Category: হবিগঞ্জ

  • মাধবপুরে উচ্ছেদের পর আবারও সরকারি পুকুর দখল শুরু

    মাধবপুরে উচ্ছেদের পর আবারও সরকারি পুকুর দখল শুরু

    মাধবপুর পৌর শহরের বাজারের ভেতরে শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি পুকুর অবৈধ দখল মুক্ত করার পর আবারও দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উচ্ছেদকৃত জায়গায় নতুন করে আবার স্থাপনা তৈরীর কাজ শুরু করেছে অবৈধ দখলদাররা।

    প্রায় ১ মাস ব্যাপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন ও সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখল স্থাপনা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারি জায়গা উদ্ধার করেন।

    স্থানীয়রা জানান বাজারের ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য মাধবপুর বাজার প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কাটিয়ারা মৌজার ১০২৭ দাগে ১৩১.৮৭ শতাংশের ভূমির উপর একটি পুকুর খনন করা হয়। পরবর্তীতে পুকুরের চার পাশের মালিকরা আস্তে আস্তে পুকুরের জায়গা অবৈধ ভাবে মাটি ভরাট করে বহুতল ভবন ও দোকান ঘর নিমার্ণ করে তা মজ্জা পুকুরে পরিণত করেন এবং পুকুরে যাওয়া আসার রাস্তাগুলো প্রায় বন্ধ করে রাখেন।

    যার ফলে পুকুরটি জনসাধানের ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। এমন কি কয়েকবার বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রাস্তা না থাকায় ওই পুকুরের পানি ব্যবহার করতে পারিনি।

    বাজারের ব্যবসায়ী সমাজ বিভিন্ন সময় পুকুরটি খননসহ রাস্তাগুলো পূনঃউদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারনে তা আর হয়ে ওঠেনি।

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপি ও বর্তমান হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের নির্দেশে বাজারে ভিতরে পুকুর উদ্ধারের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন ও সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে প্রায় একমাস সময় ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তা উদ্ধার করেন।

    উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন জানান-প্রায় ১ মাস ব্যাপি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবং পুকুরটি খনন, দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও পার্ক তৈরী করার জন্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সর্ম্পূন করা হয়েছে। এরই মধ্যে উচ্ছেদকৃত জায়গায় কয়েকজন মামলার দোহাই দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করেছে। অচিরেই এগুলো আবারও উচ্ছেদ করা হবে।

    উপজেলার সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ মহিউদ্দিন জানান-এক ইঞ্চি সরকারী জায়গাও ছাড় দেয়া হবে না। যারা অবৈধ ভাবে আবারও সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

  • নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় প্রেসক্লাবের মধ্যবাজারস্থ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম তালুকদারের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শাহ সুলতান আহমেদ,যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী শামীম, অর্থ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী, নির্বাহী সদস্য মোঃ ফখরুল আহসান চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য এটি.এম সালাম, নির্বাহী সদস্য মোঃ সরওয়ার শিকদার, নির্বাহী সদস্য মোঃ রাকিল হোসেন, নির্বাহী সদস্য এম. মুজিবুর রহমান, নির্বাহী সদস্য মোঃ আকিকুর রহমান সেলিম, নির্বাহী সদস্য এম.এ মুহিত প্রমুখ।

    সভায় নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২০২২ সালের কার্য্যকরী কমিটি গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি ও দৈনিক হবিগঞ্জের জনতার এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক ফজলুর রহমানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরওয়ার শিকদার ও প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক মোঃ শওকত আলীকে সহকারী কমিশনার করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

  • হবিগঞ্জে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালন

    হবিগঞ্জে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালন

    “আপনার অধিকার আপনার দ্বায়িত্ব, দূর্নীতিকে না বলুন” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে হবিগঞ্জে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্ধোগে মানব আলেচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে জেলা প্রশাসন ও দূর্নীতি দমন কমিশন।

    এসময় বক্তাগণ বলেন, নিজেকে আগে দূর্নীতিমুক্ত করতে হবে, নিজেকে যদি দূর্নীতিমুক্ত না করা যায় তাহলে সমাজকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সীমাহীন চাহিদার কারণে মানুষ দূর্নীতি করে। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না আসা পর্যন্ত দূর্নীতি বন্ধ হবেনা।

    যেদিন পরিবার এবং সন্তানের সামনে সৎ সাহস নিয়ে সত্যি করে বলতে পারবেন নিজের আয়ের উৎস সেদিন মনে করবেন আপনি দূর্নীতিমুক্ত হওয়ার পথে। আমাদের সকলের মনে রাখা দরকার, কাপনের কাপড়ের কোন পকেট নাই, আপনার অর্জিত সম্পদ কোন কাজে আসবেনা।

    হবিগঞ্জে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালন

    ইতিহাসে হাজারো প্রমাণ আছে নিজের অর্জিত সম্পদ হয়ত পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করবে নতুবা পিপড়া খাবে। তবে বর্তমানে দেশের অনেক সেক্টরে ইলেকট্রনিক সেবা চালু হওয়ার কারণে মধ্যসত্ত ভোগীর সংখ্যা কমেছে, আর এসবের কারণে পূর্বের তুলনায় কমে এসেছে দূর্নীতির করাল গ্রাস। তাই আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবী গঠনে সহায়তা করি, দূর্নীতিকে না বলি।

    দুূদকের উপপরিচালক কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল, জেলা রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান, দূ্র্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ডাঃ মোঃ জমির আলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বাছেত, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল কবীর ভুইয়া, কবি ও সাহিত্যিক তাহমিনা বেগম গিনি প্রমুখ।

    আলেচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পীরা গণসচতনতামুলক ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

  • নারীর যথাযত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে – জেলা প্রশাসক

    নারীর যথাযত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে – জেলা প্রশাসক

    আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বহুকাল ধরে বিভিন্ন অপব্যখ্যা দিয়ে নারীদের অগ্রযাত্রাকে দামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, নারীদেরকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

    নারীর যথাযত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে - জেলা প্রশাসক

    বেগম রোকেয়া সেই মহীয়ষী নারী, যিনি প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থার সাথে যুদ্ধ করে বদ্ধ ঘর থেকে বের করে নারীদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন, সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।

    আজ নারীরা অর্থনৈতিক সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সকল কাজে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমরা যদি নারীদেরকে তাদের যথাযত প্রাপ্ততা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে পারব।

    এসময় জেলা পর্যায়ে ৫টি ক্যাটাগরীতে ৫জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    নারীর যথাযত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে - জেলা প্রশাসক

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্নালী পাল, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ সাহেবুল আলম, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট তাহমিনা বেগম গিনি, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা বেগম জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ইসমত আরা প্রমুখ ।

    জেলা পর্যায়ে ৫টি ক্যাটাগরীতে নির্বাচিত ৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে মোছাঃ আছমা আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী জামিলাতুন নাহার, সফল জননী শাহ আছিয়া খাতুন, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন মোছাঃ জায়েদা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন মোছাঃ সামছুন্নাহার বেগম।

  • বানিয়াচংয়ে নির্বাচনী আচরণ বিধি ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্টিত

    বানিয়াচংয়ে নির্বাচনী আচরণ বিধি ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্টিত

    দি‌লোয়ার হোসাইনঃ বানিয়াচংয়ে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণ বিধি মান্য করা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচনী আচরণ বিধি আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

    সভায় উপস্থিত প্রার্থীদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রচারনায় শব্দ দূষন রোধে মাইক ব্যাবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্টিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম,
    নির্বাহী ম্যজিস্টেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফফাত আরা জামান ঊর্মি,কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এনামূল হক,অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমরান হোসেন,উপজেলা নির্বাচন অফিসার আরমান ভূইয়া।

    সভায় জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্টিত করার জন্য সকলের নিকট সহযোগীতা কামনা করেছেন।

    নির্বাচনী আচরণ বিধি মান্য করার জন্য এ সময় প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদেরকেও সচেতন থাকার আহবান জানান।

    সব প্রার্থীর জন্য সমান অধিকার ও সব প্রার্থীই সমান এই বিবেচনায় কাউকেই কোন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবেনা। বিশেষ সুবিধা কারো আশা করা ও উচিত হবেনা বলে উপস্থিত সভাকে অবহিত করেছেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

  • `মা’ কত প্রকার?

    `মা’ কত প্রকার?

    এম এ মজিদঃ আমার কাছে ৩টি মামলা রয়েছে যে মামলা গুলোর ৩ ভিকটিম অবিবাহিত অবস্থায় সন্তানের মা হয়েছেন। ২টি মামলায় ২ ভিকটিমকে তাদের সন্তানের পিতৃপরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। যদিও সংসারগুলো কোনো মতে টিকে আছে।

    কেস স্টাডি-১ঃ নুরুন নেছা নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন অতিশয় গরীব এক অবিবাহিতা মেয়ের মামলা নিয়ে আমি চরম বিপাকে পড়ি। নুরুন নেছার মাও মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবা নেই, ভাইও নেই। একটি ঝুপড়ি ঘরে মা মেয়ের বসবাস।

    আশপাশের মানুষ তাদেরকে কিছু দিলে খায়, না দিলে উপোষ থাকে। এরই মধ্যে নুরুন নেছার প্রতি পাশের বাড়ির জসিম নামের এক যুবকের কুনজর পড়ে। তাদের মধ্যে মিলন হয়। এক পর্যায়ে নুরুন নেছা অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে।

    ৭ মাসের অন্তঃস্বত্বা থাকাকালীন আমি নুরুন নেছার মামলা শুরু করি। আদালত মামলাটি এফআইআর এর নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন আসামী গ্রেফতার হয়নি।

    ইতিমধ্যে নুরুন নেছা অতিশয় সুন্দর এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। নাম রাখা হয় মধুমালা। মধুমালা জন্মের পর আসামী জসিম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।

    আসামী পক্ষ চ্যালেঞ্জ করে যে, নুরুন নেছার গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা জসিম উদ্দিন নয়। আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএনএ টেষ্ট করা হয় জসিম উদ্দিন, নুরুন নেছা ও মধুমালার।

    বেশ কিছুদিন পর রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। অর্থাৎ মধুমালার জৈবিক পিতা জসিম উদ্দিন নয়। পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। নুরুন নেছাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না।

    নুরুন নেছার একই জবাব, জসিম উদ্দিনই তার সাথে মিলন করেছে। নুরুন নেছার আত্বীয় স্বজন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েও জসিম উদ্দিনের নাম ব্যতিত অন্য কারও নাম আনতে পারেনি।

    আমিও তাকে অনেকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম, মিথ্যা মামলা করলে সে জেলে যেতে পারে বলেও জানালাম, তারপরও তার একই কথা জসিম উদ্দিনই দোষী, অন্য কেউ নয়।

    গত ৬ ডিসেম্বর আসামীর জামিন শুনানী হয় উচ্চ আদালতে। আসামী পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীগন জোড়ালো ভাবেই তাদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করলেন।

    আমি শুধু নুরুন নেছাকে আদালতের সামনে উপস্থাপন করে বললাম, সে মানসিক ভারসাম্যহীন, তাকে টাকা দিলে সে টাকাও নেয় না, খাবার দিলে ভালভাবে খায়ও না, জসিম উদ্দিনকে ফাসানোর পিছনে তার কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে না।

    তাছাড়া যে কোনো এক্সপ্রার্ট ওপিনিয়ন বিজ্ঞ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমকে সহযোগিতা করবে, কিন্ত তা চূড়ান্ত বলে কিছু নয়। পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনায় বিজ্ঞ আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

    আমি আসামীর জামিনের বিরোধীতা করলাম। আদালত আসামীকে জামিন দেননি। শুনানী শেষেই সিনিয়র আইনজীবী চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান ও সিনিয়র আইনজীবী ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন-ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। তাদের কাছে এ সংক্রান্ত বিষয়ে পৃথক মামলা রয়েছে।

    চেম্বার থেকে কোর্ট, এই কয়েকটি ঘন্টা সময় আমি দেখলাম, মধুমালার যত্বে নুরুন নেছা কোনো আপোষ করেনি। সবসময় আগলে রেখেছে, ক্ষিধার সময় কোর্টের ভেতরেই আড়ালে বসে খাইয়েছে। আমি মানসিক ভারসাম্যহীন নুরুন নেছাকে একজন প্রকৃত মা হিসাবেই দেখেছি।

    কেস স্টাডি-২ঃ একটি ধনীক পরিবারের ছেলে আমার সাথে কথা বলতে চায় একান্তে। কিন্তু চেম্বারে এসে দেখে আমি বিজি, চলে যায়। এভাবে ২/৩দিন ঘটেছে।

    আংশিক কথাবার্তায় আমি বুঝলাম, তার কলেজ পড়ুয়া বোন কোর্ট ম্যারেজ করেছে, এখন তারা তালাক দিতে চায়। তারপরও ছেলেটি আমার সাথে একান্তে কথা বলবেই।

    একদিন সন্ধার পর ছেলেটি আসল, আমিও ছিলাম একা। সে আমাকে বলল, ভাই বিপদে পড়ে গেছি, কয়েকটি কাজ আপনাকে করতে হবে, যত টাকা লাগে আমরা খরচ করবো।

    তারপর জানলাম, তার কলেজ পড়ুয়া বোন গ্রামের এক ছেলের সাথে প্রেম করে বিয়ে করেছে। ছেলেটি তাদের পরিবারের তুলনায় অনেক নিচের। এই বিয়ে তারা কোনো ভাবেই মেনে নিবে না।

    বললামঃ তালাক দিয়ে দাও, তাহলেই শেষ।
    সে বলল, না, আরও কিছু প্রবলেম আছে। বোনের ঘরে এক সন্তান হয়েছে।
    বললাম, সেটাও কোনো সমস্যা না, তোমাদের আর্থিক সংগতি থাকলে ছেলের কাছ থেকে ভরণ পোষনের টাকা না আনলেই হল।
    বলল, আরও প্রবলেম আছে ভাই, জন্মের পরই আমরা সন্তানটিকে অন্যত্র পালক (দত্বক) দিয়ে দিয়েছি।
    আমি জানতে চাইলাম, তোমার বোনকি তাতে রাজী ছিল।
    বলল, তার সম্মতিতেই সন্তানটিকে দত্বক দেয়া হয়েছে। মনটা ভিশন খারাপ হয়ে গেল আমার।
    জানতে চাইলাম, এখন সে কি চায়?
    বলল, আমরা তাকে বুঝিয়েছি, সেও বুঝেছে, সামনে তার উজ্জল ভবিষ্যত, বিয়েটা আমরা অস্বীকার করতে পারব, তালাকও দিতে পারব, কিন্তু সন্তান তো অস্বীকার করতে পারব না, তাছাড়া সন্তানসহ তো ভাল জায়গায় বিয়েও দেয়া যাবে না।
    জানতে চাইলাম, সন্তানের বাবা তো জানে, তোমার বোন সন্তান জন্ম দিয়েছে। বলল, এক্ষেত্রে আমরা একটু চালাকি করেছি। সন্তান জন্মের কয়েক মাস আগ থেকেই আমরা আমাদের বোনকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। সেখানেই সন্তান জন্ম লাভ করে। জন্মের পরপরই আমরা সন্তানটিকে দত্বক দিয়ে দেই। তা বোনের জামাই জানে না।

    জানতে চাইলাম, তাহলে আমি কি উপকারে আসতে পারি? ছেলেটি জানালো- তার মা বাবা বোনের সাথে পরামর্শ করেই সে আমার কাছে এসেছে- বোনের সন্তানটি জন্মের পরই মারা গেছে এমন কোনো ডকুমেন্ট তৈরী করে দিতে পারব কি না। যত টাকা লাগে তারা খরচ করবে, সেটা লাখ টাকাও কোনো বিষয় না।

    বিশ্বাস করুন, এ কথা শুনে তখন আমার শরীর অধিকহারে কাপছিল, আমি প্রচন্ডভাবে ঘামছিলাম, আমার চোখের সামনে থেকে নুরুন নেছা ও মধুমালাকে সরাতে পারছিলাম না। যে অবৈধভাবে সন্তান জন্ম দিয়েও অস্বীকার করেনি, দত্বকও দেয়নি, কোলছাড়াও করেনি, যার সামনে অন্ধকার ভবিষ্যত হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

    অপরদিকে সুখের সন্ধানে সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া সন্তানকে দত্বক দিয়ে দিয়েছে কোটিপতির মেয়ে, আবার সুখের জন্য জীবিত সন্তানকে মৃতও দেখাতে চায়।

    আমি অভদ্র ভাষায় ছেলেটাকে ধিক্কার জানাতে লাগলাম। একই সাথে নিষ্পাপ শিশুর প্রতিটা কান্না, চোখের পানি, মায়ের বুকের দুধ খেতে না দেয়ার অভিশাপ তার মা বাবা বোন এবং তার নিজের জীবনের সুখ শান্তি কেড়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়ে দিলাম।

    গর্ভজাত সন্তানকে অস্বীকার করে, সুখের জন্য জীবিত সন্তানকে মৃত দেখানোর মতো স্পর্ধা যে মা দেখাতে পারে, সে আসলে মা কি না তা নিয়ে আমি সন্দেহের সাগরে ভাসতে লাগলাম। আর ভাবতে লাগলাম আসলে মা কত প্রকার?

    লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী
  • লাখাইয়ে  ইউপি নির্বাচনের  প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময়  সভা অনুষ্টিত

    লাখাইয়ে ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত

    বুধবার (৮ ডিসেম্বর) হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার বামৈ, মুড়িয়াউক, বুল্লা,করাব,মোড়াকড়ি ও লাখাই ইউনিয়ন পরিষদের সাধারন নির্বাচন ২০২১ উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণবিধি অবহিতকরন ও আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা দুপুর ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্টিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং এর সভাপতিত্বে ও জেলা নির্বাচন অফিসার এর সন্চালনায় অনুষ্টিত মতবিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ এর জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার শিমূল, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ সাদেকুল ইসলাম।শুরুতে আচরন বিধি বিষয়ে বিশদ বিবরন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম,নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তুলে ধরেন লাখাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সাইদুল ইসলাম।এ সময় উপস্থিত।ছিলেন ৩,৪,৬ নং ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোশারফ হোসেন খান,১ ও ২ নম্বর ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার ও সমাজসেবা অফিসার আফজালুর রহমান,৫ নম্বর ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার ও প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবু হানিফ।

    প্রধান অতিথি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের ও সমস্যা বিষয়ে আবগত হন এবং তা নিরসনের আশ্বাস দেন। প্রধান অতিথি বলেন ভোট উৎসব আমাদের ঐতিহ্য এ ঐতিহ্য রক্ষায় আমরা বদ্ধ পরিকর।আমরা শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।

    ইভিএম নিয়ে কোন প্রকার শংশয়ের অবকাশ নেই। আমরা মুক ভোটের মাধ্যমে ভোটারদের প্রশিক্ষণ দিব। নির্বাচনে কোন প্রকার অনিয়ম বরদাশত করা হবেনা।কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।প্রশাসন সততা ও নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে। সভায় সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনে মাইক ব্যবহার না করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করেন।