Author: Habiganj News

  • কমলগঞ্জে নির্বাচনোত্তর মতবিনিময় সভা

    কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপির সাথে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের নির্বাচনোত্তর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    শনিবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় ভানুগাছ বাজারে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম.মোসাদ্দেক আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি আছমল ইকবাল মিলন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো: সিদ্দেক আলী, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, শমশেরনগর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির, ইসলামপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো: সুলেমান মিয়াসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠন ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।

  • গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির সংসদে আসা উচিত

    করাঙ্গীনিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত, সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি বলেই জনগণ নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখান করেছে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যামামলা, দুর্নীতি এবং মানিলন্ডারিংসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। জনগণ তাদের এসব তৎপরতা গ্রহণ করেনি। নির্বাচনে হেরেছে এ দোষ তাদের। তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের সংসদে আসা উচিত।

    শনিবার দলের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার শুরুতে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ এর নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করতো, তাহলে হয়তো তাদের ফলাফল আরও একটু ভালো হতে পারতো।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত দশ বছরে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে বলেই মানুষ ভোট দিয়ে আবারও বিজয়ী করেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়; দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এটা মনে করে বলেই সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তারা নির্বিশেষে সমর্থন দিয়েছে।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে, আমি অন্তত এইটুকু দাবি করেত পারি- তখনই কিন্তু এদেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে যে সরকার জনগণের সেবক হতে পারে, সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে পারে। আর সরকার কাজ করলে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়, এটা তখনই আমরা প্রমাণ করতে পারলাম।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল, মানুষের মধ্যে একটা স্বতস্ফূর্ততা এবং ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহ। বিশেষ করে এদেশের তরুণ সমাজ, যারা প্রথম ভোটার এবং নারী সমাজের মধ্যে বেশি আগ্রহ ছিল। এবারের নির্বাচনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে কোথাও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে। কোথাও তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের এই অপকর্মের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা অনেক আছেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা মাঠে ঘাটে দেখেছেন, টেলিভিশনে দেখেছেন, কীভাবে তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনোমতে নির্বাচনটা যেন বানচাল করার জন্য। কিন্তু তা তারা পারে নাই। এখন বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষ তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদের দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে, তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে।

    তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পলাতক আসামিকে দিয়ে রাজনীতি করতে গেলে সেখানে কী রেজাল্ট হয় সেটাই তারা পেয়েছে। তাও হতো না, যদি তারা নির্বাচনে যে প্রার্থী দিয়েছে, সেই প্রার্থী নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যটা না করতো। তাহলে আরও ভাল ফল তারা করতে পারত।তার থেকে তো মানুষ জানতেই পেরেছে এদের চরিত্রটা কী? এদের চরিত্র শোধরায়নি তাই বাংলার জনগণ প্রত্যাখান করেছে। তারপরও যে কয়টা সিটে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের পার্লামেন্টে আসা প্রয়োজন।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা সবসময় লক্ষ্য করি কীভাবে গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়। তারা একটু সুন্দর জীবন পাবেন, একটু উন্নত জীবন পাবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের জীবনমান যাতে উন্নত হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রতিটি কর্মসূচি নিয়েছি।

    সব শেষে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সকল শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যৌথসভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মতিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

  • আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: আল্লামা শফী

    করাঙ্গীনিউজ: মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর যে বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে প্রকাশিত হয়েছে সেটি ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির।

    শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা শফী বলেন, জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে নারীদের পড়াশোনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সবাই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত।

    হেফাজত আমির বলেন, নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

    আল্লামা শফী বলেন, সংবাদমাধ্যমে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি কওমিপন্থী ছয় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। আপনারা জানেন যে, ওই ছয় বোর্ডের অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদ্রাসাছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাস করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

    তিনি বলেন, নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

    হেফাজত আমির আরও বলেন, আমি চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেও সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সবাই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাতে উৎসাহিত করব।

  • বানিয়াচংয়ে পুলিশ এসল্ট মামলায় গ্রেফতার ৮

    বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে তাছু মিয়া ও ইউপি সদস্য ধন মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুরে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ মোবারক।

    এর আগে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জুলহাস আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    ওসি রাশেদ মোবারক জানান, ঘটনার পর পৃথক সময়ে পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উপজেলা সদরের মাইজের মহল্লার বাসিন্দা চিহ্নিত সুদের কারবারি তাছু মিয়া ও ৩ নম্বর দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ধন মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্যানিংগঞ্জ বাজারে সালিশ বসে। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৩৮ জনকে আসামি করে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করা হয়।

    পরে উভয়পক্ষের লোকজন কুয়ারপাড় এলাকায় কয়েক দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় কয়েকজন পুলিশও আঘাতপ্রাপ্ত হন।

  • চুনারুঘাটে ইউপি মেম্বারসহ ৩ জনকে কুপিয়ে আহত

    চুনারুঘাট প্রতিনিধি: হবিঞ্জের  চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো: সুরুজ আলীসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

    শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের সাত্তালিয়া গ্রামের আকছির মিয়ার বসতবাড়ির সামনে রাস্তায় এ ঘটনাটি ঘটে।

    অন্যান্য আহতরা হলেন- যুবলীগ নেতা আকল মিয়া ও শিক্ষক জসিম উদ্দিন।

    ইউপি সদস্য সুরুজ আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    জানা যায়- হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউপি সদস্য সুরুজ আলীর অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অন্যদিকে আহত আকল মিয়া ও জসিম উদ্দিনকে চুনারুঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    খবর পেয়ে  চুনারুঘাট থানার এস.আই অলক বড়ুয়াসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

    এ ঘটনায় ইউপি সদস্য সুরুজ আলীর পুত্র আবুল খায়ের বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

  • মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে ওরস শুরু রবিবার

    মোঃ হাছান আলী, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে রবিবার থেকে ৩দিন ব্যাপী ৬৯৮তম পবিত্র বাৎসরিক ওরস মোবারক শুরু, শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি ।

    মুড়ারবন্দ দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহম্মেদ (সফি) চিশ্তী বলেন, সিলেটে চির নিদ্রায় শায়িত হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর সফর সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার মধ্যে বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব প্রধান সেনাপতি তরফ বিজয়ী মহান ইসলামি বীরপুরুষ হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (রহঃ) মদিনা শরীফে জন্মগ্রহণ করেন ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দে।

    তিনি বাগদাদ থেকে দিল্লীতে এসে সুলান আলাউদ্দিন খিলজীর অধীনে ফৌজি বিভাগে যোগদান করেন। তার কামালিয়াতের পরিচয় পেয়ে শাহী সৈন্য বাহিনী নেতৃত্বে সিলেট অঞ্চলে বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার অনুরোধ করেন। পথি মধ্যে সিলেট অঞ্চলে হযরত শাহ জালাল ইয়েমনী (রহঃ) এর সাথে মোলাকাত হয় এবং মুসলমানদের উপর রাজা গৌড়গবিন্দ্র অত্যাচারের সংবাদ পেয়ে শাহী সৈন্যদের সঙ্গে যোগদান করতে সম্মতি প্রকাশ করেন।

    আল্লাহর রহমতে ৭০৩ হিজরী, ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেট অঞ্চলকে বিজয় করে হবিগঞ্জের লস্করপুর, দাউদনগর, সুলতানশী, চুনারুঘাট উপজেলার মুড়ারবন্দ নামক স্থানে তরফ রাজ্যের শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়ে বসতি স্থাপন করেন। তিনি মৃত্যুর পূর্বে বলেছিলেন তার দেহ মোবারক মুড়ারবন্দস্থ পূর্ব-পশ্চিমে দাফন করার জন্য কিন্তু তার সঙ্গী সাথীরা এ আদেশ কেহই মানল না।

    ইসলামের শরিয়তের বিধানমতে মাজার উত্তর-দক্ষিণে দাফন করেন আশেকানভক্তবৃন্দরা। মুসল্লিরা দাফন করে সবাই ৪০ কদম দূরে যাওয়ার পর বিকট শব্দে অলৌকিকভাবে মাজার পূর্ব-পশ্চিমে ঘুরে যায়। তাই মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে ৭ শত বছরের পুরাতন অতিমনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শতাধিক মধুরমত মিষ্টি জামগাছের সুশীতল ছায়ায় শায়িত আছে হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (রহঃ)। তিনির মাজার এখনই পূর্ব-পশ্চিমে রয়েছে। উক্ত মাজারে জিয়ারত করতে প্রতিদিন হাজার হাজার আশেকানভক্তবৃন্দরা আসছে। এদিকে পবিত্র ওরস শুরু হওয়ার ১ সপ্তাহ পূর্ব থেকে শতাধিক দোকান সহ বিভিন্ন পন্য নিয়ে বসেছে এবং অর্ধশতাধিক কাফেলা বসেছে।

    আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখেতে পুলিশের সাথে আনসার, গ্রাম পুলিম সহায়তা করবে বলে ওরস আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে।

    চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে, এম আজমিরুজ্জামান জানান, মাজার শরীফ পবিত্রতা রক্ষা ও আইনশৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে পুলিশ কাজ করবে। কেউ যাতে নাশকতা সৃষ্টি না করতে পারে। এদিকে বাড়তি নজর থাকবে আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের বিভিন্ন স্থান হতে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে ঐতিহ্যবাহী মুড়ারবন্দস্থ হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার মদনী (রহঃ), হযরত সৈয়দ শাহ ইসরাইল ওরফে শাহ বন্দেগী (রহঃ), হযরত সৈয়দ শাহ ইলিয়াছ ওরফে কুতুবুল আউলিয়া (রহঃ), বন্দেগী শাহ্ সৈয়দ দাউদ (রহঃ) গং ১২০ আউলিয়া গনের ৩দিন ব্যাপী ৬৯৮তম পবিত্র বার্ষিক ওরসে যোগ দিচ্ছে।

    পবিত্র ওরসে অংশগ্রহণের জন্য আশেকান ভক্তবৃন্দের প্রতি দাওয়াত জানিয়েছেন মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়ার দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহম্মেদ (সফি) চিশ্তী।এখানে উল্লেখ্য, মুড়ারবন্দ দরবার শরীফের বাৎসরিক পবিত্র ওরসের নাম ভাঙ্গিয়ে কথিত কিছু খারাপ অসৎ ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে টাকা পয়সা, ধান-চাল, পশু-পাখি ইত্যাদি উত্তোলন করে যাচ্ছে এ অভিযোগ রয়েছে। আবার কেউ মাজার শরীফের ওরসের নামে লিপলেট, পোষ্টার ও গেইট নির্মাণ করে প্রতারণা করছে। এসব ছদ্দবেশী প্রতারকের হাতে কোন কিছু না দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মাজার শরীফ কর্তৃপক্ষ।

    প্রয়োজনে ০১৭১৬-১৩৭৯৬১ নাম্বারে বা সরাসরি যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।।

  • চুনারুঘাট সাংবাদিক ফোরামকে ফুলেল শুভেচ্ছা

    চুনারুঘাট(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি: চুনারুঘাট সাংবাদিক ফোরামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইকরা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট।

    শনিবার ইকরা কার্যালয়ে ইকরা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু সাংবাদিক ফোরামের নব-নির্বাচিত সভাপতি খন্দকার আলাউদ্দিন ও সেক্রেটারি রায়হান আহমেদকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-ফোরামের সহ-সভাপতি আব্দুল  হাই প্রিন্স, যুগ্ন সম্পাদক এসএম শওকত আলী, দপ্তর সম্পাদক কাজী মিজান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজিরুজ্জামান শিফন, ইকরার ইন্ট্রাক্টর তামিম হোসেনসহ অনেকেই।