Category: হবিগঞ্জ সদর

  • হবিগঞ্জে পৌরসভার বরখাস্তকৃত কর্মকর্তার কাছ থেকে কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার

    হবিগঞ্জে পৌরসভার বরখাস্তকৃত কর্মকর্তার কাছ থেকে কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার

    হবিগঞ্জে পৌরসভার বরখাস্তকৃত বাজার পরিদর্শক কিবরিয়ার কবল থেকে কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

    আজ বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) দুপুরে মেয়র মিজানুর রহমানের মিজানের নেতৃত্বে পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীরিরা অভিযান চালিয়ে বেদখল হওয়া এ সম্পত্তি উদ্ধার করে।

    জানা যায়, হবিগঞ্জ পৌরসভার বরখাস্তকৃত বাজার পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া পৌর মার্কেটের ২য় তলায় সাবেক ডেসটিনি অফিস ও সাবেক সোনালী ব্যাংক কার্যালয়টি তার স্ত্রীর নামে নিয়ম বহির্ভূতভাবে লীজ নেন এবং দোকান কোটা বানিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া আদায় করে আসছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখিত অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হওয়ায় বছরখানেক পুর্বে বাজার পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়াকে হবিগঞ্জ পৌরসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে তখনকার সময় পৌরসভার ওই সম্পত্তি উদ্ধার করা যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বেদখল হওয়া এসব সম্পত্তি পুণরুদ্ধার করে।

  • অপারেশন  থিয়েটারে হবিগঞ্জে এক নারীর জরায়ূ কেটে দিলেন ডাক্তার!

    অপারেশন থিয়েটারে হবিগঞ্জে এক নারীর জরায়ূ কেটে দিলেন ডাক্তার!

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলা শহরের টাউন হল রোডে অবস্থিত ‘সেন্ট্রাল হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্ট্রারে’ টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে এক নারীর জরায়ু কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে ডা. আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই নারী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    গত সোমবার (২৪/০৮/২০২০ ইং) রাতে সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে রোগীর স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। এছাড়াও ঘটনায় হাসপাতাল চত্তরে ভীড় জমাট বাঁধলে এলাকার বয়োজৈষ্ঠ মুরব্বিরা এগিয়ে এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ‘সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ডা. আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে জানা গেছে – বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের মৃত নোয়াজিশ মিয়ার স্ত্রী খদর চাঁন (৬৫) জরায়ু টিউমারে আক্রান্ত হন। গত ১ সপ্তাহ আগে তিনি হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন। গত রবিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আরশেদ আলী তাকে অপারেশনের জন্য শহরের টাউন হল রোডে অবস্থিত ‘সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ অপারেশনের পরামর্শ দেন। আরশেদ আলীর পরামর্শে সাথে সাথে ওই নারীকে সেন্ট্রাল হসপিটালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা।

    ঐদিন বিকেলে ডা. আরশেদ আলী সেন্ট্রাল হসপিটালে ওই নারীর জরায়ু টিউমারের অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশন শেষে ওই নারীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করার কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হলেও জরায়ুতে লাগানো ক্যাথেটার দিয়ে প্রস্রাব আসা বন্ধ থাকে। রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও এক ফোঁটা প্রস্রাবও বের হয়নি। এমনকি ওই নারীর পেট ফোলে উঠে। এক পর্যায় রাত ১টার দিকে পুণরায় ডা. আরশেদ আলীকে খবর দিলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর চিকিৎসা করেন। কিন্তু এরপরও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ভোরে তাকে সিলেট প্রেরণ করা হয়।

    এদিকে, মূমুর্ষ অবস্থায় ওই নারীকে সিলেট পাঠালেও রোগীর সাথে দেয়া ছাড়পত্রে সীল দেয়নি সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। যার ফলে সিলেটের কোন হাসপাতাল ওই রোগীকে ভর্তি নেয়নি। এতে রোগীর অবস্থা আরও শঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠে। সারাদিন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও রোগীকে ভর্তি করতে না পারায় গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে আবারও রোগী নিয়ে হবিগঞ্জ ফিরে আসেন স্বজনরা। পরে তারা সেন্ট্রাল হসপিটালে এসে বিক্ষোভ করলে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এক পর্যায়ে ছাড়পত্রে সীল নিয়ে আবারও তারা রোগীকে নিয়ে সিলেট চলে যান।

    এ ব্যাপারে রোগীর ভাগ্নে মহিবুল ইসলাম শাহীন জানান- ‘ডাক্তার আরশেদ আলী ও সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে মৃত্যুর মুখে পড়েছে আমাদের রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রে সীল না দেয়ার কারণে সিলেটের কোন হাসপাতালই আমাদের রোগীকে ভর্তি নেয়নি।’

    তাছাড়াও তিনি আরও বলেন- ‘ডা. আরশেদ আলী অপারেশনের সময় রোগীর জরায়ু কেটে দিয়েছেন। যার ফলে সে এখন মৃত্যু পথযাত্রী।’

    এ ব্যাপারে সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার অসীম দেব বলেন- ‘এই রোগীকে রিলিজ দেয়ার সময় আমি ছিলাম না। তবে এখন আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ওই নারীকে সিলেট নিয়ে যাচ্ছি এবং রোগীর সুস্থতার জন্য যা করার প্রয়োজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা করবে।’

    বিষয়টি সম্পর্কে জানতে নারীর অপারেশন করা সেই চিৎিসক আরশেদ আলীকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    উল্লেখ্য- ডা. আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসা, রোগীদের সাথে অসধাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সদর হাসপাতালে আসা রোগীদের অপারেশনের জন্য বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শও তিনি নিজেই দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    হবিগঞ্জ জেলার সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ট ও সঠিক তদন্ত দাবি করে ডাঃ আরশেদ আলীকে শাস্তির আওত্বায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রে কেন সীল দেয়নি সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেছেন, আমরা আজ খেলার পুতুল হয়ে গেছি। সাধারণ জনতা আজ তাদের নিজেদের স্বাধীনতা হারিয়েছে। দিন দিন হবিগঞ্জে ডাক্তারদের দূর্নীতি ও অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার চিত্র এখনও চোখে পড়েনি।

    তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নিয়ে ঘটে যাওয়া দূর্নীতির ব্যাপারে নজরে আসার মতো কোন ব্যবস্থা এখনও হবিগঞ্জবাসী দেখে নি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা দিব্যি বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে। প্রকৃত পক্ষে এই সকল অন্যায়কারীদেরকে কারা প্রশ্রয় দেয় তা খুঁজে বের না করলে এইসব অপরাধ থামবে না বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

  • তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শোক সভা-মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

    তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শোক সভা-মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি।

    এই সময় এমপি আবু জাহির বলেন, যে ব্যক্তি তার অস্তিত্বের উৎস, শিকড়ের ইতিহাস জানে না, সে ব্যক্তি দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে না। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

    তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম রায়ের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মোত্তালিব, সহ-সভাপতি সফর আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুকিত, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শিবলু মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান আনু মিয়া, জেলা কৃষক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান কাওছার, জেলা ছাত্রলীগ নেতা ছাদিকুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সুজাত, হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক ফয়জুর রহমান রবিন, যুগ্ম আহবায়ক বিজন দাশ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবিদ মিয়াসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • বাশেঁর দেখা মিলল হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে !

    বাশেঁর দেখা মিলল হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে !

    হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল এখন নামেই আধুনিক। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে এই হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সুবিধা।

    অবস্থা এখন এমন যে এখানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেডগুলোতে স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডও খুঁজে পাওয়া যায় না। এর বদলে রোগীদের বেডের পাশে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশ। এ নিয়ে হাসপাতালে আগত রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীর স্বজন বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও দিচ্ছেন স্ট্যাটাস। কিন্তু, এরপরেও টনক নড়েনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালটিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে এই করোনাকালীন সময়েও রোগীর ভীড় রয়েছে। তবে হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ খুবই অপরিচ্ছন্ন। ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে হাসপাতালের ভেতরে সবাইকে নাকে-মুখে হাত দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি এই হাসপাতালে তেমন একটা মানা হয় না।

    প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের বেডে রোগী থাকলেও তাদের জন্য নেই কোন স্যালাইন লাগানোর জন্য স্ট্যান্ড। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বেডের পাশে স্যালাইন কিংবা এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের সুবিধার্থে একটি করে লোহার স্ট্যান্ড যুক্ত বা আলাদাভাবে থাকার কথা। কিন্তু, কোনও বেডের পাশে তেমন কিছু দেখা যায়নি। বরং দেখা গেছে, রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে নিজ নিজ প্রয়োজনে বাঁশ এনে বেডের সঙ্গে আটকিয়ে স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার নিজামপুর থেকে আসা এক নারী রোগীর আত্মীয় রহিম মিয়া জানান, হাসপাতালের নার্স-আয়াদের কাছে চেয়েও স্ট্যান্ড পাইনি। তারা বলেছেন রোগীর স্যালাইন ঝোলানোর স্ট্যান্ড এ হাসপাতালে নাকি খুবই কম। সেগুলোও ভেঙে গেছে। পাওয়া যাবে না। বাধ্য হয়ে আমাদের প্রয়োজনে বাঁশ দিয়ে স্ট্যান্ড বানিয়ে নিয়েছি। ডাক্তার এসে স্যালাইন পুশ করার কথা বলে চলে যায়, সেটা কিসের ওপর আটকিয়ে পুশ করা হবে সে বিষয়ে কিছু বলে না। স্ট্যান্ড না থাকলে স্যালাইন হাতে ধরে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে হয়। তাতে স্যালাইনের ফোঁটার গতি কম-বেশি হয়ে যায়। তাই অন্যদের কাছে বাঁশ নিয়ে আসার পরামর্শ পেয়েছি। তাদের মতো আমরাও বাঁশ দিয়ে স্ট্যান্ড বানিয়েছি। এ হাসপাতাল শুধু নামেই আধুনিক, বাস্তবে কিছুই নেই।

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রাম থেকে রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসা রোজী কমলা বানু জানান, অধিকাংশ বেডের মধ্যেই স্যালাইন দেওয়ার কোনও স্ট্যান্ড নাই, যার প্রয়োজন বাঁশ দিয়েই কাজ সারতে হচ্ছে। হাসপাতালের কোনও কর্মচারীকে অনুরোধ করার পরও কোনও স্ট্যান্ড পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল মুবিন মিজান নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমি গতকাল (রবিবার রাতে) আমার এক আত্মীয় (রোগীকে) নিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য গিয়েছিলাম। কর্তব্যরত ডাক্তার আমার রোগীকে দেখে হাসপাতালে ভর্তির করার জন্য পরামর্শ দিলেন। কী আর করা? রোগীকে নিয়ে গেলাম নিচতলায় নারী মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করার জন্য।’

    ‘আমার রোগীকে নিয়ে ওয়ার্ডে যাওয়ার সাথে সাথেই চোখে পড়লো বাঁশ, অধিকাংশ চিকিৎসাধীন রোগীর সিট বেডের সাথে ঝুলানো আছে একটি করে ২-৩ হাত লম্বা বাঁশ। স্বাভাবিকভাবে মনে প্রশ্ন জাগলো, এসব বাঁশের মানে কী?’

    ‘‘তবে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমার বেশি সময় লাগলো না। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সেবিকা (নার্স) আমাকে বললেন, ‘ভাই আপনার রোগীকে দ্রুত স্যালাইন দিতে হবে।’ তিনি স্যালাইন কেনার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর স্যালাইন ঝোলানোর জন্য একটি স্ট্যান্ড সংগ্রহেরও পরামর্শ দিলেন। স্যালাইন এনে খুঁজতে শুরু করলাম স্যালাইন দেওয়ার স্টেন (স্ট্যান্ড)। কোথাও খুঁজে পেলাম না এই মহা মূল্যবান জিনিসটি।’’

    স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, এই মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত রোগীর স্যালাইন দেওয়ার জন্য একটি স্যালাইন স্ট্যান্ডও নেই এই ওয়ার্ডে। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীকে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশ অথবা জানালার লোহার গ্রিল।’

    তিনি আরও লিখেছেন ‘শিশু ওয়ার্ডের চিত্রও প্রায় একই রকম। আমি হতাশা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হাসপাতালে একখানা স্ট্যান্ড পেলাম না। খুঁজে একটা বাঁশও পাইলাম না। পরে জানতে পারিলাম স্যালাইনে ব্যবহারিত (ব্যবহৃত) বাঁশগুলো রোগীরা (রোগীর স্বজনরা) নিজেরাই সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছে। আমি একটি বাঁশ একজন রোগীর কাছ থেকে ধার এনে আমার রোগীর স্যালাইন স্টেন (স্ট্যান্ড) হিসাবে ব্যবহার করিলাম। এই হলো বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের হাল চিত্র!’

    ঐ স্ট্যাটাসে তিনি অন্যদের পরামর্শ দিয়েছেন, ‘যারা চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যাবেন দয়া করে সাথে একখানা ২-৩ হাত লম্বা বাঁশ নিয়া যাবেন। বলা তো যায় না বাঁশের প্রয়োজন হতে পারে!’

    হাসপাতালের এই দুরবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীম আরা বলেন, এখানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে ১০০ শয্যার। আমার অনেক বেডের স্ট্যান্ড নষ্ট হয়ে গেছে। এর বিকল্প হিসেবে দু একটিতে বাঁশ থাকতে পারে।

    বাইরে থেকে বাঁশ নিয়ে আসার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তবে রোগীর স্বজনরা বাঁশ নিয়ে আসছে কথাটি মিথ্যা। আমরা চেষ্টা করছি একাধিক নষ্ট হওয়া স্ট্যান্ড মেরামত করার জন্য। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।’

    হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি আমার নজরে নেই। আমি আপনার মাধ্যমে শুনলাম। এটা সাময়িক কাজের জন্য হতে পারে। তবে বাঁশ দিয়ে কোনও সমাধান হতে পারে না। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’

  • আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেরা হবিগঞ্জের শাহেদ !

    আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেরা হবিগঞ্জের শাহেদ !

    আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘আগোরা’র ২০২০ সালের চুম্বন থিমের সেরা পুরস্কারটি জিতলেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। আগোরা কর্তৃপক্ষ এক ই-মেইল বার্তায় শাহেদ আহমেদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    শাহেদ আহমেদ হবিগঞ্জের অন্ততপুরের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি হবিগঞ্জের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি বৃন্দাবন কলেজে লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং / ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। যে ছবিটা আগোরায় প্রথম হয় সেটা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ২০১৯ সালে শীতের ভোরে তোলা। ছবিটি কাঠ শালিকের চুম্বনের একটি দৃশ্য।

    জানা যায়, স্পেনের বার্সেলোনায় ‘আগোরা’ প্রতিবছর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় এবারের বিষয় ছিল চুম্বন। পৃথিবীর সেরা সেরা আলোকচিত্রী তাদের ছবি সেখানে জমা করেন। সেখান থেকেই বিচারকমণ্ডলী সেরা ৫০টি ছবি নির্বাচন করেন। বিচারকদের নির্বাচিত সেই ৫০টি ছবি ছেড়ে দেয়া হয় অনলাইন ভোটের জন্য। অনলাইনে আলোকচিত্রীদের ভোটে পাঁচটি ছবি নির্বাচিত হয় চূড়ান্ত পর্বের জন্য। চূড়ান্ত পর্বে এসে শাহেদ আহমেদের ছবিটিই সর্বাধিক ভোটে বিজয়ী হয়।

    শাহেদ আহমেদ বলেন, আমার ফটোগ্রাফির শুরুটা হয় শখের বসে, তারপর আস্তে আস্তে ছবি তোলাটা নেশায় পরিণত হয়ে যায়। ২০১৭ সাল থেকে ছবি তোলা শুরু করি, প্রথমদিকে সব ধরনের ছবি তোলা হতো। এরপর হঠাৎ করে পাখি, ন্যাচার আর ওয়াল্ড লাইফের ছবি তুলতে ভালো লাগতে শুরু হয়। ২০১৯ সালে কাঠ শালিকের এই ছবিটি তুলি চুনারুঘাটের সাতছড়ি বাগানে।

    হাজারও ছবির মধ্যে নিজের ছবিটি সেরাদের সেরা হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শাহেদ আহমেদ বলেন, জীবনে প্রথমবার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ায় অনেক বেশি আনন্দিত যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। একটু হলেও দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি যার জন্য আমার ফটোগ্রাফি জীবনটা একটু হলেও সার্থক মনে হচ্ছে। তবে অর্জন আমাকে ভালো কিছু করতে উৎসাহ দিয়ে যাবে।

  • গোপায়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা

    গোপায়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

    গোপায়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ভিংরাজ মিয়ার পরিচালনায় এই মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন হবিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আলহাজ্ব আবু জাহির এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মোতালিব, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুকিত।

    পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভার শুরু হয়। পরে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

     

    এ সময় এমপি আবু জাহির বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল। আমরা জাতির পিতার আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকি। তবে সমাজে কিছু দুস্কৃতিকারী রয়েছে; যারা আওয়ামী লীগের সুসময়ে অনুপ্রবেশ করে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এদের ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে দেশে বাস্তবায়ন হওয়া উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্য দোয়া করতে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান এমপি আবু জাহির।

    এ ছাড়া ও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুল মোছাব্বির তালুকদার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, জেলা যুবলীগ নেতা জাহির আহমদ, জাকারিয়া চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম শামীম, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছাব্বির আহমেদ রনি, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদিকুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জুনেদ, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সুজাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ জাহান নাঈম, পায়েল আচার্য্যসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • হবিগঞ্জে সুবিধাভোগীদের হাতে ভাতার কার্ড প্রদান

    হবিগঞ্জে সুবিধাভোগীদের হাতে ভাতার কার্ড প্রদান

    হবিগঞ্জে নতুন করে আরো ৫৫৭ জনকে সরকারি ভাতাভোগীর তালিকায় যুক্ত করেছে শহর সমাজসেবা কার্যালয়। এই নিয়ে জেলা শহরটিতে মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা হল ২৯৪৪ জন।

    আজ ২০ই আগষ্ট, বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের পৌরসভার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন সুবিধাভোগীদের হাতে ভাতার কার্ড তুলে দেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির

    উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক হাবিবুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান।

    নতুন ৫৫৭ ভাতাভোগীর মধ্যে রয়েছেন ৫৪ জন স্বামী নিগৃহীতা, ১২১ জন বয়স্ক, ২৪০ জন অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ও মৃত ব্যক্তির জায়গায় স্থলাভিষিক্ত ১৩৯ জন।

    শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ আলী তাপস জানান, জেলা শহরে সর্বমোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৯৪৪ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ১৬০৭ জন বয়স্ক, ৯৯৩ জন অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ও ৩৯৪ জন স্বামী নিগৃহীতা। স্বামী নিগৃহীতারা পান প্রতি বছরে ৬ হাজার, প্রতিবন্ধী ৭ হাজার ৫০০ এবং বয়স্করা পান ৬ হাজার করে টাকা।

    কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ জাহির মিয়া, মোঃ আলমগীর, গৌতম কুমার রায়, শেখ নূর হোসেন, আব্দুল হাসিম, আব্দুল আউয়াল মজনু, অর্পনা বালা পাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শহীদগণের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।