Category: হবিগঞ্জ সদর

  • দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরে দেড় শতাধিক মামলা নিস্পতি করেছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম

    দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরে দেড় শতাধিক মামলা নিস্পতি করেছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম

    দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরে দেড় শতাধিক মামলা নিস্পতির পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম। সম্প্রতি তার বদলী হয়েছে বরিশালে।

    ২০১৯ সালের শেষে দিকে বানিয়াচং সার্কেলের দায়িত্ব গ্রহন করেন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে ওই বছর অর্ধশতাধিক মামলা তার অফিসে বসে শালিসের মাধ্যমে নিস্পতি করেছেন। এর মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ সংক্রান্ত মামলা, দাঙ্গা, হাঙ্গামার মামলাসহ বিভিন্ন আইনে মামলা রয়েছে।

    ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১১টি অভিযোগ তার কার্যালয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার নির্দেশনা মোতাবেক ৮০টি অভিযোগের নিস্পতি করেছেন। এ বছর তিনি আরো ৮টি মামলার অভিযোগ নিস্পতি করেছেন। তার সার্কেলের দাঙ্গা, নিয়ন্ত্রণে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছেন। যার ফলে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের দাঙ্গা কমেছে। এছাড়াও চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

    এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পারবারিক বিরোধও নিস্পতি করে সকলের কাছে প্রসংশিত হয়েছেন।

    বিদায়ী অতিরিক্ত পুলিশ শেখ সেলিম জানান, আমাদের প্রত্যেকটি কাজে পুলিশ সুপার উৎসাহ প্রদান করেছেন। আমরা সত্যতার সাথে কাজ করেছি। যার ফলে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কোথায় সংঘর্ষের খবর পেলে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

    কোথায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আবার মোবাইল ফোনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বীয়ানের সহযোগিতা নিয়ে ও পুলিশ পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

    তিনি বলেন-এ সময়ের মধ্যেই আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। তবে কতটুকু সফল হয়েছি, সেই বিবেচনা জনগণই করবেন।

    আর এই কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। এ জন্য হবিগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

  • ওসমানী স্মৃতি পরিষদ হবিগঞ্জ জেলার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন

    ওসমানী স্মৃতি পরিষদ হবিগঞ্জ জেলার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন

    মুক্তিযুদ্ধের উপর গবেষণা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন শ্লোগানকে সামনে রেখে ওসমানী স্মৃতি পরিষদ হবিগঞ্জ জেলার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি পরিষদ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ফরহাদ ও সাধারন সম্পাদক মোঃ রুবেল আহমদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অপু আহমদ রওশন সভাপতি ও কাওছার আমীরকে সাধারন সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

    কমিটির অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- সিনিয়র সহ সভাপতি এম এ হাকিম, সহসভাপতি আনোয়ার জাহির, শাহ জয়নাল আবেদিন রাসেল, সহ-সভাপতি জিবলু আহমেদ চৌধুরী রবিন, সহ-সভাপতি মুহিদ মিয়া তালুকদার, সহ-সভাপতি তোফাজ্জুল মাষ্টার, সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহানুর চৌধুরী সোহান, সহ-সভাপতি এস এম সুরুজ আলী, সহ-সভাপতি এডভোকেট খলিলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক কাওছার আমির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ রুহেল আহমেদ, অলক ভুষণ দেব রায়, সাংবাদিক ছানু মিয়া, রেতু মিয়া, মিজানুর রহমান খান, শাওন আল হাসান, তোফাজ্জুল ইসলাম তানিম, সাংবাদিক জুয়েল চৌধুরী, সাংবাদিক নায়েব হোসেন, বশির আহমদ, আহাম্মদ আলী, রমেন্ড আচার্য্য রানা, এম এ হানিফ, সাংবাদিক এ কে কাওসার, সাংগঠনিক সম্পাদক এস কে আলা উদ্দিন, ফারুক আহমেদ মাষ্টার, নাজমুল ইসলাম তালুকদার, রফিউল ইসলাম রফিক, পলাশ পাল, ফরিদ উদ্দিন তালুকদার, সোহেল রানা প্রিন্স, খলিলুর রহমান, সাংবাদিক এমএ আর শায়েল, সাংবাদিক আফতাবুর রহমান সেলিম, সাংবাদিক সাইফুর রহমান তারেক, আমিন আলী সিদ্দিক, সুমন চন্দ্র গোপ, সাংবাদিক তৌহিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদির কাজল, প্রেমতোষ সূত্রধর, এন সাকিব চৌধুরী, দিলীপ চন্দ্র বর্মন, সম্পাদক জুয়েল মিয়া, নুর আলম তালুকদার, প্রচার সম্পাদক অভিজিৎ আচার্য্য অভি, সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ রুয়েব আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব শের আলী তালুকদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক আজিজ মিয়া, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অলি মিয়া তালুকদার, সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অসিত সূত্রধর, অর্থ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, সহ-অর্থ সম্পাদক নুরুল হক, প্রকাশনা সম্পাদক কাজী নাসির সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা কাকলী আক্তার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বাচ্চু মোল্লা, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কদর আলী মোল্লা, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফয়ছল আহমেদ, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শ্রী নারায়ণ চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাতেশ চন্দ্র দাশ, সহ-তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক আশিক এম চৌধুরী, সহ- যুব বিষয়ক সম্পাদক জামাল মিয়া, ত্রাণ ও পূণর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আলী হোসেন, জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন, সহ জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক রুকন খান, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক দিপ্ত তালুকদার দেবাশীষ, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক বিজয় দেব, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সাইদুল হক, মানব সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী, সহ-মানব সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ওয়াদুদ মাষ্টার, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন, সিনিয়র সদস্য সেলিম আজিজ, মুহিন মিয়া, সিনিয়র সদস্য শাহনেওয়াজ, মনোধীর বৈদ্য, পলাশ দাশ সুমন, কার্যনির্বাহী সদস্য রাসেল মিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য সজলু মিয়া, মাসুম মিয়া, কালাম মিয়া, সুদীপ্ত দাশ সুহেল, পারভেজ আহমেদ, সাব্বির আহমেদ, শেখ আল ইমরান, মিজানুর রহমান, অমর তালুকদার, জাহাঙ্গীর মিয়া, রাসেল মিয়া, শাওন মিয়া, মোহন মিয়া, সাইদ আহমেদ, সুমন কুমার রায় ও লোকমান খান।

  • ডিভিসি টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন আর নেই, হবিগঞ্জ নিউজের শোক প্রকাশ

    হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য, ডিভিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজেউন)।

    শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    ডিভিসি টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন

    জানা গেছে, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সাংনাদিক মামুনকে অসুস্থ অবস্থায় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেটে পাঠান।

    সহকর্মীরা জানিয়েছেন , হৃদরোগে আক্রান্তসহ তার শরীরে বিভিন্ন জটিলতা ছিল। সদালাপী, মৃদুভাষী ও পেশার প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলেন সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    তার চলে যাওয়ায় হবিগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গণে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আব্দুল্লাহ আল মামুন হবিগঞ্জ শহরের চিড়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার বাদ এশা গ্রামের বাড়ি নবীগঞ্জের বৈলাকীপুরে নামাজে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়৷

    শোক প্রকাশঃ

    ডিবিসি টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুতে শোকাহত হবিগঞ্জ নিউজ পরিবার৷ হবিগঞ্জ নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সম্পাদক শরিফ চৌধুরী৷ তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান৷

  • বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী  ও জাতীয় শিশুদিবসে  জেলা প্রশাসনের দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান

    বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশুদিবসে জেলা প্রশাসনের দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান

    আজ ১৭ মার্চ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন।

    দিনটি উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসন, হবিগঞ্জ দিনব্যাপী নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সকালে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি। আরো উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, ডিডি এনএসআই সহ জেলার সকল দপ্তর প্রধানগণ ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্মানিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ সহ জেলার সকল পেশার ও শ্রেণির মানুষ।

  • হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের কেবিন থেকে মুক্তিযোদ্ধার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের কেবিন থেকে মুক্তিযোদ্ধার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কেবিনের দরজা ভেঙে বীরেশ দাশ (৬৫) নামে এক মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় এ মৃত দেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত বীরেশ দাশ শহরের শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা ও বানিয়াচং উপজেলার নজিরপুর গ্রামের মৃত মহেশ দাশের ছেলে।

    পুলিশ ও হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, বীরেশ দাশ গত ১ মার্চ থেকে কিডনি জনিতসহ বিভিন্ন রোগে সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বীরেশ দাশের পরিবার তাকে একা রেখে বাসায় চলে যান। আজ সকালে তার ছেলে বিজয় দাশ এসে দেখতে পান তার কেবিনের দরজা বন্ধ। পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে অবগতি করলে হাসপাতাল কতৃপক্ষসহ পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বিজয় দাশ বলেন, “মার্চের ১ তারিখ বাবাকে সদর হাসপাতালে কিডনিজনি রোগে ভর্তি করি। মঙ্গলবার রাতে তাকে মুক্তিযোদ্ধা ওয়ার্ডে রেখে বাসা চলে যাই। সকালে এসে দেখি ওয়ার্ডের রুম বন্ধ পরে বিষয়টি হাসপাতাল কতৃপক্ষ কে অবগতি করি। দরজা ভেঙ্গে দেখি বেডের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবার মৃতদেহ।”

    এ ব্যপারে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হেলাল উদ্দিন বলেন, “মুক্তিযুদ্ধা বীরেশ দাশ ১ মার্চ থেকে কিডনিজনিতসহ বেশ কয়েকটি রোগ নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন৷ আজ সকালে তার ছেলে এসে দেখতে পান তার দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করার পরেও কোনো সারা না দেয়ায় পুলিশ নিয়ে তার দরজা ভেঙে দেখতে পাই বেডের নিছে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মৃত্যুদেহ।”

    হবিগঞ্জ সদর থানার এস আই সাইদুর রহমান বলেন, “হাসপাতাল কতৃপক্ষের সাথে দরজা ভেঙ্গে বেডের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করি৷ ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

  • প্রায় ৬৩ কোটি টাকার  উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি আবু জাহির

    প্রায় ৬৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি আবু জাহির

    হবিগঞ্জে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পগুলোর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

     

    ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে হবিগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও হবিগঞ্জ গণপুর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম শামীমসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

     

    প্রকল্পগুলো হল সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স, প্রায় ২৬ কোটি দশ লাখ টাকায় জেলা ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় দুইটি মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, প্রায় ২০ কোটি টাকায় সদর উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকায় হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবন নবায়ন, সংস্কার ও মেরামত।

     

    হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই সবগুলো কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম শামীম।

     

    পৃথক অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলোর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও মোজানাত শেষে নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। এ সময় তিনি সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম এর বিদায়

    মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম এর বিদায়

    এসএম সুরুজ আলীঃ ফিকল-টেটার রাজ্য হিসেবে খ্যাত জেলা হবিগঞ্জ। দাঙ্গা প্রবণতা অনেকাংশে বেশী। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি এবং রক্তারক্তির মত জঘণ্য খেলায় মেতে উঠে সাধারণ জনগণ। বংশ পরম্পরায় চলতে থাকে তাদের এই বিরোধ। মামলা মোকাদ্দমায় জর্জরিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয় অনেক পরিবারকে। কালে বিবর্তনে দাঙ্গার কালো ছায়া যখন হবিগঞ্জবাসীর ঐতিহ্যকে গ্রাস করেছে। ঠিক সেই মূহুর্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অদম্য প্রতিনিধি হয়ে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলর দায়িত্বে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা।

    পুলিশ সুপার মোঃ মোহাম্মদ উল্যাহ বিপিএম-পিপিএম এর সার্বিক নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে অদম্য, বিচক্ষণ এবং সততার কিংবদন্তী মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা হবিগঞ্জ সদর সার্কেল যোগদান করে তাঁর আওতাধীন থানা (হবিগঞ্জ সদর মডেল, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ) সমূহের সংঘটিত অপরাধ পর্যালোচনা করেন।

    গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণ চিহ্নিত করেন। বংশ পরম্পরায় থাকা বিরোধের মূল কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। থানা এলাকার প্রায় প্রত্যেক গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা করেন। দাঙ্গা-হাঙ্গামার কুফল সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করেন। ফিকল টেটার কাল সংস্কৃতি থেকে হবিগঞ্জবাসীকে বের করার চেষ্টা করেন।

    হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রাপ্ত সেবাটুকু প্রদানের প্রয়াসে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এবং খুব শ্রীঘ্রই তিনি অভিনব এক পদ্ধতি অবলম্বন করেন। মহৎ এই উদ্যোগের নাম ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ কার্যক্রম। দীর্ঘ মেয়াদী বিরোধ কিংবা ছোটখাট যেকোন ঘটনার অভিযোগপ্রাপ্ত হলে বিষয়টি মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত ঠেলে না দিয়ে অত্যন্ত মানবিক বিবেচনায় স্ব-উদ্যোগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কমিউনিটি-বিট পুলিশের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদেরকে নিয়ে বিরোধগুলো সার্কেল অফিস ও থানায় বসে প্রায় ৬ শতাধিক মামলা বিকল্প বিরোধ এর মাধ্যমে নিস্পত্তি করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে অত্র সার্কেলাধীন থানা সমূহে পূর্বের তুলনায় (হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা-২২০, লাখাই-১২৪টি, শায়েস্তাগঞ্জ- ১০৫টি) সর্বমোট ৪৪৯টি মামলা হ্রাস পেয়েছে।

    তাঁর মানবিক কর্মকান্ডে দিনে দিনে অসহায় হতদরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের ভরসাস্থলে পরিণত হয় হবিগঞ্জ সদর সার্কেল কার্যালয়। ভুক্তভোগীগণ অত্র কার্যালয়ে আসার পর মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা তাদের সকল অভিযোগ মনযোগ সহকারে শুনতেন। ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করতেন এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অত্র কার্যালয়ে আসার জন্য নোটিশ প্রেরণ করতেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ধার্য্য তারিখে উপস্থিত হলে তিনি মনযোগ সহকারে একে একে সকলের বক্তব্য শুনতেন। খুবই বিচক্ষণতার সাথে তিনি সকলের বক্তব্য পর্যালোচনা করতেন এবং বাস্তবমুখী নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন।

    নিরপেক্ষতার কারণে পক্ষ-বিপক্ষদ্বয় অকপটেই সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করতেন ও তাদের মধ্যকার বিরোধ খুব সহজেই মিমাংসা হতো। অত্র সার্কেলে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রায় ছয় শতাধিক বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেন। যার ফলশ্রুতিতে বংশ-গোষ্ঠীগত বিরোধ এবং দাঙ্গা হাঙ্গামা হ্রাস পায়। সাধারণ মানুষ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নীত হয়েছে। মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন এসেছে। মানুষ বুঝতে শিখেছে, মামলা-মোকদ্দমায় অর্থ ব্যয় করা মূল্যহীন।

    তিনি শুধু বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে পারদর্শী নয়, তিনি একাধারে অনেক গুণাবলি সম্পন্ন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি সৎ, বিচক্ষণ, সাহসী, দক্ষ এবং ধৈর্য্যশীল। তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন সূত্রহীন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন। যেসকল মামলার আসামী গ্রেফতার নয়, বরং মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সেই সকল মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। কর্মকালীন সময়ে তিনি প্রায় ২৫ টি সূত্রহীন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।

    এক সময়ে হবিগঞ্জ জেলাবাসীদের এক আতংকের নাম ছিল ‘ডাকাতি’। আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যগণ হবিগঞ্জ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা সমূহে ডাকাতি পরিচালনা করতো। প্রায় সময় ডাকাতি সংবাদ শুনা গেলেও ডাকাতরা থাকত অন্তরালে। ফলশ্রুতি তারা তৈরী করেছিল বিভিন্ন গ্রুপ এবং দল। ডাকাত সর্দারদের নির্দেশেনা গ্রুপের অন্যান্য ডাকাতরা বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করতো। মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবার সঠিক নেতৃত্ব, সাহসি অভিযান এবং নিরলস প্রচেষ্ঠায় প্রায় ৩৯ জন ডাকাতকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    উলে­খযোগ্য কুখ্যাত ডাকাত কুদরত গ্রুপের ধৃত সদস্যগণের কুদরত, হানিফ, সাইদুল, ফরহাদ মিয়া, মামুন মিয়া, জিতু মিয়া প্রকাশ কবির মিয়া, মফিজুল ইসলাম, সৈয়দ আলী, খেলু মিয়া, সাজিদ মিয়া। কুখ্যাত ডাকাত সোলেমান গ্রুপের ধৃত সদস্যগণের সোলেমান, কালা বাবুল, শামিম, ইমরান। আলজার গ্রুপের ধৃত সদস্যগণের মধ্যে আলজার, আমিরুল ইসলাম, সাইফুল মিয়া, আলাউদ্দিন আলন। জালাল মিয়া, আব্বাস মিয়া, আলমগীর মিয়া।

    তাঁর এরকম কর্মকান্ডে হবিগঞ্জ সার্কেলের প্রায় ৯৫ ভাগ দাঙ্গা হ্রাস পেয়েছে। জনজীবনে শান্তি ও স্বস্তি এসেছে। ফিকল টেটাল সংস্কৃতি আজকে ইতিহাস হতে বসেছে। জনসাধারণের মধ্যে দাঙ্গা, মাদক, ইভটিজিং বাল্য বিবাহ, যৌতুক, প্রযুক্তির অব্যবহার বিরোধী মনস্তত্ব তৈরী হয়েছে। এতে মামলা মোকদ্দমায় না জড়ানোয় হবিগঞ্জ সার্কেলাধীন থানাগুলোর জনগণ কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হতে রক্ষা পেয়েছে। ফলে প্রতিটি পরিবার, গ্রাম, ইউনিয়ন, সর্বোপরি সার্কেলাধীন এলাকায় শান্তিময় অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবেশ বিরাজ করছে। এটি হবিগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা ছিল। যেটি তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম পেশাদারিত্ব, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, আন্তরিকতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    এভাবে পুলিশ ও জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের টেকসই সেতু বিনির্মিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ৫ মার্চ অত্র সার্কেলে যোগদান করেন। চলতি বছরের ১৪ মার্চ ন্যায় নিষ্ঠ ও সততার প্রতীক মানবিক এই পুলিশ কর্মকর্তা হবিগঞ্জ জেলা হতে বদলি হলেন। তাঁর এই বিদায়ে হবিগঞ্জ বাসী অশ্রুসিক্ত। দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা, মানবিকতা এবং নিরলস কর্ম প্রচেষ্টায় হবিগঞ্জবাসীর হৃদয়ে তিনি যে জায়গা করেছেন, তা হবিগঞ্জবাসী কখনো ভুলতে পারবে না। তাঁর কীর্তি গাঁথা কর্মের কথা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।