Category: হবিগঞ্জ

  • পেঁয়াজের বাজার সেঞ্চুরি করছে

    পেঁয়াজের বাজার সেঞ্চুরি করছে

    মীর দুলালঃ

    ভারতে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার সংবাদে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার।

    একদিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা হয়ে গেছে।

    কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারত হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়।

    এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ল।

    গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

    এবারও সেই সেপ্টেম্বরেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিল।

    এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়তি পেঁয়াজ কেনা শুরু করে দিয়েছেন।

    হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজারে ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

    আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

    অথচ গতকাল দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

    খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।গতকাল পাইকারিতে যে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা ছিল তা আজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা হয়ে গেছে।

  • আজমিরীগঞ্জে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    আজমিরীগঞ্জে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মীর দুলালঃ

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিটুয়ারকান্দি থেকে তাজমিন আক্তার সুরভী (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ওই গ্রামের এলাছ মিয়ার কন্যা ও বদলপুর স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

     

    জানা যায়, গতকাল দুপরে ঘরের তীরের সাথে সুরভীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় পরিবারের সদস্যরা।

    আজমিরীগঞ্জ থানার এসআই এমরান হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে গতকাল সোমবার সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

    ওসি মোশারফ হোসেন জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

  • ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার ৭ দফা দাবিতে গণসংযোগ

    ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার ৭ দফা দাবিতে গণসংযোগ

    ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার নাম্বার প্লেইট প্রদান, প্লেইট প্রদানের পূর্বে রিক্সা আটকানো বন্ধ রাখা, আটককৃত রিক্সা বা ব্যাটারি শ্রমিকদেরকে ফেরত প্রদান, শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ও বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন হবিগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গণসংযোগ।

    জানা যায়, ১৪ই সেপ্টেম্বর, রোজ সোমবার বিকালে  ঝড়-বৃষ্টির উপেক্ষা করে ও  কোর্টষ্টেশন মোতালিব চত্বরে প্রথম গণসংযোগ ও পথসভার আয়োজন করে তারা। পরবর্তীতে বেবিস্ট্যান্ড পয়েন্ট ও শায়েস্তানগর পয়েন্টে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন হবিগঞ্জ জেলার আহবায়ক ও অটোরিক্সা আন্দোলনের নেতা শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন- ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাইয়ুম, আঃ রহমান, মস্তো মিয়া, ছালেক মিয়া, আব্দুল বারেক, সামছুর রহমান, আব্দুল গণি, সাবুদ আলী, জলফু মিয়া, আনোয়ার আলী, নুরুজ্জামান, ভিংরাজ মিয়া, আলাউদ্দিন, মান্নান মিয়া, কামাল, স্বপন প্রমুখ।

    সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, আমরা ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে এবং সুদে টাকা ধার নিয়ে রিক্সা ক্রয় করেছি। এখন যদি রিক্সা চালাতে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা না খেয়ে মারা যাবে। তাই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরে ৭ দফা দাবিতে শহর ব্যাপী মিছিল সমাবেশ সফল করার জন্য শ্রেণী পেশার মানুষ ও রিক্সা শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানান।

  • বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মামুন বহিষ্কার

    বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মামুন বহিষ্কার

    হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হোসেন খান মামুনকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

    রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্যের লিখিত এক বার্তায় তাকে বহিষ্কার করেন।

    ওই বার্তায় তারা লিখেন, সংগঠনের নীতি আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় তাকে বহিষ্কার করা হয়।

    বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি উপজেলার পূর্ব তোপখানা এলাকার নানু মিয়া মাষ্টারের ছেলে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৫শে আগষ্ট ভোররাতেড় বানিয়াচং বড় বাজারের একটি ফার্নিসারের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৩শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদকে।

    তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ, পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

  • হবিগঞ্জে একদিনে করোনা ভাইরাস মুক্ত ১২ জন

    হবিগঞ্জে একদিনে করোনা ভাইরাস মুক্ত ১২ জন

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে থেকে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১০৭ জন সুস্থ হয়েছে। নতুন সুস্থদের মধ্যে সিলেট জেলার ৮১ জন, সুনামগঞ্জে ৮ জন, হবিগঞ্জে ১২ জন এবং মৌলভীবাজারের ৬ জন রয়েছেন।

    গত ২৭ এপ্রিল প্রথম রোগী সুস্থ হওয়ার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৮৩ জন। এরমধ্যে সিলেট জেলার ৪৬৭৫ হাজার জন, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৮৯৯ জন, হবিগঞ্জে ১১১৮ জন এবং মৌলভীবাজারের ১২৯১ জন সুস্থ হয়েছেন।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২০৩ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১৪৭ জন, সুনামগঞ্জে ২২ জন, হবিগঞ্জে ১৪ জন এবং মৌলভীবাজারের ২০ জন।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে সিলেট জেলার ৩২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৮ জন।

    এ নিয়ে সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮৮৯ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৬ হাজার ৩৮৫ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ২২২, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৬৫৮ এবং মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৬২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

    আর করোনাভাইরাসের উপসর্গ ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৫১৫ জন। এরমধ্যে ১৩৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আর বাকিরা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

    অন্যদিকে গত ১০ মার্চ থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ১৮ হাজার ৪৯২ জনকে। এর মধ্যে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৬০৬ জনকে। বর্তমানে সিলেট বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮৮৬ জন।

  • লস্করপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

    লস্করপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

    মীর দুলাল : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের নোয়াবাদ গ্ৰামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং লস্করপুর ইউনিয়নের নোয়াবাদ গ্রামের মোঃ আঃ মতলিব মিয়ার পুত্র মোঃ টেনু মিয়া রবিবার (১৩ই সেপ্টেম্বর) ২ টায় নিজের ঘর হইতে অন্য ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন।

    স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের স্বজনেরা।

  • শায়েস্তাগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ ছাওয়াল পীর

    শায়েস্তাগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ ছাওয়াল পীর

    সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুরঃ

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ দাউদনগরের বাসিন্দা সৈয়দ বংশের অন্যতম উত্তরসুরী মোতাওয়ালী পীরজাদা সৈয়দ হামদু মিয়া জানান- বন্দেগী শাহ সৈয়দ দাউদ (রহ.) একজন বড় দরবেশ ছিলেন।

    তিনি চুনারুঘাটের মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহ.) এর আস্তানায় এবাদত করতেন। তিনি তরফ রাজ্যের ঘরগাঁও বাস করতেন। পরে তিনি তরফ রাজ্যের ঘরগাঁও থেকে দাউদনগর পরগণা খারিজ করে আনেন। সৈয়দ সয়েফ মিন্নত উদ্দিন (র:)এর প্রপৌত্র বন্দেগী শাহ সৈয়দ দাউদের নামানুসারে শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন তাঁর বাসস্থানের নামকরণ করা হয়েছে দাউদনগর। পরে তার নাম অনুসারে দাউদনগর বাজার প্রতিষ্ঠত হয়। তার সংলগ্ন গ্রামটি (বর্তমানে পৌরসভার অন্তর্ভ‚ক্ত) আজও দাউদনগর নামে পরিচিত।

    বন্দেগী শাহ সৈয়দ দাউদ (রহ.) এর দুই পুত্র ছিলেন। একজন হলেন বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) ও অপরজন হলেন শাহ সৈয়দ হাছান উল­া (রহ.) ওরফে সৈয়দ নাছির প্রকাশ ছাওয়াল পীর বা জিন্দা শিশু পীর। তারা দাউদনগরের বিখ্যাত দরবেশ ছিলেন। বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) মুড়ারবন্দ দরবার শরীফ এবং দাউদনগরে আপন নিবাসে এবাদত করতেন।

    দাউদনগর নিবাসে বড় একটি খেলার মাঠ ছিল। ওই খেলার মাঠে বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) প্রায় সময় বিভিন্ন পীর অলিদের নিয়ে মাঠে খেলা করতেন। একদিন খেলার সময় তার ছোট ভাই শাহ সৈয়দ হাছান উল­া (রহ.) ওরফে সৈয়দ নাছির মাঠে বসা ছিলেন। ওই সময় এক হিন্দু ভক্ত বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) এর জন্য মানত করে এক ছড়া পাকা কলা গামছায় ভাল করে মুড়িয়ে এবং গাভির দুধ নিয়ে আসছিল পীরের বাড়িতে। খেলার মাঠে তখন কিছু ছেলে দ্বারাগুটি নিয়ে খেলছিল। সে সময় শাহ সৈয়দ হাছান উল­া (রহ.) ওরফে সৈয়দ নাছির প্রকাশ জিন্দা শিশু পীর খেলায় মগ্ন ছিলেন।

    তিনি অবোধ মন নিয়ে হিন্দু ভক্তকে জিজ্ঞেস করেন তোমার কাঁধে কি? তখন ওই হিন্দু ভক্ত জবাব দেন আমার কাছে পাকা কলা এবং গাভির দুধ রয়েছে। তখন তিনি তাকে বললেন আমাকে একটি পাকা কলা দাওনা? হিন্দু ভক্ত শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) এর ছোট ভাই শাহ সৈয়দ হাছান উল­া (রহ.) ওরফে সৈয়দ নাছির প্রকাশ জিন্দা শিশু পীরকে চিনতে পারেনি। তাই সে তার প্রতি বিরক্ত হয়ে অবজ্ঞার সুরে কটু কথা বলে। কিন্তু শাহ সৈয়দ হাছান উল­া (রহ.) ওরফে সৈয়দ নাছির প্রকাশ জিন্দা শিশু পীর কলা খেতে জেদ ধরায় ওই ভক্ত বলেন এগুলো কাঁচা কলা। তুমি বাচ্চা ছেলে, খেতে পারবে না। এ কথা বলে ওই ভক্ত বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) এর বাড়িতে এল। বাড়িতে আসার পর ভক্ত পীরের কাছে কাঁধ থেকে পাকা কলার ছড়া নামিয়ে যেই গামছা খুলল তখন দেখতে পেল ছড়ির সবগুলো কলাই কাঁচা।

    শিশু পীর ওই ভক্তের আচরণে কষ্ট পেয়ে সে কলা না দিয়ে চলে যাওয়ার সময় বলেছিলেন তোমার পাকা কলা কাঁচা হবে এবং দুধ পানি হবে। কিন্তু ওই ভক্ত সে সময় শিশু ছেলে ভেবে শিশু পীরের কথায় বিশ্বাস করেনি। ঘটনার আকষ্মিকতায় ভক্ত ভেঙ্গে পড়ল এবং তার সব কথা বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া’র (রহ.) কাছে খুলে বলল। বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) ওই ভক্তকে বললেন শিশু ছেলেটিকে নিয়ে আসতে। কিন্তু ভক্ত গিয়ে দেখেন খেলার মাঠে শিশু ছেলেটি নেই। ওই শিশু ছেলেটিই শাহ সৈয়দ হাছান উল­া (রহ.) ওরফে সৈয়দ নাছির প্রকাশ জিন্দা শিশু পীর। বড় ভাইকে ভয় পেয়ে দাউদনগর (মধ্যম হাবেলির) বাড়ির উত্তর পাশে জঙ্গলে মাটির নিচে জিন্দা হিসেবে আত্মগোপন করেন।

    এর পর থেকে শিশু পীরের নাম অনেকেই না জানায় ছাওয়াল পীর বা জিন্দা শিশু পীর নামে পরিচিত। কথিত আছে ছাওয়াল পীর বা জিন্দা শিশু পীর কবর পাকা করা এবং ওরস বা গান বাজনা করতে নিষেধ করেছেন। তাই ছাওয়াল পীর মাজারসহ তাঁর বংশধরদের কারো কোন কবর পাকা করা হয়নি।

    আরও প্রকাশ বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উল­া (রহ.) এর খেলার মাঠটি ওই হিন্দু ভক্ত স্বপ্নে দেখেন পুকুর খনন করার জন্য। সেখানে পুকুর খনন করার পর অনেক পানি উঠে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় অনেক গজার মাছ পানিতে খেলা করছে। যা গায়েবী গজার মাছ হিসেবে পরিচিত। এই গজার মাছ বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিব উলা (রহ.) অলৌকিক ক্ষমতায় বন্দী করে রেখে যান। সেই থেকে ওই পুকুরে সেই মাছগুলো রয়েছে এবং বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। পুকুর পাড়ে একটি পুরাতন বকুল ফুলের গাছ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান- পুকুরটি কয়েকশ বছরের পুরনো।

    প্রতিদিন ওই পুকুরের গজার মাছ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। তারা মাছকে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী খাবার দেন। এ পুকুরের কোন গজার মাছের মৃত্যু হলে তা মাটিতে কবর দেয়া হয়। কেউ এ পুকুরের গজার মাছ খান না।