Category: হবিগঞ্জ

  • হবিগঞ্জে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ

    হবিগঞ্জে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ

    হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    আজ শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী।

    স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিএনপির অঙ্গ সংগঠন, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ নেতাকর্মীরা হেফাজতের কর্মীদের নিহতের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

    সংঘর্ষের সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে পুলিশের রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি। আর তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে অন্তত ১০ পুলিশ আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশ। সংঘর্ষের সময় পুলিশ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

    জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুশফিক আহমেদ বলেন, পুলিশের লাঠিচার্জে জাহিরুল হক শরীফ, আব্দুল আহাদ ও আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জিকে গউছ বলেন, সংঘর্ষের পর পুলিশ তার বাসা থেকে তার ভাই জিকে গাফফার, ভাতিজা রাফিদ ও ছেলে ব্যারিস্টার গোলাম কিবরিয়া প্রিতমকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।

    হবিগঞ্জে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ
    পুলিশ  জিকে গাফফার  ও তার  ছেলে রাফিদ এবং ব্যারিস্টার গোলাম কিবরিয়া প্রিতম কে গ্রেফতার করার ছবি।

    হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।

  • হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    সৈয়দ সালিক আহমেদঃ সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি কুচক্রীমহল দেশের উন্নয়নকে ধ্বংস করার জন্য পায়াতারা করে যাচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আজ সারা দেশের মানুষ ভোগ করছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ আজ সম্মানের সাথে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি শুক্রবার (২৬মার্চ) সন্ধায়  হবিগঞ্জ  নীমতলা প্রাঙ্গনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে “সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক” আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  একথা বলেন।

    জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মাহমুদুল হাসান, বৃন্দাবন সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ  মাসুদুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী টিপু, সাবেক পিপি আকবর হোসেন জিতু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর চৌধুরী।

    জেলা প্রশাসনের উদ্দোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামিলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম,  জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

    আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় এবং অথিতি শিল্পীদের অংশগ্রহনে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।

  • হবিগঞ্জে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত

    হবিগঞ্জে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ এর উদ্যেগে আজ সকাল ০৮ টায় হবিগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় জালাল স্টেডিয়ামে জাতীয় স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী (৫০ বছর পূর্তি) অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়েছে।

    সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব ইশরাত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ উল্লা । অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, তারেক মোঃ জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, মর্জিনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), বিজেন ব্যানার্জী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা,নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিম, জেলা পরিষদ, হবিগঞ্জ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদুল হাসান, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।

    পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর উপস্থিত সকলকে নিয়ে দাড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয় পায়রা উড্ডয়ন ও গ্যাস বেলুন (সুবর্ণ জয়ন্তীর ব্যানারসহ) উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন।

    অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধনের পর জেলা প্যারেড কমান্ডার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে প্যারেড পরিচালনা শুরু করে। করোনা মহামারির কারণে এবছর প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে সীমিত আকারে ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে। প্যরেডে অংশগ্রহণ করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট, হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ, জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ বি এন সি সি প্লাটুন, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ বি এন সি সি প্লাটুন, বাংলাদেশ স্কাউট, হবিগঞ্জ জেলা রোভার এবং নবাগত হবিগঞ্জ জেলা কারাতে একাডেমী।

    প্যারেড শেষে সম্মানিত অথিতি ও গুণীজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে প্যারেডে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

    বিগত বছরগুলোতে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে ডিসপ্লে প্রদর্শন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবছর তা বাতিল করা হয়েছে।

  • লাখাইয়ে  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    লাখাইয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    সৈয়দ সালিক আহমেদঃ শুক্রবার ২৬ মার্চ বেলা ১১ ঘটিকায় লাখাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ মুশফিউল আলম আজাদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম।

    মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পিয়ারা বেগম এর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন মাওঃ মহিবুর রহমান, গীতা পাঠ করেন দেবাশীষ আচার্য্য।

    বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার( ভূমি) ইয়াসিন আরাফাত রানা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ও সি) সাইদুল ইসলাম,বীর মুক্তিযোদ্ধা কেশব চন্দ্র রায়, লাখাই প্রেসক্লাব সভাপতি এডভোকেট আলী নোয়াজ প্রমুখ।

  • হবিগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের শপথ গ্রহণ

    হবিগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের শপথ গ্রহণ

    হবিগঞ্জ পৌরসভায় নব নির্বাচিত মেয়র আতাউর রহমান সেলিম শপথ গ্রহণ করেছেন।

    আজ ২৫ই মার্চ  বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মশিউর রহমান এনডিসি তার কার্যালয়ে মেয়র সেলিমকে শপথ পাঠ করান।

    এ সময় হবিগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলররাও শপথ গ্রহণ করেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনার শপথ গ্রহণকারী মেয়রকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে মেয়র আতাউর রহমান সেলিম বলেন, হবিগঞ্জ পৌরসভার জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী হিসেবে যে আশা-ভরসা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন আমার দায়িত্বকালীন সময়ে পৌর পরিষদকে নিয়ে পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সেই সাথে তিনি দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর চৌধুরী, সাধারণ কাউন্সিলরদের পক্ষে আলাউদ্দিন কদ্দুছ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের পক্ষে বেগম খায়েদা জুয়েল। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের সহধর্মিনীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিভাগীয় কমিশনার ও তার কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহবান জানালেন এমপি আবু জাহির

    স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহবান জানালেন এমপি আবু জাহির

    বদরুল আলমঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন কমতির দিকে গিয়ে পুনরায় বাড়তে শুরু হয়েছে। সেজন্য সকলকে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক ব্যবহার করে চলাফেরার আহবান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির।

    আজ মঙ্গলবার সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ২০২১-২০২২ ভিজিডি চক্রের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানিয়েছেন।

    অনুষ্ঠানে এমপি আবু জাহির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে গেল প্রায় এক বছর ধরে চলমান করোনা মহামারীতে আমরা সার্বক্ষণিক আপনাদের পাশে থেকেছি। ভবিষ্যতেও পাশে থাকব। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমন থেকে বাঁচতে আগে নিজেকে সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু পুনরায় সংক্রমন বাড়তে শুরু হয়েছে তাই সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুণ।

    গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে কার্ড ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য জালাল উদ্দিন, ফজল মিয়া, আব্দুল মতিন, সাজিদা আক্তার, রীনা আক্তার তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    পরে গোপায়া ইউনিয়নের ২০০জন উপকারভোগীর মাঝে কার্ড এবং ৩০ কেজি করে তিন মাসের মোট ৯০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন এমপি আবু জাহির।

  • হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান জাকারিয়া খান চৌধুরী আর নেই, হবিগঞ্জ নিউজের শোক

    হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান জাকারিয়া খান চৌধুরী আর নেই, হবিগঞ্জ নিউজের শোক

    দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান জাকারিয়া খান চৌধুরী বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভাতিজা সাংবাদিক পাবেল খান চৌধুরী জানান, ঢাকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ মরদেহ হবিগঞ্জ নিয়ে আসা হচ্ছে। আজ ১ম জানাজা দৈনিক মানবকণ্ঠ কার্যালয়, রাত ১০টায় শহরের কোর্ট মসজিদে ২য় জানাজা এবং সবশেষ মরহুমের গ্রামের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার শতমুখায় শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হবে।

    বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সৎমুখা চৌধুরী বাড়ি। তার বাবা ইয়াইয়া খান চৌধুরী ১৯৫৭ সালে কুষ্টিয়া ও ঢাকার প্রথম বাঙ্গালি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লি) ছিলেন।

    বাবার চাকরির সুবাদে ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর জাকারিয়া চৌধুরী ভারতের আসাম প্রদেশের শিবসাগরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন শুরু মেঘালয়ের রাজধানী শিলং ও করিমগঞ্জে, তারপর সিলেটে। করিমগঞ্জের স্কুলে অধ্যায়নকালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে সম্মান ডিগ্রী অর্জন করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্তায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হোন তিনি। এরপর ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস্ ইন এ ‘বার-এট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন।

    ছাত্রাবস্থায় লন্ডনে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার পরিকল্পনায় ‘পূর্বসূরী’ নামে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

    ১৯৬৩ সনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন লন্ডনে এক সংক্ষিপ্ত সফরে গেলে জাকারিয়া চৌধুরী তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্বাধীনতার কথাটা বঙ্গবন্ধুর কাছে উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে এক মত পোষণ করেন। সেই অবধি বঙ্গবন্ধুর সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।

    ১৯৬৮ সালে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার’ প্রতিবাদে লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন জবরদখলের নেতৃত্ব দেন ও প্রখ্যাত আইনজীবি Barrister Sir Thomas Williams-Q. C. কে মামলা পরিচালনার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। আইয়ুব শাহী পতনের পর ১৯৭০ সালে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় লন্ডন যান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

    ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ওনাকে ব্যক্তিগত দূত হিসাবে লন্ডনে অবস্থান নিতে বলেন। তখন এয়ারপোর্টের কর্তৃত্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনী নিয়ে নেয় এবং আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিরাপত্তা আরোপ করে। যেহেতু তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিক হিসাবে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিহ্নিত ছিলেন সেহেতু এয়ারপোর্ট দিয়ে লন্ডন যাওয়া সমীচীন মনে করেননি।

    তবে ২৫শে মার্চের পৈচাশিক ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ৩রা এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে ঢাকা ছেড়ে হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে যান। অনেক বিদ্রোহী বাঙ্গালী সেনারা তখন মেজর খালেদ মোশাররফের (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) নেতৃত্বে ঐ চা-বাগানে অবস্থানরত ছিল। বিদ্রোহী বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করে ওনাকে লন্ডনে চলে গিয়ে ‘অর্থ’ ও ‘অস্ত্র’ সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পন করেন। পরে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে লন্ডনে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত দূত পরিচয়েই সাংগঠনিক কার্য্যক্রম শুরু করেন।

    মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তখন বিলেতে মরহুম আজিজুল হক ভূঁইয়াকে আহবায়ক ও মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে যে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয় তিনি সেই সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে কার্য্যক্রম শুরু করেন এবং ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে অর্থ সংগ্রহের জন্য হেমব্রোজ ব্যাংকে একাউন্ট খোলেন। পরবর্তীতে সেই একাউন্ট ন্যাশনাল ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।

    ১৯৭১ সনের ২৫ শে মার্চে সেই নৃশংস পাকিস্তানী সামরিক হামলার প্রতিবাদে লন্ডনসহ বিলেতের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী দেশবাসী কর্তৃক প্রতিবাদের ঝড় উঠে, গঠিত হয় একশন কমিটি। লক্ষ লক্ষ পাউন্ডের চাঁদা জমা হতে থাকে এই ফান্ডে।

    সংগৃহীত এই ফান্ডের টাকায় পৃথিবীব্যাপী প্রচার কার্য্য চালানো হয়, যুদ্ধের জন্য কেনা হয় রসদ ও সাজ-সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের পর উদ্বৃত্ত টাকা দান করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে। সব একশন কমিটিকে সমম্বয় ও কূটনৈতিক লবিংয়ের জন্য ‘বাংলাদেশ মিশন’ নাম দিয়ে ২৪ পেমব্রিজ গার্ডেন, লন্ডন ডব্লিউ-২ তে অফিস স্থাপন করা হয়। মিশনের প্রধান হিসাবে মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী দায়িত্বরত ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালের ৯ মাস লন্ডন ছিল প্রতিবাদ ও প্রচারে মুখরিত। বিলেতের দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর তত্পরতা ও ত্যাগের কারনেই আর্ন্তজাতিক প্রচার মাধ্যম আমাদের প্রতি বরাবর সহানুভূতিশীল ও সোচ্চার ছিল যা যুদ্ধ জয়ের জন্য অপরিহার্য্য।

    ১৯৭২ সালে তিনি ফের দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    জাকারিয়া চৌধুরীর নিজ দেশের বাড়ী হাওর এলাকায় হওয়ায় সেই সকল এলাকার আর্থ-সামাজিক সমস্যার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি খুব সচেতন ছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের এক পর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে সেখানকার সম্পদ এবং সম্ভাবনাকে সু-সংগঠিত করে এলাকার উন্নয়ন সু-সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান হাওড় উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।

    পরবর্তীতে যাহার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড। জাকারিয়া খান চৌধুরী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ আসন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৯১ ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

    এদিকে জাকারিয়া খান চৌধুরীর মৃত্যুতে হবিগঞ্জ নিউজ পরিবার শোকাহত৷ হবিগঞ্জ নিউজের পক্ষে সম্পাদক শরিফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান৷