Category: হবিগঞ্জ

  • দূর্গা পুজা বাঙ্গালীর উৎসব, বাংলাদেশ অসম্প্রাদায়িক সম্প্রতির দেশ  – প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী

    দূর্গা পুজা বাঙ্গালীর উৎসব, বাংলাদেশ অসম্প্রাদায়িক সম্প্রতির দেশ – প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: “দূর্গা পুজা বাঙ্গালীর উৎসব, বাংলাদেশ অসম্প্রাদায়িক সম্প্রতির দেশ” বললেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী।

    তিনি আরো বললেন, “দূর্গাপুজার শিক্ষা হল অসুরদের দমন করা। আমাদের সমাজে যে অসুর তৈরী হয়েছে তা যে কোন ভাবে নিধন করা হবে।“

    এ সময় তিনি জেলার মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, “আমাদের দেশে সামান্য বালু উত্তোলনকারী অসুর দমন করা হবে না তা ভাববেন না। তাদের ও দমন করা হবে। বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন রাস্তা ধ্বংস হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে। কোন দূর্বত্তকে মাথা উচু করে দাড়াতে দেওয়া হবে না।”

    তিনি আজ (শুক্রবার) সকালে মাধবপুরে শারদীয় দূর্গা পুজা উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রতি মন্ডবে প্রধানমন্ত্রী কৃতক বরাদ্দকৃত অনুদানের টাকা বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা গুলো বলেন।

    উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাসনূভা নাশতারানের সভাপতিত্বে ও মাধব রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান, উপজেলা প্রেসক্লাব সেক্রেটারী সাব্বির হাসান, পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল দাস সহ আরো অনেকে।

    হবিগঞ্জ সদর ও পৌরসভার ৭৩ পূজা মন্ডপে অনুদান প্রদান

    অনুষ্ঠান চলাকালে সুরম চা বাগানে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বাগানের মালডুবা এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে লষ্কারপুর ভ্যালীর কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়ে সহ কয়েকজন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী নিকট একটি স্বারকলিপি দেন।

  • হবিগঞ্জের ডাবল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন

    হবিগঞ্জের ডাবল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন

    নিজস্ব প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী ঘাতক শেলু মিয়া (৩০) কে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের বিশেষ একটি দল। আর তাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ডাবল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

    মূল ঘাতক জামাতা শেলু মিয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান। এতে করে বেড়িয়ে এসেছে হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্য কর তথ্য। এক সাথে বৃদ্ধ মা ও তার বিবাহিতা মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ১৫ দিনের মধ্যে মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের ফলে চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডারে মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

    বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় ঘাতক জামাতা শেলু মিয়া।

    এই ঘটনায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বুধবার রাত ১১টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে তার তত্তাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহমেদ, শৈলেন চাকমা, ডিবি’র ওসি মানিকুল ইসলাম, এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী, এসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতককে গ্রেফতার করেন। সে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর এলাকার নুর মিয়ার পুত্র।

    জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর বানিয়াচং উপজেলার ১২নং সুজাতপুর ইউনিয়নের শতমুখা গ্রামের অংশে হবিগঞ্জ শহর থেকে খোয়াই নদীর ভাটির দিকে অনুমান ৩৫ কিঃমিঃ দূরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ (৩৫) উদ্ধার করে সুজাতপুর তদন্ত কেন্দ্র। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত করতে না পেরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাপন করা হয়। মৃতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকালে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

    এই বিষয়ে সুজাতপুর তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় একটি মামলা নং-১৬ দায়ের করেন। এর কিছু দিন পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলার বানিয়াচং থানার ১২নং সুজাতপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাজুকা গ্রামের অংশে খোয়াই নদীর ভাটির দিকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় পঁচাগলা অজ্ঞাতনামা মহিলা (৫০) এর লাশ উদ্ধার করে সুজাতপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।

    প্রাথমিকভাবে মৃতের ছেলে মোঃ ফুল মিয়া সনাক্ত করেন ওই বৃদ্ধ মহিলা তাঁর মা বলে পরিচয় নিশ্চিত করেন। একই সাথে সে জানায় গত সেপ্টেম্ব থেকে তার মা ও বোন নিখোঁজ রয়েছে। আর এতে করেই নড়েচড়ে বসে বানিয়াচং থানা পুলিশসহ জেলা পুলিশ।

    বৃদ্ধা মহিলা হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে জেলা পুলিশের কয়েকটি টিম। এরই মাধ্যে শহরের এক ভিক্ষুকের কাছ থেকে নিহত ফুলবরণ নেছার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। এ মোবাইল ফোন উদ্ধারের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় খোয়াই নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশ দুটি মা-মেয়ের।

    পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার নির্দেশে একের পর এক অভিযান চালায় বানিয়াচং থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযান চালিয়ে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর থেকে গ্রেফতার করা হয় ফুলবরণ নেছার স্বামী মোঃ সেলু মিয়াকে। গ্রেফতারকৃত সেলু মিয়াকে ডিবি কার্যালয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর বেড়িয়ে আসে লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের রহস্য।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা এসআই এম এ ফারুক আহমেদকে। গত রাত ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম) এক প্রেস ব্রিফ্রিং করেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেফতারকৃত সেলু মিয়ার স্মীকারোক্তিমূলক জবাবনবন্দীর বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ২ বছর পূর্বে হবিগঞ্জ সদর থানাধীন উমেদনগরস্থ নুর মিয়ার পুত্র সেলু মিয়া (৩০) এর সাথে মোঃ ফুল মিয়ার নিখোঁজ বোন ফুলবরণ নেছা’র বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সেই কলহ চরম আকার ধারণ করে।

    এ নিয়ে ২য় স্ত্রী ফুলবরণ নেছা’র সাথে বিজ্ঞ আদালতে মামলা মোকদ্দমাও চলতে থাকে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মা ও বোন হবিগঞ্জ সদর কোর্টে আসার জন্য পূর্বের দিন বিকালে বানিয়াচং নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে হবিগঞ্জ শহরস্থ উমেদনগরে তার চাচাতো ভাই এনামুল এর ভাড়া বাসায় রাত্রিযাপন করেন। পরদিন অর্থাৎ ৫ তারিখ সকাল বেলা সেলু মিয়া ফোন পেয়ে এনামুল এর বাসায় চলে আসে। বাসায় তার সাথে তার স্ত্রী, শ্বাশুড়ী, এনামুলসহ মামলা মোকদ্দমা নিষ্পত্তির বিষয়ে কথাবার্তা বলে। এক পর্যায়ে সেলু চৌধুরী বাজারস্থ তাঁর পিতার দোকানে চলে যায়।

    ওই দিন বিকালে সেলু মিয়া তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে ফোন দিয়ে চৌধুরী বাজারস্থ মায়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে এনে কথাবার্তা বলে। তারপর সে আসর এর নামাজের পর তাদেরকে নিয়ে শহরের উমেদনগরস্থ তাঁর নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে তার বাবার সাথে শ্বাশুরির মামলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তার বাবা সেলুকে বলে “তুই আমার মুখে চুনকালী দিছস্। হয় তুই বিষ খাইয়া মর-না হয় আমাকে বিষ দে খাইয়ালামু।” তখন সে মনের দুঃখে বাড়ী থেকে বের হয়ে তার শ্যালক ও শ্বশুড় লিল মিয়াকে ফোন করে তার স্ত্রী’র বিষয়ে নালিশ করে। কিন্তু সে তাদের কাছ থেকে কোন শান্তনামূলক জবাব পায়নি।

    তারপর স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে নিয়ে পায়ে হেঁটে কিবরিয়া ব্রীজের চায়ের দোকানে তাদের রেখে সে বের হয়ে এবং ১ম স্ত্রীর পিতা তাজুল মিয়াকে ফোনে তার শ্যালক আনোয়ার (২০) সহ তার সবজি দোকানের লাউ কাটার দা’টি সাথে নিয়ে আসতে বলে। সে তখন একটি সিএনজি খোঁজলে তার পরিচিত চালককে পেয়ে ১২০/- টাকা ভাড়ায় হত্যাকান্ডেরস্থল গোবিন্দপুর যাওয়ার জন্য ঠিক করে এসে তার ২য় স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে বলে তোমাদের জন্য নতুন একটি বাসা ভাড়া ঠিক করেছি সেটা দেখতে যাব। এই বলে তাদেরকে সিএনজিতে নিয়ে আসে।

    ইতিমধ্যে তাঁর ১ম স্ত্রীর পিতা ও ভাই সিএনজি’র কাছে চলে আসলে সেলু তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে নিয়ে পিছনে বসে, শ্বশুড় ও শ্যালক সামনে ড্রাইভারের পাশে বসে গোবিন্দপুরের উদ্দ্যেশে রওনা হয়। পৌছার ৫০ গজ আগে সিএনজি থামিয়ে তারা সবাই নেমে ড্রাইভারকে গাড়ী ঘুরিয়ে তাকে সিএনজিতে থাকতে বলে।

    এর পর তারা বেড়ি বাঁধ ধরে কিছু দূর সামনে নির্জন অন্ধকারে গিয়ে খোয়াই নদীর চরে পৌছামাত্র তারা সবাইমিলে তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে এলোপাথারি গাছের ঢাল দিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রথমে শ্বাশুড়ী ও পরে স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন তার শ্বশুর দা দিয়ে শ্বাশুড়ীকে কুপিয়ে আঘাত করে। সেলু তার শ্বশুরের কাছ থেকে দা নিয়ে তার শ্যালক মিলে স্ত্রীকে কুপিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তাদের সিএনজিতে ফিরতে দেরি হওয়ার ফলে ড্রাইভার সামনে এগিয়ে আসলে তাদের সামনে দুই জনের মৃতদেহ দেখে সে ফিরে যাওয়ার চেষ্টাকালে সেলু তাকে দেখে ফেলে এবং হত্যাকান্ডে ফাঁসানোর হুমকি দেয়।

    সেই সাথে তাকে মৃতদেহ নদীতে ফেলতে সহায়তা করতে বাধ্য করে সেলু। মৃতদেহ দু’টি তার শ্বশুড়, শ্যালক, সিএনজি ড্রাইভার ও সেলু মিলে খোয়াই নদীতে ফেলে দিয়ে ওই সিএনজি দিয়ে ফিরে কিবরিয়া ব্রীজে নেমে যে যার মত করে বাসায় চলে যায়। নিহত ফুলবরণ নেছা বানিয়াচং থানার তারাসই গ্রামের লিল মিয়ার মেয়ে এবং অপর নিহত জমিলা খাতুন লিল মিয়ার স্ত্রী।

    উল্লেখ্য, ঘটনার এক মাস পূর্বে সেলু ও তার শ্বশুর তাজুল মিয়া মিলে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে তাঁর ২য় স্ত্রীকে মারার পরিকল্পনা করে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বানিয়াচং সার্কেল শৈলেন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেড কোয়াটার এস এম রাজু আহমেদ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মোঃ মানিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, লাখাই থার ওসি মোঃ সাইদুল ইসলাম, সুজাতপুর তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ এসআই ধ্রবেশ চক্রবর্তী, ডিবির এসআই আবুল কালাম আজাদসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তাগণ।

  • হবিগঞ্জ সদর ও পৌরসভার ৭৩ পূজা মন্ডপে অনুদান প্রদান

    হবিগঞ্জ সদর ও পৌরসভার ৭৩ পূজা মন্ডপে অনুদান প্রদান

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌরসভার আওতাধীন ৭৩টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬শ’ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল ও দুপুরে পৃথক অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে এই অনুদান প্রদান করেন।

    জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শংখ শুভ্র রায় জানান, সদর উপজেলা এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার ৭৩ মন্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৯ হাজার ২শ’ এবং এমপি আবু জাহির এর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আরো ৫ হাজার করে ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৬শ’ টাকা নগদ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও হবিগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন আরো ৩৪টি মন্ডপে পৌরসভার পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে আরো ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ পূজারীরা উপস্থিত থেকে সরকারি এই অনুদান গ্রহণ করেন।
    হবিগঞ্জ পৌরসভার সভাকক্ষ ও সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে পৃথক অনুষ্ঠানে নগদ অর্থ এবং চেক বিতরণ শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইন-শৃংখলা সভায় বক্তৃতা করেন এমপি আবু জাহির।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। এই সরকারের আমলে সকল ধর্মের মানুষ যার যার ধর্মীয় উৎসব স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারছে। পাশে থাকেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি’র আমলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা উল্লেখ করে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন এমপি আবু জাহির। সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনে প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

    পৃথক সভায় বক্তৃতা করেন, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান মিজান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান আউয়াল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা বেগম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নলিনী কান্ত রায় নিরু, সাধারণ সম্পাদক শংখ শুভ্র রায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ জাহান, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

  • সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সেফাত উল্লাহ সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

    বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামস জগলুল হোসেন প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    বুধবার সকালে সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সেফাত উল্লাহর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

    এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক পার্থ প্রতিম ব্রহ্মচারী সেফাত উল্লাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৯/৩১ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামি সেফাত উল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার বিভিন্নভা ভিডিও আপলোড করেছেন, যা ভাইরাল হয়েছে। তিনি এসব ভিডিওর মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, যা আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছেন। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৯/৩১ ধারার অপরাধের শামিল। তাই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হলো।

    শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক

    ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে এ মামলাটি করেন ঢাকা বারের আইনজীবী আলীম আল রাজী (জীবন)। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৯ এপ্রিল বাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখতে পান যে, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা প্রবাসী সেফাত উল্লাহ ফেসবুক লাইভে এসে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। তিনি কোরআনকে অবমাননা করছেন, যা সমগ্র ইসলামী বিশ্বকে মারাত্মকভাবে আহত করছে। লাইভটি ভাইরাল হওয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

    সূত্রঃ রয়টার্স বাংলা

  • ড. রেজা কিবরিয়া সিলেট সফরে আসছেন কাল

    ড. রেজা কিবরিয়া সিলেট সফরে আসছেন কাল

    চারদিনের জন্য সাংগঠনিক সফরে সিলেট আসছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া।

    আগামী ২ অক্টোবর (বুধবার) বিমানের একটি ফ্লাইটে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সিলেট এসে পৌঁছবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ড. রেজা কিবরিয়ার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন শুভ।

    তিনি আরও জানান বুধবার ও বৃহস্পতিবার তিনি গণফোরামের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় ও সভায় যোগদান করবেন এবং সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন।

    এছাড়া আগামী শুক্রবার ড. রেজা কিবরিয়া তার নির্বাচনী এলাকা নবীগঞ্জ-বাহুবলের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

    এরপর শনিবার তার সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহাবুদ্দিন শুভ।

  • শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক

    শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক

    ইতিমধ্যে হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক ইসলাম প্রিয় মানুষের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছেন। তাকে ঘিরে সাধারণ মুসল্লীদের আবেগ অনুভূতি বাধ ভাঙ্গা জুয়ারের মতো।

    হাত তুলে মোনাজাতের সময় তিনি কাঁদলে শতশত মানুষ একসাথে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি স্বাভাবিক, সাধারণ। ইসলামের বিরুদ্ধে যে কোনো সংগ্রামে তিনি অগ্রনায়ক।

    প্রায় ৭০ বছর বয়স্ক শায়খুল হাদিস তাফাজ্জুল হক এখনও বাতিল মতাদর্শীদের কাছে আতংক।

    তাসলিমা হঠাও আন্দোলনে যেমন তিনি নির্দেশকদের একজন, তেমনি হুমায়ুন আজাদের ঘৃণিত পুস্তক “পাকসার জমিন সাদবাদ” এর ও তিনি কড়া সমালোচক।

    সবসময় সমঝোতায় বিশ্বাসী এই মানুষটি ইসলাম বিদ্ধেষীদের সাথে কখনও সমঝোতা করতে নারাজ। তাদের সাথে লড়াই করতেই ভালবাসেন তিনি।

    গতকাল তার সর্বশেষ কথা- “আমাকে মেরে ফেললে যদি ইসলাম বিদ্বেষীদের পক্ষাবলম্বনকারী আওয়ামীলীগের কলিজা ঠান্ডা হয়, তাহলে আমি একশবার মরতে রাজী”।

    সমস্বরে হাজারো কন্ঠে আওয়াজ উঠে “ আপনি একশবার মরতে রাজী হলে আমার হাজার বার মরতে রাজী”। এ সময় আওয়ামীলীগের দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খানও পাশে ছিলেন। সত্য কথা বলতে তিনি তোয়াক্কা করেন না।

    কোরআন হাদিসের আলোকে বক্তব্য রাখতে তিনি কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করেন না। কেন একজন শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক সাহেবের কথায় মুহুর্তে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়?

    কেন তাকে ঘিরে ইসলাম বিদ্ধেষীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মুসল্লী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে? আবার শত্র লোকদের কাছে পেয়েও একমাত্র তার কথায় কেন সবাই চুপ হয়ে যায়?

    এসব কারণ জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে শ্রদ্ধেয় এই আলেম সম্পর্কে বিভিন্ন জনের সাথে কথা হয়। বেরিয়ে আসে তার সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য। সেই তথ্য অনেকে জানেন আবার অনেকে না জেনেই অন্ধ ভক্তের মতো তাকে ভালবাসেন।

    MAWLANA-TAFAZZUL-HAQUE

    শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক “ উমেদনগরের মুহাদ্দিস সাহেব” হিসাবে সমধিক পরিচিত।

    ১৯৪৪ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালি গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা আব্দুন নুর ছিলেন বড় মাপের আলেম।

    ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। লেখাপড়ার শুরুটা বাবার হাত ধরেই। তারপর রায়ধর মাদ্রাসা। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেন চট্ট্গ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায়।

    বাংলাদেশের প্রখ্যাত পীর ও আলেমে দ্বীন চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক শায়খুল হাদীস আল্লামা আহমদ শফি আল্লামা তাফাজ্জুল হকের শিক্ষক।

    আহমদ শফিকে ঘিরেও চট্টগ্রামে লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ অনুভূতি জড়িত। তার উস্তাদদের মধ্যে আল্লামা শফি সাহেবই বর্তমানে জীবিত।

    চট্টগ্রাম থেকে আল্লামা তাফাজ্জুল হক চলে যান পাকিস্তানে। পাকিস্তানের লাহোর জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় তিনি লেখাপড়া করেন।

    সেখানকার তার উস্তাদ শায়খুল হাদিস আল্লামা রসুল খান ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আলেমে দ্বীন। লাহোর থেকে জ্ঞান আহরনের উদ্দেশ্যে আল্লামা তাফাজ্জুল হক চলে যান ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায়।

    সেখানে তিনি উস্তাদ শায়খুল হাদিস ফখরুদ্দিন (র) এর সান্নিধ্য লাভ করেন। আল্লামা ফখরুদ্দিন (র) ছিলেন একাধারে পীর ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা।

    MAWLANA-TAFAZZUL-HAQUE

    ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান আহরনের পর তিনি চলে আসেন বাংলাদেশে। শিক্ষকতার পেশা দিয়ে তার জ্ঞান বিতরণ কার্যক্রম শুরু।

    শিক্ষা গ্রহণটা যেহেতু বাড়ি থেকে শুরু, শিক্ষা প্রদানটাও প্রায় একই স্থান থেকেই শুরু। রায়ধর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসাবে তিনি প্রথম শিক্ষকতার পেশা শুরু করেন।

    একবছর তিনি সেখানে ছিলেন। পরে চলে যান কুমিল্লার বরুরায়। সেখানেও তিনি শিক্ষকতা করেন।

    ময়মনসিংহের জামেয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসাসহ ময়মনসিংহ জেলায় তিনি বেশ কয়েক বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর পর তার উস্তাদরা তাকে পাঠিয়ে দেন নিজ জেলা হবিগঞ্জে।

    প্রথমে তাকে মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় উমেদনগর মাদ্রাসায়। ১৯৫৭ সালে শায়খুল হাদিস মিছবাহুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত উমেদনগর মাদ্রাসায় তখনও দাওরায়ে হাদিস বিভাগ ছিল না।

    আল্লামা তাফাজ্জুল হক এসে দাওরায়ে হাদিস বিভাগ চালু করেন। এরপর নিরন্তরভাবে হাদিস শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন তিনি। ৭১ থেকে ২০১৩ সাল।

    এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হাদিস শাস্ত্র পড়িয়ে অন্তত এক হাজার মুহাদ্দিস তৈরী করেন। যারা এখন দেশ বিদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    শুধুই কি পুরুষরা হাদিস শিক্ষা অর্জন করবে? মহিলারা বাদ যাবে কেন? শুধু এই চিন্তায় তিনি ১৯৯৭ সালে হবিগঞ্জের তেতৈয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন মাদানী নগর মহিলা মাদ্রাসা।

    এই পর্যন্ত মহিলা মাদ্রাসা থেকে ২২৫ জনেরও বেশি মহিলা মুহাদ্দিস সনদ নিয়ে বের হয়েছেন। তারা এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি পরিবারে হাদিস শিক্ষা প্রদান করছেন।

    শায়খুল হাদিস তাফাজ্জুল হক বিয়ে করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর বড় হুজুর হিসাবে খ্যাত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রবক্তা এবং বৃটিশদের কালো পতাকা প্রদর্শনকারী মাওলানা আরিফে রাব্বানীর কন্যাকে।

    তার শ্যালক খালেদ সাইফুল্লাহ এখন ময়মনসিংহের জনপ্রিয় আলেম। তাফাজ্জুল হকের ৫ ছেলের মধ্যে ৫জনই প্রখ্যাত মাওলানা। তাদের মাঝে ৪জন কোরআানে হাফেজ।

    ৪ কন্যার মধ্যে সবাই টাইটেল পাশ আলেমা। নাতী নাতনীদের প্রায় সবাই কোরআনে হাফেজ ও মাওলানা। বড় ছেলে-হাফেজ মাসরুরুল হক উমেদনগর মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক।

    ২য় ছেলে-হাফেজ তাসনিমুল হক মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের পরিচালক, ৩য় ছেলে- হাফেজ তাফহিমুল হক একজন মুহাদ্দিস, ৪র্থ ছেলে মাওলানা মামনুনুল হক মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক, ৫ম ছেলে মাবরুরুল হক একজন মাওলানা।

    ৪ কন্যার সবাই মাদ্রাসার শিক্ষিকা। ৫ ভাইয়ের মধ্যে তাফাজ্জুল হক সবার বড়। ২য় ভাই লন্ডন প্রবাসী ইমদাদুল হক একজন শায়খুল হাদিস। ৩য় ভাই হাফেজ শামসুল হক সাদী একজন প্রখ্যাত মাওলানা।

    শামসুল হক সাদী;র ২ ছেলে কোরআনে হাফেজ। ৪র্থ ভাই ডাক্তার সিরাজুল হক, আমেরিকা প্রবাসী, ৫ম ভাই হাফেজ মাওলানা আহমদুল হক ওআইসি ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর।

    MAWLANA-TAFAZZUL-HAQUE

    বিভিন্ন প্রয়োজনে আল্লামা তাফাজ্জুল হক লন্ডন আমেরিকা কানাডাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সফর করেন। তিনি জীবনে ৩৮ বার পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেন।

    তার উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা নেজাম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আলেম এখন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    নুরুল হেরা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। গরীব দুঃখীদের সাহায্যার্থে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন খুদ্দামুদ্দিন সমিতি।

    এই সমিতি থেকে বিভিন্ন প্রকাশনাও বের করা হয়। তার ওয়াজ শুনার জন্য হাজার হাজার মানুষ এখনও নির্ঘুম রাত কাটান। জুমার খুৎবা শুনতে নুরুল হেরা মসজিদে প্রতি জুমাবারই প্রচুর মুসল্লীর সমাগম ঘটে।

    দেশে বিদেশে লক্ষাধিক ভক্তের এক বিশাল পরিবার নিয়ে তার সংসার।

    তার কাছে মুরিদ হতে দেশ বিদেশের মানুষ এখনও তার বাসায় চলে আসেন। তবে তথাকথিত পীর ইজম নির্লোভ এই মানুষটির বরাবরই অপছন্দ। সপেদ লুঙ্গি আর পাঞ্জাবী, টুপি-ই তার প্রিয় পোষাক।

    সাধারণ মানুষের মতো চলতে ভালবাসেন আল্লামা তাফাজ্জুল হক। অতি রাগী তবে কখনও বদমেজাজী নন। রাগান্বিত চেহারায়ও তার ঠোটে লেগে থাকে হাসির ঝিলিক।

    শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল এখন ইসলাম প্রিয় মানুষের কাছে ঢাকার পূর্বাংশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ট মুরুব্বী।

    শারিরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ্য এই মানুষটি ইসলাম বিদ্ধেষীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত মিছিল সমাবেশে এখনও হুইল চেয়ারে করে অংশ গ্রহণ করেন।

    বিঃদ্রঃ ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে আমার এ লেখাটি কোনো ধরনের কাটছাট ছাড়াই পোষ্ট করা হল। ইতিমধ্যে অনেক তথ্য সংযোজন করার মতো। কিন্তু করা হয়নি। তিনি বর্তমানে অসুস্থ।

    সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারে করে রবিবার (২৯ সেপ্টম্বর) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

    অসুস্থ্য এ আলেমে দ্বীনের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী। তার জুমার খুৎবা পরের দিনের পত্রিকাগুলোতে ছাপানোর জন্য আমি প্রেরণ করতাম।

    হবিগঞ্জে ডাঃ আলা উদ্দিন আর নেই

    হবিগঞ্জের প্রায় সকল পত্রিকা, কোনো কোনো সময় জাতীয় পত্রিকায় উনার জুমার খুৎবা প্রচার হতো। আমি অনেকবার উনার বায়োগ্রাফী লেখার জন্য অনুমতি চেয়েছি কিন্তু তিনি তাতে রাজী হননি।

    সহাস্যে বলতেন আমি তো এমন কেউ নই যে আমার জীবনী লেখার প্রয়োজন হবে। তারপরও আমি চেষ্টা করে আসছি উনার সম্পর্কে কিছু লেখার।

    যদি কারও কাছে সঠিক কোনো তথ্য থাকে তাহলে আমার ইনবক্সে, ইমেইলে, মোবাইল ফোনে বা চিঠির মাধ্যমে জানালে খুশি হব।

    লেখকঃ এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ।
    আইনজীবি ও সংবাদকর্মী

  • হবিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরাম এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত

    হবিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরাম এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার ৯টি উপজেলায় সাংবাদিকদের মধ্যে ছিল আনন্দমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই তারা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। মোট ৭৭ ভোটারের মধ্যে ৭৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

    গোপন ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- সভাপতি এমদাদুল হাসান সোহেল, সহ-সভাপতি  মামুন চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূর এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হক সুজন। এর আগে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাকারিয়া চৌধুরীসহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হন আরো ৯ জন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন- হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরী এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রদীপ দাশ সাগর ও সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান কামাল।

    “হবিগঞ্জ অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম এর কমিটি পুনর্গঠন।

    ফলাফল ঘোষণার সময় হবিগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাবান মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান ও সাংবাদিক ফোরামের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শাকীল চৌধুরী এবং বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এ সময় হবিগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলা থেকে আসা ২ শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।