Category: হবিগঞ্জ সদর

  • হবিগঞ্জ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটির দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মকান্ড

    হবিগঞ্জ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটির দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মকান্ড

    সোমবার সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটি হবিগঞ্জ জেলা’র উদ্যোগে সদস্য সচিব ফরহাদ আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে হবিগঞ্জ শহরের ৩নং পুল, ২নং পুল তেঘরিয়া, শায়েস্তানগর তেমুনিয়া, শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট, নজির মার্কেট, চিড়িয়াখানা রোড, সার্কিট হাউজ রোড ও দক্ষিন অনন্তপুরের আংশিক এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারনা ও জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়।

    ৩নং পুল এলাকায় সাবেক কমিশনার ইউনুস মিয়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা আইয়ৃব আলী, ব্যবসায়ী কিবরিয়া মহলদার একাত্মতা প্রকাশ করে সচেতন নাগরিক কমিটির টিমের চলমান কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন ।

    হবিগঞ্জ শহরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটির জীবাণুনাশক স্প্রে এবং সচেতনামূলক মাইকিং

    দিনব্যাপী কর্মকান্ডে সংগঠনের পক্ষে অংশ নেন- জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অপু চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য মীর দুলাল, এডভোকেট সৈয়দ জাদিল উদ্দিন আহমেদ, আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, মিনহাদ আহমেদ চৌধুরী, শাহজালাল আহমেদ প্রমূখ।

  • এ যেন দ্বিতীয় পইলের সাব

    এ যেন দ্বিতীয় পইলের সাব

    হবিগঞ্জে এক নামে পরিচিত পইলের সাব আজ আর নেই। সবাইতো আর চিরদিন থাকবে না।  তবে পইলের সাবের সুনামধন্য ছেলে সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ তো আছেন। যিনি পইলের সাবের ন্যায় মানুষের সেবায় নিজেকে দিন রাত সঁপে দিয়েছেন।  তাই পইলের সাবের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মানুষের কাছে তিনিই যেনো দ্বিতীয় পইলের সাব। 

    দ্বিতীয় পইলের সাব তথা সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ সম্পর্কে কিছুটা তুলে ধরা হলো ছবি ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।

    কোন এলাকার মানুষকে যদি মাদকাসক্ত থেকে বাঁচাতে হয় তাহলে সেই এলাকার মধ্যে বেশি বেশি খেলাধুলার  আয়োজনের বিকল্প নেই।

    তাই নিজ ইউনিয়নের যুবকদের খেলাধুলায় পারদর্শী করে তুলতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলার আয়োজন করেন তিনি। বেশিরভাগ খেলা হয় পইলের ইউনিয়ন মাঠে।

    প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু শিবির আয়োজন করে শতশত রোগীদের চোখের ছানি অপারেশন করিয়ে থাকেন।

    কোরবানীর ঈদ আসলেই ৩০/৩৫ টা গরু কোরবানী দিয়ে অসহায়দের মধ্যে নুন্যতম ২কেজি করে মাংস বিলি করেন।

    ভিট আছে তো মসজিদ নেই, এমন খবর পেলেই বিনামূল্যে সম্পূর্ণ পাকা মসজিদ নির্মাণ করে দেন টিউবওয়েল, সাপ্লাই স্যানিটারি সহকারে।

    কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে পারছেনা টাকার অভাবে, শুনলেই গোপনে বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। কেউ অসুস্থ শুনলেই ছুটে চলেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারছেনা শুনলেই দায়িত্ব নেন তাদের। রিকশা, সেলাইমেশিন দিয়ে গরীবদের জীবিকার রাস্তা তৈরি করে দেন।

    সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সম্ভবত অফিস  টাইম, তারপর অফিস বন্ধ। যেখানে দেশের অন্যান্য সকল চেয়ারম্যান যখন বিকালে বউ-বাচ্চাদের জন্য ঘরে ফিরেন।

    সেখানে তিনি ছুটে চলেন নিজ ইউনিয়নের গ্রামের ঘরে ঘরে। রাতে-বিড়াতে ছুটে চলেন মানুষের সেবায়। অন্ধকারে হঠাৎ হাজির গরীব-অসহায়দের বাড়িতে।

    কারো ঘর ভাঙ্গা, তো কারো ঘর মোটামুটি ভালো হলেও দুয়ার ভালো নেই, কারো ঘরে খাবার নেই, টাকার অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারছে না, এমন মানুষদের খোজ রাত ২/৩ টা পর্যন্ত করা চলেই।

    নিজ পকেটের টাকায় দিনরাত তাদের সাধ্যমতো সেবা করে যাচ্ছেন। এভাবেই চলছে তার দিনকাল।

    বিচার-আচার লেগেই আছে, একটা শেষ না হতেই আরেকটায় যাওয়ার ডাক।

    বর্তমানে  করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যেখানে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চেয়ে চাল চোর, তেল চোরের সংখ্যা বেশি। সেখানে সরকারের অনুদানের ত্রাণ তিনি ঠিকটাক মতো সবার ঘরে ঘরে নিজেই পৌছে দিচ্ছেন দিনরাতে।

    সরকারি ত্রান ছাড়া  নিজ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মানুষদেরকে  ৫ কেজি করে চাল উপহার দিচ্ছেন তিনি।

    এই চাল পেয়ে তারা খুব খুশি। এটা যেন অসহায়দের কাছে লাগে অমাবস্যার রাতে জোসনার চাঁদ। এভাবেই দিনরাত সকলের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আবার গ্রামে গ্রামে গিয়ে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সবাইকে অবগত করছেন।

    উপরোক্ত কর্মকাণ্ডে পইল ইউনিয়নের মানুষ পইলের সাব কে হারানোর ব্যথা যেনো দিন দিন ভুলে যাচ্ছে এবং সকলের কাছে তিনিই হয়ে উঠছেন দ্বিতীয় পইলের সাব।

  • হবিগঞ্জ শহরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটির জীবাণুনাশক স্প্রে এবং সচেতনামূলক মাইকিং

    হবিগঞ্জ শহরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটির জীবাণুনাশক স্প্রে এবং সচেতনামূলক মাইকিং

    “হবিগঞ্জ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক কমিটি” হবিগঞ্জ জেলা’র উদ্যোগে হবিগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড খাদ্যগুদাম রোড, গরুরবাজার ও কামড়া পুর পয়েন্ট জীবাণুনাশক স্প্রে এবং সচেতনামূলক মাইকিং করা হয়।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নাগরিক কমিটির আহবায়ক চৌধুরী মিজবাহ উল বারী লিটন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির জেলা সাধারন সম্পাদক ও সচেতন নাগরিক কমিটির সম্মানিত সদস্য কমরেড পীযুষ চক্রবর্তী, হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও জিপি এডভোকেট আফিল উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব মোঃ জাহির উদ্দিন।

    হবিগঞ্জ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ফারহাদ আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক বিশিষ্ট সাংবাদিক শরীফ চৌধুরী, প্রভাষক মৃদুল কান্তি রায়, সম্মানিত সদস্য মীর দুলাল, মাধব সরকার, আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী অনিক, অপু আহমেদ রওশন, মিনহাদ আহমেদ চৌধুরী প্রমূখ।

  • আজ থেকে বন্ধ শায়েস্তানগর বাজার

    আজ থেকে বন্ধ শায়েস্তানগর বাজার

    করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে হবিগঞ্জ প্রশাসন যখন প্রতিটি বাজার সাময়িক স্থানান্তরিত করছেন, ঠিক তখনই এর উল্টো চিত্র হবিগঞ্জের শায়েস্তানগর বাজার নিয়ে। প্রথমে হবিগঞ্জ প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেওয়া হলো শায়েস্তানগর বাজার যাবে হবিগঞ্জের কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠে।

    এই নির্দেশ অনুযায়ী মাছ বাজার সহ ইদগাহতে গেলে নানা মহল থেকে এর নিন্দা শুরু হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন যে, ইদগাহ এর মত একটি পবিত্র স্থানে বাজারের মতো নিকৃষ্ট স্থান মেনে নেওয়া যায় না।

    পরে স্থানীয় মুরব্বিদের পরামর্শে হবিগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপির নির্দেশে ইদগাহ থেকে বাজার পূনরায় স্থানান্তরিত করা হয়। পরের দিন মাছের খুচরা পাইকারি বিক্রেতাদের কে রাস্তায় তথা বাজারের আশেপাশে বিক্রি করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

    কিন্তু আজকে প্রথমে মাছ বাজারের পাইকারি আরদদের কে আনোয়ারপুর বাইপাসের মাঠে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবার তাদের কে স্টেন্ডে পাঠানো হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আরদদার ‘হবিগঞ্জ নিউজ’ কে বলেন, “আমাদের কে প্রহার করা হয়েছে। একই ভাবে মানসিক অত্যাচার ও করাহয়েছে।”

    তবে যারা খুচরা বিক্রেতা ছিলো তারা পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কিনে শায়েস্তানগর বাজারে বিক্রি করেছেন।

    পরে আজ ১২ ঘটিকায় শায়েস্তানগর বাজার কমিটিকে নিয়ে প্রশাসনের মিটিং ছিলো স্থানান্তরিত করার ব্যাপারে। এতে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ উম্মেদ আলী শামিম।

    মিটিংয়ের শেষে শায়েস্তানগর বাজারের সব বিক্রেতাদের কে বলা হয় সামাজিক দুরত্ব বজায়ের জন্য বাজারের রাস্তায় তথা মূল পয়েন্টে বিক্রি করার জন্য। কিন্তু এই প্রস্তাবে তারা রাজি হয়নি। তাই শায়েস্তানগর বাজার ১২ দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর যারা এই নির্দেশ অমান্য করে দোকান খুলবে তাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে বলে ঘোষনা দেয়া হয়।

    এই ব্যাপারে শায়েস্তানগর সবজি বাজারের বশে কিছু বিক্রেতা ‘হবিগঞ্জ নিউজ’ কে বলেন, “গরমে বাজারের ছায়ার মধ্যে থেকেও সবজি বিক্রি করা কষ্ট এবং সবজি নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তার মধ্যে সবজি বিক্রি করা মোটেও সম্ভব হবে না। তাদের অনেক ক্ষতি হবে। আর এই ব্যাপারে প্রশাসন না কি বাড়াবাড়ি করছে তাদের সাথে।”

    তারা আরো বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে শায়েস্তানগর বাজার সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রতিটি দোকানে রং দিয়ে ঘর সাজিয়ে রেখেছে যাতে করে প্রতিটি ক্রেতা সাড়ি বদ্ধ ভাবে ক্রয় কর‍তে পারেন। প্রশাসনের কথা মতো বাজারের এক দোকান থেকে অন্য দোকানের দূরত্ব ও বজায় রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের এইরকম আচরণে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

  • হবিগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত

    হবিগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত

    হবিগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। সে বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন কেএম মুস্তাফিজুর রহমান

    তিনি বলেন- শনিবার সকালে আসা রিপোর্টে হবিগঞ্জে একজন করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়। সে সম্প্রতি নারায়নগঞ্জ থেকে এলাকায় ফিরেছিলেন।

    গত দুইদিন ধরে তিনি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

    এদিকে, সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় আতঙ্কিত চিকিৎসকরা। এখন পর্যন্ত তারা ওই রোগী কাছে যেতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি এক জরুরী সভায় বসেছে বলে জানা গেছে।

  • বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ

    বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ

    বাংলাদেশের সব কয়টি রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার, ছাত্র ফেডারেশন বাংলাদেশ একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ সংগঠন।

    দেশ – বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সংগঠনের শাখা আছে। হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কলেজ বৃন্দাবন সরকারি কলেজেও এর শাখা কমিটি আছে।

    সোমবার ০৬ এপ্রিল ২০২০ ইং বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ, শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে দেশে চলমান করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবের সচেতনতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

    মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার, ছাত্র ফেডারেশন বাংলাদেশ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কে. এম. আবু বকর সাংগঠনিক সম্পাদক, আব্দুল্লাহ আল নাহিদ চৌধুরী।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ নিউজ জানতে চাইলে, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার, ছাত্র ফেডারেশন বাংলাদেশ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কে. এম. আবু বকর জানান – দেশে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ও বিবেচনা করে এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা মাস্ক বিতরণ এর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা মাথায় রেখে তারা মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। উনারা গণ জমায়েত না করে হবিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আসহায়, গরীব,দুঃখী ও সর্বসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছেন।

    তাছাড়াও ঠিক কতটি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে জানতে চাইলে কে. এম. আবু বকর হবিগঞ্জ নিউজকে জানান, মোট ২০০ টি সার্জিক্যাল মাস্ক হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে।

    মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমে কিভাবে বন্টন করেছেন জানতে চাইলে অত্র শাখা সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নাহিদ চৌধুরী জানান, এক জায়গায় বেশি লোকজন নিয়ে জড়ো না হয়ে আমরা আলাদা আলাদা স্থানে ২/১ জন মিলে মাস্ক বিতরণ করেছি। তাছাড়াও আমরা বেশিরভাগ মাস্ক অসহায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে যারা মাস্ক কিনে ব্যবহার করার সামর্থ্য নেই তাদের মাঝেই বিতরণের চেষ্টা করেছি।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে তারা প্রশংসিত হয়েছেন বলেও বিশেষ কয়েকটি সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।

  • আজ ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

    আজ ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

    মোঃ জাকির হোসেনঃ আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ভাগ করা হয় ১১ টি সেক্টর ও ৩ টি ব্রিগেডে। অস্ত্রের যোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই সভায়।

    প্রতি বৎসর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এবার করোনাভাইরাসের কারণে বাতিল করা হয়েছ সকল কর্মসূচি।

    ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী, তৎকালীন মেজর সিআর দত্ত, মেজর জিয়াউর রহমান, কর্নেল এমএ রব, রব্বানী, ক্যাপ্টেন নাসিম, আব্দুল মতিন, মেজর খালেদ মোশাররফ, কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী, ভারতের ব্রিগেডিয়ার শুভ্রমানিয়ম, এমপিএ মৌলানা আসাদ আলী, লে. সৈয়দ ইব্রাহীম, মেজর কেএম শফিউল্লাহ প্রমুখ।

    জেনারেল এম জি ওসমানীর নেতৃত্বে নেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এমএজি ওসমানী। এ সভা থেকেই ১০ এপ্রিল দ্বিতীয় বৈঠক ও সরকার গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে সেক্টর বিভক্ত নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও এই মিটিং ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম মিটিং এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই কারো।

    আজ ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কে.এম শফিউল্লাহ্ তাঁর হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

    এখান থেকে মুক্তি বাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডারগণ বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনানায়কদের পদচারণায় মুখরিত। ১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার তুলে নেয়া হয়।

    দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোর পাশে নির্মিত হয় বুলেট আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান (অব:) মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম পিএসসি।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও সেটি সংরক্ষণের কোনও উদ্যোগ ছিল না দীর্ঘদিন যাবৎ। ২০১১ সালের ৭ মে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনও সে প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।

    মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, তেলিয়াপড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান স্মৃতিবিজড়িত স্থান। অবশ্যই এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। অবিলম্বে সেখানে রেস্ট হাউজ, টয়লেট নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ঐতিহাসিক বাংলোটিকে জাদুঘর করার দাবিও দীর্ঘদিনের।