Category: হবিগঞ্জ

  • নবীগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ১০

    নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় শনিবার পৃথক সংঘর্ষে আহত হয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিচিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    বোর জমিনে সেচ ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে এসব সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়েছে বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের ডাক্তার সাইফুল আলম জানান- শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ওই হাসপাতালে ৩৫ জন রোগী সেবা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে সেবা নিয়েছেন ১০ জন।

    তারা হলেন, ওই উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের করগাঁও গ্রামের মৃত আবুল মিয়ার পুত্র আব্দুল মোতালিব (৩১) বাউসা ইউনিয়নের বাঁশডর গ্রামের ইমাদ উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ আফতারুন্নেছা (২০) ওই ইউনিয়নের নিজ চৌকি গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র মামুন মিয়া (১৪) আবু সিদ্দিকের পুত্র মাশুক মিয়া (১৬) আনোয়ার মিয়া ((১৮) আব্দুল হক মিয়ার পুত্র শাহিদ মিয়া (১৭) নিজ চৌকি গ্রামের মৃত জমাদার মিয়ার পুত্র আব্দুল হামিদ (৪৫) আব্দুল হান্নান (৫৫) আক্কাস আলীর পুত্র আল-আমীন(২৫) দেবপাড়া ইউনিয়নের ভানুদেব গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ রহিমা বেগম (৩৮) ।

    তাদের মধ্যে আল-আমীন,শাহিদ মিয়া, ও মাশুক মিয়াকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

  • উপজেলা পরিষদ নির্বাচনঃ উৎফুল্ল আ’লীগ হতাশায় বিএনপি

    দিদার এলাহী সাজু, হবিগঞ্জঃ হাওর-বাওর, পাহাড়-নদী আর সমতল ভুমির সমান সংমিশ্রণে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক অপরুপ এক সৌন্দর্য্যরে জনপদ হবিগঞ্জ জেলা। ৯টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা ও ৭৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ জেলায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১০ মার্চ দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপ। এ লক্ষে সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জেও ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। জেলায় ১ম বারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। তবে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ যতটা উৎফুল্ল, ঠিক ততটা হতাশা বিরাজ করছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটে।

    জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন আগ্রহই নেই দলটির। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে হাতাশায় ডুবেছেন সকলস্তরের নেতা-কর্মীরা। তবে কোন কোন উপজেলায় স্থানীয় ভাবে শক্তিশালী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আভাস দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট এনামুল হক সেলিম বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, নির্বাচনের পরিবেশও নেই। যেহেতু কেন্দ্রীয় নির্দেশনা নেই, তাই নির্বাচন নিয়ে আপাতত তেমন আগ্রহও নেই আমাদের’। বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেবে তারা আমাদের বড় শক্রু হিসেবে গন্য হবে’।

    অপরদিকে, জেলা আওয়ামীলীগ সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। নির্বাচন নিয়ে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ায়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম বলেন, ‘ইতিমধ্যেই জেলার ৮টি উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে সকলস্তরের নেতাকর্মীরা’।

    কেন্দ্রীয় ভাবে ঘোষিত হবিগঞ্জের ৮ উপজেলায় নৌকার চুড়ান্ত কান্ডারীরা হলেন, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম, বানিয়াচং উপজেলায় সুবিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর চৌধুরী, লাখাই উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মুশফিউল আলম আজাদ, বাহুবল উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই, চুনারুঘাট উপজেলায় সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদির লস্কর, মাধবপুর উপজেলায় আলহাজ্ব আতিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মর্তুজা হাসান।

    এদিকে, ইসি ঘোষিত তফসিলে নেই নবগঠিত শায়েস্থাগঞ্জ উপজেলার নাম। ধারণা করা হচ্ছে, ৩য় অথবা সর্বশেষ ধাপে হতে পারে শায়েস্থাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। কিন্তু তারপরও বসে নেই সরকার দলীয় প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন পেতে চলছে সম্ভাব্য আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের ‘লবিং-প্রচারণা’। ৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শায়েস্থাগঞ্জ উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ খান ও এডভোকেট মীর গোলাম মোস্তফা।

    নির্বাচন বিষয়ে শায়েস্থাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম ফেরদৌস ইসলাম জানান, ভোটার তালিকা প্রস্তুত না হওয়াসহ না-না জঠিলতার কারনে পিছিয়ে গেছে শায়েস্থাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৩য় অথবা শেষ ধাপে হতে পারে শায়েস্থাগঞ্জের প্রথম নির্বাচন।

  • মাধবপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কড়রা গ্রামে গৃহবধু রিপা আক্তার (২৫) কে যৌতুকের জন্য স্বামী-শাশুরী নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ থানায় মামলা হয়েছে। যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে রিপা আক্তারের মা জেসমিন আক্তার বাদি হয়ে স্বামী ও শাশুরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন।

    মাধবপুর উপজেলার করড়া গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে বেনু মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার শ্রীঘর গ্রামের ফারুক মিয়ার মেয়ে রিপার প্রায় ৫ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বেনু ও তার পরিবারের লোকজন রিপা ও তার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল। তার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে কয়েক দফায় প্রায় ২ লাখ টাকা যৌতুক দেয় রিপার পরিবার।

    সম্প্রতি আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে রিপার উপর অমানুষিক নির্যাতন করে বেনু ও তার পরিবার। যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রিপাকে অমানসিক নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। গত বৃহষ্পতিবার সকালে তার ঝুলস্ত মৃতদেহটি মাধবপুর থানার এসআই লিটন ঘোষ উদ্ধার করে।

    মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, এ ঘটনায় তার মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আসামী গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রির্পোট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি।

  • মাধবপুরে দেশীয় অস্ত্র সহ দুই ডাকাত গ্রেফতার

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের হবিবপুর গ্রামের নিকট মাঠে বসে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হল চৌমুহনী ইউনিয়নের হবিবপুর গ্রামের জানু মিয়ার ছেলে হায়দর ওরফে আইদুর ডাকাত (৩২) ও একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)।

    মাধবপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ কামরুজ্জামান জানান, রাত আড়াইটার দিকে উল্লেখিত স্থানে ১৮/২০জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল সমাবেত হচ্ছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাধবপুর থানার এসআই আজিজুর রহমান নাইম, কামরুল ইসলাম সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হাতে নাতে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করে।

    এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা, একটি ছোড়া ও একটি গাছ কাটার করাত জব্দ করা হয়। মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • খোয়াই নদীর বেইলী ব্রীজ দু’টি ঝুঁকিপূর্ণ

    দিদার এলাহী সাজুঃ হবিগঞ্জ শহর সংলগ্ন খোয়াই নদীর উপর নির্মিত দু’টি গুরুত্বপূর্ন বেইলি ব্রীজ মারাত্বক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে ব্রীজ দু’টি। ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা, হতে পারে অনাকাংঙ্খিত প্রাণহানী। এমন আশংষ্কা নিয়েই ব্রীজ দু’টির উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন হাজার-হাজার মানুষ।

    জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় খোয়াই নদীর উপর পাশা-পাশি দু’টি বেইলী ব্রীজ রয়েছে। এদের একটির নাম ‘কিবরিয়া ব্রীজ’ আর অপরটির নাম ‘উমদা মিয়া ব্রীজ’।

    স্থানীয় চালক-যাত্রী, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রীজ দু’টির কয়েকটি পিলার ভেঙ্গে গেছে, উঠে গেছে কয়েকটি ‘স্ল্যাব’। এ অবস্থায় ব্রীজ গুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যান চলাচলের অনুপোযুগী হয়ে পড়েছে। সড়ক বিভাগ ব্রীজের পাশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সাইনবোর্ড লাগালেও বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে শত-শত যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন। শুধু তাই নয়, ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার-হাজার পথচারী।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সিএনজি চালক রমজান মিয়া জানান, প্রতিদিন ব্রীজের উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। তিনি জানান, খোয়াই নদীর পানি বাড়লে ব্রীজ নড়া-চড়া করে। ব্রীজ গুলো যে কোন সময় ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    ট্রাক চালক শহিদ মিয়া জানান, ব্রীজের উপর দিয়ে ট্রাক চলাচল করার সময় মনে হয় ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। যে কোন সময় ব্রীজ ভেঙ্গে মানুষের প্রাণহানীসহ বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শীঘ্রই ব্রীজটি সংষ্কার অথবা নতুন ব্রীজ নির্মাণ করা জরুরী।

    স্থানীয় সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চৌধুরী জানান, প্রতিদিন ব্রীজ দিয়ে শত-শত যানবাহন চলাচল করে। প্রতিটি গাড়িই অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। এতে করে যাত্রীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজ দু’টি সংস্কারের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

    স্কুল শিক্ষিকা পিয়ারা বেগম জানান, ব্রীজ দু’টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সংষ্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। তাই প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে পারাপার হতে হয়। তিনি জানান, যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দু’টি ব্রীজ নতুন করে কংক্রিট দিয়ে তৈরীর জন্য আমরা একটি প্রকল্প গ্রহন করেছি। আশাকরি প্রকল্পটি পাশ হলেই ব্রীজ গুলো নির্মান করা হবে’। তিনি বলেন, ‘আপাতত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।

  • হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা

    নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জঃ আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে হবিগঞ্জের ৮টি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য হবিগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মশিউর রহমান শামীম, নবীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর চৌধুরী, লাখাই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মুশফিউল আলম আজাদ, বাহুবল উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই, মাধবপুর উপজেলায় আতিকুর রহমান, চুনারুঘাট উপজেলায় মো. আব্দুল কাদির লস্কর, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় মো. মর্তুজা হাসান ও বানিয়াচং উপজেলায় মো. আবুল কাশেম চৌধুরী।

    এর মধ্যে বানিয়াচঙ্গ উপজেলার আওয়ামী লীগের মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম চৌধুরী সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাধবপুরের আতিকুর রহমান আতিক স্থানীয় একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

    এ দুজন প্রার্থীকে তাদের ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে বলে জানা গেছে।

    শনিবার বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেন সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এদিকে, দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকে তাদের কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। আবার অনেকেই প্রার্থী ছবি ফেসবুকে আপলোড করে তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

  • আজ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

    সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট ২ কোটি ২০ লাখ ৫৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে।

    এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী প্রায় ২৫ লাখ ৪৭ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ মাত্রা) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ মাত্রা) খাওয়ানো হবে।

    একই সঙ্গে আন্তঃব্যক্তি যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সহায়তায় জন্মের পরপরই (১ ঘণ্টার মধ্যে) শিশুকে শালদুধ খাওয়ানোসহ প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পরিমাণ মতো সুষম খাবার খাওয়ানো বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো হবে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবার সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রসহ অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ব্রিজের টোল প্লাজা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, খেয়াঘাট ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন।

    এছাড়া দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ১২টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন (১০-১৩ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করে বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

    এ কার্যক্রম সফল করতে ইতিমধ্যে বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা-উপজেলায় অবহিতকরণ সভা এবং সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ২ লাখ ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

    ১৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা ছিল। কিন্তু ওষুধের মান নিয়ে সন্দেহ থাকায় সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। গত ডিসেম্বরে এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা থাকলেও বার্ষিক পরীক্ষা, জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়।

    প্রসঙ্গত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে যখন এই কার্যক্রম গ্রহণ করেন তখন ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মাঝে রাতকানা রোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

    জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অব্যাহত রাখায় বর্তমানে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের হার শতকরা ১ ভাগের নিচে রয়েছে।