Category: হবিগঞ্জ

  • সোনার হরফে লেখা নাম স্যার ফজলে হাসান আবেদ

    সোনার হরফে লেখা নাম স্যার ফজলে হাসান আবেদ

    মোঃ কায়ছার আলীঃ কথায় বলে, “শক্তিমানরা টিকে থাকেন আর দুর্বলরা হটে যান।” এই শক্তির অর্থ ডাইনোসরের শক্তি না। এ হচ্ছে মানুষের টিকে থাকার শক্তি। সেরা ও সাহসী কাজ করার শক্তি। এ শক্তিতে যাঁরা বলিয়ান এ বিজয়গাঁথা কেবল তাঁদের নিয়ে।

    বাসযোগ্য এ পৃথিবীতে উর্বর ভূমি অগণিত শ্রেষ্ঠ সন্তান উপহার দিয়েছেন। যাঁদের রয়েছে অনন্য অসাধারণ অবদান-কৃতিত্ব-শ্রেষ্ঠত্ব আকাশচুম্বী। মেধা আর কর্মের কারণে দেশে বিদেশে সর্বত্রই তাঁরা প্রসংসিত এবং সম্মানিত। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য যতদিন থাকবে ততদিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কলম জাদুকর হুমায়ুন আহমেদ এর নাম থাকবে।

    আবিষ্কারের জন্য টমাস আলভা এডিসন, মাইকেল ফ্যারাডে চার্লস ব্যাবেজ এবং মার্ক জুকারবার্গ এর নাম কখনও হারিয়ে যাবে না। মহান স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নাম চিরভাস্বর থাকবে। এভাবে অনেকের নাম ইতিহাসে চিরকাল অমর এবং অম্লান রবে।

    আজকের লেখার মূল শিরোনাম হল স্যার ফজলে হাসান আবেদ কেসিএমজি ইমেরিটাস চেয়ার। বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি বাঙালীর গর্ব, অহংকার। পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণার বাতিঘর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব, অসাধারণ দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতার গভীর জীবন দর্শন ও নিরলস শ্রমের এক অবিস্মরনীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে জীবদ্দশাতেই তিনি আলোকিত মানুষ এবং কিংবদন্তিতে পরিণত হন।

    ১৯৩৬ সালের ২৭ শে এপ্রিল তদানিন্তন সিলেটের হবিগঞ্জ মহকুমার বানিয়াচং উপজেলার কামালখানিপাড়া গ্রামে তিনি জমিদার পরিবারে বাবা সিদ্দিক হাসান এবং মা সৈয়দা সুফিয়া খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

    নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন। হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী, কুমিল্লা জিলা স্কুলে ৭ম থেকে ৮ম শ্রেণী, পাবনা জিলা স্কুলে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। সে বছরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালের অক্টোবর মাসে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচার ভর্তি হন কিন্তু এই কোর্স অসমাপ্ত রেখে ঐ বছরেই লন্ডনে চলে যান এবং চার বছরের সি.এ কোর্স সম্পন্ন করেন।

    ১৯৬২ সালে লন্ডনে কিছুদিন চাকুরি করার পর কানাডায় চলে যান সেখানেও চাকুরি করার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে এসে শেল ওয়েল কোম্পানির হেড অব ফাইন্যান্স পদে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের প্রলংকরী ঘূণিঝড় বিপন্ন দ্বীপ মনপুরায় ত্রান সেবা পরিচালনা করেন। সেটাই তাঁর জীবনের মানুষের জন্য কাজ করার প্রথম উদ্যোগ। বলা যেতে পারে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক বীজবোপণ।

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পাল্টে যায় তাঁর জীবনের গতিপথ, ১৯৭১ সালের যুক্তরাজ্য সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যের জন্য গড়ে তোলেন “অ্যাকশন বাংলাদেশ” এবং “হেল্প বাংলাদেশ” নামে দুটি সংগঠন।

    তখন প্রবাসের রাজপথে মিছিলে স্লোগান হত “জয়বাংলা” “জয় বঙ্গবন্ধু”, “গণহত্যা বন্ধ কর”, “বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দাও।” প্রবাসে সংগঠন দুটোর নাম এবং তাঁর কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করলে সহজেই উপলব্ধি করা যায় তিনি ছিলেন কত বড় প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা।

    ১৯৭২ সালের ১৭ই জানুয়ারী তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে দরিদ্র, অসহায়, সর্বহারানো মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য Bangladesh Rehabilitation Assistance Committee বা সংক্ষেপে BRAC প্রতিষ্ঠা করেন।

    ২০১৭ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে স্যার বলেছিলেন,

    “১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দেশ স্বাধীন হলে অসহায় দুর্গত মানষের কাছে গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করব।”

    দেশ স্বাধীন হলে ভারত থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ফিরে এল। অসহায় ছিন্নমুল সেই মানুষদের জরুরী সেবা এবং ত্রাণ এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। যুদ্ধ চলাকালীন লন্ডনের সেই ফ্লাটটি বিক্রি করার টাকা নিজের কাছে রেখেছিলেন পরবর্তীতে সেই টাকা দিয়ে উত্তর পূর্ব সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত থানা শাল্লার পুরো এলাকা পরে দিরাই ও বানিয়াচংয়ের থানার কয়েকটি ইউনিয়নের ব্র্যাকের কার্যক্রম শুরু করেন।

    ব্র্যাকের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল দারিদ্র বিমোচন ও দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন। বর্তমানে দারিদ্র বিমোচনের পাশাপাশি জরুরী ত্রাণ সহায়তা, নারী পুরুষের লিঙ্গ সমতা, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নগর উন্নয়ন, মানবাধিকার, ব্যাংক বীমা, মোবাইল ব্যাংকিং, আড়ং, ব্র্যাক ডেইরি, ব্র্যাক চিকেন, ব্র্যাক নার্সারী, ফিশারিজ, প্রিন্টিং, সিল্ক, লবণ, স্যানিটারী এন্ড ডেলিভারী কিট, সিড, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, হত দরিদ্রদের মেধাবৃত্তি, হাসপাতাল, অসংখ্য টপিক নিয়ে আপাময় জনতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সামর্থ্য ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমুলক শিক্ষাকার্যক্রম, প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা, স্কুলে ব্র্যাক লাইব্রেরি, গ্রামের পিছিয়ে পড়া বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেইস প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের জন্য মানসম্মত প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য বিষয়ভিত্তিক তথ্য, তত্ত্ব ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টর সহ বিভিন্ন মেধা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

    আজ ব্র্যাক শুধু দেশেই নয় ১ লক্ষ কর্মী নিয়ে পৃথিবীর ১১টি দেশে ১২০ মিলিয়ন মানুষকে বিভিন্ন প্রকার সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। দরিদ্রদের আলোর দিশারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার তাঁর ব্র্যাকের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অগ্রগতি টিকাদান, মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, যক্ষা প্রতিরোধসহ তাদের অনেক কর্মসূচী রয়েছে।

    আশির দশকে এদেশে ডায়রিয়া মহামারী রূপধারণ করলে রোগীদের বাঁচানোর জন্য ব্র্যাক বা তাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাবার স্যালাইন (একমুট গুড়, এক চিমটি লবন, আধাসের পানি) তৈরি করা শিখিয়ে দেন। তখন বিটিভি এবং বাংলাদেশ বেতার স্যালাইন বানানোর পদ্ধতি প্রচার করত।

    Sir Fazle Hasan Abed

    বিগত চার দশক ধরে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েটি দেশের দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে শিক্ষাস্বাস্থ্য মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ২০১০ সালে যুক্তরাজ্য থেকে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে তাঁকে নাইট উপাধি (নামের আগে স্যার) দেওয়া হয়।

    কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পুরস্কারঃ র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৮০), ব্র্যাকের ইউনেস্কোর নোমা পুরস্কার (১৯৮৫), ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০০৭), বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার (২০১৫), শিক্ষায় অবদানের জন্য ইদান পুরস্কার ও স্বর্ণ পদক (২০১৯)।

    পৃথিবীর সর্বত্র এত যশ সম্মান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, পুরস্কার পেয়েও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং নির্মোহ। যেখানে তিনি যেতেন সেখানে সবার কথা শুনতেন এবং সাক্ষাতের জন্য সময় বের করে নিতেন। বক্তৃতা বা নীতিবাক্য দিয়ে নয় কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত তুলে ধরতেন।

    জনহিতকর প্রতিষ্ঠান ‘ব্র্যাক’ চালু করার পর সেটাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০০২ সারের সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার স্ত্রীসহ এবং ২০০৫ সালে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্ণধার বিল গেটস স্ত্রীসহ ব্র্যাকের কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেন।

    ২০১০ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব স্যারকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশসমূহের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের একজন হিসেবে নিয়োগ করেন। স্যার চাইলে ব্যক্তিগতভাবে অনেক সম্পদের মালিক হতে পারতেন কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।

    তিনি একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,

    “আমি ব্র্যাক থেকে বেতন নিই কিন্তু আমার নিজের কিছুই নেই। আমার নিজের বাড়ী নেই। ভাড়া করা ফ্লাটে থাকি। যখন ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করি তখনই নিজের জন্য কিছুই করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ নিজের সম্পদ গোছানোর ব্যবস্থা করতে গেলে গরিবদের সাহায্য করতে পারব না।”

    তথ্য ও প্রযুক্তিবান্ধব এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে তিনি স্বেচ্ছায় চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আবারও জীবনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। ২০১৯ সালের ২০শে ডিসেম্বর বিজয়ের মাসে ঢাকায় অ্যাপোলো হাসপাতালে (বিদেশে গিয়ে নয়) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি ব্র্যাকসহ অসংখ্য জনকল্যাণকর প্রতিষ্ঠানের মাঝে চিরকাল বেঁচে রইবেন, যেখানে তাঁর সোনালী স্পর্শ আছে।

    লেখকঃ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট
  • চা বাগানে সায়হাম গ্রুপের কম্বল বিতরণ

    চা বাগানে সায়হাম গ্রুপের কম্বল বিতরণ

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সায়হাম গ্রুপের উদ্দ্যোগে নোয়াপাড়া, জগদীশপুর ও বৈকন্ঠপুর চা বাগানে বিপুল সংখ্যক অসহায় চা শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

    রবিবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টা থেকে সারাদিন ব্যাপি নোয়াপাড়া, জগদীশপুর ও বৈকন্ঠপুর চা বাগানে অসহায় চা শ্রমিদের মধ্যে শীতবস্ত্র হিসেবে একটি করে কম্বল দেওয়া হয়।

    বিতরণ পূর্ব ৩ টি বাগানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শামিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপুল ভোটে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবক সৈয়দ মোঃ জাবেদ, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন নোয়াপাড়া চা বাগান মজনু শাহ্ (রহঃ) মাজার শরীফের খাদেম মাওলানা আব্দুল করিম কবিরাজ, নোয়াপাড়া ইউ-পি মেম্বার হারিজ উদ্দিন লালু, মেম্বার রুবেল মিয়া, মেম্বার মীরা কৈরী, মেম্বার বাবু চৌহান প্রমুখ।

    প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শামিম বলেন- “অসহায় চা শ্রমিকদের পাশে সারা জীবন থাকবে। এটা সায়হাম গ্রুপের দায়িত্ব। আজকের এ আয়োজন চমৎকার আগামীদিনে এ ধরনের আয়োজনে আমি ও সায়হাম গ্রুপ পরিবার আপনাদের পাশে থাকবে।”

    তিনি আরো বলেন- “সায়হাম গ্রুপ চা শ্রমিক ও তৃণমূল মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ৩ ফেব্রুয়ারী সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে সায়হাম গ্রুপ এর পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হবে।”

  • সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক স্বপরিবারে আমেরিকা গমন

    সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক স্বপরিবারে আমেরিকা গমন

    হবিগঞ্জের শায়েস্তগঞ্জ উপজেলার অনলাইন প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং হবিগঞ্জ জেলা ফুটবল খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক স্বপরিবার আমেরিকা গমন করছেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

    সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহ জালাল (রহঃ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কাতার বিমান এয়ারলাইন্স একটি ফ্লাইটে করে আমেরিকা মেশিগানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

    তিনি সময় সল্পতার কারনে জেলার ফুটবল খেলোয়ার কল্যান সমিতির, শায়েস্তাগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাব সাংবাদিক, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মানবাধিকার কমিশন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    তিনি ফুটবল খেলোয়ার, সাংবাদিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করেছেন।

    আব্দুর রাজ্জাক হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর শহরের সুলতান মাহমুদপুর এলাকার মরহুম আব্দুল হাসিম এর ছেলে। বর্তমানে তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের জগন্নাথপুর আবাসিক এলাকায় বসবাস করেছে।

  • পরিকল্পিত ভাবে হাওর অঞ্চলকে উন্নত করা হবে//পরিকল্পনা মন্ত্রী

    পরিকল্পিত ভাবে হাওর অঞ্চলকে উন্নত করা হবে//পরিকল্পনা মন্ত্রী

    গতকাল শনিবার বিকালে বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ মাঠে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিঠির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খানকে বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামীলীগের দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের দর্শন হচ্ছে জনগনের কল্যানের উন্নয়ন। বানিয়াচং উপজেলা একটি হাওর এলাকা। বানিয়াচংসহ হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

    তিনি এ সময় আরো বলেন হাওর আর অনুন্নত এবং অবহেলিত থাকবে না। দেশের অন্যান্য এলাকার সাথে হাওরকে যুক্ত করার জন্য বিশেষ বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

    সুনামগঞ্জ জেলাকে রেল যোগাযোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলার সাথে সংযুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষি ইউনিভার্সিটিসহ বানিয়াচং তথা হবিগঞ্জ জেলার সকল উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের আশ্বাস  প্রদান করেছেন।

     

    উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমীর হোসেন মাস্টারের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন খানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত ব্যাক্তি সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শেখ শামসুল হক, জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি, ইউপি চেয়ারম্যান শাহ শওকত আরেফীন সেলিম প্রমূখ।

    সংবর্ধনা সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামীলীগ এর অঙ্গসংগঠনের লোকজন খন্ড খন্ড মিছিল সহকারে উপজেলা চত্তরে হাজির হয়।

    বিকেলে এক পর্যায়ে সংবর্ধণা সভাটি জনসভায় পরিণত হয়। লোকে লোকারন্য হয়ে উঠে পুরো উপজেলা চত্তর। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয় পুরো এলাকা। সভার শুরুতেই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

  • যাদের বোন আছে তারা ভাগ্যবান

    যাদের বোন আছে তারা ভাগ্যবান

    নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নিয়েছে ঘরভর্তি শিশুর হৈ-হুল্লোড় করে বেড়ে ওঠাও। এখন প্রায় সব বাসায়ই একটি কি দুটি শিশু। পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে উঠছে অনেকটা নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করে। ভাইবোনের খুনসুটি, খেলনা কিংবা খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ির স্মৃতি তাদের নামের পাশে জমা হচ্ছে না।

    এদিকে কন্যা সন্তান নিয়ে মন খারাপ করার কুপ্রথা অনেকটা কমলেও, পুরোপুরি এখনও কমেনি। এখনও বেশিরভাগ বাড়িতেই একের অধিক কন্যাশিশু হলেই মন খারাপের ঢল নামে যেন। কোনো কোনো সংসারে তো অশান্তিও দেখা দেয়। বদলে যাওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক সন্তান নীতি লাভজনক হলেও আপনার একমাত্র সন্তানের জন্য তা মোটেও লাভজনক নয়।

    ভাই বা বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর জীবনে অত্যন্ত আনন্দদায়ক বলে জানাচ্ছে গবেষণা। তার মধ্যেও বিশেষ ভাবে বিজ্ঞানীরা বলছেন বোন থাকার কথা। ছেলে হোক বা মেয়ে, তার যদি একটি বোন থাকে তো সেই জীবনের আনন্দই আলাদা বলে গবেষণায় প্রকাশ। তাই এখনও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে যাদের দুঃখের শেষ থাকে না, তারা দেখে নিন যে আপনার মেয়ে আপনাকে কতভাবে সাহায্য করতে পারে।

    ছোটবেলা থেকে বড় হয়ে উঠেও বোন সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে পারে। নিজের বোন থাকলে সেই শিশুর মধ্যে মায়া-মমতা ও ভালোবাসার মতো গুণ সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়। ম্যাচিওরিটিও তাড়াতাড়ি আসের বোনের প্রভাবে। এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা।

    ৩৯৫টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন ব্রিংহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। এমনকি ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়াও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

  • জেরিন এর লাশ ১১ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন

    জেরিন এর লাশ ১১ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন

    এসএসসি পরীক্ষার্থী মদিনাতুল কোবরা জেরিন হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের জন্য ১১ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

    গতকাল দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

    তার আগে রোববার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শাহীনুর আক্তার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।

    লাশ উত্তোলনকালে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোঃ রবিউল ইসলাম, সহকারী কমিশনার শাহ আজিজ, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুক আলী।

    উল্লেখ্য, সদর উপজেলার ধল গ্রামের বাসিন্দা মদিনাতুল কোবরা জেরিন। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে সদর উপজেলার রিচি এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

    পরদিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার প্রথমে এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা মনে করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে।

    পরে পুলিশের তদন্তে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়। গ্রেফতার করা হয় সদর উপজেলার ধল গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনকে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।

  • বিদেশী মদসহ নবীগঞ্জের মাদক সম্রাট ছালিক গ্রেফতার

    বিদেশী মদসহ নবীগঞ্জের মাদক সম্রাট ছালিক গ্রেফতার

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদসহ মাদক সম্রাট ছালিক মিয়া (৫৫)কে গ্রেফতার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১ টায় নবীগঞ্জ শহরের তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্টান সুগন্ধা স্ন্যাকস অভিযান চালিয়ে বিদেশী ১৪২ বোতল ভারতীয় ও বিদেশী মদ গুলো উদ্ধার করে পুলিশ ।

    নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমানের নিদের্শে থানার তদন্ত অফিসার উত্তম কুমার ও অফিসার অপারেশন আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রায় ১ ঘন্টা ব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন।

    মাদক সম্রাট ছালিক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার কারিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের কালাইনজুরা গ্রামের বাহরাম উল্লাহ’র পুত্র।

    ছালিক মিয়া এছাড়া ও ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কিছু জনপ্রতিনিধি ওসরকার দলীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের মাসিক চাঁদা দিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন ছালিক মিয়া। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর রাত মধ্যে রাত পর্যন্ত চলে আসছিল এই মাদক ব্যবসা। তবে তার বেশির ভাগ ক্রেতারা হচ্ছেন নবীগঞ্জে বিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ধনাট্য ব্যক্তি ব্যবসায়ী,জনপ্রতিনিধিরা।

    এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছালিক মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্টান সুগন্ধা স্ন্যাকসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জানুয়ারী) সকালে মাদক আইনে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে কোর্টে প্রেরন করা হয়।