Category: হবিগঞ্জ

  • মাধবপুরে শীতার্তদের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যানের কম্বল বিতরণ

    মাধবপুরে শীতার্তদের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যানের কম্বল বিতরণ

    সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুরঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাজাহান।

    গতকাল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ত্রাণও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৩৮০টি কম্বল ৯নং নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডে ৪ শতাধিক হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের বার বার নির্বাচিত নন্দিত চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাজাহান।

    এসময় কম্বল বিতরণ পরিচালনা করেন নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপুল ভোটে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবক সৈয়দ মোঃ জাবেদ। বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়া ইউপি সচিব মৃনাল কান্তি পাল চৌধুরী, সাংবাদিক মহি উদ্দিন, নোয়াপাড়া ইউপি মেম্বার মোঃ বকুল মিয়া, হারিছ উদ্দিন লালু, দুলাল ঘোষ, শহিদ মিয়া, রুবেল মিয়া, নুরুল হাসান তপু, শ্যামলী রানী দেব, সাফিয়া খাতুন, মিরা কৈরী, দফাদার রোশন আলী, নোয়াপাড়া চা বাগান ৫ নম্বর হযরত সৈয়দ শাহ নেওয়াজ (রহ:) মাজার শরীফের খাদেম ও কবিরাজ মৌওলানা আব্দুল করিম প্রমূখ।

    ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কম্বল দেয়ারপর ও চেয়ারম্যান নিজ তহবিল থেকে ৫০টি কম্বল ক্রয় করে এনে ৫০ জন হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেন।

  • শায়েস্তাগঞ্জে টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে উৎসুক জনতার ভীড়

    শায়েস্তাগঞ্জে টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে উৎসুক জনতার ভীড়

    সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুরঃ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় মূল্য বৃদ্ধির উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে সরকারের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমি আক্তার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য এনে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ, চিনি, মশুর ডাল, সেনা সোয়াবিন তেল বিক্রি নির্দেশ দিলেন।

    এতে করে উৎসুক জনতার ভীড় লেগে যায়। ৪৫ টাকা কেজি এই পেঁয়াজ কিনতে জমা হয় শত শত ক্রেতা। বিভিন্ন পেশাজীবি নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

    পেঁয়াজের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে টিসিবি পিকআপ ট্রাকে চিনি, মশুর ডাল ও সেনা সোয়াবিন তেল বিক্রয় করা হয়।

    অন্যান্য পণ্যের চেয়ে পেঁয়াজ কিনতে আসা নারী-পুরুষ ক্রেতারা উপস্থিত ছিল লক্ষনীয়। পণ্যবাহী পিকআপ ট্রাকের সামনে ভীড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর মেয়র সহ থানার পুলিশ প্রশাসনকে।

    শায়েস্তাগঞ্জ থানার এস আই টুটন এর নেতৃত্ব একদল পুলিশ টিসিবির পণ্য বিক্রিকালে ভীড় সামলাতে চেষ্টা করে। কিন্তু এরপরও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রত্যেক হাট বাজারে পেঁয়াজের দামের উপর কোন ও প্রভাব পড়েনি।

    গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় টিসিবি পণ্যবাহী পিকআপ ট্রাক আসে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের পার্কিং এলাকায়। সেখানে থেকেই ৪৫ টাকা পেঁয়াজ, ৫০ টাকা চিনি, ৫০ টাকা মশুর ডাল ও ৮০ টাকা দরে সেনা সোয়াবিন তেল বিক্রয় করা হয়। শেষ পর্যন্ত কেনার অপেক্ষায় থাকায় অনেকেই ফিরে যেতে দেখা গেছে।

    ক্রেতা ফল ব্যবসায়ী ছায়েদ আলী জানান, “বাজারের চেয়ে দাম কম হওয়ায় টিসিবির পেয়াজ, চিনি, মশুর ডাল ও সেনা সোয়াবিন তেল কিনতে এসেছিলাম। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় আমার মত অনেক ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।”

    টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় সার্বিক সহযোগীতা করেন শায়েস্তাগঞ্জ পৌর মেয়র মোঃ ছালেক মিয়া. উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা উসমান আলী মিনু, শায়েস্তাগঞ্জ ব্যকস সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত, সাংগঠনিক সম্পাদক টুটুল, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, কোষাধ্যক্ষ মীর আব্দুল কাইয়ুমসহ প্রমূখ বক্তিবর্গ।

  • হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের খেজুরগাছ ও খেজুরের রস

    হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের খেজুরগাছ ও খেজুরের রস

    এম এইছ চৌধুরী জুনাইদ: শায়েস্তাগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ। এর সাথে পাল্লাদিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস ও গাছি নামক শিল্পীরা। প্রকৃতিতে শীতের আমেজ অনুভূত হলেও তীব্র  শীত আসতে এখনো কিছুটা বাকি আছে। ঐতিহ্যগতভাবে শীতের ভোরে একগ্লাস খেজুরের রস পান করতে ইচ্ছা জাগে রস প্রেমিকদের।

    সংগৃহীত তথ্যে জানা গেছে, গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যের ধারক  এই মধুবৃক্ষ তুলনামূলকভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে মাঠের ধারে মেঠোপথের কিনারে অথবা ঘরের কোনে খেজুরগাছ দাঁড়িয়ে থাকতে আর দেখা যায়না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যে হারে খেজুরগাছ নিধন করা হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হচ্ছে না। চলার পথে  মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে দু’একটি খেজুরগাছ দাড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। শীত মৌসুমের সকালে খেজুরের তাজা রস ও রসে ডুবানো পিঠার স্বাদ আর মৌ-মৌ ঘ্রাণ যে কতটা মধুর তা বলে শেষ করা যাবেনা।

    উপজেলার খোয়াই নদী সংলগ্ন কলিমনগর গ্রামের আলেয়া বেগম জানান, এলাকায় গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এক সময় এ এলাকায় প্রচুর খেজুরগাছ ছিল, অনেক রসও পাওয়া যেতো তা থেকে। এখন খেজুরগাছের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার সাথেসাথে সংশ্লিষ্ট  পেশাদার গাছিরাও অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় তাদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। শীত মৌসুমের শুরুতে গ্রামাঞ্চলে খেজুর গাছের রস আহরণের কাজে পেশাদার গাছিদের আর দেখা যায়না।

    ওই এলাকার গাছি বাবুল মিয়া জানান, খেজুরগাছের সংখ্যা  কমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে। আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাতে পারতেন। এতে  যে আয় রোজগার হতো তাতে সংসার চালিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করা যেতো। এখন গ্রামে যে কয়েকটা খেজুর গাছ আছে তাও বেশী বয়সের হওয়ায় তাতে তেমন রস পাওয়া যায় না। এক সময় এক হাড়ি খেজুর রস বিক্রি হতো ১০০ টাকায় এখন খেজুরগাছ কমে যাওয়ায় সে রসের দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা।

    শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার দাউদনগরের বাসিন্দা তাফসির চৌধুরী জানান, তার বাড়িতে খেজুরগাছ আছে। নিজ খেজুরগাছের রস খাওয়ার আশায় কয়েক  বছর থেকে গাছি খোঁজছেন কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না।

    দাউদনগর বাজারের গুড় ব্যবসায়ী মোঃ আলী বলেন, এখন শীত মৌসুমের ভোরে একগ্লাস তাজা খেজুরের রস পাওয়া না গেলেও খেজুররসে তৈরি পাটালী গুড়, ঝোলা গুড়, মরিচা গুড় ইত্যাদি এখনও পাওয়া যাচ্ছে। দেশের যশোর, ঝিনাইদহ এবং ফরিদপুর অঞ্চলে প্রচুর খেজুর গাছ দেখা যায়। ওইসব এলাকায় বনিজ্যিকভাবে খেজুরের রস থেকে বিভিন্ন প্রকারের গুড় উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এই উৎপাদিত গুড় মৌসুমে সারাদেশে প্রেরণ করা হয়।

    গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুররস এবং রসে তৈরি নানা প্রকারের সুস্বাদু ও সুগন্ধি গুড়কে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। এর অংশ হিসেবে বিদ্যমান খেজুরগাছের সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি নতুন করে খে‍জুরগাছ রোপন করা জরুরী বলে মনে করেন এলাকার পরিবেশ সচেতন মহল।

  • বিজয় দিবস ২০১৯ উদযাপনে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

    বিজয় দিবস ২০১৯ উদযাপনে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

    সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর: মহান বিজয় দিবস-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গত কাল বুধবার (৪ ডিসেম্বর ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমি আক্তার।

    সভায় মহান বিজয় দিবস ২০১৯ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্য রয়েছে সূর্যদয়ের সাথে সাথে তপধ্বনি, কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্টানের আয়োজন থাকবে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গাজিউর রহমান ইমরান, সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তা বেগম, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর মেয়র ছালেক মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুজিবুর রহমান, শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ আজিজুল হাসান শাহিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌর প্রসাদ রায়, শফিক মিয়া, আকবর আলী, আব্দুল আলী, সুনিল দেব রায়, মঞ্জুরুল হক মাসুক, ব্রাক্ষনডোরা ইউপি চেয়ারম্যান হোসাইন মোঃ আদিল জজ মিয়া, শায়েস্তাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল খান, নূরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুখলিছুর রহমান, দাউদনগর বাজার ব্যকস সাধারন সম্পাদক ও পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েত সভাপতি আতাউর রহমান মাসুক, শায়েস্তাগঞ্জ ব্যকস সভাপতি আবুল কাশেম শিবলু, সাধারন সম্পাদক আব্দুল মুকিত, শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আবিদুর রহমান, ইসলামি একাডেমি এন্ড হাইস্কুল প্রধান শিক্ষক নুরুল হক, মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন বাবর, নূরপুর আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মন্নান, প্রান-আরএফএল ও উচ্চ বিদ্যালয় সহ-শিক্ষক রুবেল মিয়া, শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় সিনিঃ শিক্ষক ইউনুছ মিয়া, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর আ’লীগ ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি হাজী শফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান মাসুক, হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী, শায়েস্তাগঞ্জ থানা এস আই রাজিব আহমেদ, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, কোষাধ্যক্ষ মীর আঃ কাইয়ুম, রিপোর্টাস ক্লাবের সভাপতি মামুন চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সাবেক সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, উপাধ্যক্ষ মুনায়িম আল হোসাইন।

    একই দিনে সকাল ১০টায় ভোক্তা অধিকার আইন ২০১৯ বিষয়ক সেমিনার ও ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

  • বন্ধ হয়ে গেল শায়েস্তাগঞ্জের জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন

    বন্ধ হয়ে গেল শায়েস্তাগঞ্জের জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন

    শায়েস্তাগঞ্জের জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করা রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মিটার টেম্পারিং এর সন্দেহে জালালাবাদ গ্যাস টিএন্ডডি বিভাগ অভিযান চালিয়ে মিটার নিয়ে গেলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এই ফিলিং স্টেশনের অংশীদারদের বিরোধকে কেন্দ্র করে গাজীউর রহমানের বিরুদ্ধে অপর দুই অংশীদার আবুল কালাম ও সামছুল ইসলাম বিদ্যুৎ, জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত প্রদান করলে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে এই মিটার জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কতৃপক্ষ।

    আবুল কালাম ও সামছুল ইসলাম গত ২০ নভেম্বর প্রতিমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত দেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, গাজীউর রহমান তাদের সাথে প্রতারনা করেছেন। এই প্রতারনার বিষয়ে স্থানীয় এমপি সালিশ করলে গাজীউর রহমান তার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার ও মামলা দায়ের করে।

    আবেদনে তারা আবারও টেম্পারিং এর আশংকা করেন। পাশাপাশি তাদের বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ নভেম্বর প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান ২৫ নভেম্বর জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    মঙ্গলবার বিকেলে জিএস ব্রাদার্স এর ম্যানেজার জসিম উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে সে জানায় সিলেট এবং হবিগঞ্জ থেকে লোকজন এসে মিটার নিয়ে গেছে। কি কারনে নিয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি।

    দরখাস্তকারী আবুল কালাম জানান, ইতোপূর্বে গাজীউর রহমান প্রতারনামূলকভাবে মিটার টেম্পারিং করে অনৈতিক মুনাফ অর্জন করে। পরে ৫৮ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে পুণরায় সংযোগ নেয়া হয়। টেম্পারিং করে অতিরিক্ত মুনাফা গাজীউর রহমান নিলেও জরিমানার অংশ তাদের আয়ের সাথে সমন্বয় দেখানো হয়।

    জালালাবাদ গ্যাস টি এন্ড ডি সিস্টেম লি. হবিগঞ্জের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম খানকে ফোন করলে তিনি জানান, আমি এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোন নিউজ দিতে পারব না। কোম্পানী সচিব এর সাথে আলাপ করতে পারেন।

    কোম্পানী সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এস এম আসাদুল হক জানান, তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছেন। বিষয়টি তার জানা নেই।

    জালালাবাদ গ্যাস এর উপ-মহাব্যবস্থাপক রমেন্দ্র কুমার সিংহ মিটার উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্যাস আইন ২০১০ এ আছে কেউ অনুমোদনের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে তার জেল জরিমানা হবে। জিএস ব্রাদার্স সিএনজির পার্টনারদের মধ্যে বিরোধ আছে। তারা মন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অভিযান পরিচালনা করে মিটার জব্দ করেছি। এখানে গাজীউর রহমানের দুই পার্টনার আবুল কালাম ও সামছুল ইসলাম দরখাস্তে বলেছেন, এখানে গ্যাস ব্যবহারে অনিয়ম হয়। এর আগেও এখানে অনিয়মের জন্য মিটার জব্দ করা হলে মালিক পক্ষ জরিমানা দিয়ে পুণঃ সংযোগ গ্রহণ করেন।

    তিরি আরও জানান, আমরা মিটার নিয়ে এসেছি। এখন মালিক পক্ষকে পরীক্ষার দিন তারিখ নির্ধারন করে তাদের উপস্থিস্থিতে মিটার পরীক্ষা করা হবে। মিটারে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও অংশীদারদের বিরোধ নিস্পত্তি না হলে এখানে যেহেতু বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে তাই সেটি বন্ধ রাখা হবে।

  • মাধবপুরে শিল্পবর্জ্য দূষণে অতিষ্ঠ ১০/১২ গ্রামের মানুষ

    মাধবপুরে শিল্পবর্জ্য দূষণে অতিষ্ঠ ১০/১২ গ্রামের মানুষ

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক্তিয়ারপুর, শ্রীমৎপুর, দাসপাড়া, গোপীনাথপুর, ছাতিয়াইন গ্রামসহ ১০/১২টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ শিল্পবর্জ্যে দূষণের কবলে পরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অসহনীয় দুর্গন্ধ এবং দূষণে জীবন-জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

    গ্রামবাসীর আহবানে বাংলাদেশ পরিবেশ অন্দলন (বাপা) হবিগঞ্জের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার এক্তিয়ারপুর খালসহ তৎসংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে বাপা প্রতিনিধিদল দেখতে পান কারখানার বর্জ্য এক্তিয়ারপুর খালে নিক্ষেপের ফলে কালো কুচকুচে হয়ে পড়েছে পানি। এ সময় খালের পানিতে মৃত মোরগ ভাসতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানান বিষাক্ত এ পানি ব্যবহার করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহনানান রোগে আর হাঁস-মুরগি গবাদি পশু মারা যাচ্ছে হরহামেশা।

    গ্রামবাসী জানান “মার লিমিটেড” নামক কারখানার নিক্ষিপ্ত বর্জ্য মানুষের জীবন এবং জীবিকাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। মারাত্মক দুর্গন্ধ বাড়ি ঘরে থাকা যাচ্ছে না।

    এক্তিয়ারপুর খালটি দূষণের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। ফলে কৃষিকাজ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “কোন কলকারখানা উৎসে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটপি) নিশ্চিত না করে শিল্প বর্জ্য কারখানার অভ্যন্তরে কিংবা বাহিরে কোন অবস্থায় ফেলতে পারেনা। এটি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি বিধানের পরিপন্থী। কিন্তু আমরা দেখছি কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা কল কারখানা গুলো নদী-খাল-কৃষিজমি সহ যত্রতত্র শিল্প বর্জ্য নিক্ষেপ করে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। মার লি: নামক কারখানার বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে হাজার হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে “

    বর্জ্যে এলাকার মানবিক বিপর্যয় নেমে আসায় গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আন্দোলন-সংগ্রাম করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসন পরিবেশ বিষয়ক বৈঠক করে।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এর উপস্থিতিতে মার লিমিটেড নামক কারখানাটির উৎসে বর্জ্য পরিশোধন (ইটি পি) না থাকায় এবং কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে কৃষি জমিসহ নদীতে নিক্ষেপ করার ফলে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ না করে চালু রাখে এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

    পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে গ্রামবাসী, বাপা ও কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ এর বৈঠকে যথাযথভাবে উৎসে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কারখানা পরিচালনার অঙ্গীকার করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রথমে রাতের আঁধারে এবং পরবর্তীতে কোন ধরনের আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে কারখানা চালু রেখে বর্জ্য এক্তিয়ারপুর খালের মাধ্যমে খাস্টি এবং বেলেশরী নদীতে ফেলা হচ্ছে। বিষাক্ত বর্জ্য হাওরের মাছসহ জলজ প্রাণীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানান অসুখে।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল , সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ মোশাহিদ, ডা: আলী হাসান চৌধুরী পিন্টু, আমিনুল ইসলাম। গ্রামবাসীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মো: ছফিল আহমেদ সোহেল, মো: হেলাল মিয়া, মো: শামসুদ্দিন তালুকদার, ডা: মো: রুকু মিয়া প্রমুখ।

  • গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাহুবলের অবৈধ ৩ ইটভাটা

    গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাহুবলের অবৈধ ৩ ইটভাটা

    হবিগঞ্জের বাহুবলে অভিযান চালিয়ে উপজেলায় গড়ে উঠা অবৈধ ৩ টি ইটভাটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে ভাঙ্গা হয়নি দীর্ঘ একযুগ ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত সুঘর এলাকায় অবস্থিত ভরসা ব্রিকস।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলাকালীন অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইশরাত জাহান পান্না।

    অভিযানে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন লস্করপুর এলাকায় অবস্থিত নিউ সুজাত ব্রিকস, বশিনা এলাকার নিউ মেট্রো ও তগলী এলাকার সাগর ব্রিকস কে অবৈধভাবে সনাতন পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর কারণে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

    গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বাহুবলের অবৈধ ইটভাটা

    অভিযানে সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ, হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার হারুনুর রশীদ মামুন এর নেতৃত্বে একটি ইউনিট, পুলিশের সিলেট রিজার্ভ ফোর্সের একটি টিম ও শায়েস্তাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এর একটি টিম।

    সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ইশরাত জাহান পান্না বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা পরিবেশের ছাড়পত্র লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছিল। বাহুবল থেকে আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকারক সনাতন পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো সকল ইটভাটা বন্ধ করতে পুরো সিলেট জুুুুুুুুুুুুুুুুুুুড়ে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।