Category: হবিগঞ্জ

  • শায়েস্তাগঞ্জের ইউএনও করোনায় আক্রান্ত

    শায়েস্তাগঞ্জের ইউএনও করোনায় আক্রান্ত

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমী আক্তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

    গতকাল রাতে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সম্প্রতি তিনি কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করেন। গত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে আসা রিপোর্টে ইউএনও সুমী আক্তারসহ জেলায় নতুন করে আরো ২৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত হন।

    করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকে তিনি আইসোলেশনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব ও হবিগঞ্জের খবরের অনুসন্ধানে গত ১১ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত হবিগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬২ জন।

    আক্রান্তদের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর (শায়েস্তাগঞ্জ সহ) ৩৩৭, চুনারুঘাট ১৫৬, মাধবপুর ১২৬, নবীগঞ্জ ৮৭, বাহুবল ৬০, লাখাই ৩৫, বানিয়াচং ৩৬ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ২৫ জন।

    এদের মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৩৫ জন। তবে মারা যাওয়া দুইজন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন।

  • শহরে মেয়াদহীন ইনজেকশন বিক্রি সহ নানান অনিয়মে জরিমানা

    শহরে মেয়াদহীন ইনজেকশন বিক্রি সহ নানান অনিয়মে জরিমানা

    হবিগঞ্জ শহরে মেয়াদহীন ইনজেকশন স্যানিটাইজার, প্রসাধনী বিক্রি ও সংরক্ষণের দায়ে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন৷

    আজ বুধবার(৮ জুলাই) চৌধুরীবাজার এলাকায় আহমদ ফার্মেসিকে মেয়াদবিহীন স্যানিটাইজার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন এবং আবদুল্লাহ সন্সকে মেয়াদত্তীর্ণ সাবান ও প্রসাধনী সংরক্ষণ এবং বিক্রির দায়ে মোট বারো হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

    এছাড়াও শায়েস্তানগর, বাইপাস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরিধান না করা ও সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন ও শামসুদ্দিন মোঃ রেজা।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • একজন অসাধারণ মাহমুদ হাসান স্যার!

    একজন অসাধারণ মাহমুদ হাসান স্যার!

    হারুন-অর-রশিদ সাগরঃ মাহমুদ হাসান স্যার! একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের উদাহরণ। স্যার শুধু একজন সিভিল সার্ভেন্টই নন, বরং তিনি নানা গুণে গুণান্বিত একজন মহান ব্যক্তি। মাহমুদ হাসান স্যারের সাথে আমার পরিচয় ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই। স্যার তখন আমার নিজ জেলা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক। সেসময় তিনি হবিগঞ্জ জেলায় বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে তাঁর বাসায় ডিনারের আমন্ত্রণ করেন।

    চাকুরিতে যোগদানের পূর্বেই স্যার একজন জুনিয়র সহকর্মী হিসেবে যে দিকনির্দেশনা ও ভালবাসা প্রদর্শন করেছেন তা খুবই বিরল। ঐ সময় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন আজও তা আমার কাছে বিস্ময়। তারপর থেকে আমি স্যারের মত একজন সৎ, আদর্শবান কর্মকর্তা হিসেবে স্যারকে অনুসরণ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করি। পরবর্তীতে হবিগঞ্জে থাকাকালীন বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্যারের অনেক বক্তৃতা মুগ্ধ হয়ে শুনেছি।

    জেলার সব কর্মকর্তার জন্য তিনি ছিলেন রোলমডেল। কথাবার্তা, চালচলনে ছিলেন জুনিয়র সহকর্মীদের কাছে অনুকরণীয়। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় সুন্দর বাচনভঙ্গি দিয়ে যে কোনো লোককে তিনি আকৃষ্ট করতে পারতেন। আমি যখন অর্থ বিভাগে কর্মরত, স্যার তখন একজন সিনিয়র কর্মকর্তা হয়েও আমাকে দেখার জন্য স্বয়ং আমার অফিস কক্ষে চলে এসেছিলেন যা আামাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছিল।

    গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের হাজী মমতাজ উদ্দীন মাস্টারের বড় ছেলে মাহমুদ হাসান স্যার। স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে পড়াশুনা করেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটিতেই প্রথম শ্রেণি। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেও প্রথম বিভাগ। অসাধারণ ফলাফল নিয়ে তার সিভিল সার্ভিসে যাত্রা।

    তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে সহকারী কমিশনার হিসেবে পঞ্চগড়, ফরিদপুর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও সীতাকুন্ডে, ইউএনও হিসেবে মৌলভীবাজার সদর ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে সাতক্ষীরায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ডিডি, জেলা প্রশাসক হিসেবে হবিগঞ্জে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক, বরিশালের ডিএলআরসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের উপসচিব, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দক্ষতা ও সুনামের সহিত কাজ করেছেন।

    বর্তমানে স্যার বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় কুড়িগ্রাম জেলায় সরকারের কর্মকান্ড পরিচালনায় অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের সকল বিভাগে কাজ করার মাধ্যমে স্যার মাঠ প্রশাসনে এক অনন্য নজীর সৃষ্টি করেছেন।

    ২০১০ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদ হবিগঞ্জের জন্য একজন সৎ, কর্মঠ এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের একজন জেলা প্রশাসক পদায়নের অনুরোধ করেছিলেন। তখন মাহমুদ হাসান স্যারকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়।

    গত বছর মাহমুদ হাসান স্যার এক জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অজ্ঞাত কারণে তার রক্তের প্লাটিলেট ভেঙে যেতে থাকলে স্যারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে স্যারের ব্যাচমেটরা স্যারকে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান হতে তিনি সবার দোয়ায় ভালো হয়ে ফেরত আসেন।

    এরপর স্যারকে দেখতে আমি ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম। স্যার তখন কমিশনার বাংলোতে যে আপ্যায়ন করেছিলেন তাও কখনো ভুলবার নয়। চলতি বছরের ২৩ মে হঠাৎ করে স্যারের করোনা পজিটিভ হওয়ায় যখন স্যারকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, তখনও আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে স্যারকে আবার ফিরে পাব কিনা। খুব কষ্ট হচ্ছিল স্যারের জন্য।

    হবিগঞ্জের অনেকেই তখন ফোন করে আমার কাছে স্যারের আপডেট জানার চেষ্টা করত। তাই মন বলছিল হাজারো মানুষের দোয়া নিশ্চয়ই বিফলে যাবেনা। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় দীর্ঘ ৪৫ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর করোনা জয় করে সুস্থ হয়ে স্যার গতকাল বাসায় ফিরেছেন।

    অসম্ভব মনোবলের অধিকারী মাহমুদ হাসান স্যারের সবকিছুকে জয় করার একটি শক্তি ছিল, আছে এবং থাকবে। স্যারের দুই ছেলে সীমান্ত ও সমুদ্রও স্যারের মত বিনয়ী ও মেধাবী। স্যারের এই নতুন জীবন, সবার দোয়ার ফসল। এই নতুন জীবনে স্যারকে স্বাগতম। স্যারের তো দেশ ও জাতিকে আরো এখনো অনেক কিছু দেবার বাকী রয়েছে। তাই নতুন করে দেশের সেবায় নিয়োজিত করার জন্য মহান আল্লাহ স্যারকে তৌফিক প্রদান করুক এই কামনা করছি।

    লেখকঃ সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মৌলভীবাজার।

  • আধ্যাত্নিক সম্রাট শাহজালাল রাহঃ

    আধ্যাত্নিক সম্রাট শাহজালাল রাহঃ

    মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিকঃ আধ্যাত্নিক রাজধানী নামে খ্যাত সিলেট অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসেন মুকুটহীন সম্রাট শাহজালাল (রহঃ)। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাহাবী, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, সলফে সালেহীন, গাউস, কুতুব, পীর ও ওলীদের মাধ্যমে আমাদের মাঝে ইসলাম এসে পৌঁছায়।

    সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর মাধ্যমেই ইসলামের বহুল প্রচার ঘটে। ১৪ শতাব্দীতে যে সকল ওলী-আউলিয়ারা বর্তমান বাংলাদেশে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার ক্ষেত্রে যার নাম সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং ভারতীয় উপমহাদেশে সূফি, দরবেশ, আউলিয়াগণের মাঝে যাঁর প্রভাব ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয় তাঁদের মধ্যে শাহজালাল (রহ.) অন্যতম।

    উপমহাদেশে ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে জনসাধারণের মাঝে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও নামের মাহাত্ম্য অতুলনীয়। খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রহ.)-এর পরে এই ভূখন্ডে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন শাহজালাল (রহ.)।

    সিলেট বিজয়ের পরে শাহজালাল (রহ.) এর সঙ্গী ও অনুসারীদের মধ্য থেকে অনেক পীর-দরবেশ এবং তাদের পরে তাদের বংশধরগণ সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসবাস করেন। শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

    জনসাধারণের মাঝে শাহজালাল মুজাররদ ইয়ামনী (রহ.) হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর পূর্ণ নাম শেখ জালালুদ্দীন জালালুল্লাহ্। কুনিয়াত মুজাররদ। ৭০৩ হিজরি মোতাবেক ১৩০৩ সালে ৩২ বছর বয়সে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের আধ্যাত্নিক রাজধানী সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে জানা যায়।

    সিলেট আগমনের সময়কাল নিয়ে যদিও বিভিন্ন ঐতিহাসিক অভিমত রয়েছে। তবুও শাহজালাল (রহ.) এর সমাধির খাদিমগণের প্রাপ্ত ফার্সি ভাষার একটি ফলক-লিপি থেকে উল্লিখিত সন-তারিখই সঠিক বলে ধরা হয়।

    জন্ম ও বংশ পরিচিতি ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুসারে ও গবেষকগণের মতে, শাহজালাল (রহ.) ৭৪৬ হিজরি সনের ১৯ জিলকদ ইন্তেকাল করেন। সে মতে তাঁর ১৫০ বছর জীবনকাল ধরে জন্ম সাল হয় (৭৪৬-১৫০)= ৫৯৬ হিজরি।

    হিজরি ষষ্ঠ শতকের শেষাংশে মক্কার কোরাইশ বংশের একটি শাখা মক্কা শহর হতে হেজাজ ভূমির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ইয়ামেন প্রদেশে গিয়ে বসবাস করেন। এই শাখার হযরত শেখ মুহাম্মদ তাবরিজি (রহ.) ছিলেন শাহজালাল (রহ.)-এর বাবা। তিনি কোরাইশ বংশীয় স্বনামধন্য খ্যাতিমান দরবেশ ছিলেন।

    সুহেলি ইয়ামনিতে উল্লিখিত তথ্য মতে, শাহজালাল (রহ.)-এর জন্মভূমি ছিল প্রাচীন আরবের হেজাজ ভূমির তৎকালীন প্রদেশ ইয়ামেনের কুনিয়া নামক শহর। শাহজালাল (রহ.) যখন তিন মাসের শিশুসন্তান, তখনই তাঁর মা ইন্তেকাল করেন এবং পাঁচ বছর বয়সে বাবাও ইন্তেকাল করেন।

    অসহায় এতিম শিশুসন্তান শাহজালাল (রহ.) কে মামা সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দী (রহ.) দত্তক নেন। আহমদ কবির তাকে আরবি ভাষায় কোরআন হাদিস শিক্ষা দেওয়াসহ ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক বিষয়ে (নামাজ, রোজা) অভ্যস্ততার গুরুত্ব প্রদান করেন।

    শাহজালাল (রহ.) এর শিক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি, তবে পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় শাহজালাল (রহ.) কে তাঁর মুরীদ কর্তৃক মাওলানা সম্বোধন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি বিদ্যা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন আলেম।

    এ ছাড়াও শায়খ আবু সাঈদ তাবরিজি (রহ.), বাহাউদ্দিন সোহরাওয়ার্দী (রহ.) ও খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি (রহ.) তাদের মতো জগৎ খ্যাত তরিকতের ইমাম ও বুজুর্গ দরবেশ সাধকগণের শিষ্যত্ব ও সান্নিধ্য এবং যুগের দিকপাল মহান মনীষীগণের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব থাকাটাও প্রমাণ করে যে, শাহজালাল (রহ.) আধ্যাত্মিক অতিন্দ্রীয় জ্ঞান তো বটেই ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য জ্ঞানরাজ্যের বিভিন্ন শাখায়ও বুৎপত্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন।ৎ

    পুণ্যভূমি খ্যাত সিলেট আগমন বিভিন্ন জীবনীকারগণের বৃত্তান্ত থেকে জানা যায় যে, শাহজালাল (রহ.) বাংলাদেশের সিলেটে আগমনের আগে, রাতে একটি স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের বৃত্তান্ত পীর মুর্শীদ ও মামা সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দী (রহ.) এবং সঙ্গীয় পীর বাহাউদ্দীন সোহরাওয়ার্দীর (রহ.) কাছে বর্ণনা করেন।

    স্বপ্নের বিস্তারিত ঘটনা শুনে তারা অবিলম্বে হিন্দুস্তান যাত্রার আদেশ দেন। স্বপ্নের ইঙ্গিত মতে, মুর্শীদ একমুষ্ঠি মাটি তাঁর হাতে দিয়ে বলেন, এই মাটির বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ যেখানে পাবে সেখানেই তুমি অবস্থান নিবে।

    তিনি আরও বললেন, এই মাটির মুষ্ঠি যে স্থানে খুলবে সে স্থানের মহত্ত্বের আর তুলনা থাকবে না। নির্দেশনা পেয়ে শাহজালাল (রহ.) দেরি করলেন না। বহুসংখ্যক ভক্ত-আশেকান নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন। শাহজালাল (রহ.) বাংলাদেশে আসার আগে তাঁর জন্মভূমি ইয়ামেন গমন করেন। সেখানে পূর্বপুরুষ ও মাতা-পিতার কবর যিয়ারত করেন।

    প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী ইয়ামেনের বাদশাহও তার ব্যাপারে জানতেন। একবার শুনলেন শাহজালাল (রহ.) ইয়ামেনে আসছেন। বাদশাহর ইচ্ছা হলো- তাঁর আধ্যাত্মিকতা পরীক্ষা করার। যথারীতি শাহজালাল (রহ.) সহ সঙ্গীদের আপ্যায়ন করা হলো বিষ মেশানো শরবত দিয়ে। কিন্তু দেখা গেলো, ‘বিসিমল্লাহ’ বলে সে শরবত পান করে সবাই সুস্থ। কিন্তু স্বয়ং বাদশাহ সাধারণ শরবত খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন! প্রচলিত তথ্য অনুসারে শাহজালাল (রহ.) তাঁর আধ্যাত্মিকতার বলে শরবতের বিষের ব্যাপারে জানতে পেরেছিলেন।

    এছাড়াও আধ্যাত্নিকতার বর্ণনা পাওয়া যায় যে, সিলেট নগরীর প্রধান নদী সুরমার পানি বেশিরভাগ সময়ই ঘোলা থাকে। এতে মানুষের খাবার পানির সংকট নিরসন করা যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী শাহজালাল (রহ.) এর কাছে গেলেন। তিনি সব শুনে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করলেন। যখন মোনাজাত শেষ হলো তখন একটি গায়েবি আওয়াজে একটি কূপ খননের নির্দেশ পেলেন। সবাই মিলে তার দরবারের পাশে একটি কূপ খনন করলেন। এরপর এক শুক্রবার কূপের কাছে গিয়ে হাতে থাকা লাঠি উঁচিয়ে ধরলেন। আঘাত করা মাত্র গায়েবিভাবে নিচ থেকে পানি আসতে শুরু করল।

    শুধু পানিই নয়, পানির সঙ্গে করে রং-বেরঙের মাগুর, কৈ প্রভৃতি মাছও আসতে শুরু করল। সে মাছের বংশধরদের এখনো দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর আধ্যাত্মিকতার আরও উদাহরণ হল তাঁর উদ্দেশে পাঠানো নিজামুদ্দীন (রহ.)-এর আগুনে মোড়ানো রুটি পাঠানোর গল্পে।

    কিন্তু শাহজালাল (রহ.) না দেখেই জেনে গিয়েছিলেন এর ভিতরে কী আছে। কিন্তু রুটির কৌটাটি খুলে খেতে শুরু করলেন আগুনের টুকরোগুলোকে। অলৌকিকভাবে এ আগুন সুস্বাদু খাদ্যে পরিণত হয়ে গেল।

    শাহজালাল (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে নিজামুদ্দিন (রহ.) তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ তাঁকে একজোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালি কবুতর উপহার দেন। সিলেটের আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দৃশ্যমান ওই কপোত যুগলের বংশধর।

    এগুলো জালালি কবুতর নামে খ্যাত। শাহজালাল (রহ.) যখন সিলেট পৌঁছেন তখন বাংলার শাসক সুলতান শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ। তাঁর আমলে ৭০৩ হিজরিতে শাহজালাল (রহ.) আধ্যাত্মিক শক্তির সাহায্যে সিলেট বিজয় করেন।

    বর্ণিত আছে যে, গৌর গোবিন্দ কর্তৃক শেখ বুরহানুদ্দীন (রহ.)-এর শিশুপুত্র হত্যার প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে পাঠানো সিকান্দার গাজীর বাহিনী গৌর গোবিন্দের ক্ষমতার কাছে বার বার পরাজিত হয়। শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর অনুসারী ৩৬০ আউলিয়াসহ গৌর গোবিন্দের ক্ষমতাকে পরাজিত করে সিলেট বিজয় করেন।

    শাহজালাল (রহ.)-এর প্রেমময় দ্বীনের আলো ছড়ালেন পুরো বাংলাদেশ। দেশের জনগণের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জীবনে, লোক সাহিত্যে, ধ্রুপদী সাহিত্যে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সর্ব ক্ষেত্রে শাহজালাল (রহ.)-এর প্রভাব পাওয়া যায়।

    চিশতিয়া তরিকার বুজর্গগণের মালফুয়াত, বিভিন্ন ঐতিহাসিকের উক্তি বাংলার শাসকদের বিভিন্ন স্থাপনা ও শিলালিপি, তাঁর নামে স্থানের নামকরণ ও মুদ্রার প্রচলন তা প্রমাণ করে। বাংলার ইতিহাসে এমন কোনো শাসকের দরবার নেই যা শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারের অনুগ্রহে অনুগৃহীত হতে চায়নি।

    দেশের রাজনৈতিক শাসক যারাই হোন না কেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপামর জনগণের হৃদয়ের মণিকোঠায় শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে সমাসীন। তিনি সিলেট অঞ্চলের মুকুটহীন সম্রাট। সিলেট বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী ও পুণ্যভূমি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

    সিলেট নগরীর মধ্যখানে সবুজ টিলার ওপর চিরনিদ্রায় শায়িত শাহজালাল (রহ.)। তাঁর ইন্তেকালের সঠিক তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে, তবে ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৫০ বছর বয়সে ৭৪৭ হিজরি ১৩৪৭ সালে ইন্তেকাল করেন।

    ওফাতের আগের দিন তাঁর মুরিদগণকে ডেকে বললেন, তোমরা আল্লাহর প্রতি ইমান রাখবে, আল্লাহকে ভয় করবে। রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করবে। আল্লাহর হুকুমে আমি কাল তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নেব।

    পরের দিন জোহরের নামাজের শেষ সিজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। পাশেই অলৌকিকভাবে একটি কবর খোদিত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই কবরে কাফন ও খুশবু-আতর মজুদ ছিল। মুরিদগণ তাঁকে সে কাফন পরিয়ে জানাজা সম্পন্ন করে দাফন করলেন।

    লেখক : প্রাবন্ধিক

  • শায়েস্তাগঞ্জে বাড়ির আঙ্গিনায় ও ছাদে সবজি চাষে সরকারি সহায়তা

    শায়েস্তাগঞ্জে বাড়ির আঙ্গিনায় ও ছাদে সবজি চাষে সরকারি সহায়তা

    সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুরঃ সারাদেশে করোনা ভাইরাস মহামারীর প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকতে হোম কোয়ারেন্টাইনে অলস সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই। এ টানা লকডাউনে অনেকেই বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠানে, বাসার ছাদে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেছেন।

    দেশের এই ক্রান্তিলঙ্গনে ঘাটতি পড়তে পারে শাকসবজি ও কৃষিখাদ্যের। করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা যেন খাদ্য সংকটে না পড়েন সে জন্য বসতবাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক কৃষক এই তালিকার আওতায় রয়েছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বসতবাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কমিটি করে এ তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা সঠিক কৃষকের নাম দেয়নি বলে অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেক কৃষক স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও চারা পাবেন। এছাড়াও জনপ্রতি জৈব ও অজৈব সার বাবদ ৪৩৫ টাকা, শাক-সবজি রক্ষায় বেড়া তৈরির খরচ বাবদ এক হাজার টাকা ও পরিচর্যা বাবদ ৫০০ টাকাসহ নগদ মোট ১৯৩৫ টাকা পাবেন। এ নগদ অর্থ ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ ও নগদ) মাধ্যমে হাতে পাবেন কৃষকরা।

    এই টাকা মাঠ পর্যায়ের কৃষকের হাতে পৌঁছেছে কিনা কিংবা তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা সরাসরি কৃষি কর্মকর্তারা তদারকি করে নিশ্চিত হবেন।

    মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময় প্রান্তিক কৃষকদের খাদ্য সংকটে পড়তে হবেনা। একদিকে যেমন কৃষকরা পুষ্টিকর শাক-সবজি উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন, অন্যদিকে এ মহামারিতে সামান্য শাক-সবজির জন্য হাঁট-বাজারে তাদের যেতে হবে না।

    এ বিষয়ে সুরাবই গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, করোনা সংকটে এটা সরকারের চমৎকার একটি উদ্যোগ। সরকারী সহায়তা পেলে আমাদের শাক-সবজি কিনে খেতে হবেনা।

    এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জের কৃষক সুজাত মিয়া বলেন, আমরা বাসার ছাদে বেশকিছুদিন ধরে শাক-সবজি চাষ করে আসছি, এতে করে আমাদের শাক-সবজির চাহিদা অনেকটা মিটে যায়। আর সরকারীভাবে বীজ, সার পেলে আমরা আরো ভাল করে শাক-সবজি চাষ করতে পারব।

    এ বিষয়ে নুরপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুবকর ছিদ্দিকী বলেন, আজকে আমরা নুরপুর ইউনিয়নের ৩২ জনের তালিকা জমা দিয়ে এসেছি।

    এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর জানান, সর্বনিম্ন এক শতক জমিতে কালিকাপুর মডেল অনুসরণ করে বসতবাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন থেকে ৩২ জন করে কৃষক স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও চারা পাবেন।

  • হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

    হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

    হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ২০২০-২০২১ সালের নতুন কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশন হারুনুর রশিদ চৌধুরী নতুন কমিটি ঘোষনা করেন।

    কমিটিতে মোহাম্মদ নাহিজ (বাংলাভিশন) সভাপতি, আব্দুর রউফ সেলিমকে (এসএটিভি) সাধারণ সম্পাদক ও কাজল সরকারকে (বাংলা টিভি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

    কমিটির অন্যান্যরা হলো- সহ-সভাপতি মোঃ ছানু মিয়া (মোহনা টিভি), কোষাধ্যক্ষ এমএ মজিদ (দিগন্ত টিভি), সদস্য হারুনুর রশিদ চৌধুরী (এনটিভি), সায়েদুজ্জামান জাহির (আরটিভি), প্রদীপ দাস সাগর (যমুনা টিভি), শাকিল চৌধুরী (একাত্তর টিভি) এবং প্রদাধিকার বলে সদস্য হলেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি রাসেল চৌধুরী (চ্যানেল ২৪) ও এসএম সুরুজ আলী (এশিয়ান টিভি)।

    এর পূর্বে সাধারণ সভায় সংগঠনের সভাপতি রাসেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন কমিটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এসএম সুরুজ আলী।

    পরে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইসমাইল হোসেন, সাবেক সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ শাবান মিয়া, রুহুল হাসান শরীফ, শোয়েব চৌধুরী, প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল ভট্টাচার্য্য রিংকুসহ প্রমুখ।

  • শহরে মোদক-ওরিয়েন্টাল ফার্মেসী বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন

    শহরে মোদক-ওরিয়েন্টাল ফার্মেসী বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন

    হবিগঞ্জ শহরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ব্যবসা করায় মোদক ও ওরিয়েন্টাল ফার্মেসী বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ওই ফার্মেসীগুলোর মালিক ও কর্মচারীদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।

    গতকাল সোমবার(৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাশফিকা হোসেন ও একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দুই ফার্মেসীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন। একই সাথে ওই ফার্মেসীর মালিক কর্মচারীসহ ১০ জনকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, কয়েক দিন ধরে ওই ফার্মেসীর মালিক ও কর্মচারীরা করোনা উপসর্গ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বারবার স্থানীয়রা নিষেধ করার পরও নিষেধ না মেনে তাদের ইচ্ছা মত ব্যবসা করছিলেন। এতে করে অনেক লোকজন করোনা উপসর্গ আশংকা সম্ভবনা রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল অভিযানের পর এ আদেশ করা হয়।