Category: হবিগঞ্জ

  • মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    হবিগঞ্জে মাধবপুরে এনা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ১ আরোহী নিহত হয়েছে।

    রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মাধবপুর উপজেলার বাখরনগর গেইট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ১ জন হলেন- উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের রিয়াজনগর গ্রামের মৃত আদিল হোসেনের ছেলে মোঃ মোক্তার হোসেন (৫২)।

    অপর আহত ব্যক্তি হলেন চুনারুঘাট উপজেলার তৈয়ব আলীর ছেলে মোঃ শাহজাহান (৩২) ।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অপর একটি বাসকে ওভারটেক করছিল।

    মাধবপুরে-বাসের-ধাক্কায়-মোটরসাইকেল-আরোহী-নিহত

    এই সময় এনা পরিবহনের বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে মোক্তার হোসেন মারা যান, একজন গুরুতর আহত হয়।

    এলাকাবাসী আহত একজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করেন ।

    মাধবপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়েছে।

  • মক্তবঃ ধর্মীয় মূল্যবোধের পাঠশালা

    মক্তবঃ ধর্মীয় মূল্যবোধের পাঠশালা

    মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিকঃ কুরআন শিক্ষার প্রাথমিক স্তর মক্তব। মক্তব আরবি শব্দ। অর্থ লাইব্রেরী, গ্রন্থাগার, পাঠশালা। পারিভাষিক অর্থে মুসলিম পরিবারের শিশুদের ইসলামী শিক্ষাদানের জন্য যে সকল স্থানে একত্রিত করা হয়, তাই মক্তব।

    মক্তব শিক্ষা সর্বযুগে সবার জন্য ছিলো উন্মুক্ত; মসজিদে নববীতে ‘আছহাবে ছুফ্ফা’ নামক সাহাবাদেরকে শিক্ষাদানের জন্য রাসুল সা. একজন শিক্ষক নিয়োগ করেছিলেন, তখন থেকেই মক্তব শিক্ষার যাত্রা। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মক্তবই হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের প্রথম পাঠশালা।

    প্রাচীনকাল থেকে মসজিদের বারান্দাকে কেন্দ্র করে চলছে এই মক্তব শিক্ষার কার্যক্রম। শিশুদের মক্তবে যাওয়ার চিরাচরিত এই দৃশ্য এখন আর গ্রামবাংলায় খুব একটা দেখা যায় না।

    দুরুদ শরীফ, হামদ-নাত আর আলিফ, বা, তা এর মিষ্টি মধুর সুরের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে না গ্রাম কিংবা শহরের জনপদ। রোজ সকালে কুরআনের আওয়াজ কঁচিকাঁচা শিশুদের কন্ঠ থেকে বের হয় না।

    তারপরও ইতিহাসে রাজা-প্রজা, ফকির-বাদশা, আমির-উমারা, ওলি-দরবেশ, পীর-মাশায়েখ, প্রভু-ভৃত্য, কৃষক-শ্রমিক সবই ছিলেন মক্তবের ছাত্র।

    অনেক লোককে বলতে শুনেছি যে, আমি স্কুলের ধারে কাছে কোনো দিন যাই নাই, আবার অনেকে বলেছেন আমি মাদরাসার ধারে কাছে কোনো দিন যাই নাই। কিন্তু মক্তবে যাই নাই, এমন কথা বলার মতো লোক সমাজে সত্যিই বিরল। কারণ একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য মক্তব শিক্ষার বিকল্প নেই।

    শিশুরা নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করে কুরআন শিক্ষার পাঠস্থান মক্তব থেকে। এখন যদি তা হারিয়ে যায়, তাহলে নৈতিকতা বিবর্জিত শিশুরাই আমাদের সামনে বড় হয়ে উঠবে। কেননা আজকের শিশু আগামি দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তা না হলে সুন্দর সভ্য সমাজের আশা করা খুব কঠিন।

    অথচ মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও যা-ও চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো আনন্দ নেই, শিক্ষার্থী উপস্থিতি নেই। যা নামে মাত্র চলে।

    একজন মুসলমান হিসেবে যতোটুকু জ্ঞানার্জন করা জরুরি তার সিংহভাগ মক্তব থেকেই অর্জন করা সম্ভব। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে অজু করতে জানে না বা ফরজ গোসল করতে জানে না, সে নামাজ পড়বে কিভাবে?

    অন্তত নামাজ পড়ার জন্য কয়টি সুরা শুদ্ধভাবে জানা প্রয়োজন, একজন মুসলমান হিসেবে সেগুলো শিখে রাখা জরুরি। আর শৈশবেই এ আলোকে সন্তানদের গড়ে তোলা না গেলে কারণে-অকারণে সে সুযোগ হয়ে ওঠে না।

    এমন চিন্তা থেকে একসময় ভারতীয় উপমহাদেশে মসজিদে মসজিদে চালু হয় মক্তব শিক্ষা, যার মাধ্যমে প্রতিটি শিশু ইসলামের মৌলিক জ্ঞানগুলো অর্জন করতে পারত।

    মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১১ সালে সিন্ধু বিজয়ের পর ভারতবর্ষে মক্তব ও মাদরাসা শিক্ষার সূচনা করেন। তবে শুরুর দিকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল না।

    মুহাম্মদ ঘোরি দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে ভারতবর্ষে তুর্কি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ১১৯১ সালে আজমিরে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতবর্ষে মক্তব ও মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটে মূলত মোগল শাসনামলে। সেই শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল সর্ব মহলে।

    কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি মা বাবা, আত্মীয় স্বজন ও বড়দের কে সালাম এবং সম্মান দেয়া, সুন্দর ও মার্জিত ভাষায় কথা বলা ছাড়াও শিক্ষা দেয়া হতো আদব-ক্বায়দা!

    সহিহ-শুদ্ধভাবে সুরা-কেরাত পড়ার যোগ্যতা অর্জন। বিশুদ্ধভাবে আদায়ের যাবতীয় মাসআলা-মাসাইল। শিখানো হয় অযু, গোসল, তায়াম্মুম, দোয়া-দুরূদ, কালেমা, নামাজ, রোজা, মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফনের কাপড় পড়ানো, দাফন করার নিয়ম এসব খুঁটিনাটি সবই।

    সেই সময়ে মক্তবে যে ইসলামি শিক্ষা অর্জন করেছি সেই শিক্ষাটাই আজ বাস্তব জীবনে কাজে লাগছে। কেউ কায়দা শেষ করে কুরআনে সবক নিতো সেদিন আনন্দে সবাইকে মুড়ি, বিস্কুট, ক্ষির, তুষা ইত্যাদি শিন্নী খাওয়ানো হতো।

    ছুটির সময় সবাই লাইন ধরে দাঁড়াতো, ছেলেরা টুপিতে আর মেয়েরা আঁচলে বা ওড়নায় নিয়ে খেতে খেতে বাড়ি ফিরতো। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল কুরআন শুদ্ধ করে জানে এমন একটি মেয়েই হবে ঘরনী। এছাড়া পাত্রীকে কুরআনের খুঁটিনাটি জিজ্ঞেস করে পাত্রী বাছাই করা হতো।

    বর্তমানে কুরআন শিক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র। যখন কোনো সন্তানের বয়স চার বছর চার মাস চার দিন পূর্ণ হতো, তখন তার বিদ্যা শিক্ষার সূচনা হতো।

    বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কুরআনের কিছু অংশ শিশুকে পাঠ করে শোনানো হতো। শিশু তা পুনরাবৃত্তি করত। এটা ছিল প্রতিটি মুসলিম পরিবারের অপরিহার্য প্রথা।’

    নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে গড়ে তোলার পেছনে মক্তব শিক্ষা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মসজিদগুলোতেও সকালবেলা শিশুদের মক্তব খুলে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার রেওয়াজ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। মক্তব শিক্ষাই হচ্ছে ইসলামের আদি এবং মৌলিক শিক্ষা।

    একসময় বাংলার পথে-ঘাটে ভোরবেলা ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা দল বেঁধে মক্তবে কুরআন শিক্ষার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতো। বর্তমানে তা দ্বীনি শিক্ষার অন্তরায়।

    জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। বিশেষত ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলে ধর্ম মোতাবেক জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। মুসলিম সুলতানি যুগ থেকে শুরু করে মোগল আমল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৮০০ বছর মুসলমানদের নিকট ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব ছিল প্রবল।

    রাজধানীর কথা না হয় বাদ-ই দিলাম গ্রামের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় হাজারো মক্তব-মাদরাসা ছিল। মুসলমানদের ঐতিহ্যের ধারক মক্তবগুলো আজ বিলুপ্তপ্রায়। এর প্রভাবে তৈরি হচ্ছে ধর্মীয় জ্ঞানশূন্য বিশাল জনগোষ্ঠী।

    দেশের সর্বত্রে আজ মক্তবের সময় বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে মর্নিং শিফট চালু হওয়ায় একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী মক্তবের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

    একশ্রেণির অভিভাবক মক্তব শিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন হওয়ায় শিশুদের কচি মনে ইসলামী মূল্যবোধের পরিবর্তে বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রথিত হচ্ছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বিপদজনক।

    মক্তব শিক্ষার সে মূল্যবান সময়টুকু যদি পুনরুদ্ধার করা না যায়, তাহলে এটা নিশ্চিত যে, ঈমান-আক্বিদায় সমৃদ্ধ মুসলমান জাতি ভবিষ্যতে একটি দুর্বল জনগোষ্ঠিতে পরিণত হবে।

    বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি মসজিদে মক্তব চালু রয়েছে। শিশুদেরকে ইসলামি বুনিয়াদি শিক্ষা দেয়া না হলে চিরতরে হারিয়ে যাবে অদূর ভবিষ্যত।

    এ জাতি মদ, জুয়া, যিনা, ব্যভিচার ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। মক্তব শিক্ষাকে বিলুপ্তির পথ থেকে পুনরায় চালু রাখা সর্বমহলের নৈতিক দায়িত্ব।

    লেখকঃ প্রাবন্ধিক ও মুদ্রণ ব্যবস্থাপক, দৈনিক সিলেটের ডাক।
  • আজ সাবেক এমপি আব্দুল মোছাব্বির এর ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী

    আজ সাবেক এমপি আব্দুল মোছাব্বির এর ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী

    আজ (২৮ নভেম্বর) রবিবার হবিগঞ্জের প্রবীন জননেতা হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাবেক সভাপতি ও জেলা বারের সাবেক সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির এর ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী।

    এ উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর ইসলামিয়া এতিমখানায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির ১৯৮৮ সালে জাসদ থেকে হবিগঞ্জ ১ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নেন। পরে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

    তিনি হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

    দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন তিনি আমেরিকায় বসবাস করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ৫ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে যান।

    তার একমাত্র ছেলে এডভোকেট সুলতান মাহমুদ জেলা পরিষদের সদস্য। সে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আব্দুল মোছাব্বির এমপির ১ মেয়ে লন্ডনে এবং ৪ মেয়ে আমেরিকায় বসবাস করে।

  • রাত পোহালেই ভোট, সহিংসতার শঙ্কা

    রাত পোহালেই ভোট, সহিংসতার শঙ্কা

    শেখ শাহাউর রহমান বেলালঃ রাত পোহালেই তৃতীয় ধাপে হবিগঞ্জ সদরের ৮টি ও নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ চলবে। কিন্তু এই নির্বাচন ঘিরে রয়েছে সন্ত্রাস ও সহিসংসতার আশঙ্কা।

    ইতিমধ্যে এই ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, সংঘর্ষ, সহিংসতা, অগ্নি সংযোগ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    যদিও জেলা আওয়ামীলীগ ইতিমধ্যে ২৫ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিস্কার করেছে। তবুও থেমে নেই তারা। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়েই প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন প্রার্থীরা।

    এখন ভোটের অপেক্ষা। রবিবার ভোরেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে যাবে, ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    ‘দু-এক জায়গায়’ সংঘর্ষের কিছু ঘটনা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

    এবার বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না থাকলেও তাদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতের আছেও। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছেও। তারাই মূলত আলোচনার তুঙ্গে।

    কেন্দ্র থেকে সতর্কতা হুশিয়ারি দিলেও তাদেরকে দমাতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হলো স্থানীয় পর্যায়ে এমপি বা কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রুপিং।

    এদিকে নির্বাচনের দিনেও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যে মাত্রায় সহিংসতা হচ্ছে, সেটা দেখেই এই আশঙ্কা। তবে কেউ এই সহিংসতার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। খোদ নির্বাচন কমিশনও কেবল বিব্রত এবং উদ্বিগ্ন’ হওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

    আরো পড়ুনঃ ভোট প্রদানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক এ্যাকশন

    তবে এই সংঘাত ও সংঘর্ষ ঠেকানোর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। কিন্তু ইসি বলছে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সংঘাত হওয়ায় অনেক সময় ঠেকানো যায় না।

    অধিকাংশ সংঘাত ও সংঘর্ষ হয়েছে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

    জানাযায়, নবীগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোপলার বাজার টোলপ্লাজা এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ মিছিল ও সমাবেশের চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে পুলিশ তা ভুন্ডুল করে।

    এর আগে গজনাইপুর ইউনিয়নের দেওপাড়া বাজারে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবের আহমেদ চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে পোস্টার-ব্যানার, চেয়ার পুড়ে যায়। পাল্টা পাল্টি অভিযোগ উঠে নৌকা প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। এনিয়ে সংবাদ সম্মেলও করা হয়।

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘষের্র ঘটনাও ঘটেছে।

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ৮টি ইউনিয়নে ৪৪৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য ১০১ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্যের পদে ৩১২ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়াই করবেন ।

    চেয়ারম্যান পদে ১ নম্বর লোকড়ায় ৮ জন, ২ নম্বর রিচি ৩ জন, ৩ নম্বর তেঘরিয়ায় ৬, ৪ নম্বর পইলে ২, ৫ নম্বর গোপায়া ৫, ৬ নম্বর রাজিউড়া ৪, ৯ নম্বর নিজামপুরে ২ ও ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন।

    নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ১৩টি ইউনিয়নে ৭০৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য ১৭৭ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্যের পদে ৪৭০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়াই করবেন।

  • ১৩০ টাকা খরচ পুলিশে চাকরি পেল হবিগঞ্জের ৪৪ জন

    ১৩০ টাকা খরচ পুলিশে চাকরি পেল হবিগঞ্জের ৪৪ জন

    হবিগঞ্জে মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছে ৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৭ ও নারী রয়েছে ৭ জন।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ভাইভা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী। এর আগে ভাইভা পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত হয় ১০৭ জন চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থী।

    চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করে পুলিশের চাকরি পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে এতিম, চা-শ্রমিক ও দিন মজুরের সন্তানেরা।

    নিজের পড়া লেখা চালিয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতো জাহেদ আহমদ নামে এক চাকরি প্রত্যাশী। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে ২য় জাহেদ। বাবা দিনমজুর হওয়ায় প্রাইভেট পড়িয়ে যেই টাকা আয় হতো সেই টাকা দিয়েই চালাতো সংসার। অবশেষে পুলিশের চাকরি পেয়ে খুশিতে আত্মহারা সে। জাহেদ আহমদ লাখাই উপজেলার ঢ়াঢ়িশাল গ্রামের আসাদ আলীর পুত্র।

    চাকরি প্রত্যাশীদের অভিব্যক্তি জানতে চাইলে মেধা তালিকায় ২য় হওয়া ইমদাদুল ইসলাম সাগর নামে এক যুবক জানান, ‘পুলিশ সম্পর্কে আমার ভূল ধারণা ছিল। রাস্তা-ঘাটে প্রায়ই মানুষের মুখে শুনতাম পুলিশ ঘুষখোর, টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় না। কিন্তু সেই ধারণা এখন আমার পাল্টে গেছে। আমি মাত্র ১৩০ টাকায় মেধা অনুযায়ী চাকরি পেয়েছি।

    পুলিশ লাইন্সে ভাইভা শেষে ফলাফল ঘোষণা কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এ,বি,এম, মোজাহিদুল ইসলাম পিপিএম, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমাসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মাত্র ৪৪ জনের নিয়োগ পরীক্ষায় হবিগঞ্জ জেলায় শারিরীক পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৭শত ৬০ জন। এর মধ্যে ৩৬৫ জন লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ১০৭ জন। ১০৭ জন থেকে ভাইভা শেষে ৪৪ জনকে চূড়ান্ত ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও ৮ জনকে অপেক্ষমান হিসেবে রাখা হয়েছে।

  • ভোট প্রদানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক এ্যাকশন

    ভোট প্রদানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক এ্যাকশন

    আগামীকাল রবিবার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

    ১৪০৮৬৪ জন ভোটারের ভোট শান্তিপূর্ণভাবে গ্রহণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান রয়েছে।
    ৩৩জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১০১জন এবং সাধারণ সদস্য ৩১২জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তবে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে কেউ বাধা দিলে কাউকে কোন ধরণের ছাড় দিবেনা বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

    ভোট-প্রদানে-বিশৃঙ্খলা-সৃষ্টি-করলে-তাৎক্ষণিক-এ্যাকশন

    আজ শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বর্ণালী পাল ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন আরাফাত রানা স্টাইকিং ফোর্স নিয়ে সদরের বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সকল প্রার্থী ও ভোটারদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের অনুরোধ করেন।

    ভোট-প্রদানে-বিশৃঙ্খলা-সৃষ্টি-করলে-তাৎক্ষণিক-এ্যাকশন

    পাশাপাশি আরো বলেন, কোন ধরণের গুজব বা অপপ্রচার না ছড়াতে। এক্ষেত্রে আইন শৃংখলা বাহিনী কাউকে ছাড় দিবেননা। কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ভোট প্রদানে বাধা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক এ্যকশনে যাবে প্রশাসন। সরকারী নির্দেশনা অনুসারে আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

  • আজমিরীগঞ্জে ৫ কেজি গাঁজা সহ মাদক বিক্রেতা আটক

    আজমিরীগঞ্জে ৫ কেজি গাঁজা সহ মাদক বিক্রেতা আটক

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ৫ কেজি গাজাসহ রমজান মিয়া নামে এক মাদক বিক্রেতা কে আটক করেছে পুলিশ।

    জানা যায়, মাদক বিক্রেতা রমজান দীর্ঘ দিন ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। সাদা মুখোশের আড়ালে চালাতো এই মাদক ব্যবসা।

    আজ শুক্রবার দুপুরবেলায় আজমিরীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস আই জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে ৫ কেজি গাঁজা সহ বানিয়াচং রতনপুর গ্রামের ইজির মিয়ার পুত্র রমজান মিয়া (৪০) কে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

    এই বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়।