Category: হবিগঞ্জ

  • শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানা ভূমিতে ঝুঁকিপূর্ণ ইউপি কার্যক্রম

    শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানা ভূমিতে ঝুঁকিপূর্ণ ইউপি কার্যক্রম

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় কোথায় অবস্থিত হবে, এই নিয়ে মতবিরোধ কারণে ২৪ বছর ধরে নিজ সীমানা এলাকায় প্রতিষ্ঠা হয়নি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি। ফলে সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি আজও পৌরসভা এলাকার মধ্যে রয়েছে।

    সেখানে অবস্থিত তৎকালিন পাকিস্তান সরকার আমল থেকেই পরিচালিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে।

    সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন মালিকানা নিজস্ব ভূমিতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মান করে যুগ যুগ ধরে কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থা। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আমলে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন ও বার বার নির্বাচিত পৌরশহরের ৯নং ওয়ার্ডের বিরামচর গ্রামের সাহেব বাড়ীর প্রয়াত সৈয়দ আব্দুল আউয়াল।

    সেই তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আমলে সরকারি ভবন না থাকার কারণে চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নিজস্ব ভূমিতে ভবন তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তিনি ছিলেন দীর্ঘ বছরের ইউপি চেয়ারম্যান।

    সদর ইউনিয়ন পরিষদের জমি ক্রয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, নিশাপট ও কাজিরগাঁও গ্রামের কিছু প্রভাবশালীরা উদ্দেশ্য ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়টি ফরিদপুর এলাকায় হোক।

    ইউপি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় এবং বর্তমানে “ক” শ্রেণি পৌরসভা। এসময় সদর শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের আয়তন ও গ্রামের সংখ্যা কমে যায়।

    বর্তমানে ইউনিয়নের গ্রামের সংখ্যা ১৪ টি এবং আয়তন ৩ হাজার ৬৫০ দশমিক ৯৭ একর। এখন পর্যন্ত শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়টি নিজ সীমানায় স্থানান্তর হয়নি।

    ফলে পৌর সভা ভিতরে মালিকানা জায়গায় পুরাতন ইউপি ভবনে আসতে হচ্ছে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম হতে নারী-পুরুষ।

  • লাখাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    দীর্ঘ দিন যাবৎ লাখাইয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে করেও কোন ফলোদয় না হওয়ায় এবার উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৫ জুলাই/২২) লাখাইর স্থানীয় বুল্লাবাজার ও বুল্লাবাজার ব্রীজের উপর ভ্রাম্যমান আদলত পরিচালনায় নামেন লাখাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শরীফ উদ্দীন।

    অভিযানে তিনি ৮জন কে উচ্ছেদ ও ১জন কে ৩দিনের জেল ও ৫ শত টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে। বুল্লা বাজারে ও বিশেষ করে বুল্লা বাজার ব্রিজের পাশে চারিদিকে যে সকল অবৈধ স্থাপনা আছে তা উচ্ছেদ করার জন্য উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফ উদ্দিন একাধিকবার অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট, টমটম, সিএনজি গাড়ি সরানোর জন্য নির্দেশনা দিলেও অনেকে প্রতিপালন করেছেন কিন্তু আবার একটি বৃহৎ অংশের অনেকেই তা প্রতিপালন করেন নাই।

    বারবার সতর্ক করার পরেও আদেশ অমান্য ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করা হয়নি।এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অবৈধভাবে স্থাপিত ৮টি দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয় এবং বিভিন্ন আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অনেককে জরিমানা করা হয়। এছাড়া আদেশ লংগন ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় একজনকে ০৩(তিন) দিনের জেল, ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া আরো দুইটি দোকান অবৈধভাবে স্থাপিত হওয়ায় ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেয়া হয়।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন থানা পুলিশের উপ- পরিদর্শক (এস আই ) মোঃ মোশাররফের নেতৃত্বে লাখাই থানা পুলিশের একটি টিম।

    এদিকে, বুল্লা বাজারের ব্রিজের আশেপাশে ড্রেজার দিয়ে অনেকেই বালু তুলছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে এরকম বালু তোলার সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। যারা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করবে । এক্ষেত্রে বুল্লাবাসী সহ লাখাইয়ের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন লাখাই উপজেলা কে অবৈধ স্থাপনামুক্ত ও যানজটমুক্ত গড়তে আমরা বদ্ধ পরিকর।

  • লালচান চা বাগান থেকে ৩ ডাকাত গ্রেফতার

    লালচান চা বাগান থেকে ৩ ডাকাত গ্রেফতার

    হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের লালচান চা বাগান এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে৷

    সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) দ্রুবেশ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে৷ গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো চুনারুঘাট উপজেলার গাভীগাও গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র শাহিন মিয়া ,হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুঘর গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার পুত্র ফারুক মিয়া ও বানিয়াচং উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মস্তুফা মিয়ার পুত্র তুহিন মিয়া৷

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক দ্রুবেশ চক্রবর্তী মানবকন্ঠকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা রঘুনন্দন পাহাড় এর লালচান চা বাগান এলাকায় অভিযান চালাই৷ এসময় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করি৷ তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য ডাকাতির মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান৷

  • মাধবপুরে গরু বাজার ইজারা নিতে সিন্ডেকেট

    মাধবপুরে গরু বাজার ইজারা নিতে সিন্ডেকেট

    কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন গরুর হাট ইজারা নিতে করা হয়েছে সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী লোকজন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকায় সাধারন কোন লোক সিডিউল ক্রয় ও জমা দেননি।

    মাধবপুর উপজেলার ১০ টি অস্থায়ী গরু বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য ও সিডিউল ক্রয় করার জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা একটি ঘোষনা দিলে মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ইজারা নিতে সিডিউল ক্রয় করেন অনেক প্রভাবশালী লোকজন।

    তবে চৌমুহনী গরু বাজার ইজারা নিতে করা হয়েছে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কারনে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করেন অনেকে।

    সুত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী অস্থায়ী গরু বাজারটি প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও ইজারা দেওয়ার ঘোষনা দেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সিডিউল ক্রয় ও বিক্রি করা হয়।

    ঘোষনার পর চৌমুহনী ইউনিয়নের কয়েকজন মিলে একটি সিন্ডিকেট করেন। ৩ জনের অধিক সিডিউল জমা দেওয়ার নিয়ম থাকায় আজহার উদ্দিন ভুইয়া তার ভাই সালাহউদ্দিন ভুইয়া ও তাদের একান্ত লোক হাজী খোরশেদ আলীর নামে ৩ টি সিডিউল ক্রয় করেন এবং জমা দেন।

    চৌমুহনী গরু বাজার ইজারা নিতে আগ্রহী ২ জন ব্যাক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সিডিউল ক্রয় করেছিলেন কিন্তু জমা দেননি। কয়েকজনের অনুরোধে তারা জমা দেননি।

    এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার শেখ মঈনুল ইসলাম মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

  • আজমিরীগঞ্জে দুর্বৃত্তের হামলায় খামারী আহতের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের

    আজমিরীগঞ্জে দুর্বৃত্তের হামলায় খামারী আহতের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের

    আজমিরীগঞ্জে গত ৩ জুলাই রোববার দুর্বৃত্তের হামলায় লিটন মিয়া (৪৫) নামের খামারী আহতের ঘটনায় তিন জনকে আসামী করে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে খামারী লিটন মিয়া বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।

    অভিযোগে পৌরসভার আদর্শ নগরের বাসিন্দা সানু দাস কে প্রধান আসামী এবং সানু দাসের জ্যেষ্ঠ পুত্র ফার্মেসী ব্যাবসায়ি সানা দাস এবং কনিষ্ঠ পুত্র সেনা দাসকে আসামী করে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুক আলী জানান- বিষয়টি আমি শুনেছি, দুই পক্ষকে এনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বন্যার পরবর্তী বহুমুখী সংকটে সিলেট

    বন্যার পরবর্তী বহুমুখী সংকটে সিলেট

    আকুল কাশেম রুমন, সিলেট: সিলেট জুড়ে বিগত কয়েক দিনের বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতিতে বহুমুখী সংকটে সম্মুখিন হতে হচ্ছে। পানি বন্ধি মানুষের ভোগান্তি কিছু স্বস্থি ফিরে পাচ্ছেন বাসা বাড়ি থেকে পানি নামার পর। কিন্তু স্বস্তির পেছনে এখনো রয়েগেছে দুর্ভোগ, ভােগান্তি ও কষ্টের দিন।

    কারণ পানি কমছে ধীরে। আর যেসব জায়গা বা ঘর ভেসে উঠছে, কেবলই দেখা যাচ্ছে ধ্বংসের চিহ্ন। নিজের ঘর-বাড়ীর ধ্বংসলীলার চিত্র দেখে সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষের মাঝে চলছে বোবাকান্না।

    সন্বদ্বীপের উড়ির চরে ১৯৮৫ সালে জলোচ্ছাস, অষ্ট আশির বন্যা, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার টর্নেডো, টাঙ্গাইলের মিরিখপুরে ঘূর্ণিঝড়, সিডর, আইলা, চৌহালীর নদী ভাঙস যেখানেই হয়েছে মানুষের মধ্যে, পাড়ার মধ্যে, সমাজের মধ্যে মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানাের চিন্তায় মগ্ন দেখা গেছে, কিন্তু এরকম কাঁদতে দেখা যায়নি।

    সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যায় মানুষ অনেক ভেসে গেছে, তাঁদের ভেঙ্গেছে অনেক স্বপ্ন। সাজানো ঘরবাড়ি, হাঁড়ি-পাতিল, কাঁথা-বালিশ, কাপড়- চোপড়, গবাদি পশু, সারা বছরের খোরাকী ধান-চাল সব ভেসে গেছে। হাজার-হাজার মানুষের পরনের কাপড় ছাড়া আর কোনো কাপড় নেই।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেটের আকাশে উঠেছে রৌদ্রজ্জ্বল দিন। কিন্তু যে দিকে তাকানো যায় শুধু ঘর-বাড়ী ভেসে উঠছে, তাতে কেবলই ধ্বংসের চিহ্ন ভেসে উঠতে দেখা গেছে। অনেকে হারিয়েছেন প্রিয় সন্তান ও স্ত্রী কিংবা স্বামী সহ পরিবারের সদস্যদের।

    এদিকে, সিলেট নগরে পানি কমলেও ভেসে উঠছে ময়লা-আবর্জনা। প্রতিদিন সকাল থেকে নগরের শাহজালাল উপশহর, মাছুদিঘির পাড় মির্জাজাঙ্গাল ও তেররতন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি নেমে যাওয়ায স্থানীয় লোকজন বাড়ি ঘর ধোয়া মোছার কাজ শুরু করছেন। তবে দীর্ঘ দিন পানি জমে অনেকের আসবাব, কাপড় চোপড় ও বিছানার তোশক নষ্ট হয়ে গেছে।

    ঘরের ভেতর থেকে পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন বাসাবাড়ির সামনে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মহল্লার সড়কগুলো এখনো পানির নিচে।

    নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার এ ব্লকের খালে পলিথিন, প্লাস্টিকের বস্তা, গাছের পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেছে। ময়লা-আবর্জনার কারণে খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এসব আবর্জনা জমে থাকায় পানি কালো রং ধারণ করেছে।

    এ ছাড়া শাহজালাল উপশহরের সি.ডি.জে ব্লক ও তেররতন এলাকার মহল্লায় একই চিত্র দেখা গেছে। তবে পানি কমে আসার পর সেগুরেলা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক বন্যায় সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৮০ হাজার স্যানিটারী ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের বেশীর ভাগ ল্যাট্রিন প্রান্তিক জনগোষ্টীর। ফলে বন্যাদূর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে এসব ল্যাট্রিন।

    বেশীর ভাগ এলাকা থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি না নামার কারণে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে বেশীর ভাগ ল্যাট্রিন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নানা রোগব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান বন্যায় সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১০৫টি স্যানিটারী ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৯ টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৩ টি, মৌলভীবাজার জেলায় ১৬ হাজার ৬৩৭ টি ও হবিগঞ্জ জেলায় ১০ হাজার ২৩৬ টি ল্যাট্রিন রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের পক্ষ থেকে সিলেট বিভাগে ৩১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এখনো মজুদ রয়েছে ২৮ লাখ ২২ হাজার ট্যাবলেট।

    বিভাগের ৪ টি জেলায় ১০ ও ১৫ লিটারের ১২ হাজার ৮২৭টি পানির জেরিকেন বিতরণ করা হয়েছে। এখনো মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৫৯৮টি। সিলেট বিভাগে ১৩টি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে ৭টি চলমান ও ৬টি মজুদ আছে।

    বিভাগে ১ হাজার ৫৪৪টি নলকূপ মেরামত করা হয়েছে। ১ হাজার ৬১৮টি নলকূপ জীবানুমুক্ত করা হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ১ হাজার ৯৪৮ টি হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে।

    ক্ষয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরলে দেখা যায়, সিলেটে ভয়াবহ বন্যায় মৎস খামারিদের ১৪০ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে ৩ বছর। সুনামগঞ্জের খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৩২ হাজার ৮০২ জন খামারি ৫ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমিতে কার্পজাতীয় মাছের চাষ করছিলেন।

    দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মৌসুমি বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় ও আসামের ঢাল থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় তাদের আর্থিক লাভের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। গবাদী পশুর ক্ষেত্রে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তার পুষিয়ে উঠা বর্ন্যাত মানুষে লাগামি কষ্ট করতে হবে।

    সূত্রে জানা যায়, বন্যার পানিতে অনেক পশু নিখোজ ও মৃত্যু হয়েছে যাহা প্রকৃত পরিসংখ্যান করে বের করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

    তবে ধারনা করা যাচ্ছে যে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কমপক্ষে ১০ হাজার গবাদী পশুর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মরা ও ভেসে যাওয়া পশুর সংখ্যা হবে ৫ হাজারেরও বেশী।

    একটি সূত্র জানায়, শুধু সিলেট জেলায় হাঁস-মুরগিসহ ৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। আর ডুবে গেছে গবাদিপশুর ৭১০ টি খামার।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী, পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত হাস-মুরগীসহ ৪ হাজার গবাদিপশু মারা গেছে।

    সিলেট জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সিলেট জেলায় ৭১০ টি খামার ডুবে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৯৯১ টন খড় ও ২ হাজার ৯৫৯ টন ঘাস। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

    লেখক: সম্পাদক-সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট।
  • চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী গ্রেফতার

    চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী গ্রেফতার

    হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন এলাকা থেকে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী কাউসার মিয়াকে গ্রেফতার র‌্যাব।

    গত ১১/০৬/২০২২ তারিখে ডিএমপি দক্ষিণখান থানাধীন নদ্দাপাড়া তালতলা আবুল বাশারের টিনসেড বাড়িতে বিবাদী মোঃ বিল্লাল হোসেন এর শয়ন কক্ষে তারই ০৫ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হন।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিম শিশুটির পিতা ডিএমপি দক্ষিণখান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

    উক্ত ঘটনা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব উক্ত মামলার আসামী গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯ ইসলামপুর ক্যাম্পএর একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারে যে, উক্ত আসামী হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন এলাকায় অবস্থান করছে।

    প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব একটি দল গত ০৩ জুলাই ২০২২ তারিখ হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ সদর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত শিশু ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামীকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।

    গ্রেফতারৃত আসামী হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ সদর থানার উমেদনগর এলাকার বাসিন্দা মোঃ বারেক মিয়ার ছেলে মোঃ কাউসার মিয়া (২০)।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

    পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সহ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।