Category: হবিগঞ্জ

  • হবিগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের নীরবতায় টমটমে ভাড়া তালিকা টানিয়ে সুকৌশলে নিচ্ছে ১০ টাকা: যাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণ

    হবিগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের নীরবতায় টমটমে ভাড়া তালিকা টানিয়ে সুকৌশলে নিচ্ছে ১০ টাকা: যাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণ

    মীর দুলালঃ হবিগঞ্জ শহরে দিন দিন বেরে চলেছে টমটম চালকদের যাত্রী দের সঙ্গে অশোভন আচরণ। নানা আলোচনা সমালোচনা আর একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ জানানোর পরও ব্যাটারী চালিত অবৈধ টমটম মালিক ও চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না হবিগঞ্জ পৌরসভা।

    একদিকে যত্রতত্র পার্কিং ও আরেকদিকে আগের ৫ টাকা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে বাকবিতন্ডা, বিশেষ করে নারী যাত্রীদের সঙ্গে জোরজবরদস্তি ও খারাপ ব্যবহারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই টমটম যেনো মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে শহরবাসীর জন্য।

    সম্প্রতি টমটমের ৫ টাকা ভাড়া নিয়ে সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হলেও আইন কানুনের তোয়াক্কাও করছে না টমটম চালক ও মালিকরা।

    তারা তাদের মতো করে ১০ টাকা ভাড়াই নিচ্ছে। পুরুষ যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে ৫ টাকা আর না করলে ১০ টাকা এবং কোনো কারণ ছাড়াই মহিলা যাত্রীদের কাছ থেকেই ১০ টাকা করে নিচ্ছে।

    টমটম চালকরা কারণ হিসেবে বলছে, তারা তালিকা পেয়েছে, কিংবা তাদেরকে বলা হয়েছে ১০ টাকা করে নিতে।

    তবে কে বলেছে, কারা বলেছে জানতে চাইলে তারা একবার বলে সংগঠন আরেকবার বলে মেয়র। তবে পৌরসভা কর্তৃক ভাড়ার তালিকা দেখতে চাইলেই বাঁধে বিপত্তি। তারা তালিকা দেখায় একটি সংগঠনের। যে তালিকায় ওই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে।

    ওই তালিকায় মেয়রের স্বাক্ষর নেই কেন জানতে চাইলে বাকবিতন্ডা শুরু হয়? কোনো কোনো সময় বাকবিতন্ডা হাতাহাতিতেও গড়ায়। চালকদের একটাই কথা ভাড়া বেশি নিলে পৌরসভা কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরাতো লুকিয়ে ১০ টাকা নেই না।

    সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বাসা বাড়ির গৃহবধ‚ ও নারী যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে কথা বললেই চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন।

    হবিগঞ্জ পৌর মেয়রকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও মেয়র বলছেন, যদি কেউ খুশি হয়ে ১০ টাকা দেয় তবে ভিন্নকথা, না হলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন এবং ওই সংগঠনের লোকজনের সাথে কথা বলবেন।

    কিন্তু তার আশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি গত ৬ দিনেও। পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি বা করা হয়নি মাইকিংও। আর এ জন্য মেয়রের নিরব থাকাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।

    সচেতন মহলের অভিমত, ১২শ টমটম ছাড়াও বৈধ অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৩-৪ হাজার টমটম চলাচল করছে শহরে।

    একদিকে শহরের বৈধ অবৈধ টমটমগুলোর যানজটের সৃষ্টিকে যোগান দিচ্ছে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা অবৈধ টমটম। যা পৌরবাসীর নাগরিক জীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

    জানা যায়, আগে পৌর এলাকার ভেতর সবখানে ভাড়া ছিল ৫ টাকা। তবে স্থানভেদে অর্থাৎ শহরে প্রবেশপথ পোদ্দার বাড়ি/২নং পুল থেকে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত সরাসরি ১০ টাকা এবং চৌধুরী বাজার থেকে পৌর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৫/১০ টাকা নেয়া হতো এবং মানবিক কারণে যাত্রীরাও উল্লেখিত স্থান পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া দিতে আপত্তি করতেন না।

    সম্প্রতি মহামারী করোনার সময় জাতীয়ভাবে গণপরিবহণে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হলে হবিগঞ্জেও টমটমসহ অন্যান্য গণপরিবহণেও ভাড়ানো হয়।

    গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়া বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হলে হবিগঞ্জের সকল গণপরিবহণ আগের ভাড়ায় ফিরে যায়, তবে ফিরেনি বৈধ-অবৈধ টমটম মালিকরা।

    উল্টো সম্প্রতি গজিয়ে উঠা হবিগঞ্জ টমটম মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠন নিজেদের মনগড়া মতো তালিকা করে। তারা তাদের তালিকায় উল্লেখ করে শায়েস্তানগর (২নং পুল) থেকে চৌধুরী বাজার এবং চৌধুরী বাজার থেকে পৌর বাসটার্মিনাল ১০ টাকা, এবং চৌধুরীজার থেকে থানার মোড় পর্যন্ত ৫ টাকা। আর এটি করা হয়েছে অত্যন্ত সুকৌশলে।

    ওই সংগঠনের এক নেতা নাম প্রকাশে অনিহা প্রকাশ করে বলেন, আমরা ২নং পুল থেকে চৌধুরী বাজার এবং বাজার থেকে পৌর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১০ টাকা এবং পৌর এলাকার অন্যসব জায়গায় ৫ টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।

    মেয়র বলেছেন আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। এ বিষয়ে মেয়র জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত দেননি।

  • মাধবপুরে ৫৪০ পিছ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    মাধবপুরে ৫৪০ পিছ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    মীর দুলালঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কালিরবাজার থেকে ৫৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক
    ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কাশিম পুর পুলিশ ফাড়ির এ এস আই গোলাম মস্তোফা রানা আহমেদ ।

    মঙ্গলবার(৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোরশেদ আলম এর নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে আটককৃতরা হলেন উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের তারাব আলীর ছেলে বাবুল মিয়া(৪০) এবং একই গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে নাসির মিয়া(৪৫)।

    আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোরশেদ আলম জানান, রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৫৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ উল্লেখিত দুইজনকে আটক করা হয়।

    আটককৃতদের বিরোদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের এর প্রস্তুুতি চলছে।

  • হবিগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক নিহত

    হবিগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক নিহত

    হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের ধুলিয়াখালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক মোশাহিদ মিয়া নামে (৩৬) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

    আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধুলিয়াখাল তেমুনিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    নিহত মোশাহিদ মিয়া সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ থেকে শায়েস্তাগঞ্জের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা দেন মোশাহিদ মিয়া। পথিমধ্যে ধুলিয়াখাল এলাকায় পৌঁছলে পিছন থেকে আসা হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতীহিনের একটি যাত্রীবাহি বাস বেপরোয়া গতিতে পিছন থেকে এসে ধাক্কা দেয় এতে ঘটনাস্থলেই মোশাহিদ মিয়া নিহত হন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনরাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে।

  • হবিগঞ্জ চৌধুরীবাজার থেকে পলাতক আসামি গ্রেফতার

    হবিগঞ্জ চৌধুরীবাজার থেকে পলাতক আসামি গ্রেফতার

    মীর দুলাল হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

    অদ্য ৬/৯/২০ ইং রোজ রবিবার বিকাল ৪ ঘটিকায় হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার এলাকায় খোয়াই নদীর পাড় থেকে শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের মোঃ আব্দুল হাসিম মিয়ার ছেলে আবদুল জলিল (৩৫) মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কে আটক করেন।

    জানা যায় বানিয়াচং উপজেলার বিথমঙ্গল পুলিশ ফাড়ির এলাকার শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের মোঃ আব্দুল হাসিম মিয়ার ছেলে গ্রেফতারী পরোয়ানা ও ১ বছর ৯মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও তিন হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে বিজ্ঞ আদালত।

    এর পর থেকে আসামি এলাকায় থেকে পলাতক থাকে।

    সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার পলাতক আসামি মোঃ আব্দুল জলিল( ৩৫) কে বানিয়াচং সার্কলে শেখ সেলিম স্যারের
    নির্দেশে হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাড়ির
    ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম এ এস আই আবুল কালাম মুতিয়ার রহমান ও মোবারক হোসেন সহ ফোর্সদের নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক বিশেষ অভিযান চলিয়ে GR ১৪৬/ ১৮ ইং হবিগঞ্জ মাদক মামলার পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আব্দুল জলিল কে আটক করে হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন।

    বানিয়াচং থানা পুলিশের এক টি দল হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাড়িতে আসলে আসামি কে এস আই গৌত্তম ও দেলোয়ার হোসেন এর কাছে হস্তান্তর করেন।

    চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাড়ি থেকে সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলা আসামি আবদুল জলিলকে নিয়ে বানিয়াচং থানা প্রেরণ করা হয়।

  • যেভাবে তৈরী করা হয় নকল কৃষি পণ্য ; অপারেশন শানখলা

    যেভাবে তৈরী করা হয় নকল কৃষি পণ্য ; অপারেশন শানখলা

    এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ: যে কৃষি পণ্য তৈরী করতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করার কথা সেই কৃষি পণ্য তৈরী করা হচ্ছে কয়েকশত টাকায় চুনারুঘাটের শানখলা গ্রামে।

    ফলাফল শূণ্য জেনেও শুধু টাকার স্বপ্নে বিভোর এক দোকানদার নকল এসব পণ্য তৈরী করে দেদারছে বিক্রি করছে কৃষকদের কাছে। এলাকায় ভদ্র ও নম্র হিসাবে পরিচিত শানখলা গ্রামের জামাল মিয়ার দোকান, বাড়ি ও গোডাউনে মিলেছে নকল কৃষি পণ্য তৈরীর সরঞ্জামাদী।

    বাড়ির আনাচে কানাচে ড্রামে ড্রামে পড়ে আছে নকল ক্যামিকেল, খালি বোতল। শানখলা বাজারের দোকানে মিলেছে প্রায় সকল কৃষি পণ্যই মেয়াদ উত্তীর্ণ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্স।

    তথ্য ছিল দিনভর জামাল মিয়ার গোডাউন শানখলা মাসুদ মিয়া মডেল সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা মার্কেটে নকল ডান এগ্রোর ডান ফুরানসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্যে লেভেল লাগানো হয়েছে। অভিযানের শুরু থেকেই গোডাউন বন্ধ।

    কোনোভাবেই গোডাউন খুলা যাচ্ছিল না। বিষয়টি অভিযানে অংশ গ্রহণকারী সকলকেই ভাবিয়ে তুলে।

    অভিযানের সূত্রপাতঃ প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফিরোজপুর জেলার একজন সংবাদকর্মীর ফোন আসে এই প্রতিবেদকের কাছে- হবিগঞ্জের অন্তত ৩টি স্থানে নকল কৃষি পণ্য তৈরী করা হচ্ছে। এসব কৃষি পণ্য আসল পণ্য হিসাবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকরা তা ক্রয় করে প্রয়োগ করছেন জমিতে কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছেন না।

    একদিকে কৃষির মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এরপরই ঢাকার এক আইনজীবী বন্ধুর ফোন আসে। তারা নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। কিছু সহযোগিতা লাগবে।

    তারা তথ্য দিলেন হবিগঞ্জের বগলা বাজারের এক কীটনাশক ব্যবসায়ী নকল বিভিন্ন কৃষি পণ্য তৈরী করে বিক্রি করছেন। যেখানে ১০ গ্রামের এক প্যাকেট ঔষধের দাম ১৫০ টাকা অর্থাৎ এক কেজির দাম ১৫ হাজার টাকা, সেখানে নকল ১০ গ্রাম ওজনের এক প্যাকেট ঔষধ তৈরীতে খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ টাকা অর্থাৎ প্রতি কেজি তৈরীতে খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা।

    প্রায় ৫শ টাকার ঔষধ বিক্রি করা হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়। প্রতি কেজিতে অসাধু ব্যবসায়ীর লাভ ১৪ হাজার ৫০শ টাকা! হবিগঞ্জের বগলা বাজারের যে ব্যবসায়ীর নাম ঠিকানা দেয়া হল, খোজ খবর নিতে গিয়ে জানা গেল, ওই পরিবারটি হবিগঞ্জের পরিচিত মুখ, পরিবারের একজন সদস্য দেশ বিদেশ ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী সংগঠনের বড় নেতা।

    ওই দোকান থেকে নকল পণ্য কেনা হল, বুঝে ফেলায় তারা এক সময় তা বিক্রি বন্ধ করে দেয়। নকল কারখানা আবিষ্কার করা গেল না। কারখানা আবিষ্কার করাটা একেবারেই সহজ নয়। শায়েস্তাগঞ্জের একজন ব্যবসায়ীর নামও উঠে আসে নকল কৃষি পণ্য তৈরীর তালিকায়। ওই ব্যবসায়ী শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ শহরে খুবই পরিচিত, ভদ্রবেশী ব্যবসায়ী। যাকে গত বছর নকল কৃষি পণ্য তৈরীর অভিযোগে পুলিশ আটকও করেছিল।

    হবিগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জের নকল পূণ্য তৈরী কারক অবৈধ ব্যবসায়ীরা পোড় খাওয়া সুচতুর হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে নকল কারখানা আবিষ্কার করা যায়নি। বিষয়গুলো প্রকৃত কোম্পানীগুলোর গোয়েন্দা নজরদারীতে রয়েছে।

    অপারেশন শানখলাঃ চুনারুঘাটের শানখলা বাজারে নকল কৃষি পণ্য তৈরীর বিষয়টি হবিগঞ্জের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবগত করা হল। তারা বিষয়টিতে পাত্তা দেয়নি। মনে হল এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাদের।

    ২ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিষয়টি জানানো হল চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল ইসলামকে। তিনি তাৎক্ষনিক অপারেশনে রাজী হলেন। নিজে ব্যস্ত থাকায় এসআই আজহারসহ তার টিমকে এ কাজে নিযুক্ত করলেন।

    তথ্য উপাত্ত জেনে নিশ্চিত হয়ে ওসি শেখ নাজমুল ইসলাম জানালেন- এভাবে হবে না, মোবাইল কোর্ট সাথে নিতে হবে। যোগাযোগ করলেন চুনারুঘাট উপজেলার এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিলটন চন্দ্র গোপের সাথে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় রাজী হলেন তিনি।

    যেহেতু বিষয়গুলো কৃষির সাথে সম্পৃক্ত, একাজে সংযুক্ত করা হল চুনারুঘাটের কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সরকারকে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ থেকে আমাদের গাড়িগুলো ছুটল শানখলার দিকে।

    প্রথমেই জামাল মিয়ার দোকান ব্লক রেইড, তিন চার মিনিটের মাথায় জামাল মিয়ার গোডাউন ও বাড়িতে অভিযান। জামাল মিয়ার ভাই জসিম উদ্দিনকে দোকানে আটক করা হল। অভিযান আচ করতে পেরে জামাল মিয়া আগেই পালিয়ে যায়। বাড়িতে পাওয়া গেল কীটনাশক ও শতশত খালি বোতল। দোকানে পাওয়া গেল মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশকসহ বিভিন্ন পণ্য।

    জসিম উদ্দিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল হান্নানের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টের সামনে আসে জামাল মিয়া। সন্ধা তখন সাড়ে ৭টা। তারপরও গোডাউন খুলতে রাজী হয়নি সে।

    তালা ভাঙ্গার ছবি।

    অবশেষে তালা ভেঙ্গে গোডাউনে প্রবেশ করা হয়। সেখানে পাওয়া যায় সান এগ্রোর জেট ফুরান, বন্যা এগ্রোর বন্যা বোরাক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের শতশত খালি মোড়ক, মোড়কগুলোতে ইলেক্ট্রিক আঠা লাগানোর মেশিন, কৃষি পণ্য তৈরী করার বস্তা বস্তা পাওডার, নিষিদ্ধ চিকন দানা সারের বস্তা, খালি বস্তা ইত্যাদি।

    উদ্ধারকৃত জিনিস।
    উদ্ধারকৃত জিনিস।

    যে নিষিদ্ধ সার উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো মাটির উর্বরতা কমিয়ে এক সময় মাটির কার্যকারীতা ধ্বংস করে দেয় বলে জানালেন কৃষি অফিসার জামাল উদ্দিন সরকার।

    জিজ্ঞাসাবাদে জামাল স্বীকার করে তার অপরাধের কথা। স্থানীয় কৃষক সারাজ মিয়া জানালেন তিনি ২ বস্তা চিকন দানা সার নিয়েছেন জামাল মিয়ার দোকান থেকে, এবার তিনি সারের টাকা ফেরত চাইবেন।

    নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিলটন চন্দ্র পাল গুদাম ঘরের সমস্ত মালামাল জব্দ করার নির্দেশ দেন। একই সাথে জামাল মিয়াকে ৩ মাসের জেল, অনাদায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। রাত সাড়ে ৮টায় অভিযানের সমাপ্তি হয়।

    জানা যায় হবিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় নকল কৃষি পণ্য তৈরী হচ্ছে। কোম্পানী গুলোর মোড়ক বানিয়ে তাতে নিম্ন মানের পাওডার ও ক্যামিকেল মিশিয়ে বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এসব কৃষি পণ্য ব্যবহারে কার্যত কৃষকরা কোনো ফল পাচ্ছেন না। ক্ষতি হচ্ছে কৃষি, ক্ষতি হচ্ছে কৃষক, ক্ষতি হচ্ছে পুরো বাংলাদেশ। এমন একটি অপরাধমূলক কাজে কোনো ধরনের ভ্রুক্ষেপ নেই অসাধু ব্যবসায়ীদের।

    হবিগঞ্জ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
    ০১৭১১-৭৮২২৩২

  • মেজর জেনারেল সি আর দত্তের স্মরণে জেলা যুবলীগের শোক সভা

    মেজর জেনারেল সি আর দত্তের স্মরণে জেলা যুবলীগের শোক সভা

    হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,বীর মুক্তিযুদ্ধা,সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অবঃ) চিত্তরঞ্জন দত্ত(সি আর দত্ত)বীর উত্তম এর স্বরণে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্দ্যোগে আজ এক শোক সভা অনুষ্টিত হয়।

    উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-লাখাই- শায়েস্তাগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাংসদ হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এডঃ মোঃ আবু জাহির এমপি

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন নবীগন্জ-বাহুবল থেকে নির্বাচিত সাংসদ গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ মিলাদ। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডঃ আলমগীর চৌধুরী। এছাড়া হবিগঞ্জ আরও বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাাজিক ধর্মীয় সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হবিগন্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম।

    এইসময় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সি আর দত্তের অবদান তুলে ধরা হয়।

  • ফ্রান্সে রাসূল (সা:) এর ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে হবিগঞ্জ ছাত্রসেনার বিক্ষোভ

    ফ্রান্সে রাসূল (সা:) এর ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে হবিগঞ্জ ছাত্রসেনার বিক্ষোভ

    ফ্রান্সের বিতর্কিত পত্রিকা শার্লি এব্দতে রাসূল (দ:)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ এবং সুইডেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মালমো শহরে উগ্রপন্থী খ্রিষ্টান কর্তৃক পবিত্র কুরআন শরীফে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রসেনার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    বাদ জোহর জেলা ছাত্রসেনার অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদর্শন করে শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, হবিগঞ্জ জেলার সংগ্রামী সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বশনীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম.এ. কাদিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সভাপতি পীরে তরিকত মাওলানা শাহ জালাল আহমদ আখঞ্জি।
    অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সহ-সভাপতি জনাব এমডি মুহিত, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম সাহেব, হবিগঞ্জ জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের শানু, মাওলানা সাইফুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিএসসি, অর্থ সম্পাদক মুফতি খাইরুদ্দিন,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ অাব্দুল ওয়াদুদ, হবিগঞ্জ জেলা যুবসেনা সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের বিপ্লবী,ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা কাউসার আহমেদ রুবেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা শাহ আলম, ছাত্রনেতা মইনুল ইসলাম।
    অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রসেনা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল সুমন, মুহাম্মদ রহমত আলী, নাহিদুল ইসলাম, হানিফ আহমেদ সজীব, সদর উপজেলা ছাত্রসেনা সভাপতি মুহিবুর রহমান রাজন, পৌর ছাত্রসেনা সভাপতি গোলাম শাফিউল আলম মাহিন, রিদওয়ান আহমেদ খান, ইমরান হোসেন, সাইফুল ইসলাম হামজা, আমির হামজা মামুনসহ প্রমুখ।
    এসময় বক্তারা উক্ত ঘটনা দুটির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের কাছে এ ঘটনা গুলোর বিচার দাবি করেন। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। পরিশেষে সারাবিশ্বে নির্যাতিত মুসলমাদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।