Category: হবিগঞ্জ

  • লাখাইয়ে ১৪ কেজি গাঁজাসহ  গ্রেফতার ৪

    লাখাইয়ে ১৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪

    লাখাইয়ে থানা পুলিশের অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

    থানা পুুলিশ ও মামলাসূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ই এপ্রিল) স্বজনগ্রাম তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিটে লাখাই গোদামবাড়ির নৌকা ঘাট থেকে ১৪ কেজি গাঁজাসহ ৪ জনকে আটক করে।

    আটককৃতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর (ইকরাতলী) এর আহম্মদ আলীর পুত্র আন্জব আলী (২০), ঢাকা জেলার রুপগন্জ থানার বাড়ী নং-৬৬, রোড নং-৪। স্থায়ী ঠিকানা ইলিশা থানা ও জেলা ভোলা। মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া গ্রাম হাংসাং বেপারীবাড়ি নং ৭২ রোড নং ১ ব্লক ই-ষ্ট্যান্ড হাউজিং রূপনগর ঢাকা মৃত মনির হোসেন এর পুত্র ওমর ফারুক (২২), একই ঠিকানার সিরাজুল ইসলামের ছেলে শফিকুল সাজিদ (২২) ও কিশোরগঞ্জ জেলার কঠিয়াদি উপজেলার গনেরগাও গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র আকবর (২৪) কে ১৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। জব্দকৃত গাজাঁর মূল্য ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

    এ ব্যপারে স্বজনগ্রাম তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে যার মামলা নং ১০(৪)২২ ইং।শুক্রবার (০৮ এপ্রিল) গ্রেফতারকৃত আসামীদের সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সিলেট বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় আমির উদ্দিনের সাফল্য

    কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সিলেট বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় আমির উদ্দিনের সাফল্য

    দি‌লোয়ার হোসাইনঃ বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সিলেট বিভাগীয় বার্ষিক অ্যাথলেটিক্স ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়-২০২২অনুষ্টিত হয়েছে।

    প্রতিযোগিতায় বানিয়াচংয়ের মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমির উদ্দিন সাফল্য অর্জন করেছেন।
    ১ এপ্রিল সিলেট আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রতিযোগিতায় বালক,(ক) গ্রুপে “২০০মিটার দৌড়”ইভেন্টে সিলেট বিভাগের ৪ টি জেলা ও ১ টি বিভাগীয় টিমের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

    এতে ৩য় স্থান অর্জন করেছে বানিয়াচঙ্গের মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমির উদ্দিন।
    হবিগঞ্জ জেলার হয়ে ৩য় স্থান অর্জন করে বানিয়াচং উপজেলার তথা হবিগঞ্জ জেলার গর্ব আমির উদ্দিন।

    আমিরের এই অর্জনে মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়েরপ্রধান শিক্ষক ভানু চন্দ্র চন্দ, সহকারি শিক্ষকগন ও সকল শিক্ষার্থীরা আমিরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

    আমির উদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে তার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সে এই খেলার মাধ্যমে সবার মুখ উজ্জ্বল করতে চায়।

  • হবিগঞ্জের ৩ কৃতি ফুটবলারকে জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা প্রদান

    হবিগঞ্জের ৩ কৃতি ফুটবলারকে জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা প্রদান

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমির ৩ কৃতি কিশোর ফুটবলারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশারাত জাহান।

    বৃহস্পতিবার ৭ এপ্রিল দুপুরে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী।

    ব্রাজিলে উচ্চতর ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় ভাবে মনোনীত হবিগঞ্জের ৩ কৃতি কিশোর ফুটবলার আর্থিক সহায়তা করা হয়।

    এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, যত্ন করলেই রত্ন মিলে। সেটা এখন প্রমানিত। আমি শুধু তাদের তৃণমূল থেকে তুলে এনে একটা লাইনে এনেছি। এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়তে পারবে।

    তিনি আরো বলেন, ডিসি ইসরাত জাহান মহোদয়দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি ফুটবলাদের প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছেন তা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়।

  • নির্বাচন আসলেই বিএনপি মিথ্যাচার শুরু করে দেয় – এমপি আবু জাহির

    নির্বাচন আসলেই বিএনপি মিথ্যাচার শুরু করে দেয় – এমপি আবু জাহির

    নির্বাচনের মৌসুম আসলেই বিএনপি জনগণের সামনে মিথ্যাচার শুরু করে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি।

    বৃহস্পতিবার কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে ও ভর্তুকিমূল্যে বীজ-সার এবং কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    হবিগঞ্জ সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুইটি অনুষ্ঠানে এমপি আবু জাহির বলেন, দেশেজুড়ে কৃষকরা বিনামূল্যে সার-বীজ ও ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ পাচ্ছেন। দেশের সকল ক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন অগ্রগতির স্বার্থে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারকে চায়।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক দল। তারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। নির্বাচন মৌসুম আসলে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করা তাদের পুরাতন কৌশল। ইতোমধ্যেই বিএনপি নেতারা সেটি করে যাচ্ছে। বিএনপি বলেছে, তারা নির্বাচনে যাবে না। সেটি তাদের ব্যাপার। কিন্তু তারা এখন বলছে কাউকেই নির্বাচনে যেতে দিবে না। বিএনপির এমন আচরণ ও কথাবার্তা পাগলের প্রলাপ বলেও মন্তব্য করেন এমপি আবু জাহির।

    পৃথক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, পৌরসভার মেয়র ফরিদ আহমেদ অলি, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইয়াছিন আরাফাত রানা প্রমুখ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা বেগম, মুক্তা আক্তার, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মুকিত প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর।

    গতকাল হবিগঞ্জ সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৯টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে ৯ জন কৃষককে দেয়া হয়েছে। এ সময় সহশ্রাধিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্বোধন করেন এমপি আবু জাহির।

    সংবাদটি পড়ুনঃ হবিগঞ্জের দুই উপজেলায় বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ।

  • মাধবপুরে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

    মাধবপুরে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

    হৃদয় এস এম শাহ্-আলমঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের মনতলা বাজারে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যান এর দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতরে আহত হন প্রায় ৫০ জন।

    বৃহস্পতিবার ০৭ (এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ও সাবেক চেয়ারম্যান আরিফের সমর্থনপুষ্ট দু’টি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এতে উভয়পক্ষের ৫০ জন আহত হয়। উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫০ জন ব্যক্তি প্রায় এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে থানার কয়েকটি টিম ঘটনা স্থলে এসে সংঘর্ষ স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।

    থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাটির তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে। তাই আপনারা দ্বিতীয় বার এমন ভুল করবেন না।

    এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। বর্তমানে মনতলা বাজার থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

  • রমজান মাসে বিদ্যুৎের লুকুচুরিতে অতিষ্ট শহরবাসী

    রমজান মাসে বিদ্যুৎের লুকুচুরিতে অতিষ্ট শহরবাসী

    একদিকে পবিত্র রমজান মাস এতে করে মানুষ এমনিতেই ক্লান্ত থাকেন অন্যদিকে অতি গরমেও বিদ্যুৎ বিহীন হবিগঞ্জ শহর!

    এক দিকে রমজান সাথে অতি গরম, অন্যদিকে লোডশেডিং! এ যেন হবিগঞ্জ শহরের নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ পড়ছে। শহরের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে যেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)’র সেবা নিয়ে প্রশ্ন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

    অভিযোগের তালিকায় রয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও অনেকক্ষণ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা। তাছাড়া বিদ্যুৎ এর ভোল্টেজ কম, মাসিক অতিরিক্ত বিল, প্রিপেইড মিটারে অনিয়ম ইত্যাদি।

    আর এইসব নিম্ন মানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হবিগঞ্জ।

    আকাশে নেই সামান্য মেঘ, নেই হালকা বাতাসও, তারপরেও ইফতারের আগে উধাও হবিগঞ্জের বিদ্যুৎ। ইফতারের আগে বারবার লোডশিংয়ের কারণে অস্বস্থিবোধ করেন রোজাদাররা। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে এইভাবেই চলছে শহরের বিদ্যুৎ সেবা।

    নেই কোন এর সঠিক সমাধান, নেই অভিযোগ করার মতো স্থান। এই বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণ। আর এইভাবেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, হবিগঞ্জে গত কয়েকবছর আগেও এইরকম লোডশেডিং হতো না। এখন ব্যাপকভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। অন্যতম কারণ হল হবিগঞ্জে শহরে অবৈধ টমটম ও অটোরিকশা বৃদ্ধি।

    শহরতলীর বহুলা গ্রামের শাহ শাকিব জানান, “গত কয়েক দিন যাবৎ ঘন্টায় বিরতিহীন ভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিহীন গরমে নাজেহাল অবস্থা। আর এইভাবে লোডশেডিংয়ের ফলে আমার কম্পিউটারের পিসি নষ্ট হয়ে গেছে, কাজ করছে না কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস।

    ঈদগাহ সংলগ্ন সাহিদ মিয়া নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, “বিদুৎ বিহীন চলা মুশকিল। বিশেষ করে ঠান্ডা জাতীয় খাবার যেমন আইসক্রিম, মজো ও কোকাকোলা জাতীয় তরল খাবার ঠান্ডা না থাকায় ক্রেতারাও নিতে চাননা। আমরা যারা ব্যবসায়ী তাদের উপর প্রভাব টা বেশি পরে। ঠিক মত আমরা ব্যবসা করতে পারি না। বিদ্যুৎ এর উপর আমরা নির্ভরশীল।”

    বিশিষ্ট সমাজ সেবক এস এম মনসুর শামিম বলেন, “অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের জন্য ইফতারের সময় ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তার জন্য রোজাদাররা ঠিক মতো আজান শুনতে পায় না এতে করে ইফতার করতে সমস্যা হয়। আবার অতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে ছোট বাচ্চাদেরও সমস্যা হয়।”

    শাহ আলম মস্তু বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়েছে, ঘন্টায় দুই-তিন বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। তীব্র গরমে এই লোডশিডিংয়ের জন্য আমরা অতিষ্ঠ৷ শীঘ্রই এর সুরাহা চাই না।”

    উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও হবিগঞ্জ শহরের মানুষ পুরোপুরি ভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।

    যথেষ্ট পরিমাণের বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও কী কারণে এত লোডশেডিং আর নিম্ন মানের সেবা দিচ্ছে পিডিবি সেই প্রশ্ন এখন হবিগঞ্জের সাধারণ জনতার ?

    বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকোশলী আব্দুল মজিদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আজকে হঠাৎ করে গাছের ডাল ভেঙে পড়লে তা মেরামত করতে বিদুৎ অফ করতে হয়। তবে আমাদের এমনিতে কোনো সমস্যা নেই।

  • হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের সংবাদ, প্রত্যাশাও অনেক

    হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের সংবাদ, প্রত্যাশাও অনেক

    শাহ ফখরুজ্জামানঃ ঐতিহাসিককাল থেকেই ক্রীড়ঙ্গনের জনপদ হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ জেলা। তবে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভালো উদ্যোগের অভাবে এখানকার ক্রীড়াঙ্গন প্রত্যাশিতভাবে অগ্রসর হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক আনন্দের সংবাদ এসেছে।

    এগুলো আমাদের স্বপ্ন দেখাতে সাহস দিচ্ছে। আবার এই সফলতাগুলো সাসটেনবল হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে আশঙ্কা। কারণ অনেক সীমাবন্ধতা। যদিও এই সীমাবদ্ধতা চাইলেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন বাস্কবসম্মত উদ্যোগ। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশাও অনেক।

    মঙ্গলবার হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় খবরটি আসে ফুটবল থেকে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ বালক প্রতিযোগিতা থেকে সারাদেশের বাছাই করা ৪০ জন ফুটবলার সুযোগ পায় বিকেএসপিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণের জন্য। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে ১১ জন ফুটবলার বাছাই করা হয়েছে ব্রাজিলে পাঠানোর জন্য। সেই ১১ জনের মধ্যে তিনজনই আমাদের হবিগঞ্জের সন্তান। ফুটবলের তীর্থভূমিতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগের তালিকায় নিজ জেলার তিনজনের সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের।

    এখানে আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হল হবিগঞ্জ থেকে সুযোগ পাওয়া তিনজনই এসেছেন চুনারুঘাটে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ফুটবল একাডেমি থেকে। জেলা শহরের বাইরে এবং সীমিত অবকাঠামোগত সুবিধা নিয়েই শুধু ভালো উদ্যোগেই যে কতটা ভালো ফলাফল এনে দিতে পারে এটি একটি নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তাই ধন্যবাদ প্রাপ্য ব্যারিস্টার সুমনের। প্রশিক্ষক আব্দুল আজিজও ধন্যবাদ পাবেন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য।

    এখানে আরও একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল চুনারুঘাট থেকে যে তিনজন সুযোগ পেয়েছেন, তার মধ্যে দুইজনই ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর। অনিক দেব বর্মা সুমনের বসবাস পাহাড়ে আর শংকর বাকতি (মধু) চা শ্রমিক সন্তান। তাদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে।

    ফুটবলের বড় বড় মহাতারকাদের উঠে আসার গল্পও কিন্তু অনিক আর শংকরের মতোই। পেলে আর ম্যারাডোনার গল্পগুলো সবাই জানে। বস্তি থেকে প্রতিকূলতা জয় করেই তারা বিশ্ব শাসন করেছেন। তাই প্রকৃত তারকার সন্ধান করতে হলে আমাদের ছুটতে হবে সেই দুর্গম এলাকাতেই। শহরে বসে বড় তারকা বের করা যাবে না। এটি আমাদের শিক্ষা দিলেন অনিক আর শংকর। এই বিষয়টির প্রমাণ কিন্তু মিলেছে অনেক আগেই।

    চুনারুঘাটের চা কন্যারা আমাদের হবিগঞ্জকে বার বার প্রমিলা ফুটবলে সিলেটের সেরা বানিয়েছেন। বাহুবল উপজেলার আলিয়াছড়ার খাসিয়ারাও বঙ্গবন্ধু ফুটবলে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়ে একবার প্রমাণ করেছেন তারা সুযোগ পেলে কী করতে পারেন। ব্যারিস্টার সুমন সেই সম্ভাবনার জায়গাটি ঠিকই ধরতে পেরেছেন। এই সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করলে আরও শংকর ও অনিক সৃষ্টি হবে, তা বলা যায় নিঃসন্দেহে।

    মঙ্গলবার হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে আরও একটি ভালো খবর আসে ময়মনসিংহ থেকে। ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে হবিগঞ্জ জেলা ক্রিকেট দল রাঙ্গামাটিকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। এর আগে একই মাঠে সুনামগঞ্জকে ২ উইকেটে পরাজিত করেছিল হবিগঞ্জ। ৯ এপ্রিল কক্সবাজারের মুখোমুখি হবে হবিগঞ্জ। সেই খেলায় জয়লাভ করলে অথবা অন্যান্য দলের ফলাফল বিশ্লেষণে আমাদের সুযোগ হতে পারে জাতীয় ক্রিকেট লিগের টায়ার-১ এ অংশ নেওয়ার।

    হবিগঞ্জ যেদিন রাঙ্গামাটিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করল সেই খেলায় ছিলেন না এই মুহূর্তে জেলার সেরা খেলোয়াড় জাকের আলী অনিক। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ওইদিন ছিল মোহামেডান ও আবাহনীর লড়াই। আমাদের অনিক ৬০ রান সংগ্রহ করে আবাহনীকে ৬ উইকেটে জয়লাভ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ খবরটিও আমাদের জন্য আনন্দের।

    ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার প্রতিযোগিতায়ও অনেক সাফল্য এসেছে গত কয়েকদিনে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার প্রতিযোগিতায় হবিগঞ্জে অনেক পুরস্কার এসেছে। কয়েকদিন আগে সিলেটে অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তানের সন্তানদের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় হবিগঞ্জ জেলা সেরা হয়েছে। অন্য খেলায়ও ছোট বড় সফলতার খবর আসছে প্রতিনিয়ত।

    ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুনাম কাড়ছেন আমাদের অনেক খেলোয়াড়। ভলিবলের জাতীয় স্কোয়াডেও আছেন প্রতিনিধি। ভারউত্তোলনে মুমিনসহ বিভিন্ন ইভেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রয়েছে হবিগঞ্জের অনেকেই। দেশের সীমানা পেরিয়ে ইংলিশ লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটির হামজা আমাদের সন্তান।

    এই মাটিতেই বেড়ে ওঠা নিপু এখন পর্তুগালে জাতীয় দলের ক্রিকেটার। পিএইচডি করতে গিয়ে ফিনল্যান্ড জাতীয় দলে অংশ নিচ্ছেন হবিগঞ্জের নুরুল হুদা শিপন। হবিগঞ্জের আরও অনেক ক্রিকেটার বিদেশের বিভিন্ন লিগে অংশ নিচ্ছেন।

    আমাদের নাজমুল হোসেন এখন এ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যারিস্টার সুমনের মতো তিনিও চুনারুঘাটের চা বাগান ঘেরা মাঠে একাডেমি করে নতুন ক্রিকেটার সৃষ্টির জন্য মনোনিবেশ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে যাওয়ার সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে বেশি।

    হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের এই অগ্রযাত্রার অন্যতম নিয়ামক হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়াম। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের প্রচেষ্টায় এই স্টেডিয়াম হওয়ার পর এখন দ্রুত বিকাশ হচ্ছে খেলাধুলার। ছোট্ট জালাল স্টেডিয়ামে এক সময় অর্ধশত রান করতে যেখানে খেলোয়াড়দের সংগ্রাম করতে হত, সেখানে আধুনিক স্টেডিয়ামে এ বছর হয়েছে ৮টি সেঞ্চুরি। জেলা দলের তৌফিক এক ইনিংসে ২৫১ রান করে সবাইকে তাক লাগিয়েছেন।

    এমপি আবু জাহির এই মাঠকে আরও উন্নত করে এবং বাহুবলের প্যালেস রিসোর্টকে কেন্দ্র করে আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আন্তর্জাতিক খেলাধুলা আয়োজনের। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার এই ঘোষণা আমাদের আশাবাদী করেছে।

    তিনি শুধু মাঠই এনে দেননি। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাহিদার বিষয়টি জানা থাকায় পৃষ্ঠপোষকতার হাতও বাড়ান নিয়মিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশা হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামে মিডিয়া সেন্টার স্থাপনসহ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য যেন আরও উদ্যোগ নেন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি ইনডোর স্টেডিয়াম।

    বাংলাদেশে যেসব খেলা আয়োজন করা হয়, তার অধিকাংশই ইনডোর। আউটডোর খেলার সংখ্যা তুলনায় কম। আবার যারা আউটডোর খেলায় অংশ নেন তাদেরও প্রস্তুতি নিতে যেতে হয় ইনডোরে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতা ধরে রাখা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইনডোরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    মৌসুমী খেলোয়াড়কে পেশাদার খেলোয়াড়ে রূপান্তর করার পূর্বশর্ত হল ইনডোর স্টেডিয়াম এবং মানসম্মত জিমনেশিয়াম। এর বাইরে একটি সুইমিংপুলের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। হাওর এলাকার প্রাণকেন্দ্র হবিগঞ্জ শহরে একসময় পুকুরে ভরপুর ছিল। এখন অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে।

    প্রতিযোগিতার জন্য সাঁতারু সৃষ্টি করা এখন দুরূহ ব্যাপার। কারণ শহরে থাকা নতুন প্রজন্মের অনেকেই সাঁতারই জানে না। সুইমিংপুল করতে পারলে শুধু সাঁতারুই সৃষ্টি হবে না, এতে অন্য খেলার খেলোয়াড়রাও তাদের ফিটনেসের উন্নতির জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

    হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হলে ইনডোর স্টেডিয়াম, জিমনেশিয়াম ও সুইমিংপুল বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। আমার জানামতে এ ব্যাপারে বিগত সময়ে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের এমপি মহোদয় উদ্যোগ নিলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন হবে।

    এই মুহূর্তে আমাদের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান মহোদয়ও খেলাধুলায় উৎসাহী। নিয়মিত খেলার বাইরে ঘোড়দৌর ও লাঠিখেলার মতো গ্রামবাংলার জনপ্রিয় খেলাকে গ্রাম থেকে শহরে এনে ক্রীড়াঙ্গনে নতুনত্ব এনেছেন। প্রথমবারের ন্যায় আয়োজন করেছেন বিভাগীয় টেনিস প্রতিযোগিতা। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তার কাছে যথাযথ সমন্বয় প্রত্যাশা করছি।

    খেলাধুলার সফলতা নিয়ে এই লেখার  অবতারণা হলেও এই সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রেও ভাল কিছু সংবাদ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে। একটি হল এবার হবিগঞ্জ থেকে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছেন সরকারী মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নের। আরেকটি হল ৪০তম বিসিএস এর ফলাফলে হবিগঞ্জ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুপারিশ হওয়া।

    আরেকটি বিষয় লিখে শেষ করতে চাই, সেটি হল হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের কাছে একটি প্রত্যাশা। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় উদ্যোগ নিয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তার নামেও হয়েছে। আলেয়া জাহির ফাউন্ডেশন করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

    খেলাধুলার উন্নয়নে যদি তিনি একটি একাডেমি গড়ে তুলেন, তাহলে হবিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই একাডেমি হবে বিকেএসপির আদলে, যেখানে এসে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা শিখবে শিশুরা।

    সিলেটে রাগীব রাবেয়া একাডেমি যেভাবে কাজ করে সেই আদলে একটি প্রতিষ্ঠান করলে তা শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রায়ও বড় ভূমিকা রাখবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এনে দেওয়াসহ বিগত সময়ে তার কাছ থেকে বড় বড় উপহার পাওয়ায় এই চাওয়াটুকুও পূরণ হবে বলে আমি আশাবাদী। কারণ যিনি কাজ করেন এবং করতে পারেন, তার কাছে প্রত্যাশাও অনেক।

    লেখক: আইনজীবী, সাংবাদিক ও সহ-সভাপতি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, হবিগঞ্জ।