Category: হবিগঞ্জ

  • হবিগঞ্জের অর্ধশতাধিক মাদ্রাসায় পুলিশ সুপারের ইফতার বিতরণ

    হবিগঞ্জের অর্ধশতাধিক মাদ্রাসায় পুলিশ সুপারের ইফতার বিতরণ

    হবিগঞ্জ জেলার অর্ধশতাধিক মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এতিম ছাত্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রীয় বিতরণ করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম)।

    ইফতার সামগ্রীয় বিতরণকালে তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের লেখাপড়া পাশাপাশি কারিগরি অর্জন করার নির্দেশসহ সচেতনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।

    পুলিশ সুপারের এ ধরণের ব্যতিক্রম মানবিক কর্মকান্ডে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ এলাকার মুরুব্বীয়ানগণ ভূয়সী প্রসাংসা করছেন।

    সোমবার বিকেলে পুলিশ সুপার আজমিরীগঞ্জের শিবপাশা শাহ আব্দুল কুদ্দুছ নূরী দাখিল মাদ্রাসার “শাহ ওলী উল্লাহ্ এতিমখানা” এর ছাত্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রীয় বিতরণ করেন। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন-প্রতিটি মাদ্রসার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাও গ্রহন করতে হবে। কারিগরী শিক্ষা গ্রহন করলে শিক্ষার্থীরা কর্ম করেও জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তিনি বলেন-প্রত্যেক পরিবারের সন্তানদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। ছেলে-মেয়ে সুশিক্ষিয় শিক্ষিত হলে পরিবারে উন্নতি আসে। সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ থাকে।

    ইফতার সামগ্রীয় বিতরণীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ, আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূরুল ইসলাম, বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমরান হোসেন, শিবপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান তকছির মিয়া চৌধুরী, শিবপাশা শাহ আব্দুল কুদ্দুছ নূরী দাখিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য শাহ নুর উদ্দিন, হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম সুরুজ আলী, আজমিরীগঞ্জ প্রেসক্লাব ক্লাব সভাপতি স্বপন বণিক, সাংবাদিক শেখ আমির হামজা, মিল্লাদ মাহমুদ প্রমূখ।

    পরে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সৌলরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রীয় বিতরণ করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আলাউদ্দিন কা নপুরী, সাবেক মেম্বার আব্দুল হান্নান, ওমান প্রবাসী নজরুল ইসলাম, মিলন মিয়া প্রমূখ।

  • করোনা মহামারী মোকাবেলায় সরকারের সাথে সীমান্তিকের কার্যক্রম অব্যাহত

    করোনা মহামারী মোকাবেলায় সরকারের সাথে সীমান্তিকের কার্যক্রম অব্যাহত

    সারা বিশ্বে কোবিড-১৯ মহামারী আকার ধারণ করেছে। আর এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় কাজ করছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সীমান্তিক।

    ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলাতে করোনাকালীন প্রাথমিক ব্যবস্থাপনার জন্য ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য সেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ট্রায়াজ তৈরী করে দিয়েছে।
    ইউএসএআইডি-র অর্থায়নে সেইভ দা চিলড্রেন এর কারিগরি সহায়তায় এবং সীমান্তিকের বাস্তবায়নে এ সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    এসকল কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্প্রতি কোবিড-১৯ স্যাম্পুল সংগ্রহ এবং যথাসময়ে জেলা সদরে প্ররণের জন্য পোর্টারের যাতায়াতে অর্থ সহয়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে, যাতে করে অতিদ্রততম সময়ের মধ্যে করোনার স্যাম্পুল সংগ্রহ, জেলাতে প্রেরণ এবং রিপোর্ট পাওয়া যায়। চলতি মে মাস থেকে সীমান্তিক এ কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

    এবিষয়ে সীমান্তিকের উপ-নির্বাহী পরিচালক কাজী হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা সরকারের সাথে সমন্বয় করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছি, আমরা চাই দেশের প্রতিটি নাগরীক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এসে সুস্থ্যভাবে বেচে থাকুক।

    এবিষয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা অত্যান্ত ভাল উদ্যোগ, করোনাকালীন এই পরিস্থিতিতে সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার সহযোগীতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

  • নবীগঞ্জে মাদকের আস্তানায় অভিযান

    নবীগঞ্জে মাদকের আস্তানায় অভিযান

    রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নবীগঞ্জ উপজেলার ৭ নং ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে বিভিন্ন মাদকের আস্তানায় ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন, এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

    এ সময় চারজন ব্যক্তিকে হাতে নাতে মাদক সেবনের প্রস্তুতি ও মাদকদ্রব্যসহ মাদকের আস্তানা থেকে আটক করা হয়।

    তাঁদের কে বিভিন্ন মেয়াদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৯(খ) ও ৪২(১) ধারার অপরাধে ৩৬(১) অনুযায়ী (১. নিরঞ্জন সরকার- ০১ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১০০০০ টাকা অর্থ দন্ড- অনাদায়ে আরও ০১ মাস; ২. পারভেজ চৌধুরী- ০৬ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১০০০০ টাকা অর্থ দণ্ড- অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদন্ড; ৩. হৃদয় মিয়া – ০১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড; ৪. জয় চৌধুরী – ০১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড) জেল ও জরিমানা দন্ড প্রদান করা হয়।

    এছাড়াও ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে জুয়া খেলা, গাপ্পা খেলা ইত্যাদি বিষয়েও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

  • মাধবপুরে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ

    মাধবপুরে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

    রবিবার ইফতারের আগ মুহুর্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পুলিশ রেল গেইট এলাকা থেকে ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

    আটকৃতরা হল, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শৈলজুড়া জালালাবাদ গ্রামের মৃত সুরত আলী সরদারের পুত্র তছকির মিয়া মেম্বার ও গৌরবপুর গ্রামের ইয়াদুল হোসেন লুদনের পুত্র আশিকুর রহমান। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশী করে ৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

    গোলাম মোস্তফা জানান, দুইজন ৪ বোতল ফেনসিডিল নিয়ে হবিগঞ্জ আসছিল। কিন্তু পুলিশকে দেখে এক বোতল সেবন করে ফেলে। তাই ৩ বোতল জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

  • শহরের অনন্তপুর এলাকায় এক যুবকের আত্নহত্যার চেষ্টা

    শহরের অনন্তপুর এলাকায় এক যুবকের আত্নহত্যার চেষ্টা

    হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর এলাকায় অয়ন মিয়া (২০) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

    মূর্মুষু অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে তার অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। সে ওই এলাকার মৃত জলফু মিয়ার পুত্র।

    জানা যায়, রবিবার ইফতারের পর অয়ন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি।

  • হবিগঞ্জ শহরে টিসিবির ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    হবিগঞ্জ শহরে টিসিবির ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    হবিগঞ্জ শহরে টিসিবির ডিলারদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    আজ রবিবার বেলা দুইটার দিকে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিমতলায় ক্রেতাদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে। এক পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া খাতুন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ডিলারকে সতর্ক করেন।

    জানা যায়, সরকার কর্তৃক গরীব ও দুঃস্থ লোকদের জন্য টিসিবি পণ্য বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন জেলায় ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু হবিগঞ্জ শহরের ডিলার সুমন কান্তি রায় ও দলিল কান্তি রায় তারা প্রায়ই তাদের চিহ্নিত লোকদেরকে পণ্য সরবরাহ করে থাকেন। ক্রেতাদের অভিযোগ তাদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ ওজনে কম দেয়া হয়।

    এ ছাড়া চোরাইভাবে তেল, চিনি, ডাল বিভিন্নস্থানে বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিমতলায় সারিবদ্ধভাবে নারী পুরুষ পণ্য নিতে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। কিন্তু ডিলার সুমন ও দলিল এসব মানুষকে না দিয়ে সিরিয়াল ছাড়াই তাদের পছন্দের লোকদের পণ্য দিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে লাইনে দাড়ানো লোকদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়।

    খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এসে তাদেরকে সতর্ক করে দেন। এ বিষয়ে হবিগঞ্জের এনডিসি মোহাম্মদ জহুর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরকম অভিযোগ আরও এসেছে। যদি কোনো ডিলার এমন করে তাহলে অবশ্যই ডিলারশীপ বাতিলসহ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • হবিগঞ্জের সেই শতবর্ষী বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াল প্রবাসীরা

    হবিগঞ্জের সেই শতবর্ষী বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াল প্রবাসীরা

    সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকনঃ মাবিয়া খাতুন। বয়স ১০৫। বয়সের ভাড়ে নূইয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। নিজের পায়ে হাঁটারও মুরদ নেই। থাকেন ছেলের আশ্রয়ে। পান ব্যবসা করে অনটনে চলে ছেলের সংসার। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও সহ্য করতে হয় পুত্রবধূর অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত ছেলে আর ছেলের বউ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। রেখে আসে গাছতলায়।

    খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেন পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা। তাকে দেয়া হয় হুইল চেয়ার, নতুন শাড়ী, খাবার ও নগদ অর্থ। এ সময় ছেলে আর ছেলের বউ পুলিশের কাছে অঙ্গীকার করেন বৃদ্ধা মায়ের সাথে কখনও খারাপ আচরণ করবেন না। এদিকে গাছতলা থেকে বাড়ি ফিরে আনন্দে উদ্বেলিত মাবিয়া খাতুন। এবার সেই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালো প্রবাসীরা।

    প্রবাসীদের প্রতিষ্ঠিত সিলেটের জকিগঞ্জের ডা. আব্দুল হান্নান ট্রাস্ট তার খাবার, চিকিৎসাসহ ভরণপোষণের জন্য ১ লাখ টাকা অনুদান দেয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে তা পৌছে দেয়া হয়। এছাড়া বৃদ্ধা মাবিয়ার সেবা করার জন্য স্থানীয় একজন মেয়েকে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি নিজে তার বেতন পরিশোধ করবেন বলে জানান।

    আনন্দে উদ্বেলিত মাবিয়া খাতুন বলেন, আমার বয়স ১শ’ ছাড়িয়েছে। আমার ছেলে ভালো হলেও পুত্রবধূ আমাকে খেতে দিতোনা। এমনকি এক গ্লাস পানিও দিতোনা। আমি অসুস্থ, চলতে পারিনা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। এবার আমার সব সুযোগ হয়েছে। বাড়িতে উঠতে পেরেছি। খাবার পাচ্ছি। সেবা পাচ্ছি। এ সময় পুলিশ সুপারকে হাত ধরে তাকে বাবা সম্বোধন করে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা মাবিয়া।

    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, ছেলে আর ছেলের বউ মাকে গাছতলায় রেখে এসেছে, ফেসবুকে এমন মর্মান্তিক খবর দেখে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করি। বৃদ্ধার চলাচলের জন্য হুইল চেয়ার ও তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আর্থিক অনটন এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকেই মা বাবার প্রতি সন্তানরা এমন আচরন করছেন বলে মনে করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই যার যার অবস্থান থেকে এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিৎ।

    মাধবপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে বৃদ্ধার বিষয়টি অমরা সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনে রাখছি। তার সেবা করার জন্য একজন মেয়েকে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই মেয়ের মাসিক বেতন আমি নিজে পরিশোধ করবো।

    সিলেটের জকিগঞ্জের ডা. আব্দুল হান্নান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহসিন জানান, পুলিশ সুপারের ফেসবুক পেজে দেখে জানতে পারেন এমন অমানবিক ঘটনার খবর। এরপর তার বড় ভাই ট্রাস্টের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি আব্দুল মালিক নিজের বিবেকের তাড়ণা থেকে খবরাখবর নেয়ার জন্য বলেন। আমরা খবরাখবর নিয়ে জানালে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তার জন্য খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়।

    এ ধরণের মানবিক একটি কাজে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা খাবার ও টাকা সেখান থেকেই দিতে পারতাম। কিন্তু এ রকম একটি কাজের জন্য পুলিশ সুপারকে উৎসাহ দিতে এবং অনুপ্রেরণা দিতেই মূলত এসব নিয়ে এখানে এসেছি।

    জানা গেছে, জেলার মাধবপুর উপজেলার রিয়াজনগর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা মাবিয়া খাতুন। তার একমাত্র ছেলে তারা মিয়ার সাথেই থাকেন। তারা মিয়া একজন পান ব্যবসায়ী। কোন রকমে অভাব অনটনেই চলছে তাদের সংসার। এরই মাঝে তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন শ্বাশুড়ির সাথে অসদাচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে গ্রামের একটি গাছতলায় রেখে আসেন। বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এসএইচ উজ্জ্বল নিজের ফেসবুকে প্রচার করেন।

    তা দেখে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন মাধবপুর থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাককে। ওসি ঘটনাস্থলে পৌছে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে আপন ঠিকানায় পৌছে দেন। তিনি ছেলে ও ছেলের বউকে নিজেদের ভবিষ্যত পরিনতি কি হতে পারে তা বুঝান। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আর এমন করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

    এদিকে ওই বৃদ্ধার সহায়তায় এগিয়ে আসে সিলেটের জকিগঞ্জের ডা. আব্দুল হান্নান ট্রাস্ট। রোববার প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধি দল খাবার হিসেবে ৩ বস্তা চাল, ১০ লিটার তেল, ছোলা, ডাল, চিনি, লবন, বিভিন্ন রকমের মসলাসহ ফলমুল নিয়ে হাজির হন পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।

    সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মহসিন আল মুরাদ, মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক, ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহসিন, সদস্য মো. হারুনুর রশিদ, সাংবাদিক মোহাম্মদ নাহিজ, মো. ফজলুর রহমান, হারুনুর রশিদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী রোটারিয়ান আজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল, জকিগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদৌস আলম, সাংবাদিক আল মামুন, এনাম আহমেদ প্রমূখ। পরে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে এসব পণ্য ও টাকা পৌছে দেয়া হয়।