Category: হবিগঞ্জ

  • আজমিরীগঞ্জে ৭ই মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান

    আজমিরীগঞ্জে ৭ই মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান

    কামাল আহমদ সৌরভঃ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মর্ত্তুজা হাসান, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, আজমিরীগঞ্জ হবিগঞ্জ জনাব মোঃ মতিউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা। জনাব নূরুল ইসলাম অফিসার ইনচার্জ আজমিরীগঞ্জ থানা, জনাব মোঃ মমিনুর রহমান সজীব, ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা। সীমা রাণী সরকার ভাইস চেয়ারম্যান আজমিরীগঞ্জ উপজেলা। মুক্তিযুদ্ধা আলকাস মিয়া সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর নেত্রীবৃন্দ।

    আজমিরীগঞ্জে ৭ই মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান

    বক্তাদের বক্তব্যে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভরাট কণ্ঠের এই আওয়াজে আজ সারা দেশ মুখর হবে। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) ১৯ মিনিটের এক জাদুকরি ভাষণে বাঙালি জাতিকে স্বপ্নে বিভোর করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এরপরই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, ৯ মাসের লড়াই এবং স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

    ওই দিন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ডাক দেন। এদিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’

    উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রী ৭ই মার্চের উপলক্ষে চিত্র অঙ্কন, গান,৭ই মার্চের ভাষণ সহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করেন। পরিশেষে বিজয়ীদেরকে পুরস্কার তুলেদেন আমন্ত্রিত নেত্বিবৃন্দ।

  • শহরের বিভিন্ন এলাকায় টমটম চুরির হিড়িক

    শহরের বিভিন্ন এলাকায় টমটম চুরির হিড়িক

    হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় টমটম চুরির হিড়িক পড়েছে। প্রায়ই মোটর সাইকেল ও টমটম চুরি হচ্ছে। এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে টমটমসহ এক চোরকে আটক করেছে।

    গতকাল শনিবার ভোর রাতে সদর থানার এসআই সোহেল রানার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদর উপজেলার রামপুরে অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই টমটম উদ্ধার করে। তখন আন্তঃজেলা টমটম চোরের সদস্য পারভেজ মিয়া (২০) কে আটক করে। সে সদর উপজেলার তিতখাই গ্রামের শাহিন মিয়ার পুত্র।

    পুলিশ জানায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও থেকে একটি টমটম যাত্রীবেশি ৩ লোক গত বৃহস্পতিবার রিজার্ভ করে হবিগঞ্জ আসে। পথিমধ্যে টমটম চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভেজসহ দুই চোর টমটম নিয়ে যায়।

    এ ঘটনাটি সদর থানাকে জানালে গতকাল পুলিশ টমটমসহ পারভেজকে আটক করে। এদিকে শনিবার দুপুরে থানা থেকে পারভেজকে ছাড়িয়ে নিতে আসে একই গ্রামের লিটন নামের আরেক যুবক। তখন পুলিশ তাকেও আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ওসি।

  • প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর সাথে মেয়র সেলিমের শুভেচ্ছা বিনিময়

    প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর সাথে মেয়র সেলিমের শুভেচ্ছা বিনিময়

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপি’র সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন হবিগঞ্জ পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র আতাউর রহমান সেলিম।

    গতকাল শনিবার রাতে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মেয়র সেলিম পৌরসভা উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মতবিনিময় করেন।

    প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জ পৌরসভাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

    জাতিার পিতার আদর্শ নিয়ে কাজ করার আহবান
    নব নির্বাচিত মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ৭ই মার্চ জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী ভাষণই মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এ ভাষণকে মেমোরী অব দ্য ওয়ার্ল্ড ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই অবিস্মরণীয় দিনে সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে কাজ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

  • নবাগত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন শুরু

    নবাগত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন শুরু

    হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান গতকাল শনিবার দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব থেকে বদলী হয়ে গত শুক্রবার হবিগঞ্জে এসে পৌছেন। জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন উপজেলার কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বরণ করে নেন।

    গতকাল শনিবার তিনি অফিসে এসে বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেন। আজ রবিবার থেকে তিনি পুরোদমে দায়িত্ব পালন করবেন।

    দায়িত্ব পালনে তিনি হবিগঞ্জবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জেলায় ইউএনও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

  • আকাশে গর্জন হলেই উধাও বিদ্যুৎ, দূর্ভোগে মানুষ

    আকাশে গর্জন হলেই উধাও বিদ্যুৎ, দূর্ভোগে মানুষ

    জুয়েল চৌধুরীঃ আকাশে গর্জন হলেই উধাও হয়ে যায় বিদ্যুৎ। আর অসহায় হয়ে পড়েন মানুষ। নেই কোন প্রতিকার আছে শুধু অজুহাত। বিদ্যুৎ খেলছে খেলা আর অসহায় হয়ে পড়েন মানুষ। থমকে যায় জনজীবন।

    এভাবেই গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ২০ ঘণ্টা বিদ্যুতবিহীন দিন কাটান হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা ও এর আশপাশের মানুষ।

    আকাশে হঠাৎ গর্জন, মেঘ কিংবা সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হতে না হতেই হবিগঞ্জ শহর ও সদরের বিদ্যুত উধাও হয়ে যায়। ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর আবার দেখা মিললেও ফের আকাশে একটু গর্জন হলেই সাথে সাথেই আবারো বিদ্যুত উধাও।

    এভাবেই দিনভর বিদ্যুত লুকোচুরি খেলা খেলে হবিগঞ্জ শহরবাসীর সাথে। একবার বিদ্যুত গেলে কখন আসবে তা বলাও মুশকিল। ফলে সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমার কর্তৃপক্ষ কাজ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। দিনের বেলায়ও মম বাতি জালিয়ে কাজ করছেন অনেকে।

    ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে পড়েন বিপাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের ফলে স্বীকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। এ ভাবে লোডশেডিং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

    অপর দিকে, ইলেক্সটনিক্স ও ইলেক্সটিক ব্যাবসায়ীরা পড়েন বিপাকে। অফিসিয়ালি ও অনান্যা কাজে দুর দুরান্ত থেকে আসা মানুষ ঠিক মত ফটোকপি, কম্পিউটার, কম্পোজ, বৈদ্যুতিক নির্ভরশীল কাজ কর্ম করতে পারেননি। এ ছাড়া বাসাবাড়ির ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্রে সমস্যাতো হচ্ছেই। অল্পের জন্য অনেকের ফ্রিজে থাকা খাবারও নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

    এব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকার ফিডার বিকল হয়ে যাওয়ায় এমন সমস্যা হয়েছে। তবে লোকজন কাজ করছে। আশা করি সামনের দিনে এমনটা আর হবে না।

    এদিকে সাধারণ জনগণ বলছেন, বিদ্যুত অফিসের এমন বাণী শুনানো হচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু কোনো সমাধানই হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি কিংবা বাতাস এলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত চলে যায়। এ ছাড়া বিদ্যুত অফিসের টেলিফোন ও মোবাইল ফোনে কল করলে ব্যস্ত পাওয়া যায়। ফলে বিদ্যুত কখন আসবে তাও জানা সম্ভব হয় না।

    এদিকে গতকাল রাত শনিবার রাত ১০টায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুত এলেও বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুতবিহীনই থেকে যায় বলে জানা গেছে।

  • আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

    বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন আজ। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। ‘একটি কবিতা পড়া হবে তার জন্য কী ব্যাকুল প্রতীক্ষা মানুষের’—৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে এমনটাই লিখেছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। সারা বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা পাওয়ার প্রতীক্ষায় উদগ্রীব সেদিন। সবার দৃষ্টি রেসকোর্সের দিকে। মনে প্রশ্ন—‘কখন আসবে কবি’?

    সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি আর হাতকাটা কালো কোট পরে দৃঢ়তার সঙ্গে হেঁটে এসে মঞ্চে উঠলেন দীর্ঘদেহী এক বাঙালি। সঙ্গে করে তিনি নিয়ে এসেছেন সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির ভবিষ্যত্, আত্মসম্মান ও অধিকার আদায়ের মন্ত্র। পুরো জাতি তার কথা শোনার প্রতীক্ষায় উদগ্রীব। সেই ভাষণ শুনতে ঢাকার প্রতিটি বাড়ির প্রতিটি ছেলে এসে উপস্থিত রেসকোর্স ময়দানে। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে বসেছিল সেই ভাষণের প্রতীক্ষায়। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই ভাষণ শুধু বাংলার নয়, পৃথিবী জুড়ে মানবমুক্তির আন্দোলনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী উদাহরণ। আর বঙ্গবন্ধু মানুষের মুক্তির আন্দোলনের পথে চিরপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই হয়ে ওঠেন জাতির জনক।

    এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয়বাংলা।’ একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই বলিষ্ঠ ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

    বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এক ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। স্বাধীনতার ঘোষণা বঙ্গবন্ধুর কাছে কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না, বরং ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনিবার্য জাতীয় স্বাধীনতার দিকে তিনি বাংলার জনগণকে প্রস্তুত করেছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মধ্যে যেমন দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতার কথা অন্তর্ভুক্ত ছিল, তেমনি মানুষের সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের আকাঙ্ক্ষাও ধারণ করেছে ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চ দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীকালে স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। একইভাবে এ ভাষণ শুধু রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্ধারণের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

    বঙ্গবন্ধু সেদিন মঞ্চে আরোহণ করেন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। মাত্র ১৮-১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তার ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।

    বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রিত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র-মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করব। আজো আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।’

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সেই সভায় উপস্থিত তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু তার চশমাটা সেদিন ডায়াসের ওপর রেখে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই অলিখিত। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল। সে মোতাবেক আমরা কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা ছিলেন, তিনি অন্তরের গভীরে যা বিশ্বাস করতেন, বক্তৃতায় তাই ব্যক্ত করতেন। ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও তিনি তা থেকে বিচ্যুত হননি।

    বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ৭ মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন ইতিহাসে তার তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনও মনে হয়, বাঙালির হাজার বছরের দুঃখ, বেদনা, বঞ্চনা এবং ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকার ইতিহাস, কৃষক, কৈবর্ত, উপজাতিদের বিদ্রোহ প্রভৃতির বারুদঠাসা উপাদানে তার সচেতন এবং অবচেতন মনে এই ভাষণটি তৈরি হয়ে প্রকাশের জন্য উন্মুখ হয়েছিল।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

  • এমপি পুত্র ইফাত জামিলের আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন

    এমপি পুত্র ইফাত জামিলের আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন

    সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এর একমাত্র ছেলে মোঃ ইফাত জামিল কৃতিত্বের সাথে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এলএলএম) সম্পন্ন করেছেন।

    ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এ ডিগ্রী অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁর পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়।

    মোঃ ইফাত জামিল এর আগে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব গ্রীনিচ থেকে সফলতার সাথে ডিপ্লোমা ও এলএলবি অনার্স সম্পন্ন করেছেনে। তিনি ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকেও ভাল ফলাফল অর্জন করেন।

    ইফাত জামিল তাঁর শিক্ষকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আগামী শিক্ষা জীবন সফলতার সাথে শেষ করতে সকলের দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করেছেন।