Category: হবিগঞ্জ সদর

  • করোনা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের লিফলেট বিতরণ

    করোনা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের লিফলেট বিতরণ

    করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর থানা পুলিশ মোটর সাইকেলযোগে মহড়া দিয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা পিপিএম, বিপিএমের নির্দেশে সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলীর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য থানা থেকে শহরের বিভিন্ন বাজার ও এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে মহড়া দিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন।

    লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, সর্দি, কাশি মানেই করোনা সংক্রমণ নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবহাওয়া পরিবর্তন হলে সাধারণ ফূয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। করোনা ভাইরাসের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সাধারণ রোগকে মিলিয়ে ফেলি।

    আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগী চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হন।

    করোনা ভাইরাসের লক্ষণ হল, জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা, নাক ও শরীর ব্যাথা, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ। এটি হাচি, কাশি, থুথু, লালা, কোলাকুলি, করমর্দন, স্পর্শ করাসহ বিভিন্ন কারণে ছড়ায়।

    করোনার প্রতিরোধ ও করণীয় : হাত, মুখ-নাক সাবান দিয়ে ধোয়া, ময়লা আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলা, বিভিন্ন সুইচ স্পর্শ করা, ফ্রিজের পানি না খাওয়া, আইসক্রীম সহ বিভিন্ন শাক সবজি, মাংস সিদ্ধ করে খেতে হবে।

    মহড়া শেষে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস অতিরিক্ত দাম যাতে আদায় না করা হয় সেজন্য নির্দেশ প্রদান করেন সদর থানার ওসি। যদি কেউ এ আদেশ অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • হবিগঞ্জে সভা-সমাবেশ, অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ

    হবিগঞ্জে সভা-সমাবেশ, অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ

    হবিগঞ্জে সব ধরণের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। করোনাভাইরাসের সংক্রামণ প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- করোনা প্রতিরোধে এখন থেকে হবিগঞ্জ জেলায় সকল প্রকার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। পাশাপাশি সকল কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে।

    এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

    এছাড়া, জ্বর, সর্দি, কাশি উপসর্গ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মসজিদ, মন্দিরে না আসারও অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

  • সদর উপজেলায় পুকুর থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

    সদর উপজেলায় পুকুর থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলার এড়ালিয়ার পুকুর থেকে অনুফা আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী, শাশুড়ি ও জা’কে আটক করা হয়েছে। নিহত ওই কিশোরী হনুফা আক্তার (১৫) পশ্চিম এড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সওদাগর মিয়ার মেয়ে।

    পুলিশ ‍সূত্রে জানাযায়, বৃহস্পতিবার ভোরে মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এ সময় তারা মসজিদের পুকুরে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখেন। তারা বিষয়টি সদর থানায় অবহিত করলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুক আলী।

    পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

    সদর উপজেলায় পুকুর থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

    ওসি মাসুক আলীর নেতৃত্ব একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী বিলাল মিয়া (১৮), শাশুড়ি আব্দুল হাসিমের স্ত্রী চান্দি বেগম (৪৫), জা রাজু মিয়ার স্ত্রী খোদেজা বেগমকে (১৬) আটক করা হয়।

    স্থানীয়রা জানাযায়, অনুফা আক্তার ও তার স্বামী বিলাল মিয়া চাচাতো ভাই-বোন। তারা প্রায় ৭ মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করে।

    বানিয়াচংয়ে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ

    এ বিষয়ে ওসি মাসুক আলী জানান, “মৃতদেহে আঘাতের দাগ রয়েছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।”

  • হবিগঞ্জে আড়াই হাজার বিদেশ ফেরতের মধ্যে ৫৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

    হবিগঞ্জে আড়াই হাজার বিদেশ ফেরতের মধ্যে ৫৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

    হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না হবিগঞ্জে ফেরা প্রবাসীরা। এনিয়ে জনসাধারনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। এ অবস্থায় তৎপর হয়ে উঠেছে প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ফ্রান্স ফেরত প্রবাসীর পরিবারকে করা হয়েছে জরিমানা।

    এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে.এম মোস্তফিজুর রহমান বলেন, “জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি নিয়মিত বৈঠক করছে এবং সার্বক্ষণিক বিষয়টির খোঁজ-খবর নিচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবারো কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা।”

    জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, “গত ১ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত হবিগঞ্জে ২৫শত ৯৫ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। পুলিশ প্রতিনিয়ত এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যৌথভাবে কাজ করছেন তারা।”

    জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ জন বিদেশ ফেরত প্রবাসী। এদের মধ্যে লাখাই উপজেলার ফ্রান্স ফেরত এক প্রবাসী ও তার পরিবার হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে বিয়ে করায় বৌভাত অনুষ্ঠান পন্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    এর পুর্বে দুপুরে শহরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “করোনায় আতংকিত না হয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। করোনা আমাদের দেশে এখনও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই পুর্ব থেকেই সকল জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে’। তিনি বলেন, ‘জনসমাগম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সকলকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”

    আরো পড়ুনঃ
    বাংলাদেশে প্রথম করোনায় মৃত্যু
    যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব ফ্লাইট বন্ধ
    শায়েস্তাগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

    এদিকে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন মানা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশ ফেরত যাত্রীরা হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র করছেন ঘুরাঘুরি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া প্রায় আড়াই হাজার বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৫৩ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রকৃত অর্থে কোথাও হোম কোয়ারেন্টাইন মানা হচ্ছে না।

    সচেতন মহলের দাবী, হোম কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে পুলিশী তৎপরতা জোরদারসহ আইন না মানা ব্যক্তিদের জরিমানার আওতায় আনা জারুরি। পাশাপাশি সবার আগে প্রয়োজন চিকিৎসকদের ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম’। তা না হলে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

  • মুজিববর্ষ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি

    মুজিববর্ষ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি

    আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। আজ শত বছর পূর্ণ হলো বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তানের।

    সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত শূন্যঘণ্টা শেষে ১৭ মার্চের সূচনালগ্নে শুরু হওয়া বহুল প্রতীক্ষিত মুজিব জন্মশতবর্ষ বছরজুড়ে উদযাপিত হবে।চলবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

    স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত আটটায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনটি এখন জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হয়।

    সেই প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও শিশু দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি  হাতে নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

    কর্মসূচির মধ্যে-মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে নীমতলা কালেক্টর প্রাঙ্গনে তোপধ্বনি।

    একই সাথে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ।

    সকাল ৮টায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাস্তা-ঘাটসহ হাটবাজার পরিস্কার অভিযান। সকাল ৯টায় নিমতলা কালেক্টর প্রাঙ্গনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মুজিবর্ষের জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন।

    রাত ৮টায় নিমতালা কালেক্টর প্রাঙ্গনে আতশবাজি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গ্রন্থ, স্মরণিকা ও দেয়ালপত্রিকা প্রকাশিত হবে।

    সেই সাথে মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • পইলের সাব এর জন্য কোর্ট মসজিদে মিলাদ মাহফিল

    পইলের সাব এর জন্য কোর্ট মসজিদে মিলাদ মাহফিল

    বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়া হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে ‘পইলের সাব’ সৈয়দ আহমদুল হকের স্মরণে শোক সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অদ্য বাদ এশা হবিগঞ্জ কোর্ট জামে মসজিদে এ শোক সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী নজমুল হোসেনের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানটি হয়।

    এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাস্টার আহমদ আলী, কোর্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মালেক, জেলা আল ইসলাহ’র প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আজিজ, সহ-প্রশিক্ষন সম্পাদক প্রভাষক এবিএম আল আমিন চৌধুরী, অফিস সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ আহমদ, সদস্য হাফিজ আবিদ আলী, আবুুল হাসিম, মোহাম্মদ রাজু আলী, জেলা তালামীযের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বির হোসাইন চৌধুরী, জেলা তালামীযের সভাপতি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন খান, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা তালামীয নেতা হাফিজ জামিল আহমদ, আবুল কাশেম খান, মিজানুর রহমান সাজু, হাফিজ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, সাইদুর রহমান, জামাল আহমদ, মোঃ আলাই মিয়া, মাদ্রাসায়ে হিফজুল কোরআন কোর্ট মসজিদ-এর প্রধান শিক্ষক হাফিজ এম.এ করিম ও মোয়াজ্জিন ক্বারী খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমূখ।

  • ৩২ কোটি টাকা আমানত পইলের সাবের কাছে

    ৩২ কোটি টাকা আমানত পইলের সাবের কাছে

    সৈয়দ আহমদুল হক হবিগঞ্জ জেলার সকল মানুষের কাছে অর্জন করেছিলেন আস্থা আর বিশ্বাস। যে কারণে জেলা জুড়ে একজন ন্যায় বিচারক হিসেবে তিনি গড়েছিলেন বিশেষ খ্যাতি। আর এ বিশেষ খ্যাতির সর্বশেষ অবস্থা শুনে বিস্মিত হয়েছেন জানাযার নামাজে অংশ নেয়া লাখো মুসল্লী ও ভক্ত আশেকান।

    জানাযার নামাজ পূর্ববর্তী মরহুম সৈয়দ আহমুদল হকের ছেলে পইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ বলেন, ‘তার বাবা সারাটি জীবন সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে গেছেন। জীবনের শেষ মুহুর্তে এসেও তিনি এ লক্ষ্যে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ থাকার পর বাড়িতে এসে মৃত্যুর তিন দিন পূর্বেও তিনি তার কর্মময় জীবনের আমানত থাকা বিভিন্ন সালিশ ও বিচারকার্যের প্রায় ৩২ কোটি টাকার হিসাব কাগজে কলমে স্পষ্ট করে লিখে গেছেন। যা মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার ছেলেকে অবগত করে গেছেন’।

    এসময় জানাযার অংশ নেয়া লাখো মুসল্লী বিস্মিত হয়ে যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফের এমন বক্তব্য শুনে । অনেককেই মন্তব্য করেন, পইলের সাব হওয়ার কারনেই এটি তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। যে কারো পক্ষে এটা সম্ভব নয়। আবার অনেকেই বলেছেন পইলের সাবের কাছে হাজার কোটি টাকা থাকলেও একটি পয়সা খেয়ানত হবে না সেই বিশ্বাস রেখেইে মানুষ তার কাছে টাকা পয়সা আমানত হিসেবে রাখতো।

    ১৯৪৯ সালের ৩১শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের সাহেব বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আহমদুল হক। বাবা সৈয়দ জাহেদুল হক ছিলেন পইল ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আহমদুল হক ১৯৬৮ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে বিকম ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর কয়েক বছর একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। একপর্যায়ে জনগণের চাওয়ার মূল্যায়ন করতে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে নির্বাচন করে কয়েকবার পইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৫ সালে প্রথম সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। এরপর সবক’টি উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। সেখানেও চার বার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত চিকিৎসা করানো হয় তার। কিন্তু এতে কোন উন্নতি হয়নি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পইল গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।