Category: হবিগঞ্জ

  • নবীগঞ্জে ভিজিডির চালসহ জনতার হাতে আটক চেয়ারম্যান

    নবীগঞ্জে ভিজিডির চালসহ জনতার হাতে আটক চেয়ারম্যান

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ভিজিডির আত্মসাৎকৃত চালবোঝাই ট্রাকসহ ইউনিয়ন অফিসে ঢোকার সময় জনতার হাতে আটক হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

    আজ বুধবার ভোরে উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসাকে আটক করে জনতা।

    এ সময় স্থানীয়রা চাল চোর চেয়ারম্যান মুসার বিরুদ্বে নানা শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় বসে পড়ে। প্রায় একঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    এ ঘটনায় সুষ্ট তদন্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য হবিগঞ্জ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম ইউপি অফিস পরিদর্শন করেছেন। শেষে ওই চাল সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরন করা হয়।

    জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসার বিরুদ্ধে গত ১৯ এপ্রিল ভিজিডির চাল ও মহিলাদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সমরগাঁও গ্রামের শরিয়ত উল্লাহ নামে একজন।

    এর পর তড়িগড়ি করে চেয়ারম্যান মুসা পরদিন খাদ্য গুদাম থেকে এপ্রিল মাসের চাল উত্তোলন করে মার্চ মাসের চাল হিসেবে বিতরণ করেন।

    তবে খাদ্য গুদাম সূত্র জানায়, প্রতি মাসে মাসে চেয়ারম্যান চাল উত্তোলন করে নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত মার্চ মাসের ভিজিডির চাল সুবিধাভোগীরা পাননি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসা বলেন, অতীতেও আমরা ২-৩ মাসের চাল এক সাথে বিতরণ করেছি। এবার দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে চাল বিতরণ করতে দেরি হয়েছে।

    নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অলক বৈষ্ণম জানান, গত মার্চ মাসের চাল ইউপি চেয়ারম্যান মার্চ মাসেই উত্তোলন করেছেন এবং এপ্রিল মাসের চাল তিনি গত ২০ তারিখ উত্তোলন করেছেন।

    নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, ভিজিডির চাল নিয়ে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে আমরা এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তবে তিনি এখানে ভিজিডির চাল বিতরণ করুক বা না করুক সে একটি অনিয়ম করেছে আমরা দেখেছি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারে বরাবর লিখিত দিব। সরকার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

  • মাধবপুরে সরকারী আদেশ মানছে না ফিলিং ষ্টেশনগুলো

    মাধবপুরে সরকারী আদেশ মানছে না ফিলিং ষ্টেশনগুলো

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলো মানছে না সরকারী আদেশ। দিন দিন হবিগঞ্জ জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এ পরিস্থিতিতে গণ পরিবহনে জ্বালানি সরবরাহ করে করোনা ঝুঁকিতে পড়বে লাখো মানুষ।

    বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে সিএনজিগুলো কে ফোন করে এনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সরকারী আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাধবপুর পৌরসভায় অবস্থিত সুশান ও সেমকো এবং নোয়াপাড়ার আল আমিন ফিলিং স্টেশন গন পরিবহনে জ্বালানি সরবরাহ করছে।

    গণ পরিবহনে জ্বালানি সরবরাহ করায় প্রচুর যানবাহন রাস্তায় যাত্রী নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন।

    সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য গত ৯ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন কোন গণ পরিবহনে ফিলিং পাম্প জ্বালানী সরবরাহ করতে পারবে না এই মর্মে নির্বাহী আদেশ জারী করা হয়।

    গনপরিবহনে জ্বালানী সরবরাহ করার ফলে যানবাহন বিশেষ করে সিএনজিগুলো সরবে যাত্রী নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে।

    এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, কৃষি কাজে ব্যবহৃত, রোগী ও প্রশাসনিক গাড়ী ছাড়া কাউকে গ্যাস দেয়া নিষেধ রয়েছে। রাস্তায় কোন গনপরিবহন দেখা গেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবো।

    অহরহ গণ পরিবহনে জ্বালানী সরবরাহ বন্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তার জানান, আমরা প্রতিটি স্টেশনের মিটার চেকিংয়ের আওতায় এনেছি ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাদের নজরদারি করা হচ্ছে। জ্বালানী সরবরাহ অবস্থায় ফেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • শায়েস্তাগঞ্জে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা

    শায়েস্তাগঞ্জে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা না মেনে দোকান খোলা রাখায় ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা করা হয়। 

    আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইয়াসিন আরাফাত রানা

    জানা যায়, উপজেলার দাউদনগর বাজারে মিজান কসমেটিক্স ১০ হাজার, অনিক সাইকেল মার্ট ২০ হাজার, রূপা কসমেটিক্স ৫ হাজার, রানা জুয়েলার্স ২ হাজার ও পুরানবাজারে বিলাল মিয়ার চা দোকানে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    এছাড়াও পুরানবাজারে সুটকি ঢেকে না রাখার কারণে পাঁচ ব্যবসায়ীকে ২০০ টাকা করে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

  • হবিগঞ্জে আরো ২ জন করোনায় আক্রান্ত

    হবিগঞ্জে আরো ২ জন করোনায় আক্রান্ত

    হবিগঞ্জে আরও দুজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পরীক্ষায় এদের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়।

    দু’জন করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক হিমাংশু লাল রা

    মঙ্গলবার ওসমানীতে ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।

    হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোখলেসুর রহমান বলেন, আক্রান্ত দুজন লাখাই ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলার।

    এর পূর্বে গতকাল হবিগঞ্জে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছিলো ১০ জন৷ আজকে ২ জন৷ সর্বপ্রথম ছিলো ১ জন। হবিগঞ্জে করোনা রোগী মোট ১৩ জন। যা সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

    এইদিকে এক দিনে ১০ জন করোনা রোগি সনাক্ত হওয়ার খবর পেয়ে হবিগঞ্জবাসীর মধ্যে একটি আতংক বিরাজ করছে। অনেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সব কিছু লক ডাউনের জন্য।

  • অবরুদ্ধ বিশ্বে মহিমান্বিত রমজানের প্রস্তুতি

    অবরুদ্ধ বিশ্বে মহিমান্বিত রমজানের প্রস্তুতি

    মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিকঃ প্রিয়জনের সান্নিধ্যের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রেমিক হৃদয়ে বেড়ে যায় অস্থিরতা। অপেক্ষার প্রহর তখন মনে হয় অনেক দীর্ঘ। হৃদয় মাঝে কত জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে। ব্যাকুলমনে প্রিয় ক্ষণটির অপেক্ষার প্রহর কাটে। অবরুদ্ধ যখন পুরো পৃথিবী ঠিক সে সময়ে দুয়ারে কড়া নাড়ছে রমজান। এ মাস যত ঘনিয়ে আসতো, তেমনি ব্যাকুল এবং পুরোদমে প্রস্তুত হয়ে উঠতেন রাসুল (সা.)। এ প্রস্তুতি ছিল শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক। রমজান ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। এ মাসে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চাই।

    রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বারতা নিয়ে আসে রমজান। কোরআন নাজিলের কারণে রমজান হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মর্যাদাবান। তাই প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। মানবজাতির কল্যাণ লাভ সহ এ মাসে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও শান্তির বারিধারা বর্ষীত হয়। তাঁর নেয়ামতের ভান্ডার খুলে অগণিত বান্দাকে ক্ষমা করেন। মুক্তির বার্তা পৌঁছান মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে। মহিমান্বিত এ মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে বিধায় অবরুদ্ধ বিশ্ব হলেও এই মাসকে স্বাগত জানিয়ে বরণ করতে হবে। রমজানের আগে অন্তরকে পবিত্র, নিষ্কলুষ, মনকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে কঠিন অধ্যাবসায় তৈরি করতে হবে পবিত্র জীবন।

    দীর্ঘ এগার মাসে অন্তরে সৃষ্ট বিষাক্ত মরীচিকা দূর করতেই রমজানের সিয়াম সাধনা। সিয়াম সাধনা মানুষকে ফেরেশতাদের অনুকরণের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব নিজকে প্রবৃত্তির গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়। সিয়ামের উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখা। সিয়াম দ্বারা মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহন করে। রাসুল (সা.) শিখিয়েছেন কীভাবে রমজানকে গ্রহণ করতে হয়। রমজানের রহমত বরকতে সিক্ত করতে হলে প্রস্তুতি নিতে হবে শাবান মাস থেকেই। রাসুল (সা.) শাবান মাসে নিজেকে পূর্ণভাবে ইবাদাতে মশগুল রেখে সাহাবাদেরকেও আদেশ করতেন ইবাদতে কাটানোর।

    রজবের শুরু থেকেই পূর্বসূরিরা দোয়া করতেন- আল্লাহ! আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। তাঁরা সর্বদা দোয়া করতেন, আল্লাহ যেন তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আরও দোয়া করতেন, রমজানের আমলগুলো আল্লাহ যেন কবুল করেন। রোজার মাধ্যমে মুমিনজীবনের অনন্য প্রাপ্তিসহ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বহুমুখী কল্যাণের সন্ধান দেন।

    রমজানে মানুষের গতিপথ বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন কৌশলে অভিশপ্ত শয়তান পাঁয়তারা করতে থাকে। তাই আমাদেরও উচিৎ নিজ দেহ-মনকে প্রস্তুত করা। কিন্তু আমাদের জানা রমজানের চাঁদ উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানব জাতির চিরশত্রু শয়তানকে বন্দী করে দেয়া হয়। শয়তানের কুমন্ত্রণা দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়ার অবকাশ থাকে না। রমজানে জান্নাতের দুয়ার খুলা আর জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করা হয়। যারা জীবনের গ্রোতধারা সঠিক পথে প্রবাহিত করতে চান তাদের জন্য রমজান আশির্বাদস্বরূপ।

    পার্থিব লোভ-লালসামুক্ত, ত্যাগ-সহিষ্ণুতার সাধনা এবং মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হওয়ার প্রশিক্ষণে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। দুয়ারে যেহেতু মহিমান্বিত মাসের শুভাগমন তাই সব ধরনের গুনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করতে হবে। পবিত্র মন ও প্রশান্ত হৃদয়ে ইবাদতে নিজেকে মশগুল রাখতে হবে। ইরশাদ হচ্ছে- ‘হে মুমিনরা! আল্লাহ তায়ালার নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সুরা:নুর,আয়াত-৩১)।

    চারদিকে প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে, অপেক্ষা কেবলই রমজান আগমন। রমজানে প্রতিটি মুহূর্তে অনেক বরকত লুকিয়ে আছে, যা নফল কাজগুলো ফরজের মর্যাদা পায়, আর ফরজ কাজগুলো সত্তর গুণ অধিক মর্যাদা পায় (বায়হাকি)। রমজান এলে সৎ পথে চলা সহজ, আর অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে রোজা ঢালস্বরূপ। রমজানের রোজা রাখার ক্ষেত্রে ব্যক্তির অতীত ও বর্তমান সব গোনাহ ক্ষমা করা হয় হাদিসে উল্লেখ আছে।

    এ মাসে প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করতে থাকেন- ‘হে সৎ পথের দিশারি! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের পথিক! সতর্ক হও। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- রমজানের রোজা আল্লাহর কাছে এই বলে সুপারিশ করবে- ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দাকে দিনের বেলা ভোগ-সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। তাই আজ আমি তার জন্য সুপারিশ করছি’।

    অথচ, বর্তমান সময়ে সিয়াম সম্পর্কে বহু মুসলমানের ধ্যান ধারণা শৌখিনতায় রূপান্তরিত। তারা এ মাসকে খাবার-দাবার, পান-পানীয়, মিষ্টি-মিষ্টান্ন, রাত জাগা ও স্যাটেলাইট চ্যানেল উপভোগ করার মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। তারা আগে থেকেই এ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন; এই আশংকায়- কিছু খাদ্যদ্রব্য কেনা বাদ পড়ে যেতে পারে অথবা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

    এভাবে খাদ্যদ্রব্য কেনা, হরেক রকম পানীয় প্রস্তুত করা এবং কী অনুষ্ঠান দেখবে, আর কী দেখবে না সেটা জানার জন্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর প্রোগ্রামসূচী অনুসন্ধান করার প্রস্তুতি নেয়। তারা এ মাসে ইবাদত ও তাকওয়ার পরিবর্তে উদরপূর্তি ও চক্ষুবিলাসের মৌসুমে পরিণত করে। অথচ রমজানের তাৎপর্য সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই তারা অজ্ঞ।

    পাপাচারে যাদের জীবন অতিষ্ট সিয়াম তাদের ক্ষান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর মুমিনের জন্য কাঙ্ক্ষিত সফলতা হাতছানি দিতে থাকে। পাপের খনিতে নিমজ্জিত বান্দাকেও এ মাসের বরকতে ক্ষমার অঙ্গীকার করেছেন আল্লাহ। রমজানের প্রাপ্তি ও সুফল নিশ্চিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো, এ মাসের মর্যাদা যথাযথভাবে আদায় করা। তবে রমজান উপলক্ষে সর্বপ্রথম মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। রমজানে পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকা অতি সহজ। আমাদের একটু সদিচ্ছাই পারে পাপমুক্ত জীবন সূচনা করতে।

    এই মাসে সহিহ-শুদ্ধরূপে কোরআন বেশি বেশি তিলাওয়াত করার প্রিপারেশন নিতে হবে এবং কোরআনের পেছনে প্রচুর সময় দিতে হবে। তিলাওয়াতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। ফেসবুক, ইউটিউব ও অনৈসলামিক টিভি প্রগ্রাম ইত্যাদিতে সময় নষ্ট না করার দৃঢ়সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। ব্যক্তিপর্যায় থেকে পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গণসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

    রমজান মাস মুসলমানের জন্য আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এই মাসের আগমন কল্যাণ ও রহমতের। ইরশাদ হচ্ছে- ‘বলুন, এটি আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। এটি তারা যা সঞ্চয় করে রাখে তা থেকে উত্তম’ (সুরা:ইঊনুস,আয়াত-৫৮)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে লোক সকল, তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর, আমি তাঁর নিকট দৈনিক একশত বার তওবা করি’ (মুসলিম)।

    অনৈতিক কোনো অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করতে হবে। কেননা রমজান তো ভালো মানুষ হবার ট্রেনিং কোর্স। কর্মব্যস্ততাও কিভাবে বেশি ইবাদত করা যায়, তার পরিকল্পনা করা উচিত। কাজের ফাঁকে ও অফিসে যেতে-আসতে কিভাবে ইবাদতে কাটানো যায় তার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। রমজানে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি এবং পবিত্রতা রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য। কারণ প্রতিটি নেক আমলের বিনিময় ন্যূনতম দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়।

    মুসলমানদের ক্ষমার জন্য বিশেষ পরিবেশ তৈরি করা হয়। রমজান মাস ইবাদত, আল্লাহর নৈকট্য লাভ, ঈমান নবায়ন এবং গুনাহ মাফের মাস। যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না রাসুল (সা.) তাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। তাই এই মহিমান্বিত মাসটি কীভাবে কাটাবেন, আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। ইবাদতের বসন্তকালের এ সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাকে সফল করতে এখন প্রস্তুতি নেয়া একান্ত কাম্য। আল্লাহ আমাদের তাঁর সান্নিধ্য লাভের পাশাপাশি রহমত, মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রাপ্তির বিশেষ তওফিক দান করুন। আমিন।

    লেখক: প্রাবন্ধিক
  • বানিয়াচংয়ে ৩ করোনা রোগী শনাক্ততে দুই ইউনিয়ন লকডাউন

    বানিয়াচংয়ে ৩ করোনা রোগী শনাক্ততে দুই ইউনিয়ন লকডাউন

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে তিন জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় দুটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণরুপে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

    মঙ্গলবার সকালে এই গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার।

    আজ বেলা ২টা থেকে ১নং বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়ন এবং ৩নং বানিয়াচং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন সম্পূর্ণরুপে লকডাউন কার্যকর হবে।

    হবিগঞ্জে ১দিনে ১০ জন করোনা রোগী সনাক্ত

    হবিগঞ্জে চিকিৎসক ও নার্সসহ নতুন করে মোট ১০ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হবিগঞ্জ জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ জন।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০ টায় নতুন ১০ জন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অমিতাভ পরাগ তালুকদার। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতালের আইসোলেশনে এবং বাকীরা বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ এ. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। আক্রান্তদের সকলকেই আইসোলেশনের আওতায় নিয়ে আসা সহ তাদের পরিবার লকডাউন ঘোষণা করা হবে।

    হবিগঞ্জ আড়াইশ’ শয্যার আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নির্দেশে প্রত্যেক উপজেলা থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। ওইসব নমুনা থেকেই দশজনের পরীক্ষা রিপোর্ট পজেটিভ পাওয়া গেছে। এখন আক্রান্তদেরকে শীঘ্রই হাসপাতালে পাঠানো হবে। এছাড়া ইতোপূর্বে পাঠানো নমুনা থেকে ৩৬ জনের রিপোর্ট এসেছে যার সবগুলোই নেগেটিভ।

    হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান  বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে সকলের পরিবার লকডাউন করা হবে। এছাড়া যারা হাসপাতালে ছিলেন না, তাদেরকে শীঘ্রই আইসোলেশনে নিয়ে আসা হবে।

    হবিগঞ্জে করোনা সনাক্ত হওয়া নতুন এই ১০ জনের মধ্যে লাখাই উপজেলায় – ৩, বানিয়াচং উপজেলায় – ৩, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় – ২, বাহুবল উপজেলায় – ১ ও চুনারুঘাট উপজেলায় – ১ জন।

    এদের মধ্যে ডাক্তার/ নার্স ৩ জন হলেনঃ

    ১। ডা.সৈয়দ আদনান আরেফিন,
    ২। নার্স- নাজমিন নাহার ও
    ৩। নারায়ণগঞ্জ ফেরত বাবুল মিয়া লাখাই।

    বানিয়াচংয়ের করোনা সনাক্ত ৩ জন হলেনঃ

    ০১। সুমন মিয়া,
    পিতা- রহমত উল্লা,
    বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়া,
    ৩ নং দক্ষিণ পূর্ব ইউপি।

    ০২। আক্কাস মিয়া, পিতা- আব্দুস শহীদ,
    মহব্বতখানি, ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউপি।

    ০৩। উজ্জল মিয়া,
    পিতা-আলী আহমেদ,
    মীরমহল্লা, ১নং উত্তর পূর্ব ইউপি।

    আজমিরীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত ২ জন হলেনঃ

    ১। বদলপুরের সারথি রানী।
    ২। বিরাট মির্জাপুরের জালাল উদ্দিন।

    বাহুবলে আক্রান্ত ১ জন হলেনঃ

    নামঃ- অলি মিয়া
    গ্রামঃ- দৌলতপুর

    এবং চুনারুঘাটে আক্রান্ত ১ জন হলেনঃ
    আব্দুল মালেক (৬৪)
    গ্রাম: উত্তর গোগাউড়া।

    সূত্র : ডেপুটি সিভিল সার্জন, হবিগঞ্জ ।

  • বাহুবলের তিন গ্রাম লকডাউন

    বাহুবলের তিন গ্রাম লকডাউন

    করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রোধে বাহুবল উপজেলার তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সম্পূর্ণরুপে লকডাউন করা হয়েছে।

    সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিট থেকে লকডাউন ঘোষণা করেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা তালুকদার

    উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের দৌলতপুর, যশপাল গ্রাম এবং পুটিজুরি ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামকে সম্পূর্ণরূপে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

    উল্লেখ্য, বাহুবলে একজন করোনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই ওই গ্রামগুলি লকডাউন করে দেয়া হয়।