Category: হবিগঞ্জ সদর

  • হামলা ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে থাকুন // জয়নুল আবেদীন

    হামলা ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে থাকুন // জয়নুল আবেদীন

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি জয়নুল আবেদীন বলেছেন- দেশের গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে বিএনপি, আর বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দেয় পুলিশ। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। তিনি বুধবার হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি, সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    এডভোকেট জয়নুল আবেদীন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণমানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে ইশপাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলুন। পুলিশের মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে থাকুন। আইনী সহায়তা বাংলাদেশ আইনজীবি ফোরাম দিবে। সকল মামলার দায়ভার আমরা বহন করব। বিনা খরচে দেশের সকল আদালতে মামলা পরিচালনা করব।

    তিনি বলেন- বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে। কিন্তু ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আইনের শাসনকে কুক্ষিকগত করে বিএনপিকে দামিয়ে রাখার চেস্টা করছে। মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশী রায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক করে রেখেছে। জামিনযোগ্য মামলায় জামিন দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু তাদের জানা নেই আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের শেষ সরকার নয়। আওয়ামীলীগের পতন হবে, আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে, গণমানুষের দল বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসবে, সেই দিন আর বেশি দুরে নয়। তাই ইশপাত কঠিন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। নির্দেশনা আসলেই রাজপথে ঝাপিয়ে পড়েন।

    বাংলাদেশ আইনজীবি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট হাজী নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ, বাংলাদেশ আইনজীবি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আমিনুল ইসলাম।

    সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মিজানুর রহমান, হাজী এনামুল হক, আজিজুর রহমান কাজল, এডভোকেট এস এম বজলুর রহমান, নুরুল ইসলাম নানু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, মিয়া মোঃ ইলিয়াছ, জালাল আহমেদ, সফিকুর রহমান সিতু, মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট ফাতেমা ইয়াসমিন, সৈয়দ মুশফিক আহমেদ, এমদাদুল হক ইমরান, রুবেল আহমেদ চৌধুরী, শামছুল আলম, খালেদুর রশিদ ঝলক প্রমুখ।

  • আজ হবিগঞ্জের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কামরুল হাসান-এর যোগদান

    হবিগঞ্জের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে আজ যোগদান করছেন মোঃ কামরুল হাসান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহন করবেন। জেলা প্রশাসনের একটি বিশ্বস্থসূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর পুর্বে তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদের স্থালাভিষিক্ত হবেন। গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে বদলিত জনিত এ সংক্রান্ত একটি আদেশে জারি করা হয়। আদেশে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় মোঃ কামরুল হাসানকে। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে আসা উপ-সচিব মাহমুদুল কবির মুরাদকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

  • এবার হবিগঞ্জে পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা

    এবার হবিগঞ্জে পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা

    সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জেও অস্থিরভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১ সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০/৪৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০৫/১১০ টাকায় বিক্রি হলেও সন্ধ্যা থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বার বার পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন পেঁয়াজের দাম আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল চৌধুরী বাজার কাঁচামাল হাটায় গিয়ে দেখা গেছে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে কাঁচামাল হাটায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল বিকেল ৫টার পর থেকে পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে বিক্রি শুরু করেন।এছাড়া গতকাল সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পোলাউর চাউল ৮২ টাকা, আস্তা মরিচ ১৭০, গুড়া মরিচ ২৩৫ টাকা, আস্তা হলুদ ১১০ টাকা, আস্তা ধনিয়া ১০৫ টাকা, ছোলা ৭২ টাকা, ছানার ডাইল ৩৬ টাকা, পেঁয়াজ এলসি ১১০ টাকা, পেঁয়াজ বারমা ১০৫ টাকা (সকাল) এর মূল্য। এছাড়া রসুন এলসি ১৩২ টাকা, রসুন দেশী ১৫০ টাকা, চিনি ৫৬ টাকা, সয়াবিন লোজ সিটি ৭০ টাকা, মশুর ডাল দেশী ১১২ টাকা, মশুর ডাল মোটা ৫২ টাকা, সাদা মটর ৩৫ টাকা, সাগোদানা ৯৫ টাকা, বেশন ৪৫ টাকা, জিরা আস্তা ৩৩০ টাকা, মুগ ডাইল মধ্য ১১০ টাকা, আটা লোজ ২৫ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।চৌধুরী বাজারে পেঁয়াজ ক্রয় করতে আসা উমেদনগরের রইছ আলী জানান, ১ মাস আগে ৫০/৫৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করেছি। দিন দিন পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়ে এখন ১২০ টাকা দাঁড়িয়েছে। আগে বাজারে এক সাথে ৪/৫ কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করলেও এখন আধা কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করছি। তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম সাড়ে ৪শ’ টাকা। এ হিসেবে কৃষকরা ১ মণ ধান বিক্রি করে ৪ কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করতে পারবেন।মিজানুর রহমান নামে এক ক্রেতা জানান, এখন আর বাজারে আসতে ইচ্ছা করে না। এক কেজি পেঁয়াজ যদি ১২০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়, তাহলে অন্য সব পণ্য কী করে কিনব। কয়েকদিন পর পর পেঁয়াজের দাম বাড়ে, কিন্তু যেখানে কাজ করি সেখানে তো হঠাৎ করে বেতন বাড়ে না।চৌধুরী বাজার কাঁচামাল হাটার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, সকালে আমরা পাইকারী প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯৫/১০০ টাকা দরে ক্রয় করে খুচরা ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দামে বিক্রি করেছি। বিকেলে পাইকারী বাজারে আরেক দফা পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। আমাদেরকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারী ১১২ টাকা দরে ক্রয় করতে হয়। তিনি জানান, বস্তায় ৪/৫ কেজি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলোর মধ্যে কিছুটা ফেলে দিতে হয়। এ হিসেবে ১২০ টাকা কেজি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেও আমাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি করার ইচ্ছা আর হয় না। কিন্তু পেঁয়াজ না বিক্রি করলেও যারা পেঁয়াজের সাথে অন্যান্য মসলা ক্রয় করতে আসবেন তারা দোকান থেকে ফিরে যাবেন। তিনি পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

  • হবিগঞ্জে ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান

    হবিগঞ্জে ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ শহরতলীর ধুলিয়াখাল মাহমুদপুর এলাকায় ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ।

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল মালামাল জব্দ এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক ইসমাইল মিয়াকে (২৭) আটক করা হয়েছে। ইসমাইল ওই গ্রামের মর্তুজ আলীর পুত্র।

    সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।

    ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক দেবাশীষ তালুকদার বলেন, “প্রায় ২ বছর ধরে ইসমাইল মিয়া স্কোর কনজুনা প্রোডাক্ট নামের একটি লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান খুলে ভেজাল পণ্য সরবরাহ করে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মালিক ইসমাইলকে আটক করা হয়েছে।”

    দেবাশীষ তালুকদার আরো বলেন, “সেখান থেকে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরণের ভেজাল পণ্য। যার মধ্যে রয়েছে ৩ শত লিটার ভেজাল সয়াবিন তেল, ৪ শত লিটার সরিষার তেল ও ৮ শত লিটার নারকেল তেল। এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরণের স্টেশনারি সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।”

    তিনি আরো বলেন, “আটক ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    এ বিষয় নিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম)।

    এ সময় তিনি উদ্ধারকৃত মালামালের বিবরণ দেন এবং আটক ইসমাইলের সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, এস এম রাজু আহমেদ, ডিবির ওসি মো. মানিকুল ইসলাম, মো. এমরান হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

  • বিদায়ী জেলা প্রশাসককে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে পুলিশ সুপার

    বিদায়ী জেলা প্রশাসককে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে পুলিশ সুপার

    পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গতকাল রাত ৯টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এমদাদুল ইসলাম সোহেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত হোসেন রুবেল। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক, সদর থানার ওসি তদন্ত জিয়াউর রহমান, কোর্ট ইন্সপেক্টর আল-আমিন সহ বিভিন্ন থানার ওসিগণ। সাংবাদিকদের উপস্থিত ছিলেন, মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোঃ ছানু মিয়া, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি এসএম সুরুজ আলী, দৈনিক খোয়াইর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার জুয়েল চৌধুরী, লোকালয় বার্তা চীফ রির্পোটার তারেক হাবিব প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ সুপার জেলা প্রশাসকের হাতে সম্মাননা উপহার তুলে দেন।

  • চলমান উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে বাপা প্রতিনিধি দল

    চলমান উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে বাপা প্রতিনিধি দল

    সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জে পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলা উচ্ছেদ তৎপরতা পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র একটি প্রতিনিধিদল। বাপা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদ, সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী মোমিন, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম, বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, বাপা হবিগঞ্জের সদস্য এডঃ বিজন বিহারী দাস, আসমা খানম হ্যাপি, এডঃ শায়লা পারভীন, বিশিষ্ট দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আলী আহসান চৌধুরী পিন্টু, আবিদুর রহমান রাকিব, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
    পরিদর্শন শেষে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রতিনিধি দল তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান আরো বেগবান করার ব্যাপারে সকল মহলের মনোযোগ আকর্ষণ করে প্রতিনিধি দলের পক্ষে শরীফ জামিল বলেন, হবিগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও খোয়াই পুনরুদ্ধারে দীর্ঘদিনের নাগরিক আন্দোলন থাকলেও ইতিপূর্বে পুনরুদ্ধারের এমন জোরালো প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান জেলা প্রশাসনকে বাপা’র পক্ষ থেকে উচ্ছেদ তৎপরতা শুরু করার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে এই উচ্ছেদ তৎপরতা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন বাঞ্চনীয়। তাই মাছুলিয়া থেকে গরুর বাজার পর্যন্ত সম্পূর্ণ পুরাতন খোয়াই নদীর সীমানা চিহ্নিত করে নদী অভ্যন্তরে থাকা সকল স্থাপনা নির্মোহ ও ব্যতিক্রমহীনভাবে উচ্ছেদ করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। একি সাথে নদী সংরক্ষণে গৃহিত প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব নকশা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল সদস্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ এর সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে প্রতিনিধিদল পুরাতন খোয়াই উচ্ছেদ অভিযান দৃঢ়তার সাথে পরিচালনা করায় জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান, একি সাথে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সকল পর্যায়ে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

  • হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিদায়ী জেলা প্রশাসকের সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনা ॥ মানুষের কল্যাণকর কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি ॥ জেলা প্রশাসক

    ‘হবিগঞ্জের মানুষের জন্য যে কাজগুলো কল্যাণকর মনে করেছি সেগুলো শতভাগ আন্তরিকতার সাথে করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যদি হবিগঞ্জের জন্য কিছু করার সুযোগ পাই সে সুযোগ আমি হাতছাড়া করবো না।’ হবিগঞ্জ পৌরসভার নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন হবিগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ পৌর টাউন হলে হবিগঞ্জ পৌরসভা আয়োজিত ‘বিদায় অনুষ্ঠান ও নাগরিক সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে হবিগঞ্জের খোয়াই প্রতিরক্ষা বাধের নাজুক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে বাধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মাধবপুরের সড়ক ও জনপথের ভূমি পূনরুদ্ধারসহ নানা পদক্ষেপ নিতে অনেক বাধা বিপত্তি এসেছে। এমনকি আমার উপর মামলাও হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভাল কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। সকল বাধাকে উপেক্ষা করেই জনগনের স্বার্থে কাজ করে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পুরাতন খোয়াই নদী উদ্ধারের কাজ চলমান থাকবে। ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে শুধু পুরাতন খোয়াই নদীই অন্তর্ভূক্ত নয়, বরং বাল্লা সীমান্তে খোয়াই নদীর শুরু হতে ভাটিতে খোয়াই নদীর শেষ পর্যন্ত নানা উন্নয়নকাজ এতে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।’ তিনি বলেন,‘পুরাতন খোয়াই নদীর চলমান উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পুরাতন খোয়াই নদীর সৌন্দর্য্য দেখার জন্য দেশ-বিদেশ হতে মানুষ এখানে আসবে। আশাকরি দু’বছর পর আমিও এর সৌন্দর্য্য দেখার জন আসবো।’ ‘হবিগঞ্জকে নিজের এলাকার মতো মনে করে আমি কাজ করেছি। এই হবিগঞ্জে শুধু ভূমিদস্যূ নয় বরং বালু দস্যূও রয়েছে। বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছি। একারনে অনেকেরই অবৈধ উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। হবিগঞ্জে জনকল্যানে কাজ করতে অনেকেই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সাংবাদিক, পরিবেশবাদী, সংস্কৃতিকর্মী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিসহ সাবাই প্রশাসনের কাজে সহযোগিতা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জের স্মৃতি আমি সারা জীবন আমার হৃদয়ে ধারন করবো।’ হবিগঞ্জ পৌরসভার নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য তিনি হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান, কাউন্সিলরবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান বলেন ‘জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ হবিগঞ্জ পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা কাজে অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে সহযোগিতা করেছেন।’ তিনি বলেন ‘জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীরকে কথা দিচ্ছি হবিগঞ্জ পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য চলমান কাজ অব্যাহত থাকবে। আরো দু’মাস অভিযান অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা সমস্যা ৮০ শতাংশ কমে যাবে।’ নাগরিক শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব তারেক মোঃ জাকারিয়া, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি প্রফেসার ইকরামুল ওয়াদুদ, ব্যক্সের সভাপতি মোঃ শামছুল হুদা, মূকুল আচার্যী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান, বর্তমান সাধারন সম্পাদক সৈয়দ এখলাসুর রহমান খোকন, কবি ও সাহিত্যিক তাহমিনা বেগম গিনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি অনুপ কুমার দেব, সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী মমিন প্রমুখ। হবিগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গৌতম কুমার রায়। উপস্থিত ছিলেন পৌরকাউন্সিলর মোঃ আবুল হাসিম, মোঃ জাহির উদ্দিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ মিয়া, শেখ নূর হোসেন, মোঃ আলমগীর, পিয়ারা বেগম, খালেদা জুয়েল ও অর্পনা পাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সচিব মোঃ ফয়েজ আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসকের হাতে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। এছাড়াও হবিগঞ্জের প্রায় ৩০টি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।