Category: হবিগঞ্জ

  • আওয়ামীলীগ সভাপতি মুকুল সহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে প্রবাসীদের ভাচুর্য়াল প্রতিবাদ সভা

    আওয়ামীলীগ সভাপতি মুকুল সহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে প্রবাসীদের ভাচুর্য়াল প্রতিবাদ সভা

    নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনার সাতাইহাল গ্রাম সহ ছয়মৌজায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে হয়রানি বন্দ করতে ও নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল সহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কমিউনিটি প্রবাসীদের মধ্যে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷

    প্রতিবাদ সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন শামসুউদ্দীন আহমদ এমবিএ ও নুরুল ইসলাম ৷ কোরান তেলাওয়াত করেন শেখ ফরহাদ সাদউদ্দিন ও সভা পরিচালনা করেন একেএম মোফাজ্জল হাসান (শ্যামল)।

    ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভায় ছয় মৌজার মুরব্বিয়ানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হারুনুর রশিদ, শাহজাহান মিয়া একেএম মাজহারুল হাসান (শেবু), মো:দুরুদ মিয়া, মিলাদুর রহমান মিলাদ, মাহবুবর রহমান মান্না, কামরুল হাসান, রাসেল আনসারি, সুমন আহমদ, ফুল মিয়া, রাহিন আহমদ, আনিসুর রহমান পাবেল, জুমুর রহমান প্রমুখ৷

    প্রবাসীরা তাদের প্রতিবাদ সভায় দিনারপুরের ছয়মৌজার লোকজনের উপর হামলা ও মিথ্যা মামলার জন্য দুষ্কৃতিকারীদের প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন৷ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার কৃতদের দ্রুত মুক্তি প্রদান করতে প্রশাসনের প্রতিও জোর দাবি জানান ৷

    প্রবাসীগন তাদের বক্তব্য বলেন, ১১নং গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরউদ্দীন আহমদ (বীরপ্রতিক) নোয়াগাঁও গ্রামের পাশ্ববর্তী মৎস্য ফিসারীতে গত ২৭ মে বৃহস্পতিবারে গভীর রাতে তার কর্মরত পাহাড়াদার আবুল মিয়া (২৫) ও স্ত্রী ঝাডু বেগম (২০)কে বেঁধে রাখে৷ এসময় তার সামনে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

    পরে তাদেরকে চিনতে পারার ফলে নোয়াগাও গ্রামের হামলাকারীরা এলোপারি কুপিয়ে তাদেরকে ক্ষতবিক্ষত করে মৃতভেবে ফেলে রেখে চলে যায়৷ মুমূর্ষ অবস্থায় স্বামী স্ত্রীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়৷

    পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা নুরউদ্দীন আহমদ বাদী হয়ে ধষর্ণ কারী ও সন্ত্রাসী লোকজনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এতে পুলিশ প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় ভার্চুয়াল সভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়৷

    পরবর্তীতে ৩০ মে রবিবার সাতাইহাল ও ছয়মৌজার গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিলে ১১ নং গজনাইপুর ইউনিয়নের বারবার নিবাচিত চেয়ারম্যান এমদাদুর রহমান মুকুল সহ সেখানে অনেক মুরুব্বি উপস্থিত ছিলেন।

    পরিস্তিতি শান্ত করতে ইউএনও শেখ মহি উদ্দীন ও থানার অফিসার ইনচার্জ ডালিম আহমেদ উপস্থিত লোকজনকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে ছয়মৌজার লোকজন ঘরে ফিরে যায়৷

    কিন্তু ঘোলাপানিতে মাছ স্বীকার করতে নোয়াগাঁও গ্রামের উৎশৃঙ্খল ও দৃষ্কৃতিকারীরা কয়েকটি ঘরে আগুন লাগিয়ে ছয়মৌজাবাসীকে হয়রানী করতে মিথ্যামামলা দায় করে৷

    মামলার অভিযোগে গ্রেফতার হন আওয়ামীলীগের নবীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ও ১১ নং গজনাইপুর ইউনিয়নের বারবার নিবাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ আরো অনেকেই।

    ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভা থেকে প্রনাসীরা অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি করেন । তার সাথে সাথে ছয়মৌজার জনসাধারণকেও হয়রানি বন্ধের জোড় দাবি জানান।

  • নবীগঞ্জে মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন মেয়াদে ৮ জনকে সাজা

    নবীগঞ্জে মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন মেয়াদে ৮ জনকে সাজা

    নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউসা পয়েন্টে ও পানিউমদা ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৮ জুয়াড়িকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন । পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ জুন ) রাত ৯ টায় নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

    জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সহকারে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউসা পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    এসময় একটি কক্ষ থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় বাউসা ইউনিয়নের বাউসা গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুর রব মিয়া (৩৪), শফিক আলীর ছেলে শওকত আলী (২৮), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শাফিজুল ইসলাম (২৮), মৃত রঙ্গিলা মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া (২৬) কে আটক করা হয়।

    পরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনে আটককৃত ৪ জনকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

    অপর দিকে পানিউমদা ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলা অবস্থায় একটি দোকান থেকে বড়গাঁও গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে মহিউদ্দিন আহমদ (৪২), মৃত আছকির মিয়ার ছেলে মোতাব্বির হোসেন (৪০), মৃত আব্দুস সত্তারের ছেলে সফিকুল ইসলাম (৪৫) আটক করা হয়।

    পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ জনকে বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

    খেলার স্থান করে দেয়ায় দোকানী বড়গাঁও গ্রামের আজগর আলীর ছেলে রুস্তম আলী (৪০) কে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

    নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর ইন্তেকালে জেলা আওয়ামী লীগের শোক

    বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর ইন্তেকালে জেলা আওয়ামী লীগের শোক

    ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ এর উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মোঃ ফজলুর রহমান চৌধুরীর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।

    বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

    নেতৃবৃন্দ মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির পিতার মৃত্যুতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক

    হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির পিতার মৃত্যুতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক

    হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    এক শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান নেতৃবৃন্দ।

    প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাসুদ আলী ফরহাদ জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুতে আমার একজন সৎ, জ্ঞানী সাদা মনের মানুষকে হারালাম।

  • লাখাইয়ে  বিউটিফিকেশন কোর্স ও ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

    লাখাইয়ে বিউটিফিকেশন কোর্স ও ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

    হবিগঞ্জের লাখাইয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী আয়বর্ধকমূলক বিউটিফিকেশন কোর্স ও ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ( ১০ জুন) লাখাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমবায় অফিসার ইসমাইল তালুকদার রাহির পরিচালনায় ও লাখাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজংয়ের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাখাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ।

    এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাখাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াছিন আরাফাত রানা, জেলা সমবায় অফিসার তানিয়া সুলতানা প্রমূখ।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলার সমবায় সমিতির ২৫ জন নারী সদস্যের মধ্যে প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ করা হয়।

  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক

    বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক

    হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি চ্যানেল আই ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ১১ নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার, ভাষাসৈনিক ও জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোঃ ফজলুর রহমান চৌধুরী বাধ্যক জণিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজিউন)।

    তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় হবিগঞ্জ শহরের ইনাতাবাদস্থ বাস ভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃতকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৮ পুত্র, ১ কন্যা, নাতি, নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

    তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মরহুমের আত্মীয় স্বজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, সাংবাদিকসহ আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শেষ বারের তাকে দেখান জন্য বাস ভবনে এসে ভীর করছেন।

    তার মৃত্যুতে জেলা জুড়ে নামে আসে শোকের ছায়া। বাদ জোহর মরহুমে ১ম জানাজার নামাজ শহরের টাউন মসজিদ (চাঁন মিয়া) মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজার নামাজ পূর্ব মরহুমের ভাগ্নে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম, বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ পত্রিকার সম্পাদক হারুনুর রশিদ চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট তাজ উদ্দিন সুফী, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান আউয়াল, টাউন মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু সালেহ শিবলী, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহব্বায়ক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান সদাগর, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আতাউর বর চৌধুরী মসনু, মরহুমের বড় ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ প্রমূখ।

    বক্তারা বলেন- মরহুম ফজলুর রহমান চৌধুরী একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক ছিলেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে রেখেছেন অসামন্য অবদান। তার এই অবদানের কথা আজীবন স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

    Fojlu-Rahman-Chowdhury

    তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন মাওলানা গোলাম মোস্তফা নবীনগরী।

    জানাজার নামাজ শেষে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এর নেতৃবৃন্দ।

    মরহুমের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজগ্রাম আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের সৌললী গ্রামে। সেখানে শেষবারের মত দেখার জন্য মরহুমের আত্মীয় স্বজনসহ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো লোকজন এসে ভীড় জামান।

    শুধু আজমিরীগঞ্জ নয়, কিশোরগঞ্জ জেলা মিটামইন, ইটনা, সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রেণী পেশার লোকজন তাকে শেষ বারের মত দেখার জন্য ভীড় জামান।

    সেখানে প্রথমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধাঞ্জলী দেন। পরে আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গার্ড অব অনার প্রদান এবং ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন।

    Fojlu-Rahman-Chowdhury

    পরে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন মরহুমের ছেলে ক্বারী উবাদুর রহমান চৌধুরী। জানাজার নামাজ পূর্ব মরহুমের ভাগ্নে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নূরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য নজমূল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধ রাশিদুল হাসান চৌধুরী শিবলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মর্তুজ আলী, মরহুমের ভাতিজা হুমায়ূন চৌধুরী, বড় ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফাহিম চৌধুরী প্রমূখ।

    এ সময় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান বলেন- জাতীয় জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারা দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে বিভিন্ন এলাকায় শক্র মুক্ত করেছেন ফজলুর রহমান চৌধুরী। তার এই অবদানের কথা আজীবন এ দেশে স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

    তিনি বলেন-ব্যক্তি জীবনে ফজলুর রহমান চৌধুরী ছিলেন অত্যান্ত ভালো মানুষ। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

    এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন-ফজলুর রহমান একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তিনি এলাকার মানুষের সুখ দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এলাকায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার জন্য স্কুল, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    তিনি সৌরলী হাইস্কুল প্রতষ্ঠা করেছেন এবং এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া শিবপাশা সড়ক বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

    Fojlu-Rahman-Chowdhury

    জানাজার নামাজ শেষে সৌলরী কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে দুপুরে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের নির্দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুর গভীর শোক প্রকাশ ও ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরী ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ জাতীয়র জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।

    শুরুতে তিনি ভারতে ঢাল ক্যাম্পের ট্রেনিং ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১১নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি অভ্যন্তরীন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, কিশোগঞ্জের অটগ্রাম, নিকলী, ইটনা, নেত্রকোনার কলমা কান্দ, সুনামগঞ্জের তাহেরপুর ময়মনসিংয়ে বালুকা ও ফুলপুর থানা হানাদার মুক্ত করা হয়।

    যুদ্ধ শেষে তিনি ১৯৭২ সালে আজমিরীগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠা কমান্ডার নির্বাচিত হন। ৩২ বছর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

    বীরমুক্তি ফজলুর রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাগ্নে ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সাবেক সফলমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ এর ফুফাত ভাই।

    তিনি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী ও নিউয়ার্ক মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীর আপন মামা।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরী
    বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরী।

    দিকে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরী মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য সদস্য ও হবিগঞ্জ আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির।

    তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

    হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর ইন্তেকাল, হবিগঞ্জ নিউজের শোক প্রকাশ

    এছাড়াও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদের বাবা জাতীয় শ্রেষ্ট সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী শাহনওয়াজ মিল্লাদ, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শংকর পাল, হবিগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সজীব আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ফ্রান্স প্রবাসী ফেরদৌস করিম আখনজী, হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান টিভির হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম সুরুজ আলী, বানিয়াচং উপজেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম আখনজী প্রমূখ।

  • বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৭৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেছেন এমপি আবু জাহির

    বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৭৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেছেন এমপি আবু জাহির

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে টিআর কর্মসূচির (২য় পর্যায়) চেক বিতরণ করেছেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির।

    গত বুধবার সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রায় ৭৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন তিনি। এ সময় এমপি আবু জাহির সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের জন্য উপকারভোগী প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সরকারি কর্মকর্তাগণের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।

    চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বর্ণালী পাল। এ সময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা বেগম, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মুকিত, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন, ফরহাদ আহমেদ আব্বাস, মাহবুবুর রহমান হিরো ও মোঃ আনু মিয়াসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।