হবিগঞ্জের ভূয়া এএসপি নিলান্দ্রী শেখর রাহুল গোপ (৩৫) আটক হওয়ার পর বেড়িয়ে এসেছে অনেক কাহিনী।
তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় ১২টি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মামলা হলো কণ্ঠশিল্পী মেহজামিন মেরিন এর সাথে বিয়ের নামে প্রতারণার মামলা।
মেহেরিনের বরাত দিয়ে ভাটারা থানার এসআই বেলায়েত হোসেন ভূইয়া জানান, ১৯ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার একটি অভিজাত এলাকার বিয়েতে পরিচয় হয় মেরিনের সাথে রাহুল গোপের।
এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেহেরিনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় রাহুল।
পরে বিয়ে না করে রাহুল নানা রকম টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে সে গা-ঢাকা দেয়।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর মেহেরিন জানতে পারে সে ভূয়া এএসপি এবং একজন প্রতারক। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
এরকম আরো নারী ও পুরুষের সাথে এএসপি পরিচয় দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক রাহুল।
প্রসঙ্গ, গত ১৯ জানুয়ারি রাতে কুড়িলে অবস্থিত হোটেল প্রগতি ইন থেকে অভিযুক্ত রাহুলকে নারীসহ গ্রেফতার করে ভাটারা থানা পুলিশ।
এই সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের আইডি, একটি নোকিয়া মোবাইল, একটি আইফোন, ১৯ লাখ টাকা ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
গত ১৪ জানুয়ারি হোটেল প্রগতি ইনে পুলিশের আইডি কার্ড দেখিয়ে এএসপি পরিচয়ে রুম ভাড়া নেয় অভিযুক্ত রাহুল গোপ। পরে ১৬ জানুয়ারি হোটেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া চাইতে গেলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকে।
সন্দেহ হলে ভাটারা থানা পুলিশকে খবর দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ হোটেল প্রগতি ইনে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তের পরিচয় জানতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে তিনি ভূয়া পুলিশ পরিচয়ে হোটেলে অবস্থান করছেন বলে স্বীকার করে এবং মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই বেলাল ভূইয়াকে।
ভূয়া এএসপি রাহুল বানিয়াচং উপজেলার ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়নের বিথঙ্গল গোয়াল হাটি সুদি ব্যবসায়ী অজিত গোপের পুত্র ও শহরের উত্তর শ্যামলীর বাসিন্দা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাহুল ৬ মাস পূর্বে হবিগঞ্জ বানিজ্যিক এলাকার উত্তরা কমপ্লেক্সের সংলগ্ন পূর্বে পুরান মুন্সেফীতে ৯০ লাখ টাকায় একটি ৩ তলা অট্টালিকা ক্রয় করে ওই ভবনটিকে ৫তলায় রূপান্তরিত করেন।
এই সংস্কার কাজ ব্যয় হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তার পিতার নামে এই “অজিত ভবন” হিসাবে নামকরণ করা হয়।
সুরম্য অট্টালিকাটি বাংলাদেশ পুলিশের ডিজাইন ও রংয়ে দৃশ্যমান রয়েছে। যে কেউ দেখলে মনে হবে এটি পুলিশের কোন উধ্বতন কর্মকর্তার বাড়ী।
ভূয়া এএসপি রাহুল গোপ নিয়মিত হবিগঞ্জ যাতায়াত করতেন (পুলিশ ডিএমপি/পুলিশ এসএমপি) স্টিকার সম্ভলিত একটি বিলাশ বহুল গাড়ীতে।
তার স্বীকারোক্তি মতে ঢাকার একটি বাসা থেকে পুলিশের বিভিন্ন পোশাক, সিল, জুতা, বেইজ, লগু, বাশি, খেলনার পিস্তলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।
ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে ভুক্তভোগীরা থানায় এসে অভিযোগ করেছেন।
রাহুলের বিরুদ্ধে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো রহস্য বেরিয়ে আসবে।
হবিগঞ্জ থানার পুলিশকেও খোঁজ খবর নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার রাহুল অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হলে সদর থানার একদল পুলিশ তার বিলাসবহুল বাসায় অভিযান চালান। কিন্তু ওই বাসায় কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী বলেন, ভুক্তভোগীরা যদি থানায় এসে অভিযোগ করে তাহলে প্রতারক রাহুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার সাথে কারা জড়িত তাদেরকেও খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শরীফ চৌধুরীঃ দুর্ঘটনা নয় প্রেমে সাড়া না দেয়ায় হবিগঞ্জে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থেকে ফেলে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুলতান উদ্দিন প্রধানের আদালতে গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জানা গেছে, সিএনজি অটোরিক্সায় শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় জাকির হোসেন। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায় গাড়ি থেকে লাফ দিতে চায় ওই ছাত্রী।
অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় জাকির৷ এতে জেরিন গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়।
সেখানে একদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ জানুয়ারী মারা যায় এসএসসি পরিক্ষার্থী মদিনাতুল কোবরা জেরিন৷
আটককৃত জাকিরের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।
তিনি বলেন, গত ১৮ জানুয়ার রিচি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি অটোরক্সা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আহত করা হয় জেরিনকে। পরদিন ১৯ জানুয়ারী সকালে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রথমে ধারণা করা হয়ছিল দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার দাফন করান৷ কিন্তু বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হয়৷ তদন্ত করত গিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
গ্রেফতার করা হয় সদর উপজেলার ধল গ্রামের জাকির হোসনকে। নিহত এসএসসি পরিক্ষার্থী মদিনাতুল কোবরা জেরিন স্থানীয় রিচি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিল৷ সে সদর উপজলোর ধল গ্রামের আব্দুল হাইর মেয়ে।
হবিগঞ্জ শহরতলীর বহুলা গ্রামের সাড়ে ৫শ দরিদ্র লোকজনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।বৃহস্পতিবার বিকেলে বহুলা ঈদগাহ মাঠে তিনি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা কালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা সবাইকে মাদক ও দাঙ্গামুক্ত থাকার আহবান জানান এবং সন্তানদেরকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান, জিপি-ভিপি এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুল, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলী, এডভোকেট আজিজুর রহমান সজল খান, জাহির আহমেদ, আসাদুজ্জামান,
আব্দুল গনি, ইউপি সদস্য অনু মিয়া, ছালেহ আহমেদ চৌধুরী, এনামূল হক, সাইদুর রহমান প্রমুখ।অনুষ্ঠানে ৩শ নারী, ২শ পুরুষ ও ৫০জন শিশুর মাঝে শীতবস্ত্র হিসাবে সেয়েটার বিতরণ করা হয়।
হবিগঞ্জ শহরতলীর তেঘরিয়া গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শিশু ইসমাইল হোসেন বিদয় হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
বাবার বিদেশ থেকে দেয়া মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
আর এক মাসের পরিকল্পনায় এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে প্রতিবেশী হবিগঞ্জ জেকেএন্ড এইচ কে হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সাইমিন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছে গ্রেফতারকৃত সাইমিন নিজেই।
তার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএ-পিপিএম)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি করার সময় পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারী উত্তর তেঘরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফারুক মিয়ার ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ইসমাইল হোসেন বিদয় (১০) পোদ্দারবাড়ি এলাকায় নাটক দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।
প্রতিবেশী শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সাইমিন নাটক দেখানোর জন্য তাকে নিয়ে যায়।
কিন্তু রাত ৮টা পর্যন্ত বিদয় বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা বিষয়টি চাচাদের জানিয়ে বিদয়ের সাথে থাকা মোবাইল ফোন নাম্বারে যোগাযোগের জন্য বলেন। বার বার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা।
আশপাশে খোঁজাখুজি করে তাকে না পেয়ে মা শাহেনা আক্তার ওই দিন সদর মডেল থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়রি করেন।
সাধারণ ডায়রি নং-৫৩৭। বিভিন্ন পত্রিকায় নিখোঁজের সংবাদও ছাপা হয়। মাইকিং করা হয়। বিদয়ের নিখোঁজের বিষয়টি থানা পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রাখে।
বিদয়কে খোঁজাখোঁজি করা অবস্থায় ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া গ্রামের পাশে খোয়াই নদীর কিনারায় পানিতে একটি মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।
বিষয়টি থানায় অবহিত করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. রবিউল ইসলাম (পিপিএম), সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুক আলী, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) দৌস মোহাম্মদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি থেকে লাশ উদ্ধার করে।
পরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি ইসমাইল হোসেন বিদয়ের লাশ বলে সনাক্ত করেন।
নিহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে নিহত বিদয়ের চাচা মোঃ টেনু মিয়া ১৪ জানুয়ারী বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলীকে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম (পিপিএম), তদন্তকারী অফিসারসহ পুলিশের একটি টিম গোপান সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ১৪ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১১টায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সায়মিনকে তেঘরিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।
আসামি সাইমিন।
লাশ উদ্ধারের পর থেকে সায়মিন নিজেকে আড়াল করে রাখে। আসামীকে গ্রেফতারের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলামের (পিপিএম) নেতৃত্বে তাকে ঘটনার ব্যাপারে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। অবশেষে সে বুধবার সন্ধ্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
আদালতে সাইমিন জানায়, পাশ্বর্বতী বাড়ির নিহত ইসমাইল হোসেন বিদয়ের হাতে একমাস পূর্বে একটি বিদেশী ক্যামেরা মোবাইল সেট সে দেখে।
মোবাইল সেটটি তার বাবা বিদেশ থেকে পাঠিয়েছেন। মোবাইল সেট নিয়ে বিদয় নদীর পাড়ে তার সহপাঠিদের ছবি তোলে। উক্ত মোবাইল সেটের প্রতি আসামী সাইমিনের প্রচন্ড লোভ হয়।
এ কারনে সে বিদয়ের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলে। একপর্যায়ে ১০ জানুয়ারী বিকেলে সাইমিন শহরের পোদ্দারবাড়ি এলাকায় নাটক দেখার জন্য বিদয়কে প্রস্তাব দেয়।
বিদয়কে মোবাইল সেট দিয়ে নাটকের ছবি ও ভিডিও করার পরামর্শ দেয়। এতে সে রাজি হয়। সেই অনুযায়ী সাইমিন বিকাল ৪টার দিকে বিদয়কে নিয়ে রওয়ানা হয়।
তারা ধুলিয়াখাল-মিরপুর রোডের মশাজান ব্রিজের পর সিএনজি থেকে নামে। বিদয়কে নিয়ে আসামী সাইমিন তার নানা বাড়ি চরহামুয়া নোয়াবাদ যাওয়ার জন্য নদীর বেড়িবাধ দিয়ে রওয়ানা হয়।
চরহামুয়া গ্রামের নদীর বেড়ি বাধে গিয়ে নদীর চড়ে সবজী ও শস্যক্ষেত দেখে গ্রেফতারকৃত সাইমিন বিদয়কে নদীর ধারে গিয়ে ছবি তুলতে বললে বিদয় নদীর কিনারায় যায়।
নাটকের মতো অভিনয় করে সাইমিন কলাগাছের ছোলা দিয়ে বিদয়ের দুই হাত সামনে দিয়ে বাঁধে, পা দুইটিও বাঁধে।
সাইমিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছবি তোলার ভান করে নদীর পাড়ে একটি বাঁশের মোড়া দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বিদয়ের মাথায় উপর্যুপুরি কয়েকটি বাড়ি মারে।
এতে বিদয় মারাত্মক আহত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে বিদয়কে ধাক্কা মেরে খোঁয়াই নদীর পানিতে ফেলে দ্রুত মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে সাইমিন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, বিদয়ের মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইমিন উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন অনুতপ্ত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম পিপিএম, ডিআই-১ কাজী কামাল উদ্দিন, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী, এসআই মোঃ সাহিদ মিয়া প্রমূখ।
হবিগঞ্জে শহরের মাষ্টার কোয়াটারমুখে মেসার্স সায়াদত টেলিকম এন্ড স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয়জাত দ্রব্য ও শিশু খাদ্য বিক্রির দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকার দিকে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দিন মো. রেজা।
জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে জনস্বার্থে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ চরহামুয়া এলাকার খোয়াই নদী থেকে ইসমাঈল হোসেন বিদয় (১২) নামে এক স্কুল ছাত্রের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২ টায় স্থানীয় লোকজন সদর থানায় খবর দিলে ওসি মোঃ মাসুক আলীর নেতৃত্বে ওসি অপারেশন দৌস মোহাম্মদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে, সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত স্কুল ছাত্র উপজেলা উত্তর তেঘরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফারুক মিয়ার পুত্র। সে তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র। সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, দাফন না করে লাশবাহী ফ্রীজ গাড়িতে রাখা হয়েছে লাশটি।
জানা গেছে তার প্রবাসী পিতা সোমবার বিকেলেই সৌদি আরব থেকে দেশে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দেশে ফেরত এসে লাশ দাফন করবেন বলে জানা গেছে। এই নৃংশস হত্যার ঘটনায় জেলায় জুড়ে তোলপাড়। অনেকের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ জানুয়ায়ী সে নিখোজ হয়েছিলো এবং এই মর্মে হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন তার মা শাহেনা আক্তার।
এর পর থেকেই শিশুটিকে খুঁজতে নামে পুলিশ। হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুক আলী জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
নিহত বিদয়ের গায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তদন্ত চলছে আশা করা যায় খুব শীঘ্রই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে।