Category: হবিগঞ্জ

  • মাধবপুরে স্ত্রীর মামলায় শিক্ষক আলমগীর জেলে

    মাধবপুরে স্ত্রীর মামলায় শিক্ষক আলমগীর জেলে

    দীর্ঘদিন জামিন এবং পলাতক থাকার পর অবশেষে জেল হাজতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামী আলমগীর কবীর (৪০)। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকার পর জামিন আদেশ অতিবাহিত হওয়ায় নিম্ন আদালতের বিচারক মোঃ হালিম উল্ল্যাহ চৌধুরী তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

    আলমগীর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। সে উপজেলার দীঘিরপার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক । তার অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১ সন্তান রেখে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়।

    ২০১৪ সালে আলমগীর আবার বিয়ে করে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের লোহাইদ গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে খাদিজাতুল কুবরাকে। বর্তমানে তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এমতাবস্থায় আলমগীর খাদিজাতুল কুবরাকে চাপ দিতে থাকে যে, বাপের বাড়ী থেকে যৌতুক বাবদ ৫লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য। পরবর্তীতে খাদিজা পর্যায়ক্রমে ৬ লক্ষ টাকা এনে দেয়।

    ৬ লক্ষ এনে দেওয়ার পরও সে আবারও টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে খাদিজা অস্বীকার করলে নেমে আসে তার উপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

    স্বামীর বির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে খাদিজা বাবার বাড়ী চলে আসে। পরবর্তী বিভিন্ন সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি না হওয়ায় ২০২১ সালের খাদিজা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৩ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কোর্টের নির্দেশে মাধবপুর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    পরবর্তীতে সুচতুর আমলগীর উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে আসে। গত ৩১ অক্টোবর জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। এমতাবস্থায় ১ নভেম্বর নিম্ন আদালতে হাজির হলে বিচারক মোঃ হালিম উল্ল্যাহ চৌধুরী তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার আইনজীবি নরেশ চন্দ্র পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে হাজির হওয়ার পর বিঞ্জ বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

    এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদালত কর্তৃক যদি শিক্ষক আলমগীর কবীর জেল হাজতে যান, তাহলে সরকারী বিধি মোতাবেক তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হবে।

  • ভ্যাকসিন ব্যবহারের পর সিলেটে করোনার দাপট শুণ্যের খাতায়

    ভ্যাকসিন ব্যবহারের পর সিলেটে করোনার দাপট শুণ্যের খাতায়

    আবুল কাশেম রুমন,সিলেট

    ভ্যাকসিন ব্যবহারের পর সিলেটে করোনার দাপট শুণ্যের খাতায় চলে আসছে। ক্রমে ক্রমে শক্তি হারিয়ে করোনার সংক্রমণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিলেট বিভাগে সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় মাত্র ২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ৭৭১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে তাদেরকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্তের হার ০.২৬। এ সময়ে নতুন করে কেউ মারা যাননি বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে সিলেট বিভাগে করোনাক্রান্ত হয়ে কেউ মারা না যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা এখন ১১৭৫ জনই আছে। এর মধ্যে ওসমানীতে ১১৮ জনসহ সিলেট জেলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮২ জন। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ৭৩ জন, মৌলভীবাজারের ৭২ জন ও হবিগঞ্জের ৪৮ জন রয়েছেন।

    এদিকে, সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে ২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ জন সিলেটের, অপরজন মৌলভীবাজারের।
    সবমিলিয়ে বিভাগে করোনাক্রান্তের সংখ্যা এখন ৫৪ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮৫০ জনসহ সিলেট জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৮২১ জন। সুনামগঞ্জের ৬২৪৫ জন, মৌলভীবাজারের ৮১৬৬ জন ও হবিগঞ্জের ৬৬৫১ জন রয়েছেন শনাক্তের তালিকায়।

    সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ৪৪ জন। সুস্থ হওয়াদের মোট সংখ্যা এখন ৪৯ হাজার ৬০ জন। তিনি আরও জানান, সিলেট বিভাগের ৪ জেলা মিলিয়ে বর্তমানে ১১ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

  • ৩রা নভেম্বর জেল হত্যার সঙ্গে ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের যোগসূত্র রয়েছে -এমপি আবু জাহির

    ৩রা নভেম্বর জেল হত্যার সঙ্গে ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের যোগসূত্র রয়েছে -এমপি আবু জাহির

    হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি বলেছেন, ৩রা নভেম্বর জেল হত্যার সঙ্গে ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের যোগসূত্র রয়েছে। খন্দকার মোশতাকদের ষড়যন্ত্রে সেদিন ৪ জন জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল জেলখানায়। তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যার পর জেলখানায় ৪ নেতাকে হত্যা করলে দেশ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারো ক্ষমতায় আসতে পারবে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে তাদের সেই স্বপ্ন পুরণ হয় নাই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই সব ঘাতকদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়।

    তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তাদের জন্য সকল নেতাকর্মীকে কাজ করতে হবে। যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাহলে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।

    জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, শেখ সামছুল হক, মোঃ সজিব আলী, অ্যাডভোকেট আফিল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মনোয়ার আলী, আক্রাম আলী, অ্যাডভোকেট শাহ কুতুব উদ্দিন, ডা. অসিত রঞ্জন দাশ, অ্যাডভোকেট প্রবাল কুমার মোদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল, মশিউর রহমান শামীম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর সৈকত, ডা. দেবপদ রায়, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান শামীম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুল, অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম তালুকদার, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট রুকন উদ্দিন তালুকদার, আবুল কালাম আজাদ, সদস্য মুকুল আচার্য্য, অ্যাডভোকেট সৈয়দ আফজাল আলী, স্বপন লাল বণিক, জিতু মিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নারদ গোপ, অ্যাডভোকেট সুবীর রায়, অ্যাডভোকেট কনক জ্যোতি সেন রাজু, অ্যাডভোকেট দেবাংশু দাশগুপ্ত, চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ, সায়েদুজ্জামান জাহির, হুমায়ুন কবীর রেজা, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম আকবর হোসেইন জিতু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায় চৌধুরী, পৌর যুবলীগের সভাপতি ডা. ইশতিয়াক রাজ চৌধুরী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহী।

  • ৫ম শ্রেণির ছাত্রের সাথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে

    ৫ম শ্রেণির ছাত্রের সাথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে

    আকিকুর রহমান রুমনঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ৫ম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রের সাথে একই মাদ্রাসার ১০ শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে অনুষ্টিত হয়েছে।

    কিন্তু জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী বিয়ের বয়স না হওয়ার কারনে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে না পড়িয়ে স্থানীয় এক মাওলানার মাধ্যমে হয়েছে আকদ বিয়ে।

    ঘটনাটি ঘটেছে (৩ নভেম্বর) বুধবার দুপুর ২ টায় বানিয়াচং উপজেলার ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম দূর্গাপুর বানিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে।

    বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানিয়াবাড়ি পূর্বপাড়ার সর্দার মোঃ সুন্দর আলী।

    সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের দূর্গাপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর ছাত্র শহিদুল ইসলামের সাথে।

    একই মাদ্রাসার ১০ শ্রেণীর ছাত্রী সামিয়া আক্তারের সাথে এই আকদ বিয়েটি অনুষ্ঠিত হয়।

    এই ছাত্রী হলো সৌদি প্রবাসী আব্দুর রব মিয়ার কন্যা। ছাত্র হলো একই গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র।

    মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীর বিয়ের খবর পেয়ে মাদ্রাসার সুপার মোঃ হারিছুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কাজীকে তাদের অপরিনত বয়সের বিষয়টি অবগত করার কারনে কাজী মোঃ হারুনুর রশীদ এই বিয়ে পড়াতে অনীহা প্রকাশ করেন।

    তবুও দমে যায় নাই বর ও কনে পক্ষের লোকজন।রীতিমত গরু জবাই করে বিয়ের গেট সাজিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্টানাদির মাধ্যমে বরপক্ষকে স্বাগত জানান এবং কাবিন ছাড়াই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।

    এ ব্যাপারে কাজী মোঃ হারুনুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করে হলে তিনি জানান, এরকম কোন বিয়ে বুধবারে রেজিষ্ট্রি করাননি।তিনি ওই দিন হবিগঞ্জ জেলা শহরে ছিলেন বলেও জানান।

    এ ব্যাপারে গ্রামের সর্দার মোঃ সুন্দর আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কনের বাড়িতে অনুষ্টান হতে দেখেছি এবং কোন এক মাওলানার মাধ্যমে বিয়ে হয়ে থাকতে পারে বলে শুনেছি।

    এব্যাপারে দূর্গাপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসার সুপার মোঃ হারিছুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই ছাত্রী আমার মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
    এবং ঐ বর ছেলেও তার মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলো। কিন্তু করোনা কারনে দীর্ঘ ২ বছরের মতো বন্ধের কারনে অটো পাশ হিসেবে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র।
    তবে তাদের কোন বিয়ের বয়স হয় নাই।

    এছাড়াও তিনি জানান, এমন সংবাদ পেয়ে তিনি কাজী সাহেবকে বিয়ে পড়াতে নিষেধ করেন এবং তাকে হবিগঞ্জ পাঠিয়ে দেন।

    এ ব্যাপারে ১৫ নং পৈলারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কনের বিয়ের বয়স না হওয়ার কারনে বিয়ে দিতে নিষেধ করেছি। কিন্তু আকদ বিয়ে হয়েছি কিনা এটা আমি জানিনা। তবে বিয়ের অনুষ্টানের যাবতীয় প্রস্তুতি ছিল এটা তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকটি অত্যধিক প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বাল্য বিয়ের বিষয়টি জেনেই সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে খতিয়ে দেখতে বলেছি এবং আইন বহিভর্ভূত হলে বিয়েটি বন্ধ করার জন্য বলে দিয়েছি।

  • চুনারুঘাটের ছুরুক আলী, ভাষা ও মুক্তি সংগ্রামের অগ্রণী সৈনিক

    চুনারুঘাটের ছুরুক আলী, ভাষা ও মুক্তি সংগ্রামের অগ্রণী সৈনিক

    ছুরুক চেয়ারম্যান। নামটা জড়িয়ে আছে ভাষার অধিকারের সাথে এবং মুক্তি সংগ্রামের সাথে। মুক্তির জন্য অসহনীয় নির্যাতন সহ্য করে যিনি ছিলেন দেশমাতৃকার প্রেমে উজ্জীবিত এক সৈনিক।

    চুনারুঘাট আওয়ামিলীগের প্রতিষ্ঠাতা ছুরুক আলী আন্দোলন সংগ্রামে সরব থাকতেন সব সময় । থাকতেন গণমানুষের পক্ষে। থাকতেন নির্যাতিত ও নীপিড়িত মানুষের কান্ডারী হয়ে।

    ছুরুক আলীর পুরো নাম মোঃ আজিজুর রহমান ছুরুক আলী। ছুরুক চেয়ারম্যান বলেই পরিচিত ছিলেন। চুনারুঘাট উপজেলার ৩ নং দেওরগাছ গ্রামে তার জন্ম।

    চুনারুঘাট পর্যায়ে ভাষা আন্দোলন , স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তির আন্দোলন সহ অজস্র জাতীয় আন্দোলনে ভুমিকা রেখেছেন। সহ্য করেছেন পাক শাসকের অসহনীয় নির্যাতন, কারা বরণ করেছেন বারবার।

    বঙ্গবন্ধুর আস্থা ভাজন আজিজুর রহমান ছুরুক আলীর বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রবল সখ্যতা ও টান ছিলো। বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন সৈনিক ছুরুক আলী পূর্ব হতেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

    দেশ যখন স্বৈরাচারের দুরাচারী নির্যাতনে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিলো তখন আজিজুর রহমান দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রবল ঝুঁকি নিয়ে চুনারুঘাট উপজেলায় আওয়ামীলীগের পতাকা উড্ডীন করেন।

    ভাষার দাবিতে ছুরুক আলী ছিলেন একজন সংগঠক। যাকে ভাষা সংগঠকও বলা চলে। সংঘঠিত করে অংশ নেন জাতীয় আন্দোলনে। এরপর বিভিন্ন আন্দোলনের পথ পরিক্রমা কে শেষ করে অবশেষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ছুরুক আলী।

    হাতে গ্রেনেড আর কাঁধে রাইফেল নিয়ে চলেন স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনতে। আলোর ঝলকানিতে শিহরিত হয়েছিলো পথ প্রান্তর। ছুরুক আলীর শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন ছিলো। নির্যাতন করা হয়েছিলো তাঁকে প্রবলভাবে। এরপরেও ছিলেন অবিচল।

    ছুরুক আলী গত বৎসর চারেক আগে মারা যান। এই বৎসর ও মৃত্যু বার্ষিকী চলে গেল ছুরুক আলীর। কিন্তু ছিলো না কোনো কর্মসূচি, ছিলনা তাঁকে স্মরণ করার তেমন কোনো উদ্যোগ। বিষয়টা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু যাদের টনক নড়ার কথা তাদের নড়েনি। বিনম্র শ্রদ্ধা সেই মহান ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ছুরুক আলীর প্রতি।

  • হবিগঞ্জে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ২৭ হাজার ৭৯৪ জন

    হবিগঞ্জে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ২৭ হাজার ৭৯৪ জন

    করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন পরীক্ষা পিছিয়ে থাকার পর আগামী ১৪ নভেম্বর সারা দেশে একযোগে এসএসসি এবং সমমনা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হবিগঞ্জ জেলায় চলতি বছর এসএসসি এবং সমমনা দাখিল ও এসএসসি (করিগরি) পরীক্ষা ৪৬ টি কেন্দ্রে এবং ২৯টি ভ্যানুতে পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্টভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অফিস সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

    জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানান, এবছর জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৭ শত ৯৪ জন। এর মধ্যে কারিগরি বিভাগে ৬৬৩ জন, মাদ্রাসা বোডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৪১০০ জন এবং এসএসসি সাধারণ ও বিজ্ঞান শাখায় ২৩০৩১ জন পরীক্ষাথী অংশগ্রহণ করবে।

    তিনি আরো জানান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৫৭৮ জন, চুনারুঘাট উপজেলায় ৪৭৫৫ জন, বানিয়াচং উপজেলায় ৩৬৫৪ জন, মাধবপুর উপজেলায় ৩৯৩৫ জন, নবীগঞ্জ উপজেলায় ৪৬২৮জন, বাহুবল উপজেলায় ২২১৩, লাখাই উপজেলায় ১৬৬৭জন, আজমীরিগঞ্জ উপজেলায় ১১৯৩জন, এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ১১৭১জন পরীক্ষর্থী রয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে থার্মাল স্কেনার দিয়ে তাপমাত্রা করা হবে। প্রতিটি কক্ষে ২০জনের অধিক শিক্ষার্থী বসতে পারবেনা, সরকারী নিদেশনা অনুযায়ী ৩ ফুট দুরত্ব বজায় রেখে বসতে হবে।

    প্রতিটি শ্রেনী কক্ষ পরীক্ষা শুরুর পূর্বে জীবানুমুক্ত করতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে কোন ধরণের ভিড় বা জনসমাগম করা যাবেনা। পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা কোন ধরণের মোবাইল ফোন কিংবা ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেনা।

  • লাখাইয়ে ২ গাজা ব্যবসায়ী আটক

    লাখাইয়ে ২ গাজা ব্যবসায়ী আটক

    হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ বাজার হাসপাতাল রোডে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় দুইজন ব্যক্তি গাঁজা বহন ও বিক্রয়কালে হাতেনাতে আটক করা হয়।

    বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুসিকান্ত হাজং এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

    আটকের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৯ (ক) (খ) ধারা লঙ্ঘন করায় একই আইনের ৩৬ (১) ২১ ধারায় একজনকে ১০০/- টাকা অর্থদণ্ড ও ০৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং অপর জনকে ১০০/- টাকা অর্থদণ্ড ও ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এরপর জব্দকৃত গাঃজা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমোঃ নজীব আলী।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুসিকান্ত হাজং বলেন, যুব সমাজ হতে মাদক নির্মূল করতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে।