Category: হবিগঞ্জ

  • হবিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    হবিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    হবিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (১৪ মার্চ) সকাল দশটায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জুম ভার্চুয়াল সভায় সংযুক্ত ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সম্মানিত উপদেষ্টা হবিগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, সিভিল সার্জন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ সহ আইনশৃঙ্খলা সভার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

    হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর বিভাগের গৃহীত নানা কর্মসূচি উল্লেখ করেন।
    হবিগঞ্জ – ৩ আসনের সংসদ সদস্য এডঃ আবু জাহির বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতির বিষয়টি উল্লেখপূর্বক শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনের ওপর আলোকপাত করেন।

    হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বিভিন্ন বিভাগের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং বিভিন্ন সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা প্রদান করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

  • ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রতিযোগিতা আবশ্যক – এমপি আবু জাহির

    ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রতিযোগিতা আবশ্যক – এমপি আবু জাহির

    বদরুল আলমঃ সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেছেন, খেলাধূলা শরীর ও মন ভালো রাখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার খেলাধূলার উন্নয়নে দেশের প্রত্যেক উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করে দিচ্ছে। খেলার সামগ্রী প্রদান করছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হয়ে আসছে। তারা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে।

    শনিবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মহফিল হোসেন-শহীদ হাফিজ উদ্দীন আন্তঃ উপজেলা স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেছেন।

    সংসদ সদস্য আবু জাহির আরও বলেন, খেলাধুলায় শায়েস্তাগঞ্জ পিছিয়ে নেই। উপজেলা প্রশাসনের এ আয়োজন প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরণের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

    বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ খেলা শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মিনহাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গাজিউর রহমান ইমরানের পরিচালনায় খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মুক্তা আক্তার, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল্লাহ সরদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী শফিকুল ইসলাম, সহ সভাপতি রাহেল মিয়া সরদার, সাধারণ সম্পাদক মাসুদউজ্জামান মাসুক, প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ তালুকদার, শিল্পপতি সারোয়ার আলম শাকিল প্রমুখ।

    আলোচনা শেষে বিজয়ী দল নূরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে চ্যাম্পিয়ন ও শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে রানার্সআপ ট্রফি প্রদান করেন অতিথিরা।

  • হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ও শেখ সেলিমের সাথে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময়

    হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ও শেখ সেলিমের সাথে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময়

    হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম (বিপিএম-সেবা) ও বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিমে সাথে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলায়তনে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাহিজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রউফ সেলিমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাসুদ আলী ফরহাদ, হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ ফজলুল রহমান, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, আরটিভি’র সায়েদুজ্জামান জাহির, দীপ্ত টিভি’র শাহ ফখরুজ্জামান, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর টিভির রাসেল চৌধুরী, একুশে টিভি’র সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, যমুনা টিভির প্রদীপ দাশ সাগর, এটিএন বাংলা’র এমএ হালিম, একাত্তর টিভি’র শাকিল চৌধুরী, সাবেক সাধারন সম্পাদক শরিফ চৌধুরী, জিটিভি’র মোহাম্মদ নুর উদ্দিন, মোহনা টিভির মোঃ ছানু মিয়া, এশিয়ান টিভির এসএম সুরুজ আলী, বিজয় টিভির ইলিয়াস আলী মাসুক, বাংলা টিভির কাজল সরকার প্রমূখ।

    সভায় বক্তারা বিদায়ী পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম ও শেখ মোঃ সেলিমের দায়িত্ব পালনের প্রশাংসা করেন এবং তাদেরকে সাংবাদিক বান্ধব কর্মকর্তা উল্লেখ্য করে বলেন-হবিগঞ্জের টিভি সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনে এ দু’জন কর্মকর্তার সহযোগিতা পেয়েছেন এবং তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরী করেছেন। বিদায়ী অতিথিরাও তাদের বক্তব্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনে হবিগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীদের আন্তরিক সহযোগীতা পেয়েছেন বলে জানান এবং তারা সংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জুয়েল চৌধুরী, শাওন।

  • পৌরবাসীর সেবার নামে অনুমোদন দেয়া টমটম এখন শহরবাসীর জন্য বিষফোড়া

    পৌরবাসীর সেবার নামে অনুমোদন দেয়া টমটম এখন শহরবাসীর জন্য বিষফোড়া

    অবৈধ টমটম আর অটোরিকশার কারণে যানজট কবলে পড়ে ভোগান্তির শহরে পরিণত হচ্ছে হবিগঞ্জ। আর এতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠলেও কমানোর কেউ নেই। পৌরবাসীর সেবার নামে অনুমোদন দেয়া টমটম এখন শহরবাসীর জন্য বিষফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে।

    পৌরসভা চলাচলের অনুমোদন দিলেও নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। নিয়ম অনুযায়ী শহরে রিকশা, ঠেলাগাড়িসহ ছোট যানবাহন চলাচলের অনুমোদন দেয় পৌরসভা এবং ভাড়াও তারা নির্ধারণ করে। কিন্তু টমটমের ক্ষেত্রেই ভিন্ন চিত্র।

    সাবেক পদত্যাগকারী মেয়র জি কে গউছের সময়কালীন ওই সিন্ডিকেটটি বেশ কয়েকবার মাথাছড়া দিতে চাইলেও তার বলিষ্ট পদক্ষেপের কারণে মাথাছড়া দিতে পারেনি। কাজেই ভাড়াও তখন পৌরসভায়ই নির্ধারণ করতো। টমটমের রেজিস্ট্রেশন ফি তখন ছিল ২ হাজার টাকা। কিন্তু জি কে গউছ পদত্যাগ করলে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় ১৯ মাসের জন্য মেয়র হন মিজানুর রহমান মিজান। তার মেয়াদেই শক্তিশালী হয়ে উঠে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে টমটমের ভাড়া ১০ টাকা করার ফন্দিফিকির করতে থাকে।

    আর এ সুযোগ আসে মহামারী করোনার সময়ে। জাতীয়ভাবে যখন সারাদেশে গণপরিবহণের ভাড়া বাড়ানো হয় তখন ওই সিন্ডিকেটটি হবিগঞ্জের মতো ছোট শহরেও টমটমের ভাড়া ১০ টাকা করে দেয়। জনগণ করোনার কারণে তা মেনেও নেন।

    কিন্তু গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে যখন জাতীয়ভাবে গণপরিবহনের ভাড়া কমিয়ে পূর্বের ভাড়া বহাল করা হয় তখন কিন্তু হবিগঞ্জ শহরের টমটমের ভাড়া না কমিয়ে ১০ টাকা করেই নিতে থাকে ওই সিন্ডিকেটটি। সাথে ব্যবহার করে তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমানের নাম। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ হলেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেয়নি পৌরসভা।

    তাতে কি? সুযোগটি কাজে লাগায় ওই সিন্ডিকেট। তারা কতিথ একটি সমিতি গড়ে তুলে এবং নিজেদের মনগড়া মতো ভাড়ার তালিকা করে। ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী শহরের শায়েস্তানগর বাজার থেকে সরাসরি চৌধুরী বাজার এবং চৌধুরী বাজার থেকে সরাসরি পৌর বাসস্ট্যান্ড ১০ টাকা এবং থানার মোড় ও মোদক পর্যন্ত ৫ টাকা, ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৫ টাকা।

    কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। টমটম চালকরা শহরের শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট, সিএনজি স্ট্যান্ড, চিরাখানা সড়ক, পৌরভবনের সামনে থেকে অর্থাৎ মাঝ রাস্তা উঠলেও ১০ টাকা নিচ্ছে। না দিলে অকথ্য ভাষায় ব্যবহার করছে যাত্রীদের সাথে।

    তাদের কথা হলো, তালিকা অনুযায়ী থানার মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত গেলে ৫ টাকা রাখা হবে।
    সরেজমিনে দেখা গেছে তাদের তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা রাখার কথা থাকলেও শায়েস্তানগর থেকে উঠা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা।

    এ নিয়ে সমালোচনার যেন শেষ নেই। পৌরবাসীর দাবি পৌর এলাকার ভেতরে টমটমের ভাড়া যেনো ৫ টাকা থাকে। তাদের অভিমত টমটমের অবৈধ টমটমের সংখ্যা কমিয়ে এনে প্রয়োজনবোধে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো হউক। এরপরও ভাড়া যেন ৫টাকা হয়।

    ছোট এ শহরে টমটম টমটমের ১০ টাকা ভাড়া হলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন যারা দিন আনেন দিন খান। অতিরিক্ত ৫টাকা করে তাদেরকে বেশি গুনতে হচ্ছে। তাদের জন্য ১০ টাকা টমটম ভাড়া যেন ‘মরার উপর খড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    অনুসন্ধানকালে জানা যায়, হবিগঞ্জ পৌর শহরে ২০১০ইং হইতে পরিবেশে বান্ধব নামে পরিচিত ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা টমটম, চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে একটি চক্র, গরিব বেকার যুবকদের সহজ মূল্যে কেনা টমটম-কে চাঁদাবাজির সহজ উপায় হিসাবে ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

    জানা যায় ঐ চক্রটি বিগত ১০বছর যাবত ৫/৬ হাজার টমটম শহরে চলাচলের সুবাদে, স্বার্থলোভী চঁাদাবাজ বাহিনীর দ্বারা মনগড়া অবৈধ সংগঠনের নামে, বিভিন্ন ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে এসব টাকা।

    এদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারক লিপি দেওয়া হয়েছে অনেক বার। তাতেও কোনো রকম সমাধান হয়নি। কৌশলে একই চক্রের বিভিন্ন ব্যক্তিদের নেতা নির্বাচিত করে চালিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজি। এদের পিছনে শক্তি যোগাচ্ছে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা ও কিছু জনপ্রতিনিধিরাও।

    গত একবছরে সব চাইতে বেশী চাঁদাবাজি করা হয়েছে টমটমে, যা সম্পর্ণ অবৈধ বেআইনী। এলাকাবাসীর ভাষায়, শহরের প্রতিটি রাস্তাই দখল করে নিয়েছে টমটম। অবস্থা এমন, যেন এটি টমটমেরই শহর। টমটম এখন এলাকাবাসীর ‘মাথাব্যথার’ বড় কারণ। শহরে এত বেশি টমটম, রিকশা চালাতে অলিগলি খুঁজতে হয়। এ ছাড়া চার্জ দেয়ার কারণে হবিগঞ্জ শহরে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুত বিভ্রাট হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন হবিগঞ্জ পৌরবাসী৷

  • হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামের ভেতর ও আশপাশ এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

    হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামের ভেতর ও আশপাশ এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

    হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামের ভেতর ও আশপাশ এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় ওই এলাকার কিছু ফাষ্টফুডের দোকানে হরহামেশাই এরকম ঘটনা ঘটছে বলে স্হানীয়রা জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫ জন যুবক ও যুবতীকে আটক করে। পরে মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পায়। আবারও স্টেডিয়ামের বিভিন্ন খোপে দিনের বেলা ও সন্ধ্যার পর যুবক-যুবতীর আড্ডা ও আনাগোনা দেখা যায়। এ

    দের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে ওই স্থানে এনে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়।
    সম্প্রতি এরকম ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে এক যুবতীকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে সে মুক্তি পায়।

    সদর ওসি মোঃ মাসুক আলী জানান, মহামারী করোনার কারণে পুলিশের অভিযান বন্ধ ছিল। এখন থেকে শহরের ফাষ্টফুডের দোকান ও স্টেডিয়ামে পুলিশের টহল থাকবে।

  • হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে দালালদের দৌড়াত্ব

    হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে দালালদের দৌড়াত্ব

    হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আবারও দালালদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের অভিযানে পুরাতন দালালরা গা ঢাকা দিলেও নতুন দালালরা মাথাছড়া দিয়ে উঠেছে। গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্রটি।

    অভিযোগ আছে, প্রতিদিনই হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারীদের ছত্রছায়ায় জরুরি বিভাগের সামনে দালালরা উৎপেতে বসে থাকে। গ্রামগঞ্জ থেকে রোগী এলেই ভয় দেখিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার নামে গলাকাটা টাকা আদায় করে। এর এক ভাগ ওই দালাল চক্র পায়, আরেকভাগ পায় হাসপাতালের অসাধু কর্মচারীরা।

    সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালালকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়া হয়। এরপর কিছুদিন সদর হাসপাতাল দালালমুক্ত থাকে। বর্তমানে আবারও দালালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কয়েকজন রোগী জানায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কয়েকজন দালাল বসে থাকে। রোগী আসামাত্রই বলে, হাসপাতালে ডাক্তার নেই। তাছাড়া হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন ভর্তি থাকতে হবে। আমাদের কথা মতো ক্লিনিকে গেলে কম টাকায় চিকিৎসা মিলবে।

    এ বিষয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, কিছুদিনতো দালালদের দৌড়াত্ব বন্ধ ছিল। শুনেছি আবার শুরু হয়েছে। তবে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।

  • মৌলভীবাজারে পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে লাখাইয়ের ব্যবসায়ী খুন

    মৌলভীবাজারে পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে লাখাইয়ের ব্যবসায়ী খুন

    মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরে পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে হবিগঞ্জের লাখাইয়ের এক ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। এসময় তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। নিহত ব্যবসায়ীর নাম লক্ষণ পাল (৩৭)। তিনি লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন পালের ছোট ছেলে।

    গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পার্শ্বিপাড়া এলাকায় রাজনগর-কর্ণিগ্রাম সড়ক থেকে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। তার গলায় দড়ির দাগ, চোখেমুখে ও পায়ের উরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে সুরতহালে রিপোর্টে পুলিশ উল্লেখ করে। নিহত লক্ষণের স্ত্রী ও ৩ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

    নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল শহরের সেন্ট্রাল রোডের ব্যবসায়ী লক্ষণ পাল প্রতি শুক্রবারের ন্যায় রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে যান।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের আজাদের বাজার এলাকার বিকাশ ভট নামের এক ব্যবসায়ী সর্বশেষ তাকে মৌলভীবাজারগামী সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে দেন। পরে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে একজন সিএনজি অটোরিক্সা চালক উপজেলার সদর ইউনিয়নের পার্শ্বিপাড়া এলাকায় রাজনগর-কর্ণিগ্রাম সড়কের পাশে মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে রাজনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত করতে মৃতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারসহ বিভিন্ন থানার সাথে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে শনিবার (১৩ মার্চ) সকালে স্বজনরা রাজনগর থানায় গিয়ে মৃতদেহটি লক্ষণের বলে শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষণ পালের মৃতদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    নিহতের বড় ভাই স্বপন পাল বলেন, প্রতি শুক্রবার লক্ষণ রাজনগরে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য যেতো। রাত সাড়ে ৩ টার দিকে আমরা জানতে পারি আমার ভাইয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরে আমরা থানায় গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করি।

    রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিম বলেন, নিহতের গলায় দড়ি জাতীয় কিছুর দাগ, চোখেমুখে বালু ও ডান পায়ের উরুতে জখম রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত করছে।