Category: হবিগঞ্জ

  • জুয়া: এ যেন একটি কালচারের নাম

    জুয়া: এ যেন একটি কালচারের নাম

    ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। কিন্ত এই বাস্তবতা এখন পুরোপুরি ভিন্ন। বর্তমান সময়ে মাদকের চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ক্রিকেট জুয়া। গ্রাম-গঞ্জ, শহর-নগরসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে এই ক্রিকেট জুয়া।

    ক্রিকেটে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষনীয় খেলা আইপিএল। বিশ্বকাপ ও বিভিন্ন ক্রিকেট লীগের আমেজ থাকে সারা বাংলায় সবসময়ই। আর এ আমেজ নিয়ে জমজমাট জুয়ার আসর তৈরি হয় সারাদেশে। যার প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা ছোট বড় সবাই।

    এই খেলাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বসছে জমজমাট জুয়ার আসর। বেপরোয়া ভাবে জুয়া চালিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণীর জুয়াড়িরা।

    এবারের আইপিএলের আসর জমেছে আরব আমিরাতে। কিন্তু তার উত্তাপ বরাবরই পায় বাংলাদেশে। খেলার আনন্দ ছাপিয়ে জুয়া মেতে উঠে দেশের অনেক জায়গায়। দিন মজুর থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের ছাত্রসহ কম বেশি সবাই জড়িত আছে এই জুয়াতে।

    এবার যেন হবিগঞ্জে জুয়ার প্রকোপ বেশিই দেখা যাচ্ছে। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকেই। আবার জুয়া কে ঘিরে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ঘটছে নিয়মিত।

    হবিগঞ্জে শুধু আইপিএল নয়, প্রায় সব খেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় বসছে জুয়ার আসর।
    খেলা শুরুর আগেই জুয়ারিরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করছে মোবাইলে। আর লেনদেন করছে সরাসরি বা বিকাশে।

    জুয়ার টাকা জোগাড় করতে অনেকেই চুরি-ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় অভিভাবক সহ সমাজের সচেতন নাগরিকরা।

    প্রত্যক্ষদর্শী একজন হবিগঞ্জ নিউজ কে বলেন, “জুয়ারিরা প্রত্যেক ওভারের প্রতি বলে, কোন দল কত রান করবে এই ভাবে বাজি ধরে। যারা দিন আনে দিন খায় তাদেরকেও দেখা যায় এই বাজির মধ্যে।”

    অন্য একজন হবিগঞ্জ নিউজ কে বলেন, “এই জুয়ার আসর গুলোতে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ছড়িয়ে পরে এলাকাভিত্তিক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে গ্রুপ তৈরি হচ্ছে।”

    আইপিএল জুয়ার নেশায় যখন সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ তখন বসে নেই প্রশাসন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে হবিগঞ্জ পুলিশ বাহিনী।

    এ বিষয়ে জেলা সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী হবিগঞ্জ নিউজ কে বলেন, “জুয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে সামাজিক ভাবে সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে। কেউ যেন কোন ভাবে তা খেলতে না পারে লক্ষ রাখতে হবে।”

    তিনি আরো বলেন, “থানা থেকে বিভিন্ন ভাবে অভিযান চলছে। যেখানে জমাটবদ্ধ হয়ে খেলা দেখা হয় সেখানের জনতাকে আমরা সচেতন করছি।”

    “সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে আমরা সাথে সাথে একশনে যাচ্ছি। এই সমস্যাটি সামাজিক ভাবে সোচ্চার হয়ে সমাধান করতে হবে।”

  • নিয়মিত খেলাধুলা করলে কোনো অপরাধ করতে পারে না – এমপি আব্দুল মজিদ খান

    নিয়মিত খেলাধুলা করলে কোনো অপরাধ করতে পারে না – এমপি আব্দুল মজিদ খান

    হবিগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জননেতা আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান মহোদয় বলেন, “আজকের খেলায় যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন এবং যারা বিজয়ী হতে পারেননি তাদেরকে ধন্যবাদ।”

    “বিজয়ী হতে পারেননি তাতে কি হয়েছে চেষ্টাত করেছেন। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। যারা নিয়মিত খেলাধুলা করে তারা কোনো অপরাধ করতে পারে না। তাই সবাইকে নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে।”

    “খেলাধুলা শিক্ষা কার্যক্রমের একটি অংশ। শরীর ও মন ভালো রাখার জন্য খেলাধুলা করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা হাজারও ব্যস্ততার মাঝেও শরীর ও মনকে চাঙ্গা করার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা করেন।”

    “খেলাধুলা মানুষের ভেতরে একটি প্রশান্তি এনে দেয়, এনে দেয় ভারসাম্যও। তবে নানান কারণে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে।”

    ২ নভেম্বর (সোমবার) বিকাল ৩ টায় বানিয়াচং উপজেলার ১১নং ইউনিয়নের নয়াপাথারিয়া মাঠে জেলা পরিষদের আশিক মিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

    জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ আশিক মিয়ার ব্যাক্তিগত উদ্যেগে পাথারিয়া মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলায় পাথারিয়া এনামুল হক ফুটবল একাদশকে ০-১ গোলে পরাজিত করে আথুকুড়া ফুটবল একাদশ বিজয়ী হয়।

    ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আহাদ মিয়ার সভাপতিত্বে খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য জনাব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী।

    এচাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ শেখ সেলিম, বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শেখ শামছুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান সজীব আলী, জেলা পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান, এরশাদ আলী, অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইমরান হোসেন, সুজাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মুর্শেদ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

    আরো উপস্থিত ছিলেন, লিটন মিয়া, আলাউদ্দিন সর্দার, নুর মিয়া তালুকদার, মজিদ মিয়া প্রমুখ।

  • শায়েস্তাগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর পাওয়া গেছে লাশ

    শায়েস্তাগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর পাওয়া গেছে লাশ

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আহমদ আলী শাওন (২২) নামে এক যুবক নিখোঁজের একদিন পর লাশ পাওয়া গেছে স্থানীয় একটি বিলে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার মরড়া সড়কের পাশে নাগার্সিপুতা নামকস্থানে বিলের মধ্যে একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    নিহত আহমদ আলী উপজেলার কদমতলী গ্রামের আব্দুল আউয়ালের পুত্র। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়- আহমদ আলী একজন মৃগিরোগী এবং মানসিক প্রতিবন্ধি। রোববার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি তাকে।

    পরে একই দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই শাকিল শায়েস্তাগঞ্জ থানায় তার ভাই নিখোঁজ মর্মে সাধারণ ডায়েরী করেন।

    শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি, সে দীর্ঘদিন যাবত মৃগিরোগী ছিল। হয়তো বিলের ডোবায় পড়ে আর উঠতে পারেনি।”

  • বাহুবলে কলেজ ছাত্রকে নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার ২

    বাহুবলে কলেজ ছাত্রকে নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার ২

    হবিগঞ্জের বাহুবলে এক কলেজ ছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার মূল হোতা মা মেয়ে পলাতক রয়েছে।

    সোমবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতিত কলেজ ছাত্রের মা রাবিয়া খাতুন। উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী জাহানারা আক্তার লিপিকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত দুজন হলো বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামের মূল অভিযুক্ত সালাউদ্দিন (৫২) ও মঈন উদ্দিন (৪০)।

    প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার লামাতাসী ইউনিয়নের দ্বিমুড়া গ্রামে কলেজ ছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। রবিবার (০১ নভেম্বর) সকালে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে জেলাজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়।

    বাহুবলে কলেজ ছাত্রকে নির্যাতন

    ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক ফয়সল মিয়া নামে ওই কলেজ ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করছে। এ সময় ফয়সল বাঁচার জন্য আকুতি এবং বার বার আল্লাহ অল্লাহ বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু এরপরও চলে বর্বর নির্যাতন।

    নির্যাতিত ফয়সল চুনারুঘাট উপজেলার হাসেরগাঁও গ্রামের আহসান উল্ল্যার ছেলে। সে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অনার্স (গণিত বিভাগ) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনের হাফেজ।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দ্বিমুড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে মাহফুজা আক্তার লিজার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ফয়সল মিয়ার। শুক্রবার দিবাগত রাতে দেখা করার জন্য লিজার বাড়ীতে যায় ফয়সল। এ সময় ফয়সলকে চোর আখ্যা দিয়ে আটক করে লিজার স্বজনরা। পরে খুঁটিতে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় তার ওপর নির্যাতন চলানো হয়।

    পরদিন শনিবার সকালে খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ফয়সলকে উদ্ধার করে স্বজনের জিম্মায় দেয়। স্বজনরা তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিলেট সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

    সোমবার বেলা আড়াইটায় নির্যাতিত কলেজে ছাত্র ফয়সলের বোন সিলেট হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে জানায়, আমার ভাই পাগল হয়ে গেছে, তার মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। এখন পর্যন্ত সে কাউকে ছিনতে পারছেনা।

    বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর কবীর মামলা দায়েরের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্ঠা চলছে।”

  • তথ্য অধিকার আইন সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে – জাফর ওয়াজেদ

    তথ্য অধিকার আইন সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে – জাফর ওয়াজেদ

    পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, “তথ্য অধিকার আইন সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে সংবাদকর্মীদের দায়িত্ববোধকেও বাড়িয়েছে সমান ভাবে। সর্বাবস্থায় দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করাই সংবাদকর্মীদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য।”

    রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব এ আয়োজিত নারী ও শিশু বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় তিনি উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।

    মহাপরিচালক আরোও বলেন, “সাংবাদিকতায় এখন ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেকটাই সুবিধা এনে দিয়েছে। যা অতীতে বহু কষ্ট সাধ্য ছিল। সুযোগ যেমন বেড়েছে তেমনি নিত্য নতুন জটিলতাও বেড়েছে। এখন খুব সহজেই গুজব ছড়িয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধান করা সম্ভব।”

    “অতি সম্প্রতি করোনা মহামারী নিয়ে পত্র-পত্রিকায় রোগ ছড়ায় এরকম গুজবে পাঠক সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। যা সংবাদপত্র জগতকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কোন তথ্যই ক্রসচেক ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।”

    “সরকার সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য খুবই আন্তরিক। ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রনোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং দেয়া হবে। তবে তার জন্য নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সুপারিশের ভিত্তিতে তা প্রদান করা হবে।”

    সভায় মহাপরিচালক ও রিসোর্স পার্সনদেরকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ ইসমাইল হোসেন। প্রশিক্ষণে প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

    আজ সোমবার (০২ নভেম্বর) প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে এর সমাপ্তি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির।

  • এমপি আবু জাহিরের সুস্থতা কামনায় শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলাদ মাহফিল

    এমপি আবু জাহিরের সুস্থতা কামনায় শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলাদ মাহফিল

    হবিগঞ্জ ৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এর সুস্থতা কামনায় হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির উদ্যোগে আলেচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ২টা বিদ্যালয় কক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ মাহফিল শুরু হওয়ার পূর্বে বিদ্যালয় উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আবিদুর রহমান

    বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি মানসম্মত শিক্ষা দানে এগিয়ে থাকলেও উন্নয়ন ব্যহত ছিল। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় এই বিদ্যালয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে আসেন হবিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির। এ বরাদ্দে পর্যায়ক্রমে একাধিক ভবন ও শহীদ মিনার নির্মাণ সহ উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে এমপি মোঃ আবু জাহির এর প্রচেষ্টায় ৯৭ লক্ষ টাকা পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ২য় ও ৩য় তলা ভবনের কাজ চলছে।

    তিনি আরো বলেন, এমপি আবু জাহির করোনাকালে দুর্দশাগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে থেকে দিনরাত করছেন। তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

    যখন কোন সংকটের আসংখা দেখা দিয়েছে তখনি তিনি তার বলিষ্ট নেতৃত্বে ও সহযোগীতায় এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজ তিনি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমরা দোয়া করি তিনি যাতে শীঘ্রই সুস্থ হয়ে আবারো আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।

    উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির সদস্য ও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল আহমেদ, সিনিয়র শিক্ষিকা হালিমা খাতুন, সহকারী শিক্ষক সজল বরণ ব্রহ্মাচারী, শামীমা আক্তার, আলী হায়দার সেলিম, হেলেন আক্তার, মোঃ সাজ্জাত মিয়া, মোহাম্মদ সুয়েব, বদরুন্নেছা, দেবযানী ধর বর্ষা, লিটন পাল, শেখ তাছলিমা আক্তার, আজিজুর রহমান, শাহরিয়া চৌধুরী ডালিম, আরিফুল ইসলাম, আফসানা খানম, মরিয়ম আক্তার তামান্না, ফাহিমা আক্তার, রফিকুল ইসলাম, শরিফা খাতুন, মমতাজ বেগম, অঞ্জনা রানী দত্ত প্রমুখ।

    এছাড়া বিদ্যালয়ের কর্মচারী শফিক মিয়া ও জামিল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মিলাদ মাহফিলে এমপি আবু জাহিরের সুস্থতা কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া করা হয়। অত্র মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর ইখলাছুর রহমান।

  • নবীগঞ্জে সেজু হত্যা মামলার ১ আসামী গ্রেফতার

    নবীগঞ্জে সেজু হত্যা মামলার ১ আসামী গ্রেফতার

    নবীগঞ্জে নিখোঁজের ৪দিন পর পূর্ব তিমির পূর এলাকা থেকে রিক্সাচালক ১৮ বছর বয়সী সেজুর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর নবীগঞ্জ থানায় তার পরিবারের লোকজন অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

    মামলার পর থেকে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের ধরতে ও হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে পুলিশ।

    শনিবার দিবাগত গভীর রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম তিমির পূর গ্রামে উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাবেদুল আলম চৌধুরী সাজুর পশ্চিম তিমির পুর গ্রামের ফিসারিতে নবীগঞ্জ থানার এসআই (সাব ইন্সপেক্টর) শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আলী আজগরের পুত্র ৩৩ বছর বয়সী সুয়েব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত সুয়েব হবিগঞ্জের উমেদনগরের বাসিন্দা। দীর্ঘ ৮-১০বছর ধরে ফিসারির পাড়ে বাড়ি বানিয়ে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও এই হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদ্ধারের লক্ষে ৫-৬ জনকে জিজ্ঞাসাবারে জন্য আটক করে পরবর্তীতে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। তার ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল বলেও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

    সুয়েবকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার এসআই সামছুল ইসলাম ও নবীগঞ্জ থানার এএসআই আব্দুল হান্নান। ঘটনার সাথে জড়িত বাকী আসামীদের ধরতেও নবীগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পারভেজ আলম চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত আসামীকে আমাদের সন্দেহ হয়েছে তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগেও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদ করে তদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।  ঘটনার দিন থেকেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আসামীদের গ্রেফতার করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি খুব শীগ্রই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার সাথে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করতে পারব।