শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় সুতাং নদীর উপর পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। ব্রীজটি নির্মাণ হলে সুতাং বাজার থেকে বাছিরগঞ্জ বাজারে আসা-যাওয়ার সুবিধা সৃষ্টিসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।
এমপি আবু জাহির গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রীজ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজটি নির্মাণ করছে।
ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মিনহাজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আদিল জজ মিয়া, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গাজিউর রহমান ইমরান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তা আক্তার, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল্লাহ সরদার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মাজেদুল ইসলাম, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসহাক আলী সেবন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে এমপি আবু জাহির সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় সঠিকভাবে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া নির্মাণ কাজে অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
হবিগঞ্জ সদর লাখাই শায়েস্তাগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন গঠন করেছিলেন, সারা দেশে ইসলামের খেদমত করার জন্য আলেম উলামাদের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
কিন্তু আজ সারা দেশে হেফাজতের নামে কিছু সংখ্যান বিভ্রান্ত লোক দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করতে চাচ্ছে। তাদের সেই স্বপ্ন কখনো বাংলার মাঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরণ হতে দেবেন না।
তিনি মঙ্গলবার (২৫মে) ইসলামীক ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে বিশ্বব্যাপি বিদ্যমান প্রাণঘাতি করোনা পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ জেলার ১৬ টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আপতকালীন সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য একথা বলেন।
ইসলামিক ফাউণ্ডেশন হবিগঞ্জের উপপরিচালক শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শেখ আবুল ফজল, হাফেজ মাওলানা সামছুল হক মুসা, মুফতী আলমগীর হোসেন, মাওলানা আমিনুল হক, মাওলানা আব্দাল হোসেন খান, ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা সৈয়দ জিয়াউর রহমান।
এসময় জেলার ১৬ টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩১ জন শিক্ষকদের মাঝে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আপতকালীন সহায়তা প্রদান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন অনুদান প্রদান করা হয়।
বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক, সু-সাহিত্যিক, কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা কবি শায়খ তাজুল ইসলাম “কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন” সিলেটের উপদেষ্টা মনোনিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২৪শে মে সেমবার, হবিগঞ্জ অস্থায়ী কার্যালয়ে, কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কবি উমর ফারুক শাবুলের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ আশরাফের পরিচালনায় অনুষ্টিত সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবর্ধিত ব্যক্তি কবি শায়খ তাজুল ইসলাম।
আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা করেন- সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ রহমতুল বারী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ নিউজ পত্রিকার সম্পাদক শরিফ চৌধুরী, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শেখ সেবুল আহমেদ, কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মুফতি বিলাল আহমদ চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সদর থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথি বৃন্দ সংবর্ধিত ব্যক্তি শায়খ তাজুল ইসলাম এর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। এবং শায়খ তাজুল ইসলামের সদ্য লিখিত “আমার ছায়া আমার বাবা “হৃদয়ের ধ্বনি কাব্য বাণী” গ্রন্থ দুইটি অতিথি ও স্রোতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘ তের বছর পর ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে মাত্র আট বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া হাসনা বানু খুঁজে পেল তার পিতা-মাতাকে। হাসনা বানু ২০০৮ সালের জুলাই মাসে পিতামাতার কাছ থেকে দূর্ঘটনাবশত হারিয়ে যায় চট্টগ্রামের রাউজানে। তার পিতা মাতার গ্রাম ছিল পিরোজপুর এর মঠবাড়িয়ায়।
ভাগ্যের অন্বেষণে এক সময় তার পিতা মাতা রাঙ্গামাটিতে বসতি গড়তে আসেন। রাউজানের এক সহৃদয় ব্যক্তি সে সময় হাসনা বানু কে খুঁজে পান। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ২০০৮ সালের ১২ ই আগস্ট হাসনা বানুর ঠিকানা হয় তৎকালীন চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার জনাব মাহবুবুল হাসান এর পরিবারে।
২০০৮ সাল থেকেই নিজের মেয়ের মতোই তিনি লালন পালন করতে থাকেন হাসনা বানুকে। জনাব মাহবুবুল হাসান ২০১৯ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটিকে সুপাত্রের হাতে তুলে দিতে এবছর প্রস্তুতি শুরু করেন জনাব মাহবুবুল হাসান। এক্ষেত্রে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং এনআইডির।
হারিয়ে যাওয়া হাসনা বানু।
পিতা মাতা বিহীন মেয়েটির এনআইডি কিংবা জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে শুক্রবার দুপুরে (২১ মে, ২০২১) প্রয়োজনীয় পরামর্শ করেন তার অগ্রজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রির স্বনামধন্য অধ্যাপক ডঃ মোঃ মোজাফফর হোসাইন এর সাথে। অধ্যাপক ডঃ মোঃ মোজাফফর হোসাইন তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রাক্তন ছাত্র সত্যজিতকে ফোন দেন।
সত্যজিত রায় দাশ কর্মরত আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায়। নিজ শিক্ষকের কাছ থেকে হাসনা বানুর বিবরণ জেনে তার পিতা মাতাকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন ইউএনও সত্যজিত।
আট বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট হাসনা বানু তার স্মৃতিতে পিতা এবং মাতার নাম ব্যতীত অন্য কোন তথ্যাদি মনে রাখতে পারেনি। কেবলমাত্র এই দুটি নাম দিয়ে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে থেকে তার পিতা-মাতাকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব বিষয়। এক্ষেত্রে সত্যজিত সহযোগিতা নেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজপ্রতিম জনাব বেদারুল ইসলামের।
তিনি কর্মরত আছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে টেকনাফে। জনাব বেদারুল ইসলামকে জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার থেকে মেয়েটির পিতা-মাতাকে খুঁজে বের করার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান ইউএনও সত্যজিত। বেদারুল জাতীয় তথ্য ভান্ডার থেকে কেবলমাত্র মেয়েটির পিতা ও মাতার নাম দিয়ে অনুসন্ধান করে শতশত নামের মধ্যে থেকে কাঙ্খিত পরিবারটিকে খুঁজে বের করার প্রয়াস চালান। বিশাল ডাটাবেজ থেকে হাসনা বানুর পিতামাতাকে শনাক্ত করতে ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতি অনুসরণ করেন তিনি।
শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটায় রাঙ্গামাটি লংগদু উপজেলা মাইনীমুখ এলাকায় দুই বোনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় যাদের পিতা-মাতার নামের সাথে হাসনা বানুর দেয়া বিবরণ এর আশ্চর্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বেদারুল রাতেই বিষয়টি ইউএনও সত্যজিতকে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবেই সত্যজিত তার ব্যাচমেট লংগদুর ইউএনও জনাব মঈনুল আবেদীন মাসুদের নজরে আনেন এবং তাকে এই পরিবারটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যাদি অনুসন্ধানের জন্য অনুরোধ করেন।
পরদিন শনিবার ইউএনও মাইনুল আবেদিন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সহায়তায় পরিবারটির তথ্যাদি সংগ্রহ করেন এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রাউজানে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসনা বানু পরিবারকে লংগদুতে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি মেয়েটির আশ্রয়দাতা জনাব মাহবুবুল হাসান এবং তার অগ্রজ অধ্যাপক ডঃ মোঃ মোজাফফর হোসাইনকে নিশ্চিত করলে তাদের পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। হাসনা বানু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন তার পিতা-মাতাকে একনজর দেখার জন্য।
রবিবার সকালে লংগদুর ইউএনও মাইনুল আবেদিন মাসুদের ডাকে সাড়া দিয়ে তার কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হন হাসনা বানুর পিতা জনাব মজিবুর রহমান এবং মাতা ফরিদা বেগম। বেলা ১২ টায় ইউএনও সত্যজিত মেয়েটিকে এবং তার পিতা-মাতাকে ভিডিও কলে সংযুক্ত করেন। এ সময় ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন মেয়েটির আশ্রয়দাতা মাহবুবুল হাসান, অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাফফর হোসাইন, ইউএনও লংগদু জনাব মঈনুল আবেদীন মাসুদ, ইউএনও বাহুবল জনাব স্নিগ্ধা তালুকদার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা টেকনাফ বেদারুল ইসলাম।
দীর্ঘ ১৩ বছর পরে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসনা বানুর পিতা মাতা। হাসনা বানুর চোখে জল গড়িয়ে পড়ে অঝোর ধারায়। তাদের আবেগঘন মিলন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভিডিও কলে সংযুক্ত অন্য সকলেও।
কেবলমাত্র সরকারের তথ্যভাণ্ডারের উপর নির্ভর করে দীর্ঘ ১৩ বছর হাসনা বানু ফিরে পায় তার পিতা-মাতাকে। মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে বাংলাদেশ এর জাতীয় তথ্য ভান্ডার ১৩ বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া হাসনা বানুকে ফিরিয়ে দিয়েছে তার পিতা-মাতার কাছে। হাসনা বানুর পিতা মাতা ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে এবং সরকারি কর্মচারীদের কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ফিরে পেলেন ৮ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া তার অত্যন্ত আদরের মেয়েটিকে।
কোটি মানুষের আশা এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ এক ঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে প্রতিদিন তৈরি করছে এমন অসংখ্য অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প।
ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি বর্তমান প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও শুভ চেতনার বাতিঘর। তাঁর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে প্রতিনিয়ত হাসনা বানুর মতো হাজারো পরিবারের মুখে হাসি ফুটছে সারা বাংলাদেশ জুড়ে।
বি:দ্র: এরূপ হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য মানুষকে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এই ঘটনাটি অনুপ্রেরণা হতে পারে। সেসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরতে সত্যি ঘটনাটি শেয়ার করা হলো। সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
লাখাই উপজেলার প্রধান ও দীর্ঘতম সুতাং নদীতে হবিগঞ্জের উজানে শাায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে গড়ে উঠা শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য নির্গমনের বিরুদ্ধে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৪ মে) বিকাল ৩ ঘঠিকায় উপজেলার স্থানীয় বুল্লা বাজারে লাখাই বাঁচাও সুতাং বাঁচাও প্রজন্ম বাঁচাও এ প্রদিপাদ্যকে সামনে রেখে সর্বস্তরের জনতার উপস্থিতিতে মানববন্ধন পালিত হয়েছে।
লাখাই থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও যুবলীগ নেতা আব্দুল মমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা তাফাজ্জুল হক।
বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ জুয়েল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. খোকন চন্দ্র গোপ সৌরভ, শফিকুল ইসলাম, লাখাই রিপোর্টার্স ইউনিটি ও হপা-লাখাই কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ বাহার উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাশুকুর রহমান মাশুক, নুরুল আলম সোহেল, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল মজিদ চৌধুরী শাকিল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশিক আহমেদ রাজিব, মুর্শেদ কামাল, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল আলম রনি, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আজম।
মানববন্ধনে বক্তাগন বলেন লাখাই উপজেলার প্রাণখ্যাত সুুতাং নদীতে শিল্পলারখানার বর্জ্য নিঃসরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে অন্যথায় লাখাইবাসী দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।
বক্তাগন আরো বলেন, আমরাও শিল্পায়ন চাই তবে তা কৃষিকে ধ্বংস করে নয়। জীবন্তসত্বা সুতাং নদীকে শিল্প বর্জ্যের কবল থেকে রক্ষার্থে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্রকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।
আজ ২৪মে ২০২১ বিকাল ৩ ঘটিকায় জুম এ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনূর্ধ্ব ১৭) ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালিকা (অনূর্ধ্ব ১৭) আয়োজন সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ ইশরাত জাহান। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব বিজেন ব্যানার্জী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, মেয়র, হবিগঞ্জ পৌরসভা, ডেপুটি সিভিল সার্জন, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ সভার অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
আগামী ৪-৮ জুন জেলা পর্যায়ের খেলা সমূহ হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন ধান জাত উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লব নিয়ে আসতে হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে যুগউপযোগী তথ্য এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধান চাষে আরো উৎসাহী করে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের মাটি যেকোন চাষ উপযোগী এবং সম্ভাবনাময় মাটি, তাই সঠিক সময়ে বীজ সংরক্ষণ করে বীজ রোপন করতে হবে। বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিকায়নের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি সংযোজন করেছে বলে দেশে আজ খাদ্য ঘাঠতি দেখা দেয় না।
তিনি আজ সোমবার (২৪ মে) সকাল ১০টায় জেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে বিনা উদ্ভাবিত আউশ মৌসুমে চাষের উপযোগী জাত সমুহের উৎপাদন ও বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
উপপরিচালক কৃষি বিভাগ হবিগঞ্জ মোঃ তমিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আশেক পারভেজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষি নয়ন মনি সূত্রধর, বিনা উপ কেন্দ্র সুনামগঞ্জের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাকিব, উপ কেন্দ্রের মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
২ব্যাচ প্রশিক্ষণে জেলার মোট ৬৫ জন কৃষক উক্ত প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহন করেন।