সৈয়দ সালিক আহমেদ।। হবিগঞ্জে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মাস্ক ব্যবহার না করা এবং প্রকাশ্যে উন্মুক্ত স্থানে ধুমপান করার অপরাধে মামলা ও জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশ গেইটে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহাকরী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমীন পাপ্পা এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
এসময় বেশ কিছু পথচারী এবং টমটম অটোরিকশায় আরোহনকারীকে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে মামলা ও জরিমানা করা হয়।
একই সময়ে প্রকাশ্যে উন্মুক্ত স্থানে ধুমপান করার অপরাধে ২জনকে মামলা ও জরিমানা করেছেন সহাকরী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমীন পাপ্পা।
এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অটোরিকশা চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রী পরিবহনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া কোনভাবে আদায় করা যাবেনা।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সদর থানার পুলিশ সদস্য সহায়তা প্রদান করেন।
বাহুবল মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ত্রৈ-বার্ষিক কাউন্সিল সভা আজ বুধবার (১৫সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট ও সহকারী লিডার ট্রেনার মো. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বার্ষিক ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গ্রুপ সম্পাদক আল সায়েম শাকিল।
সভায় উপস্থিত কাউন্সিলগণের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২০২১-২০২৪ -এর জন্য বাহুবল মুক্ত স্কাউট গ্রুপের গ্রুপ কমিটি গঠন হয়।
প্রাক্তন জাতীয় উপকমিশনার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব-স্কাউটার মো. হারুন -অর -রশিদকে গ্রুপ সভাপতি ও স্কাউটার আল সায়েম শাকিল কে গ্রুপ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট গ্রুপ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সহ সভাপতি বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেনার ও আঞ্চলিক উপকমিশনার-বাঃস্কাঃ সিলেট অঞ্চলের প্রমথ সরকার, আবু নাসের মোহাম্মদ শাহিন, লোকমান হোসেন সায়েম, ইমরান আলী মামুন, যুগ্ম সম্পাদক-জহিরুল ইসলাম লিমন, কোষাধ্যক্ষ-পুটিজুরী এস.সি.উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পংকজ কান্তি গোপ, গ্রুপ স্কাউট লিডার- ইশরাত জাহান সাদিয়া,অভিভাবক সদস্য- বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপা দত্ত, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে- রাজু আহমেদ, ইমরান হোসাইন, হাবিবুর রহমান তালুকদার, আব্দুল কাইয়ুম সুজন, নিজাম উদ্দিন দুলন।
অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন স্কাউট নাবিল চৌধুরী।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ৭নং জগদীশপুর ইউনিয়নের খাটুড়া নামক স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দিন মোঃ রেজা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
তবে এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তিগণ পালিয়ে যায়।
পরবর্তীকালে আবারো ঘটনাস্থল সমূহে অভিযান চালিয়ে ২ টি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় দেড় কি.মি. সুদীর্ঘ ড্রেজার পাইপসহ বালু উত্তোলনের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
আটককৃত ড্রেজার পাইপসহ বালু উত্তোলনের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ উপস্থিত লোকজনের সামনে বিনষ্ট করা হয়।
এবিষয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দিন মোঃ রেজার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে এঅভিযান পরিচালনা করা হয়।
এক সময় চারদিকে হবিগঞ্জের লাখাইয়ের মৃৎশিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসাবে বেশ খ্যাতি ছিল। এ পেশার সাথে জড়িতদের জীবনযাপন ছিল স্বচ্ছল।
কিন্তু কালের বিবর্তনে দিনবদলের পালায় তাদের সে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য আজ শুধুই অতীত। এককালে মাটির তৈরী তৈজসপত্র ছিল গ্রামবাংলার সকল শ্রেনীর মানুষের নিত্য ব্যবহার্য উপকরন ও অনুষঙ্গ।
তখনকার সময়ে মাটির হাঁড়ি পাতিল, বোল, বাটি, গামলা, মটকা, নাইন্দা, কলস, মাটির সানুক সহ বেশীরভাগ নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি ছিল মাটির তৈরী।
এসকল পরিবেশবান্ধব মাটির তৈরী দ্রব্যাদি প্লাস্টিকপন্য ও এলোমিনিয়ামের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব প্লাস্টিক ও এলোমিনিয়াম পন্য টেকসই ও সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে, এদিকে চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে মাটির তৈরী পণ্য সামগ্রীর।
সনাতন পদ্ধতিতে কারিগররা মাঠির দিয়ে তৈরী করছেন বিভিন্ন সামগ্রী।
আর মাটির তৈরী পণ্য কমতে থাকায় এ পেশার সাথে বংশানুক্রমে জড়িত জনগোষ্ঠী পড়ছে সংকটে।চাহিদা না থাকায় মাটির তৈরী পন্য উৎপাদনকারী কুমার সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুকেছে।
এতে দিন দিন কুমার সম্প্রদায়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। উপজেলার মোড়াকরি ও পূর্ববুল্লা সহ বিভিন্ন গ্রামে এককালে কুমার সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও বর্তমানে এদের সংখ্যা খুবই কম।
মোড়াকরি গ্রামে পূর্বে ৪০ পরিবার কুমার শ্রেনী মাটির কাজের জড়িত থাকলেও বর্তমানে ১০ টি পরিবার এ পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছে।
বাকিরা পেশা বদল করে অন্য পেশায় যুক্ত। পূর্ববুল্লা গ্রামে বর্তমানে ৩/৪ টি পরিবার এ কুমার পেশা কোনরকমে ধরে রেখেছে।
স্থানীয় কুরাম সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্তমানে মাটির তৈরী জিনিসের তেমন চাহিদা নেই। বিভিন্ন পূঁজা – পার্বন, উৎসব ও সীমিত পরিমানে গ্রামের মহিলারা হাঁড়িপাতিল, গামলা ও সরাসহ কিছু পন্য ব্যবহার করে থাকে।
এছাড়া চাপাশুটকীর মটকার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পুরুষ কারিগররা মটকাই বেশী তৈরী করে। আর এর চাহিদা মোটামোটি এখনো রয়েছে। মহিলারা তৈরী করে তাকে হাঁড়িপাতিল ও সরাসহ অন্যান্য পন্য।
সরেজমিন মোড়াকরি কুমার পল্লীতে পরিদর্শনকালে শ্যামল রুদ্রপাল, সুধন চন্দ্র রুদ্রপাল, ববিতা রানী রুদ্রপাল, দিপালী রানী রুদ্রপাল, সীমা রানী রুদ্রপাল ও মিনা রানী রুদ্রপাল জানান, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষের পেশা এখনো কোনোরকমে আকড়ে ধরে রয়েছি। জানিনা কতদিন টিকে থাকতে পারব।
একসময় আমাদের সুদিন ছিল। সংসারে কোন অভাব অনটন বলতে কিছুই ছিলনা। মাটির তৈরী পন্যের ছিল বেশ চাহিদা।আমাদের বাবা দাদারা বর্ষাকালে নৌকাযোগ গ্রামে গ্রামে পণ্য বিক্রয় করে নৌকা বোঝাই করে ধান/ চাল নিয়ে আসতো।আমাদের কোন অভাব ছিলনা।
মাটির পন্যের বিনিময়ে প্রচুর ধান/চাল পাওয়া যেত বিধায় তারা জমিজমা চাষাবাদের ধার- কাছেও যেত না বা প্রয়োজন ছিলনা তাই ভিটেমাটি ছাড়া কোন জমিজমাও নেই। বর্তমানে ব্যবসায়ও ধস নেমেছে।
মাঠি দিয়ে তৈরী বিভিন্ন ফুলদানি সাজিয়ে রেখেছেন নিপুণ হাতের কারিগর।
এমতাবস্থায় আমরা খুবই সংকটময় অবস্থায় রয়েছি। বর্তমানে মাটি হাওর থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এক সময় মাটি সংগ্রহে কোন টাকাকড়ি লাগতো না। এতে মাটির তৈরী জিনিসে খরচও বেড়ে গেছে। তাই এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক ধৈন্যদশা লাঘবে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে নেই কোন উদ্যোগ। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে রক্ষায় আমরা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পাশাপাশি তারা আরো জানান, আমাদের এ সম্প্রদায়ভুক্ত ২/৩ জন ইতিমধ্যে ভাতার আওতায় এসেছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং এর সাথে আলাপকালে জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মৃৎশিল্প রক্ষা এবং এর আধুনিকায়ন বিষয়ে উদ্যোগ নিতে চেষ্টা চলছে। এছাড়া তাদেরকে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহযোগীতা করার বিষয়ে চেষ্টা করছি।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা থেকে র্যাব-৯, সিপিসি-১ (হবিগঞ্জ শায়েস্তাগনজ ক্যাম্প) এর অভিযানে একটি মালবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ ৩০কেজি গাঁজা আটক করেছে।
র্যাব মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় র্যাব-৯, সিপিসি-১ (হবিগঞ্জ ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল উপজেলার রানীকোর্ট এলাকায় অভিযান চালায়।
এসময় ১টি কাভার্ড ভ্যান ঢাকা মেট্টো-উ-১১-২১৩৪ তল্লাশি করে ৩০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মাহফুজুর রহমান জানান, বিকেলে সাড়ে ৪টায় কাভার্ড ভ্যান ও উদ্ধারকৃত ৩০ কেজি গাঁজা চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি বিভাগের উদ্ধ্যোগে তালের চারা রোপন ও মাঠ দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় উপজেলার হাজী আব্দুল মতলিব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সিএসও, বিএসআরআই পাবনা ড. মোঃ নূরুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, হবিগঞ্জের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ তমিজ উদ্দিন খান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহজ মোঃ লুৎফুর রহমান মহালদার, কৃষকলীগের উপজেলা সভাপতি মুজিবুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষন অফিসার মোঃ আশেক পারভেজ, অতিরিক্ত উপ পরিচালক নয়ন মনি সূত্রধর, উপজেলা কৃষি অফিসার মাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের রেল লাইনের পাশে প্রায় ৯শত তাল গাছের চারা রোপন করা হয়।
হবিগঞ্জে বাস-সিএনজি অটো মুখোমুখী সংঘর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাসহ দুইজন মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের ধুলিয়াখাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদেরকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দৌস মোহাম্মদ জানান, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে জেলা শহরে আসছিল সিএনজি অটোরিকশাটি।
বিকেল সাড়ে ৩টায় ধুলিয়াখাল এলাকায় পৌঁছালে শ্রীমঙ্গলগামী একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।‘এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যান চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোকেয়া খাতুন (৪০)। আহত হন আরো ৪ জন।
দূর্ঘটনার পর পর আহতদেরকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে সাইফুল ইসলাম (৩০) নামে আরেকজন মারা যান। সাইফুল ইসলাম সদর উপজেলার পৈল ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পরে পুলিশ বাস ও সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করেছে বলে তিনি জানান।