে হবে সাদা কালো। নিজের সাফাই গেয়ে পত্রিকায় কিংবা ডিশ লাইনে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না, বিজ্ঞাপনের অর্থ বহন করে এমন কোনো ক্যালেন্ডার কোনো আইনজীবী ছাপাতে পারবেন না।

    কোনো দিন দেখেছেন কোনো আইনজীবী তার নিজের সাফাই গেয়ে কোথাও কোনো বিজ্ঞাপন দিতে? এই জিনিসটা তো খেয়ালই করেন নাই। এটা যে একটা আইন, তাও হয়তো জানেন না। গর্ভজাত সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত থেকে শুরু করে জন্মের পর মৃত্যু পর্যন্ত এবং মৃত্যুর পর তার লাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও আইন রয়েছে। ফৌজদারী বিষয় ছাড়াও সহায় সম্পদের সাথে, ব্যক্তির, ধর্মের, পেশার ইজ্জতের সাথে আইন জড়িত। জীবনের প্রত্যেকটি পর্যায়ে আপনার সাথে আইন জড়িত।

    ডাক্তাররা শুধু একটি মানুষের দেহের চিকিৎসা করেন, শিক্ষকরা একটি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ব্রেইনের চিকিৎসা করেন বিপরীতে একজন আইনজীবী কিন্তু একটি মানুষের জন্মের পূর্বের ব্র“ণ থেকে জন্ম নেয়ার পর, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এমনকি মৃত্যুর পর লাশ দাফন পর্যন্ত তাকে সুরক্ষার যাবতীয় আইনী চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

    আমাদের একটি বদ্ধমূল ধারণা হল- যারা আইনের আশ্রয়ে আসেন তারা সমাজের খারাপ, আমাদের চোখে পড়ে শুধু মার দাঙ্গা, মাদক, নির্যাতন, আগুন, এসিড, ইত্যাদি। কেউ কেউ যে শুধু তার ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আইনের আশ্রয়ে আসেন তার খবর আমরা রাখি না।

    এই যে, ৬শ আইনজীবী একসাথে এক ছাদের নিচে একই বই পড়ে ২০ লাখ মানুষকে নিয়ে, তাদের সহায় সম্পদকে নিয়ে আইন ব্যবসা করছেন, আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যকার কয়টা খারাপ উদাহরণ আপনি দিতে পারবেন? যদি দেড় হাজার ডাক্তার একই শহরে একই ছাদের নিচে বসে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করতেন কিংবা ৩ হাজার শিক্ষক একই শহরে একই ছাদের নিচে বসে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করতেন, আপনি কি দেখতেন? দুচারটি ছোট খাট ঘটনা বাদ দিলে বিভিন্ন মতের, পথের, ধর্মের, রাজনীতির, সমাজের এতো প্রভাবশালী (মন্ত্রী এমপি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় গুরুজন) মানুষগুলো একই ছাদের নিচে সুশৃংখলভাবে ব্যবসা করা খুব বিরল হিসাবেই দেখবেন।

    আর সব পেশায় তো কিছু ভাইরাস থাকবেই। কিন্তু সেটা শতাংশের বিচারে কত। করোনা মহামারী দিয়ে বিচার করলে আপনি আইনজীবীদেরকে সম্মান করতে বাধ্য হবেন। দেড় হাজার ডাক্তারকে কিংবা ৩ হাজার শিক্ষককে কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষকে যদি বলা হতো আপনাদের অনির্দিষ্টকালের বেতন বন্ধ বা আপনারা অনির্দিষ্টকালের জন্য রোগী দেখতে পারবেন না, প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না, তাহলে দাবী দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ, রাস্তা অবরোধ, অনশনসহ কত ধরনের আন্দোলন হতো, বিপরীতে ৬শ আইনজীবীর জন্য অনির্দিষ্টকালের আয়ের ক্ষেত্র বন্ধ (যদিও ভার্চৃয়াল কোর্ট ওপেন, বিষয়টা শুধু হাজতী আসামীদের জন্য, অন্য কোনো প্রতিকার নেই বললেই চলে), মাসিক কোনো বেতন নেই, কোনো ধরনের প্রনোদনাও নেই, আইনজীবীদের মধ্যে কি কোনো হতাশা, ক্ষোভ, ক্ষিক্ষোভ, প্রতিবাদের ছিটে ফুটা আছে?

    অথচ বিশ্বাস করবেন না, কত প্রয়োজনীয় আইনী প্রতিকার পেতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিটি সেকেন্ড গণনা করছেন আর আইনজীবীদেরকে চাপ দিচ্ছেন। আমার লেখায় শুধু হবিগঞ্জের বিষয়টি দিলাম, আপনি সারা দেশকে এর সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন। চলুন আমরা আইনজীবীকে, আইন পেশাকে সম্মানের চোখে দেখি, সব পেশাকেই মর্যাদা দেই। কাউকে মর্যাদা দিলে, সম্মান দেখালে নিজে ছোট হবেন না।

    লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী

  • বিভাগীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রসাশক কামরুল হাসান

    বিভাগীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রসাশক কামরুল হাসান

    শুদ্ধাচার নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বিভাগীয় পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার এর জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    গত ১৮ জুন (বৃহ:বার) জারিকৃত এক অফিস আদেশে শনিবার (২০ জুন) বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মশিউর রহমান এনডিসি’র স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সাথে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তাও এই পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন।

    মোঃ কামরুল হাসান হবিগঞ্জ জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জেলার প্রশাসনিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, তিনি করোনায়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন। ঘরে থেকে সুস্থতা লাভ করে পুনরায় কর্মস্থলে কাজ শুরু করেন৷ তাঁর এই অর্জনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

  • হবিগঞ্জে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড!

    হবিগঞ্জে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড!

    করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই অন্য জেলাগুলোর তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত অবস্থানে ছিল হবিগঞ্জ জেলা। তবে সেখানে এক লাফে এক দিনেই বেড়ে গেছে শনাক্তের সংখ্যা। নতুন করে ৮১ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় জেলায় শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫৭।

    রবিবার (২১ জুন) প্রথম প্রহরে এই তথ্য জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ। একদিনে হবিগঞ্জে করোনা শনাক্তের এমন রেকর্ডের খবরে স্বাস্থ্য বিভাগও হতবাক। তারা সকলকে আরও অধিকতর সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল জানান, এটি হবিগঞ্জে এ যাবৎকালে একদিনে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরও বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানাচ্ছি। মানুষ যাতে আরও বেশি সচেতন হয়। এছাড়া নিজে, পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করার আর কোনও উপায় নেই।

    স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় শনিবার রাতে একদিনে ৮১ জন আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট আসে। যাচাই-বাছাই ও উপজেলাভিত্তিক ভাগ করে রাত ১২টার দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করে।

    শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় (শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাসহ) ৪০ জন, মাধবপুরে ২২ জন, চুনারুঘাটে সাত জন, বানিয়াচংয়ে ছয় জন, লাখাইয়ে দুই জন, আজমিরীগঞ্জে দুই জন, বাহুবলে ও নবীগঞ্জে একজন করে রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে চার জনের।

  • আজমিরীগঞ্জের সৌলরী বাজারে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

    আজমিরীগঞ্জের সৌলরী বাজারে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

    আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সৌলরী বাজারে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মধ্যে ২০ বন্ড ঢেউটিন ও নগদ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসরকারি প্রস্তাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এমপি শনিবার (২০ জুন) দুপরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এসব সহায়তা তুলে দেন ।

    নগদ টাকা ও ঢেউটিন বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের সদস্য নাজমুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান সজীব, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী সরকার, কাকাইলছেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হক ভূঁইয়া, শিবপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলী আমজাদ তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান তকছির মিয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণশিক্ষা সম্পাদক আনিসুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন সহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ সহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ।

  • লাখাইয়ের স্কুলছাত্রী আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন অনুষ্টিত

    লাখাইয়ের স্কুলছাত্রী আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন অনুষ্টিত

    লাখাইয়ে স্কুলছাত্রী ফাহমিদা আক্তার আখিঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক সাফায়েত হোসেন রানাসহ দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা ও এলাকাবাসী।

    শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কের কালাউক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শারীরিক দূরত্ব মেনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় বক্তারা বলেন- মেধাবী ছাত্রী আখিঁকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের জালে আবদ্ধ করে তারই আপন চাচাতো ভাই সাফায়েত হোসেন রানা। এক পর্যায়ে রানা আঁখিকে বিয়ে করবে না বলে জানায়। এতে রাগে ও অপমানে গত ১০ জুন সে বিষপানে আত্মহত্যা করে।

    তারা আখিঁর মৃত্যুর পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

    উল্লেখ্য- লাখাই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের রুহুল আমীনের মেয়ে কালাউক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ফাহমিদা আক্তার আঁখি সাথে তারই আপন চাচাতো ভাই সাফায়াত হোসেন রানার দীর্ঘ দিন যাবত প্রেম চলে আসছিল। সম্প্রতি আঁখির পারিবারের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। এতে আঁখি প্রেম হারানোর ভয়ে রানাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু রানা তাকে বিয়ে করতে রাজি না হলে রাগে ও অপমানে আঁখি বিষপান করে আত্মহত্যা করে।

    এদিকে, এ ঘটনায় আখির বাবা রুহুল আমীন মামলা দায়ের করতে চাইলে মামলা নিতে রাজি হয়নি লাখাই থানা পুলিশ।

    এ ব্যাপারে লাখাই থানার ওসি (তদন্ত) অজয় চন্দ্র দেব জানান- আঁখি ও তার চাচাত ভাই সাফায়াত হোসেন রানার মধ্যে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা যাচ্ছে। কিন্তু তার মৃত্যুও বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সঠিক কোন তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি। যার কারণে মামলা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • হবিগঞ্জে নতুন করে ৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত

    হবিগঞ্জে নতুন করে ৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত

    হবিগঞ্জে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শনিবার ঢাকা থেকে আসা ফলাফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৬৯ জন রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৪৫ জনে।

    শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি জানিয়েছেন।

    তিনি জানান- ১৭ ও ১৮ জুন হবিগঞ্জ থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল শনিবার পাওয়া যায়। ফলাফলে ৬৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

    এপর্যন্ত জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩৪৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৫৮ জন এবং এক শিশু ও এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ মারা গেছেন ৪ জন

  • হবিগঞ্জে স্বামীর লিঙ্গ কর্তনকারী সেই স্ত্রী আটক

    হবিগঞ্জে স্বামীর লিঙ্গ কর্তনকারী সেই স্ত্রী আটক

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট আলীনগরে স্বামীর লিঙ্গ কর্তনকারী সেই কুখ্যাত স্ত্রী দিলারা বেগমকে অবশেষে আটক করেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ।

    গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) মৌলভীবাজারের শাহবাজপুর গ্রামে পীরের বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন চুনারুঘাট থানার ওসি তদন্ত চম্পক দাম

    উল্লেখ্য: গত ৭ জুন দিলারা তার স্বামী সৌদি প্রবাসী ইছাক মিয়ার লিঙ্গ কর্তন করে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে ছোট বউ বেলী আক্তার দিলারা খাতুনকে আসামী করে চুনারুঘাট থানায় মামলা করেছিলেন পরের দিন। দিলারার অমতে ২য় বিয়ে করার কারণেই এমন বর্বর কাণ্ড ঘটায় সে।