Category: হবিগঞ্জ

  • শিশুদেরকে খাতা, বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেছেন পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ

    শিশুদেরকে খাতা, বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেছেন পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ

    শিশুদেরকে খাতা, বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেছেন পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ

    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    হবিগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সড়কের রবিদাশ পাড়ায় কোমলমতি শিশুদেরকে খাতা, বই ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেছে জেলা পুলিশ। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাত ৮টায় ওই এলাকায় একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলীর সভাপতিত্বে এসআই জুয়েল সরকারের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, বিপিএম, পিপিএম। অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার শিমু প্রমুখ।

    প্রায় শতাধিক শিশুদের হাতে বই, খাতা ও বিভিন্ন শিক্ষা সরঞ্জাম তুলে দেন পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে বলেন, ” মানুষের মৌলিক অধিকার হলো শিক্ষা। শিক্ষার আলো সব ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। ”

    এ ছাড়াও বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য প্রত্যেক পরিবারের ও দায়িত্ববান ব্যক্তিবর্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানান তিনি।

  • আবারও শহরের আরেকটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে জরিমানা !

    আবারও শহরের আরেকটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে জরিমানা !

    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    আবারও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    গতকাল শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জহুর হোসেনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় দি নিউ লাইফ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামক শহরের জেলা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন এই ফিজিওথেরাপী সেন্টারে অভিযান চালায়।

    উক্ত অভিযানের সময় ইসিজি ও এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন মেশিন ছাড়াই ভূয়া ইজিসি রিপোর্ট, ব্লাড রিপোর্ট, এক্সরে রিপোর্টসহ বিভিন্ন রিপোর্ট প্রদান করার দায়ে হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট অনন্তপুর এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সফিক ও হেলাল উদ্দিনকে ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

    এছাড়াও লাইসেন্স না থাকায় নিউ লাইফ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

  • চারটি প্রকল্প উদ্বোধন ও এমপি আবু জাহিরকে সংবর্ধনা

    চারটি প্রকল্প উদ্বোধন ও এমপি আবু জাহিরকে সংবর্ধনা

    বদরুল আলমঃ হবিগঞ্জ সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেছেন।

    উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ফলক উন্মোচন ও মোনাজাত শেষে এমপি আবু জাহির উপস্থিত লোকজনকের সামনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র জন্য সকলের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

    উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হল- ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ-দেউন্দি সড়ক মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় গৌয়ার মহনী খাল পুনঃখনন, একই উপজেলার লাদিয়া রোড থেকে জানিগাও ভায়া কাজিরগাও কমিউনিটি ক্লিনিক সড়ক পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপায়া-আনসার সড়ক প্রসস্তকরণ।

    উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের সময় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল্লাহ সরদার, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব, শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল খানসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি  অনুযায়ী হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন হওয়ায় গতকাল বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপায়া আদর্শ গ্রামবাসী এমপি আবু জাহিরকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

    কামাল উদ্দিন মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ মোতালিব, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তার হোসেন ও গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেনসহ অন্যান্যরা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    সংবর্ধনার শুরুতেই সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহিরকে সম্মাননা স্মারক উপহার দেয়া হয়।

  • বাহুবলে মা ও মেয়ের হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন

    বাহুবলে মা ও মেয়ের হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন

    হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানাধীন দিগম্বরপুর বাজারের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া বাসায় মা ও মেয়ের হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

    গত ১৭/০৩/২০২১ খ্রিঃ তারিখ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় সংবাদ পাওয়া যায় যে, বাহুবল মডেল থানাধীন ০২নং পুটিজুরী ইউনিয়নের দিগম্বরপুর বাজারের জনৈক আব্দুল মুমিন তালুকদারের তিনতলার ভাড়াটিয়া বাসায় ০২টি মৃতদেহ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ দ্রুত  ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    তদন্ত সহায়তার জন্য পিবিআই, হবিগঞ্জ এবং ক্রাইম সিন ইউনিট, সিআইডি, সিলেটকে সংবাদ প্রদান করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করেন। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা মৃতদেহ দুটির পরিচয় অঞ্জলি মালাকার (৩০), পিতা-কার্তিক মালাকার, সাং-কোদালী, থানা-বড়লেখা, জেলা-মৌলভীবাজার এবং তার মেয়ে পূজা রানী দাস (০৮) বলে জানা যায়।

    মৃতদেহ দুটির সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকালে অঞ্জলি মালাকারের গলাকাটা, ঠোট, গাল ও পেটে রক্তাক্ত কাটা জখম এবং তার মেয়ের পূজা রানীর গলাকাটা পাওয়া যায়। মৃত অঞ্জলি মালাকারের স্বামী সনজিত (৪৫) জানায় ঘটনার সময় সে বাড়িতে ছিল না। কাঁচা মরিছ ক্রয়ের জন্য সুনামগঞ্জ জেলায় গিয়েছিল এবং সকালে এসে তার ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। সে আরও জানায় তার ঘরে থাকা ১ লক্ষ নব্বই হাজার টাকা, তার স্ত্রীর হাতে থাকা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের বালা এবং তার স্ত্রীর ব্যবহৃত একটি স্যামপনী এন্ড্রয়েড ফোন ঘরে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার পরপরেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার, বাহুবল সার্কেল, অফিসার ইনচার্জ, বাহুবল মডেল থানা ও টিম বাহুবল থানাকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    উল্লিখিত বিষয়ে মৃত অঞ্জলি মালাকারের স্বামী সনজিত গত ১৯/০৩/২০২১ খ্রিঃ তারিখ বাহুবল মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী/আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে বাহুবল মডেল থানার মামলা নম্বর-০৫, তারিখ-১৯/০৩/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৯৪/৩৪ দঃ বিঃ রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব আলমগীর কবির এর উপর অর্পণ করা হয়। তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে উক্ত বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া আমির হোসেন (৩০), পিতা-আলমগীর, সাং-চৌকিদিঘী, থানা-শাহ্পরান, জেলা-এসএমপি, সিলেট, বর্তমান ঠিকানা জনৈক আব্দুল মুমিন তালুকদার এর দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া দিগম্বরপুর বাজার, বাহুবল, হবিগঞ্জ’কে গত ১৯/০৩/২০২১ খ্রিঃ তারিখ গ্রেফতার করা হয়।

    ঘটনা তদন্তকালে ও আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অত্র মামলার বাদী সনজিত এবং সে পূর্ব পরিচিত। তাহারা দু’জন একসাথে লেবারের কাজ করত। সনজিতের রেফারেন্সে অনুমান ৩ মাস পূর্বে উক্ত বাসার দ্বিতীয় তলার বাসা ভাড়া নেয়। সে উক্ত বাসাতে স্ত্রী ও ছেলে মেয়েসহ বসবাস করত। কিছুদিন পূর্বে তার টাকার প্রয়োজন হলে সে সনজিতের বাসাতে এসে ০৩ হাজার টাকা ধার নেয় এবং সে তখন জানতে পারে সনজিতের ঘরে প্রায় ০২ লক্ষ টাকার মতো রয়েছে। উক্ত টাকাগুলি এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার চুরি করার জন্য সে মতলব করতে থাকে।

    এ বিষয়ে সে তার এক ঘনিষ্ট সহযোগির সাথে আলোচনা করে। গত ১৮/০৩/২০২১ খ্রিঃ তারিখ সনজিত কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য সুনামগঞ্জে যায় এবং তার ফিরতে সকাল হবে সে জানতে পারে। সনজিত বাড়িতে না থাকার সুবাদে সে টাকাগুলি নেয়ার জন্য তার সহযোগি মনির মিয়া (৪৭), পিতা-মৃত মহিদ উল্লাহ্, সাং-নোয়াঐ, থানা-বাহুবল, জেলা-হবিগঞ্জ এবং অন্য একজন সহযোগির সাথে ঐদিনই পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় তারা উক্ত বাসার মেইন সুইচ থেকে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়ে পুরো বাসাটিকে অন্ধকার করে ফেলে। রাত অনুমান ০২.০০ ঘটিকার সময় তারা ০৩ জন উক্ত বাড়ির আমির হোসেন এর ঘরে একত্রিত হয়। সনজিত দাসের ঘরের দরজা খুলার জন্য আমির হোসেন কৌশল অবলম্বন করে। সে সনজিত এর স্ত্রী মৃত অঞ্জলি মালাকারের মোবাইল ফোনে রাত অনুমান ০৩.১০ ঘটিকার সময় কল দিয়ে বলে তার বাসায় চুরি হয়েছে এবং তার টিভি, সেলাই মেশিন চুরি করে নিয়ে গেছে। অঞ্জলি মালাকার যেন তার বাসায় এসে চুরির বিষয়টি দেখে এবং এটি বিশ্বাস  করানোর জন্য আমির হোসেন একটি রশি উক্ত বাড়ির ছাদে বেঁধে অঞ্জলি মালাকারের বারান্দার সামন দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। অঞ্জলি মালাকার তার ঘরে না আসায় আমির হোসেন সঞ্জিতকে ফোন দিয়ে বলে আমার ঘরে চুরি হয়েছে অথচ তোমার স্ত্রী আমাকে দেখতে এলো না এবং সঞ্জিত বর্তমানে কোথায় আছে তা জানতে চায়।

    সনজিত জানায় সে তখন সুনামগঞ্জে আছে। এরপর সঞ্জিত তার সহযোগিসহ তিনতলায় মৃত অঞ্জলি মালাকারের দরজার সামনে যায় এবং অঞ্জলি মালাকারের দরজায় টুকা দিয়ে দরজা খুলতে বলে। মৃত অঞ্জলি মালাকার তার কথায় বিশ্বাস করে দরজা খুললে তারা তিনজন ঘরে প্রবেশ করে অঞ্জলি মালাকারের মুখে চাপ দিয়ে ভিতরের কক্ষে নিয়ে যায় এবং তার মুখে ও শরীরে আঘাত করে তার গলাকেটে তাকে হত্যা করে।

    এ সময় উক্ত ঘরে থাকা অঞ্জলি মালাকারের মেয়ে পূজা রানী দাস ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে কান্না করতে থাকলে তারা তাকেও গলাকেটে হত্যা করে।

    এরপর তারা অঞ্জলি মালাকারের ঘরের ড্রয়ারে থাকা অনুমান ১ লক্ষ নব্বই হাজার টাকা ও অঞ্জলি মালাকারের ব্যবহৃত ০১ টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তারা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থলের পাশে একটি ডোবাতে ফেলে দেয়।

    আমির হোসেন এর বাসায় চুরি হয়েছে এবং আমির হোসেনকে যাতে সন্দেহ না করা হয় সে জন্য সে তার বাম হাতের পাতায় নিজেই কাটা দাগ সৃষ্টি করে এবং ডাকাতরা তাকে মেরে বাড়ির পাশে একটি জমিতে ফেলে রেখে গেছে বিশ্বাস করার জন্য সে অজ্ঞান হওয়ার ভান করে জমিতে পড়ে থাকে।

    স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ধৃত আসামী আমির হোসেন এর স্বীকারোক্তি মতে এবং তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত মনির মিয়া (৪৭)’কে অদ্য ২০/০৩/২০২১ খ্রিঃ তারিখ বাহুবল মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

    ধৃত আসামীদের দেখানো মতে ঘটনাস্থলের পাশে একটি ডোবা হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা, লুন্ঠিত মোবাইল ফোন এবং কিছু টাকা ধৃত আসামীর ঘর হতে উদ্ধার করা হয়। অপর সহযোগি আসামীকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামী আমির হোসেনকে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

  • বানিয়াচংয়ে জঙ্গল থেকে প্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বানিয়াচংয়ে জঙ্গল থেকে প্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জঙ্গল থেকে প্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম আশরাফ (১৫) তার পিতার নাম আব্দুল আহাদ।

    ২০ মার্চ দুপুর ১২টায় উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাতুকর্ণ পাড়া গ্রামের মাইজের মহল্লার মেস্তরী বাড়ির পাশের জঙ্গল (পুতা বাড়ি) থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
    বানিয়াচং থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরন করেছে।

    উদ্ধারকৃত লাশটি অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া চোখ দুটি উপরে তোলার চেষ্টা করার কারনে রক্তাক্ত ও খুবলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত কিশোরের বাবার বাড়ি পার্শবর্তী আজমিরীগঞ্জ উপজেলায়। বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ার কারনে মা আমীরুন্নেছা অন্যত্রে বিয়ে করে অন্য আরেকজনের সাথে সংসার করছেন। এ অবস্থায় কিশোরটির বাবাও খোজ করতেননা।

    নিহত আশরাফ তার নানী আরশ বিবির সাথে একই ইউনিয়নের দোয়াখানী গ্রামে থাকতো।
    শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী নিহত কিশোর স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারতোনা।

    নিহতের মামাতো বোন ডালিয়া বেগম জানান, শনিবার সকালে ভাত খেয়ে অন্যান্য দিনের মত সকাল ৯ টায় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিল।
    সে সাধারনত বাড়ির আশপাশেই ঘোরাঘুরি করে দুপুরে বাড়ি ফিরে আসতো। ডালিয়ার দাবি তাদের বাড়ি থেকে এতদূরে সে কোন দিন যায় নাই। আর প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে তার সাথে অন্য কারো কোন সমস্যাও ছিলোনা।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মৌঃ হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহত কিশোরের লাশটি একটি জঙ্গলঘেরা স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ এমরান হোসেন বলেন, নিহত কিশোর প্রতিবন্ধী ছিল। লাশ উদ্ধার করার সময় লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্ত ছাড়া হত্যার কারন বলা যাচ্ছেনা।

  • বাহুবলে মা-মেয়ের হত্যার রহস্য উদঘাটনে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে পুলিশ

    বাহুবলে মা-মেয়ের হত্যার রহস্য উদঘাটনে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে পুলিশ

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ঘটে যাওয়া মা ও শিশুকন্যা খুনের রহস্য উন্মোচনে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ব্যাপক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে স্থানীয় পুলিশ। তাদের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে যে কোন মুহূর্তে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।

    প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষণের পরই এ ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুন হওয়া বহুতল ভবনের ২য় তলার ভাড়াটিয়া ও বাহুবলের দ্বিগাম্বর বাজারের কাঁচামাল আড়তের শ্রমিক আমির আলীকে কড়া নজরে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার (18-03-2021) ভোর সকালে পুলিশ এর একটি টিম দ্বিগাম্বর বাজারের একটি তিনতলা ভবন থেকে ভবনটির ভাড়াটিয়া সঞ্জিত দাশ এর স্ত্রী অঞ্জলী মালাকার (৩৫) ও কন্যা পূজা দাশের (০৯) লাশ ঘটনা স্থল থেকে উদ্ধার করে। সঞ্জিত দাশ স্থানীয় দ্বিগাম্বর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন তারা মিয়া ও স্থানীয় দ্বিগাম্বর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, “ উক্ত তিনতলা ভবনের ৩য় তলায় স্ত্রী-কন্যা নিয়ে সবজি ব্যবসায়ী সঞ্জিত দাশ এবং ২য় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন সবজি আড়তের শ্রমিক সিলেটের বাসিন্দা আমির আলী। ”

    রিপন আহমেদ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ বৃহস্পতিবার সকালে ওই ভবনের নিকটবর্তী ক্ষেতে ২য় তলার বাসিন্দা আমির আলীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে বাহুবল হাসপাতালে পাঠাই। এর কিছুক্ষণ পর ৩য় তলার বাসিন্দা সঞ্জিত দাশের কাছ থেকে জানতে পারি কে বা কারা তার স্ত্রী-কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। ”

    শুক্রবার বিকাল ৪টায় উপজেলার লামাপুটিজুরী শশ্মানঘাট এলাকায় নিহত মা-মেয়ের লাশের দাহ সম্পন্ন হয়েছে। দাহ অনুষ্ঠানে স্থানীয় পুজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

    দাহ শেষে সঞ্জিত দাশ বলেন, “ আমি শতভাগ নিশ্চিত ২য় তলার বাসিন্দা আমির আলী-ই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনার রাত ৪টা ৪৩ মিনিটে আমির আলী আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, তার ঘর চুরি হয়েছে, ঘরে থাকা সেলাই মেশিনসহ সব চোররা নিয়ে গেছে। চোরের ভয়ে সবাই তার বাসায় গেলেও আমার স্ত্রী যায়নি। ”

    তিনি আরো বলেন, “ দরজার পাশে আমির আলী ও তার সহযোগিদের আনাগুণা টের পেয়ে আমার স্ত্রী ওই রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল আমি যেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসি। বাসায় তার ভয় লাগছে। উত্তরে আমি বলেছিলাম, এতদূর থেকে আমি কিভাবে আসব। এটাই তার সাথে আমার শেষ কথা। ”

    নিহত মা-মেয়ের ময়না তদন্তকারী বাহুবল মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর কবির বলেন, অঞ্জলী মালাকারের গলা ও গলার দুইপাশে কাটা, দুই গালে এবং পেটের দুইদিকেও আঘাত ছিল। তবে শিশুটির শুধু গলা কাটা ছিল।

  • দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরে দেড় শতাধিক মামলা নিস্পতি করেছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম

    দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরে দেড় শতাধিক মামলা নিস্পতি করেছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম

    দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরে দেড় শতাধিক মামলা নিস্পতির পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম। সম্প্রতি তার বদলী হয়েছে বরিশালে।

    ২০১৯ সালের শেষে দিকে বানিয়াচং সার্কেলের দায়িত্ব গ্রহন করেন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে ওই বছর অর্ধশতাধিক মামলা তার অফিসে বসে শালিসের মাধ্যমে নিস্পতি করেছেন। এর মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ সংক্রান্ত মামলা, দাঙ্গা, হাঙ্গামার মামলাসহ বিভিন্ন আইনে মামলা রয়েছে।

    ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১১টি অভিযোগ তার কার্যালয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার নির্দেশনা মোতাবেক ৮০টি অভিযোগের নিস্পতি করেছেন। এ বছর তিনি আরো ৮টি মামলার অভিযোগ নিস্পতি করেছেন। তার সার্কেলের দাঙ্গা, নিয়ন্ত্রণে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছেন। যার ফলে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের দাঙ্গা কমেছে। এছাড়াও চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

    এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পারবারিক বিরোধও নিস্পতি করে সকলের কাছে প্রসংশিত হয়েছেন।

    বিদায়ী অতিরিক্ত পুলিশ শেখ সেলিম জানান, আমাদের প্রত্যেকটি কাজে পুলিশ সুপার উৎসাহ প্রদান করেছেন। আমরা সত্যতার সাথে কাজ করেছি। যার ফলে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কোথায় সংঘর্ষের খবর পেলে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

    কোথায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আবার মোবাইল ফোনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বীয়ানের সহযোগিতা নিয়ে ও পুলিশ পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

    তিনি বলেন-এ সময়ের মধ্যেই আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। তবে কতটুকু সফল হয়েছি, সেই বিবেচনা জনগণই করবেন।

    আর এই কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। এ জন্য হবিগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।