হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে কভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রনে কাজ করার জন্য সমাজের নেতৃস্থানীয় সমাজপতি ও সর্দারগনের সাথে মতবিনিময় অনুষ্টিত হয়েছে। বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্টিত হয়।
১২ জুলাই সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ মতবিনিময় সভা করা হযেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমীন,হাসিনা আক্তার,ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামসুল হক, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ওয়ারিশ উদ্দিন খান, বড়বাজার ব্যাকসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, শেখ শাহনেওয়াজ ফুল প্রমূখ।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন মহল্লার সর্দারগন বলেন, সরকার ও রাষ্ট্রের আইন মেনেই চলতে হবে। এছাড়া ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কাজও করা যাবেনা।
করোনা ভাইরাস থেকেও আমাদেরকে মুক্ত থাকতে হবে। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা দরকার।
আমাদেরকে অবশ্যই স্বস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় লকডাউনের নির্দেশনা অমান্যের করার দায়ে ৮ ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থ দন্ড করা হয়েছে।
লকডাউনের ১২ তম দিনে সরকারি বিধি প্রতিপালনে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাধবপুর উপজেলা সদর ও পৌর শহরের বিভিন্ন যায়গায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
এ সময় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং নির্দেশনা অমান্য করায় ৮ ব্যক্তিকে মোট ১ হাজার ৯ শত টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহিউদ্দিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বক্তিয়ারের নেতৃত্বে একদল সেনা উনাকে সহযোগিতা করেন।
এস. এম. সুরুজ আলীঃ হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম) এর বিদায় ও নবাগত পুলিশ সুপার এস.এম. মুরাদ আলীর আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। আজ দুপুরে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শৈলেন চাকমা সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার শিমুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, হবিগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আবুল খয়ের, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মহসীন আল-মুরাদ, হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এসএম সুরুজ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছানু মিয়া।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম) বলেন, হবিগঞ্জের মানুষ অত্যান্ত ভালো ও সহজ সরল টাইপের। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর সকল শ্রেণীর বিভিন্ন রাজনীতি দল, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, আইনজীবি, সাংবাদিকদের সাথে হবিগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য মতবিনিময় করেছি। বিভিন্ন স্কুল কলেজ, মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের সমাবেশ করেছি। এসব সমাবেশে হবিগঞ্জকে কি ভাবে দাঙ্গা মুক্ত করা যায় সেই বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। যার ফলে হবিগঞ্জকে দাঙ্গা মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, শুধু দাঙ্গাই নয়, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, মাদককে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। করোনার এই পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেছি। শুধু আমি নয়, আমার সকল পুলিশ সদস্য জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন। সব সময় হবিগঞ্জকে পূর্ণ জেলা হিসেবে রাখার চেষ্টা করেছি। বিদায়ের মহুর্তে হবিগঞ্জবাসী তাদের ভালোবাসা দিয়ে এর মূল্যায়ন করেছেন। সেখানেই যাই না কেন সব সময় হবিগঞ্জবাসীর কথা আমার আজীবন স্মরন থাকবে। হবিগঞ্জবাসী যেন সুখে শান্তিতে থাকেন এটাই আমার কামনা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, কনস্টেবল থেকে এসআই সকল কাজকেই আমি মূলায়ন করে তাদের সম্মানিত করেছি। আপনারা যারা অফিসার রয়েছেন তারা জুনিয়র অফিসারদের কাজের মূল্যায়ন করবেন এবং তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহিত করবেন। নিজের দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে নবাগত পুলিশ সুপার এস.এম. মুরাদ আলী বলেন, যে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সে দেশে উন্নয়নও হয় না। আমাদের দেশে যেমন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেমনি উন্নয়ন বাড়ছে।
এস. এম. মুরাদ আলী আরো বলেন, আমি মেহেরপুর জেলায় ২ বছর পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করেছি। এক সময় মেহেরপুর জেলা সন্ত্রাসী প্রবল এলাকা ছিল। দায়িত্ব নেয়ার পর সেখান থেকে সন্ত্রাস মুক্ত করেছি। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি যেখানেই যাই কেন? সেই এলাকাকে ভালো রাখাই আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। ইনশাল্লাহ সকল সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে হবিগঞ্জকে ভালোই রাখবো।
নবাগত পুলিশ সুপার এস. এম. মুরাদ আলী।
এ জন্য হবিগঞ্জবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা সততা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেমন তিনি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ড করে হবিগঞ্জবাসীর মন জয় করেছেন। তা হবিগঞ্জবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত পুলিশ সুপার এস. এম. মুরাদ আলীকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করা হয় এবং বিদায়ী পুলিশ সুপারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া উপহার দেয়া হয়।
পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা তার কার্যালয়ে এসে নবাগত পুলিশ এস. এম. মুরাদ আলীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে তিনি তার কর্মস্থল ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
এ সময় তিনি যেমন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তেমনি তার সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় দেন।
করোনা আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ১জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল হক (৭০) জুলাই মাসের ৭ তারিখে করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি হন। ৮জুলাই করোনা পরীক্ষা করার জন্য তার স্যম্পুল সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসলে ১১জুলাই সকালে তাকে সিলেটে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১জুলাই সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মৃত্যু বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য যে, এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু সংখ্যা ২৪ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ৩২১০ এবং সুস্থ ২১৩২জন।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২১ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে (দেশের সেরা) শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) নির্বাচিত হয়েছেন লাখাইয়ের ডাঃ মোঃ ফরাস উদ্দিন।
রবিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে (এপ্রিল ২০২০) হতে (মার্চ ২০২১) পর্যন্ত সময়কালে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করায় লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ডাঃ মোঃ ফরাস উদ্দিন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ডাঃ মোঃ ফরাস উদ্দিন জানান, “আমাকে দেশের সেরা হিসেবে নির্বাচিত করায় আমি আনন্দিত ও গর্বিত। তবে আমার এ সাফল্য একার নয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ এবং করাব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ সহ কেন্দ্রের কর্মরত সহকর্মীদের সার্বিক সহযোগীতায় আমার এ অর্জন।”
তিনি আরো বলেন, “আমাকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের প্রতি কৃর্তজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।”
হবিগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী গতকাল (রবিবার) বিকেলে হবিগঞ্জে এসে পৌঁছেছেন৷ আজ (১২ জুলাই) সোমবার তিনি দায়িত্বভার গ্রহন করবেন বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ (বিপিএম, পিপিএম) এর কাছ থেকে৷
এর আগে গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার পদে রদবদল করে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলীকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়৷
একই সঙ্গে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম পিপিএম) কে পুলিশ অধিদফতরে সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম পিপিএম)
নবাগত পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী মেহেরপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, চোরাচালান ওয়ারেন্ট তামিলসহ বিভিন্ন মানদণ্ড মূল্যায়নে খুলনা রেঞ্জের সেরা পুলিশ সুপার হিসাবে ১ম স্থান অর্জন করেন।
তিনি মেহেরপুর এর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও ডিএমপির দক্ষিণ এর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷
নবাগত এবং বিদায়ী দু’জনেই ২৪ তম বিসিএস এর মাধ্যমে চাকুরীতে যোগদান করেন৷
এদিকে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বদলি হওয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।
করোনার এই সংকটময় মুহূর্তে গরিব-দুস্হ ও অসহায় জনসাধারণের পাশে দাড়িয়ে ইতিমধ্যেই তিনি মানবিক পুলিশ সুপার হিসেবে হবিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করেছেন৷
করোনা আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জে এক মহিলা মৃত্যুবরণ করেছেন৷ মৃত্যুবরণকারী মহিলার নাম মনোয়ারা বেগম ( ৬৫)৷ তার বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলায়৷
জানা যায়, করোনাক্রান্ত হলে গত ৩ জুন ওই মহিলা নমুনা পরীক্ষা দিলে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ তারপর থেকেই অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তিনি সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন৷ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুবরণ করেছোন ২৩ জন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোখলেসুর রহমান উজ্জ্বল৷