Category: হবিগঞ্জ

  • লাখাইয়ে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু

    লাখাইয়ে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু

    লাখাইয়ে মন্নর আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কেউ বলছে সড়ক দূর্ঘটনা, আবার কেউ বলছে বিষপানে তিনি মারা গেছেন।

    জানা যায়, ওই উপজেলার বামৈ নোয়াগাঁও গ্রামের সঞ্জব আলীর পুত্র মন্নর আলীকে গত বৃহস্পতিবার রাতে লাখাই সড়কের লোকড়া এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কে বা কারা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে আসার পর ওইদিন রাতেই সে মারা যায়।

    সদর থানার এসআই সাইদুর রহমান ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে পরিবারের জিম্মায় লাশ হস্তান্তর করেন।

    তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাকে কেউ হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে ওই স্থানে রেখে গেছে। আবার কেউ বলছে সড়ক দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।

    এসআই সাইদুর রহমান জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

  • মাধবপুর ও চুনারুঘাটে অভিযান চালিয়ে ২২ কেজি গাজাঁসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

    মাধবপুর ও চুনারুঘাটে অভিযান চালিয়ে ২২ কেজি গাজাঁসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

    মাধবপুর ও চুনারুঘাটে অভিযান চালিয়ে ২২ কেজি গাজাঁসহ ৩ জন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯।

    বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) রাত ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মাধবপুর থানার ৩নং বহরা ইউনিয়ন, চুনারুঘাট থানাধীন শুকদেবপুর বাজার ও চুনারুঘাট থানার ১নং গাজীপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে নেতৃতে দেন সিনিয়র এ এসপি লুৎফর রহমান।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯, সিপিসি-১ (হবিগঞ্জ ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে। এসময় মাধবপুর উপজেলার ৩নং বহরা ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের জনৈক মো. আব্দুল হক এর বাড়ীতে ও চুনারুঘাট থানার শুকদেবপুর বাজারের রিফাত ভেরাইটিজ ষ্টোর এর সামনে পাকা রাস্তার উপর এবং ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম দুলনা জামে মসজিদ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ২২ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা জব্দসহ পেশাদার মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা হল, মাধবপুর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের আশ্রাফ আলীর পুত্র মো. রাসেল মিয়া (২০), মৃত দাইয়া মিয়ার পুত্র মো. আব্দুল হক (৬২), চুনারুঘাট উপজেলার কালামন্ডল গ্রামের মাহমুদ হোসেনের পুত্র মোতালেব মিয়া (৩০) ও ইকরতলি গ্রামের মৃত রহমত আলীর পুত্র কামাল মিয়া (২১)।
    র‌্যাব জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

  • বানিয়াচংয়ে মাহফিলের পোষ্টারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম দেয়ার জেরে হামলা

    বানিয়াচংয়ে মাহফিলের পোষ্টারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম দেয়ার জেরে হামলা

    বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নে ওয়াজ মাহফিলের পোষ্টারে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর নাম দেয়ার জেরে হামলা, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুজন গুরুতর আহত হয়। আহতদের হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়।

    এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, কাগাপাশা গ্রামে প্রতি বছর একটি তাফসির মাহফিল হয়।

    ওই মাহফিলে বুরহান উদ্দিন চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে অনুদান প্রদান করেন। এ জন্য কমিটি পোষ্টারে তার নাম অন্তর্ভূক্ত করে। এই পোষ্টারটি ছিড়ে ফেলে একই গ্রামের মৌসুম মিয়া, তানভীর ও তফিল। এতে বাধা দেন মামলার বাদি আব্দুল মুহিত চৌধুরীর ভাতিজা নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

    এ কারণেই উল্লেখিতরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং গত ১৬ মার্চ রাতে নাসির ও আল আমিন তাদের ভাই বোরহান উদ্দিন চৌধুরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে উল্লেখিতরা তাদের পথরোধ করে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়। দুর্বৃত্তরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় নাসিরের চাচা আব্দুল মুহিত চৌধুরী বাদি হয়ে ওয়াসিক মিয়া, মৌসুম মিয়া, শামীম মিয়া, কাওসার মিয়া, তানভীর মিয়া, লিটন মিয়া, তফিল মিয়া, নুর উদ্দিন, রাজনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন।

    আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বানিয়াচং থানাকে রুজুর নির্দেশ দিলে ওসি মামলা রেকর্ড করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

  • অর্ধেকের বেশি যাত্রী তবুও টমটমে উঠলেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া

    অর্ধেকের বেশি যাত্রী তবুও টমটমে উঠলেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া

    জুয়েল চৌধুরীঃ হবিগঞ্জ শহরবাসীর কাছে দিন দিন অসহনীয় দূর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে গরিবের গণপরিবহন খ্যাত টমটম। বিশেষ করে টমটমের ভাড়া নিয়ে ভোগান্তির মাত্রা দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো সমিতি। যাচ্ছেতাইভাবে ভাড়া নির্ধারণ করে তা জনসাধারণের উপর চাপিয়ে দেয়া যেন অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে তাদের কাছে।

    সরকারি ঘোষণার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ভাড়া নিয়ে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রীদের সাথে টমটম চালকদের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এক কথায় পৌর এলাকার ভেতরে চলাচলকারী মানুষ সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন টমটম চালকদের কাছে। শহরবাসীর কাছে টমটমের এই অব্যবস্থাপনা এখন দুঃসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বল্প কিংবা বেশি দূরত্বেই হোক কোথাও যাওয়ার জন্য টমটমে উঠতে গেলেই নাগরিকদের এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

    একেতো অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে তার উপর আবার পৌরসভার অনুমোদন ব্যতীত অসংখ্য টমটম চলাচল করায় অফিসে যাওয়া, বিয়ে-দাওয়াত, এমনকি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া-প্রয়োজনীয় কোনো গন্তব্যে সময় মতো পৌঁছানোর কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ অনুমোদিত টমটমগুলোর এলোপাতাড়ি চলাচলের কারণে শহরের প্রধান সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। প্রধান সড়কে চলাচলে তিলধারণের ঠাই থাকে না। এ অবস্থায় মানুষজনের ভোগান্তির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।

    বর্তমানে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে চলছে করোনা মহামারি। আর এ সুযোগ নিচ্ছে হবিগঞ্জ শহরে চলাচলত টমটম মালিক ও চালকরা। করোনা মোকাবিলায় দেশব্যাপী গণপরিবহনের ভাড়া আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সরকার। চালকের পাশের দুই সিট ফাঁকা রাখা, অর্ধেক যাত্রী বহনসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালাতে বলা হয়। এজন্য ভাড়াও বাড়িয়ে দেয়া হয়।

    কিন্তু এইসব শর্ত থাকলেও তা মানছে না হবিগঞ্জ শহরে চলাচলরত টমটম চালকরা। তারা মাস্ক পরছে না, গাড়িতেও রাখছে না হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ ভাইরাস প্রতিরোধী সরঞ্জাম। অর্ধেক যাত্রী তো দূরের কথা চালকের পাশের দুই সিটেও যাত্রী বহন করা হচ্ছে। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ডাবল ভাড়া।

    দুইদিন আগেও শহরে টমটমে চলাচলের ক্ষেত্রে ভাড়া যেখানে ছিল ৫ টাকা সরকারি ঘোষণার অজুহাত দেখিয়ে এখন টমটমে উঠলেই দিতে হচ্ছে ১০/১৫ টাকা। এক্ষেত্রে তাদের কাছে সড়কের দূরত্ব যেনো কোনো ব্যাপারই না।

    যাত্রীরা বলছেন, রিকশাও তিন চাকার, টমটমও তিন চাকার। এগুলো চলে চার্জের ব্যাটারীতে, বিদ্যুতের অপচয় হয়। অথচ তারা পাল্লা দিতে চায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য বড় পরিবহণের সাথে। দেখা যায়, সরকার যখন ভাড়া বাড়ায় তারাও বাড়ায়, কিন্তু সরকার যখন ভাড়া কমায় তারা কিন্তু কমায় না, তাদের ভাড়াই বহাল রাখে।

    আর এ নিয়ে শহরে চলাচলকারী যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শুধু ক্ষোভই নয়, চালকদের সাথে যাত্রীদের বাকবিতন্ডাসহ হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। যে কোনো সময় এ নিয়ে ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।

    যাত্রীদের অভিযোগ, কিছুদিন আগেও টমটমের ৫ টাকা ভাড়া নিয়ে শায়েস্তানগর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। যদি আবারও এরকম ঘটনা ঘটে তবে এর দায়ভার কে নেবে?

    অবাক করা বিষয় হচ্ছে যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধির কথা চালকদের বললেও তা মানার ব্যাপারে তারা চরম উদাসীন। বিশেষ করে মাস্ক পরতে তাদের বড়ই অনীহা। আবার কেউ পরলেও তা থুতনিতে ঝুলে থাকে।

    জানা যায়, করোনার কারণে গত বছরের ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়া বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হলেও সকল গণপরিবহণ আগের ভাড়ায় ফিরে যায়, তবে ফিরেনি হবিগঞ্জের সড়কে চলা-অবৈধ টমটম চালক মালিকরা।

    আগে শহরের ভেতর উঠানামা যেখানে ৫ টাকা ছিল সেখানে কথিত টমটম সমিতি সড়কের সীমানা ঠিক করে দিয়ে মনগড়া ভাড়া নিতে থাকে। যেমন, আগে শহরের পোদ্দারবাড়ি থেকে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১০ টাকা। আর যেকোনো জায়গা থেকে উঠে নেমে গেলে ৫ টাকা। কিন্তু সরকারি ঘোষণার সুযোগ নেয় কথিত টমটম মালিক সমিতি।

    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, করোনা মহামারীর কারণে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হবিগঞ্জ শহরে পূর্বের ভাড়া ৫ টাকা হলে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রীদের দিতে হবে ১০ টাকা। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধির কথা চিন্তা করে গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকার পরও কিছু কিছু স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যে সকল চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী বহন করেছে তাদেরকে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।

    তবে জেলা প্রশাসক জানান, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ বিষয়ে মেয়র আতাউর রহমান সেলিম বলেন, পৌর শহরের ভেতর চলাচলে টমটমের ভাড়া ৫ টাকা। মহামারী করোনার কারণে সাময়িক সময়ের জন্য ডাবল ভাড়া করা হয়েছে। সে অনুযায়ী যাত্রীরা ১০ টাকা ভাড়া দেবেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টমটমের অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা, জনস্বার্থে ভাড়াও নির্ধারণ করে দেবে পৌরসভা, কোনো সমিতি নয়। আগামী ১৫ এপ্রিল সরকার যদি ভাড়া কমানোর নির্দেশনা দেয় তবে আগের ৫ টাকা ভাড়াই বহাল রাখা হবে। তবে কেউ যদি ডাবল ভাড়া ১০ টাকার স্থলে ১৫ টাকা চায় তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পরামর্শ দেন তিনি।

  • শায়েস্তাগঞ্জে মালিকানা নিশ্চিত না হয়ে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ, অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

    শায়েস্তাগঞ্জে মালিকানা নিশ্চিত না হয়ে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ, অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

    শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বিচারাধীন জমিতে মালিকানা নিশ্চিত না হয়ে ১৫ শতাংশ জমির উপর প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘যার জমি আছে ঘর নেই’ সরকারী খরচে একটি ঘর নির্মাণ প্রক্রিয়া করায় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিরোধ। পাল্টা পাল্টি মামলা আর স্থানীয় বিচারকদের দারস্থ হতে হতে ক্লান্ত আমির উদ্দিনের পরিবার।

    বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণ নার করার জন্য শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের বরাবরে আবেদন করেও কোন সুরাহা হয়নি। বরং অনিয়ম মাধ্যমে ঘর নির্মাণ করেছেন এমন অভিযোগ করেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের (বাখরপুর) মেরাশানী গ্রামের মৃত আবিজ উদ্দিনের ছেলে আমির উদ্দিন।

    জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মেরাশানী মৌজার জেএল নং ৯৯, খতিয়ান নং ২২৪, দাগ নং ৬১৩ এ অবস্থিত জায়গার মালিক ছিলেন তমিজ উদ্দিন। তমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর ওই জায়গার মালিক হন তার পুত্র আবিজ উদ্দিন। আবিজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর ওই জায়গার মালিক হন তার ছেলে আমির উদ্দিন ও তার ভাই বোনেরা। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত দাগের ৩৭ শতাংশ জায়গা ভোগ দখল করে আসছেন তমিজ উদ্দিনের বংশধর আমির উদ্দিন গংরা। কিন্তু এর মধ্যে ১৫ শতাংশ জায়গা আশ্রিত ফাতেমা আক্তার ও তার লোকজন নিজের বলে দাবী করেন।

    এনিয়ে ফাতেমার শশুড় মোস্তফা মিয়া ১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জ আদালতে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করিলে দির্ঘদিন শুনানির পর বিজ্ঞ আদালত ২০০৬ সালে আমির উদ্দিনের বাবার পক্ষে রায় দেন। পরবর্তিতে ২০০৮ সালে জায়গা দখলের জন্য আমির উদ্দিন একটি খাস দখলের মামলা করেন। উক্ত মামলা চলাকালীন সময়ে ফাতেমা বেগমের স্বামী আলীম উদ্দিন পুনারায় আরেকটি স্বত্ব মামলা দায়ের করে মিথ্যে স্বাক্ষীর মাধ্যমে রায় নেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আবিজ উদ্দিনের ছেলে আমির উদ্দিন গংরা আপিল করেন। জায়গা নিয়ে সৃষ্ট মমালাটি উচ্চ আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

    সম্প্রতি ফাতেমা আক্তার অসহায় দরিদ্র হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর প্রাপ্তির আবেদন করলে কোনো ধরনের যাচাই বাছাই না করেই আদালতে বিচারাধীন ভূমিতে সরকারী ঘর বরাদ্ধ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম।

    এব্যাপারে গত বছরের ১০ অক্টোবর বিচারাধীন জমিতে সরকারী খরচে ঘর নির্মাণ না করতে শায়েস্তাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন আমির উদ্দিন। সেই আবেদনের কোন নিষ্পত্তি না করেই নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম নিজের ক্ষমতার বলে উক্ত জায়গায় ঘর নির্মাণ করেন।

    পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেইন মুহাম্মদ আদিল জজ মিয়া ও ইউপি সদস্য আক্তার মিয়া সর্দারকে অবগত করলেও কোনো সুরাহা না পেয়ে আমির উদ্দিন হবিগঞ্জ আদালতে একটি ১৪৪ ধারা মামলা দায়ের করলে আদালত উক্ত স্থানে নির্মাণ কাজ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে ঘর নির্মাণসহ উক্ত ঘরে বসবাস করা শুরু করেন ফাতেমা আক্তার।

    জমির বর্তমান মূল মালিক আমির উদ্দিন বলেন, জায়গাটি আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই জায়গাটি ভোগদখল করে আসছি। ফাতেমা আক্তারের শশুড় মোস্তফা মিয়া বানিয়াচং উপজেলার প্রতাপপুর নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাদেরকে আমার বাবা আবিজ উদ্দিন আশ্রিত হিসেবে আমাদের বাড়িতে থাকতে দেন। হঠাৎ করে জায়গার মালিকানা দাবী করে মোস্তফা মিয়া আমার বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত আমার বাবার পক্ষে রায় দেন।

    পরবর্তীতে মোস্তাফা মিয়া এক সময় দলখদার হিসেবে মাঠ তার নামে করে নেন। এই সুবাধে তারা জমিতে সরকারী ঘর নির্মাণ শুরু করেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাগজ দেখানোর প্রয়োজন নেই। আদালতে গিয়ে দেখান।

    আমির উদ্দিন বলেন, ফাতেমা ও তার ভাইয়েরা মিলে আমাদের উপর মিথ্যে চাঁদাবাজী মামলা করেও হয়রানী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ জায়গা নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফায় বৈঠক করেও এর কোন সুরাহা করতে পারেনি। তারা প্রথমে বিচার মানলেও পরবতীর্তে মানতে নারাজ। বিচারের নামে বার বার হয়রানীও করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত দ্বন্ধ সৃষ্টির লক্ষে রাতদিন গালাগাল করতে থাকেন।

    দখলদার ফাতেমা আক্তারের দেবর আনোয়ার বলেন, আমার বাবা জায়গাটি খরিদ করেন কিন্তু দলিল না করাতে তারা এখন অস্বীকার করছেন। আদালত সব কিছু দেখে আমার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তারা আমার রায়ের আপিল করেছেন। যা বর্তমানে শুনানিতে রয়েছে। আর ওয়ার্ড মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব কিছু দেখেই আমাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার মিয়া সর্দার জানান, আমার জানামতে ফাতেমা বেগমের শশুড় জায়গাটি খরিদ করেছেন। দলিল করার জন্য আমরা বহুবার বিচার সালিশ করেও ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু আবিজ উদ্দিন ও তার ছেলেরা অস্বীকার করায় কোন সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ আদালতের স্বরনাপন্ন হন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। তাছাড়া ফাতেমা বেগমের শশুড়ের নামে মাঠ থাকায় সবকিছু বিবেচনা করে চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাকে একটি সরকারি ঘর বরাদ্ধ দেন।

    ১১নং ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হোসেইন মুহাম্মদ আদিল জজ মিয়া জানান, আমির উদ্দিন ও ফাতেমা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আদালতে মামলাও চলমান। ফাতেমা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ আসে। ঘর নির্মাণ হওয়ার পর উভয়পক্ষের মধ্যে জটিলতা দেখা দেয়ায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঐ ঘরে বসবাস না করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ফাতেমা ও তার লোকজন না শুনে ঘরে বসবাস করতে শুরু করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতেছি।

    শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, জায়গা সম্পত্তির বিষয়ে তিনটা বই হলো মেইন। দখল, দাখিল এবং দলিল। যদি একজনের জায়গা অন্যজনের দখলে থাকে সেটি আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে তো সরানোও যাবে না। তাছাড়া এটি আমি যোগদানের আগেই হয়েছে।

    আদালতে বিচারাধীন জায়গায় সরকারি ঘর নির্মাণ না করার জন্য আপনার দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার পরও এর সমাধান না করে কিভাবে ঘর নির্মাণ হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আদালত বুঝবে, আমরা কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। তাছাড়া এখন মামলার কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাবে না।

    বিরোধীয় জমির মালিকানা নিশ্চিত না হয়ে সরকারী খরচে ঘর নির্মান প্রক্রিয়া করায় এর ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হতে পারে। কোন অঘটন ঘটার আগেই বিষয়টি সমাধান করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন এলকাবাসীও।

  • নবীগঞ্জ বাহুবল আসনের এমপি মিলাদ গাজী করোনা আক্রান্ত

    নবীগঞ্জ বাহুবল আসনের এমপি মিলাদ গাজী করোনা আক্রান্ত

    হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সংসদ সদস্য ও রেল মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ (এমপি) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

    শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ এমপির করোনা পজিটিভ এর রিপোর্ট আসে।

    শাহনওয়াজ মিলাদ বলেন, “করোনার কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকলেও ৪ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় শনিবার (৩ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় সংসদ সচিবালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেই। শনিবার বিকেলে করোনা পজিটিভের রিপোর্ট আসে। এরপর থেকে ঢাকায় আমার সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে রয়েছি।”

    এমপি মিলাদ গাজী নবীগঞ্জ-বাহুবল বাসীসহ সর্বসাধারণের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং তিনি সুস্থ্য আছেন বলে জানান।

    উল্লেখ, গত শনিবার (২ এপ্রিল) সংসদ সদস্যের বড় ছেলে গাজী মোহাম্মদ ফাওয়াজ ও তাঁর স্ত্রীর করোনা পজিটিভ এর রিপোর্ট আসে।

  • এমপি আব্দুল মজিদ খানের স্ত্রী, পুত্র এবং গাড়ি চালকও করোনায় আক্রান্ত

    এমপি আব্দুল মজিদ খানের স্ত্রী, পুত্র এবং গাড়ি চালকও করোনায় আক্রান্ত

    হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) ও বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কীত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এডঃ আব্দুল মজিদ খান‘র কোভিড-১৯ পরীক্ষা পজিটিভ হওয়ার কারনে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এবার সংসদ সদস্য‘র স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার একমাত্র পুত্র সন্তান আরিফ ফয়সাল খান বাধন ও গাড়ির চালক আব্দুল মান্নানের কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে।

    সংসদ সদস্য‘র ব্যাক্তিগত কর্মকর্ত সেলিম আহমেদ জানান, সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খানের স্ত্রী-পুত্র ও গাড়ি চালক ১ এপ্রিল হবিগঞ্জ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়েছিলেন। ২ এপ্রিল রাতে তাদেরকে নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে তাদের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল এসেছে। ৩ এপ্রিল তাদেরকেও ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    বর্তমানে সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খান ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    সংসদ সদস্য‘র ঢাকার বাসভবনে পুত্র বাধন ও গাড়ি চালক মান্নানকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খান ২৮ মার্চ জাতীয় সংসদ ভবনে করোনার নমুনা পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

    ২৯ মার্চ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের করোনার নমুনা বুথ থেকে জানানো হয় সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খানের করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

    গত ৩০মার্চ ৩এপ্রিল পর্যন্ত সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খানকে চিকিৎসকদের পরামর্শে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

    বর্তমানে সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামীলীগ নেতা তজম্মুল হক চৌধুরী।

    সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খান ফেব্রুয়ারী মাসের ৭ তারিখ কভিড-১৯ এর প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন।

    সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খান ও তার পরিবারের সদস্যদের করোনা পজিটিভ হওয়ায় বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নেতাকর্মীগন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে রোগমুক্তি কামনা করেছেন।

    এছাড়াও ৩০ মার্চ থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীগন বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে সংসদ সদস্য এডঃ আব্দুল মজিদ খানের রোগমুক্তি কামনা করে প্রতিদিনই দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করছেন।

    এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া জানান, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এলাকার জনগন ও নেতাকর্মীদের কাছে তিনি হৃদয়ের স্পন্দন। উনি প্রতিদিন কোন না কোনভাবে তৃনমূলের মানুষের কাছে ছুটে যান। এই ছোটাছুটি করতে গিয়ে তিনি আজ নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা দেশবাসীর কাছে উনার সুস্’তা কামনা করে দোয়া চাই।