Category: হবিগঞ্জ

  • মাধবপুরে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত‍্যু

    মাধবপুরে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত‍্যু

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত‍্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি স্হানে এ মৃত‍্যুর ঘটনা ঘটে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের স্বপন মিয়ার মেয়ে ফাতেমা( ৪) বাড়ি সকলের অগোচরে পাশ্ববর্তী পুকুরের পানিতে ডুবে যায়।পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করে স্বজনেরা মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কত‍র্ব‍্যরত চিকিৎসক থাকে মৃত বলে জানান।

    অপর দিকে উপজেলার ইঠাখোলা গ্রামের রুবেশ দেবনাথের মেয়ে নিলিমা দেবনাথ (২)
    পরিবারের লোকজনের চোখ ফাকি দিয়ে বাড়ির পুকুরে ডুবে যায়। খোজাখুজির পর পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    হাসপাতালে কর্তব‍্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় বনিক জানান, হাসপাতালে আসার পূর্বে ই শিশু দুটি মারা যায়

  • শায়েস্তাগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, সচেতন অভিভাবকরা জিম্মি

    শায়েস্তাগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, সচেতন অভিভাবকরা জিম্মি

    সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে । কিশোর অপরাধীরা ” গ্যাং ” বা গ্রুপ সৃষ্টি করে বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়াচ্ছে । জড়িয়ে পড়ছে ইভটিজিং সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে সঙ্গে ।

    এই কিশোররা সমাজের মধ্যে নিজেদের মতো করে নতুন এক সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে । কিশোর অপরাধীরা আবার বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে তথাকথিত ” বড় ভাইদের ” আস্কারা পেয়ে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে । প্রশাসন এ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পর ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধীদের কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না ।

    এ সব কিশোর বেশির ভাগ বিভিন্ন গাড়ি চালক, প্রবাসী , ব্যবসায়ী, চাকুরী জীবী , কৃষক , দিন মজুরি , দাদন ব্যবসায়ী , অর্থশালী, জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর বেকার সন্তান ।

    সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরে ও ইউনিয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রামের পাড়া-মহল্লা রাস্তায় – দোকানে , গাড়ি স্ট্যান্ড , মাজার শরীফ এলাকা, হাট-বাজার ও রেলস্টেশনে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ।

    কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ ও র‍্যাব এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডের সচেতন মহল ।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , উপজেলার মাজদা শরীফ এলাকা রাস্তা , গাড়ি স্ট্যান্ড , সড়ক রাস্তা , রেললাইন , রেলস্টেশন , রেলস্টেশন হোটেল রেস্তরা , হাটবাজার , বিভিন্ন দোকান পাট , স্কুল আসার পথে রাস্তায় এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তায় বা দোকানে বসে কিশোররা আড্ডা দিচ্ছে । কেউ বাড়ির সামনে বা অন্যান্য এলাকার কিশোর দলবদ্ধ ভাবে জোর হয়ে বসে আড্ডা জমায় এবং বিভিন্ন ব্রেন্ডের মোবাইল দিয়ে লুডু খেলার নামে জুয়া আসর বসায় ।

    স্কুল – কলেজ ছাএীরা বাসা- বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় বিভিন্ন রাস্তা মধ্যে উৎপেতে বসে থাকে কিশোর । সুযোগ বুঝে ছাত্রীদেরকে রাস্তায় মধ্যে ইভটিজিংয়ে শিকার হচ্ছে । এ-সব কিশোররা সকাল থেকে গভীর রাত ১২ টা পর্যন্ত বাজে আড্ডায় লিপ্ত এবং বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত । তাদেরকে দেখলে মনে হয় শিক্ষিত প্রভাব শালী সন্তান । তাদের অভিভাবকরা সন্তানদের প্রতি কোনো নজর রাখে না । কোনো কিশোর মাদক বিক্রি ও মাদক সেবনের সাথে জড়িত আছে বলে অনেকেই ধারণা ।

    প্রায়ই সময় স্কুল – কলেজ ছাএীরা আসা যাওয়া সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরর আড়ালে ঘোরাঘুরি করে ইভটিজিং দিচ্ছে কিশোররা । লজ্জায় অনেক ছাত্রী তাদের অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে বলতে রাজি নয় । এমনকি বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের ও নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে কিশোররা ।

    কিশোরদের উৎপাতের ভয়ে অনেক অভিভাবক মান সম্মানের তাগিদে তাদের সন্তান স্কুল থেকে লেখা পড়া থেকে বাদ দিয়েছে । প্রশাসন এ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পর ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধীদের কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না । হেন অপরাধ নেই , যা তারা করছে না। মাদকের মাঝে মধ্যে ছড়াছড়ি উপাদান গুলো হাতের কাছে পাওয়ায় কিশোর অপরাধীরা আর ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে । দ্বিধা করছে না কোনো অপরাধ করতে । ” বড় ভাইদের ” সহযোগিতা পেয়ে তারা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। তবে রাজনৈতিক ছএছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। প্রতিটি কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা , অর্থ প্রভাবশালী , কিছু জনপ্রতিনিধিদের মদদ রয়েছে । ক্ষেএ বিশেষ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় এ সকল কিশোর অপরাধীরা। কেউ আত্মীয়তা সুবাদে রাজনৈতিক নেতা ,জনপ্রতিনিধি ও প্রভাব শালীদের উচিত হবে না কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া ।

    তাদের উচিত প্রতিটি ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিরা শিশু – কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধ থেকে মুক্ত রাখার জন্য কর্মসূচি তৈরি করা । পাশাপাশি সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গকে ও এগিয়ে আসতে হবে । সাধারণ মানুষের অসহায় এ অবস্থা থেকে মুক্তি না মিললে সমাজে বাস করা ও দায় হবে । এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সু দৃষ্টি কামনা করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা সচেতন মহলবাসী ।

  • মাধবপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

    মাধবপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

    মাধবপুরের সুরমা চা বাগানে সঞ্চিতা সাঁওতাল(২০)কে হত্যার অভিযোগে স্বামী জয়ন্ত সাঁওতালকে আটক করেছে পুলিশ । শনিবার সকালে মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা রজু হয়েছে ।

    সুরমা চা বাগানের দশ নং বিভাগের মৃত মঙ্গল সাঁওতালের পুত্র জয়ন্ত সাঁওতাল প্রায় দেড় বছর পূর্বে চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের সুজন সাঁওতালের মেয়ে সঞ্চিতা সাঁওতাকে বিয়ে করে । নয় মাস হয় সিজারে তাদের জ্যোতি নামক একটি কন্যা সন্তান হয় । এক সপ্তাহ ধরে সঞ্চিতার ছোট বোন অর্পিতা (৭) তার কাছে বেড়াতে এসেছে।

    অর্পিতা জানায় বৃহস্পতিবার রাতে জয়ন্ত ঘরে এসে সঞ্চিতাকে বুকে , পিটে ও পেটে লাথি কিল ঘুসি দিয়েছে । তার পর থেকে সঞ্চিতা অসুস্থ হয়ে পড়ে । প্রতিবেশী সুমন সাঁওতালের স্ত্রী শিল্পী জানায় জয়ন্তদের অভাবের সংসার জয়ন্ত নেশা করে প্রায়ই সঞ্চিতাকে মারধোর করতো । সঞ্চিতা খুবই ভাল ছিল । সে অসুস্থ শরীরেও বাগানের কাজ করতো ।

    বৃহস্পতিবার রাতে জয়ন্ত তাকে নির্মম ভাবে মেরেছে । তার পর থেকে পেটে খুবই ব্যাথা হচ্ছিল । সঞ্চিতা বার বার বলেছে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে নতুবা সে মরে যাবে । শুক্রবার বিকালে মাধবপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায় । সঞ্চিতার লাশ বাড়ীতে নিয়ে এসে মৃত্যুর খবর কাউকে জানায়নি । রাতে পুলিশ আসায় সবাই ঘটনা জানতে পেরেছে ।

    মাধবপুর থানার ওসি রকিবুল ইসলাম খাঁন জানিয়েছেন রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সঞ্চিতার স্বামী জয়ন্তকে বাড়ী থেকে আটক করা হয়েছে । সঞ্চিতার পিতা সুজন সাওতাল শনিবার সকালে মাধবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে । লাশ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ।

  • নবীগঞ্জ কমিউনিটি সেন্টার নিয়ে দুই কাজীর টানা-টানি

    নবীগঞ্জ কমিউনিটি সেন্টার নিয়ে দুই কাজীর টানা-টানি

    তুহিনুর রহমান তালুকদার: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কাজীগঞ্জ বাজার থেকে নবীগঞ্জ রোডে নিজ আগনা (কুড়ের পাড়ে) অবস্থিত ময়ময়না কমিউনিটি সেন্টার (যাহা ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের আগনা মৌজায় অবস্থিত) কে নিয়ে ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের নির্ধারিত কাজী মাওলানা সলিমুদ্দিন এবং ২নং পুর্ব বড় ভাকৈর ইউপির কাজী গোলজার আহমদ এর মধ্যে ময়ময়না কমিউনিটি সেন্টার বিয়ে পড়ানো নিয়ে দির্ঘ্য দিন ধরে ধন্ধ্য চলে আসছিলো।

    এই নিয়ে উভয় পক্ষদের মধ্যে ঝগড়া এমন কি স্থানীয় প্রশাসন, কোর্ট, হাই কোর্ট পর্যন্ত পৌছালে ও কোনো সুরাহা হয় নাই । এই নিয়ে চলছে উভয় পক্ষের মধ্যে ময়ময়না কমিউনিটি সেন্টার নিয়ে টানা-টানি, কে পড়াবে বিয়ে।

    এর মধ্যে ১৪/০৯/২৩ রোজ বৃহস্পতিবার রাতে ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের নির্ধারিত কাজী মাওলানা সলিমুদ্দিনের অফিসে টাঙানো সাইনবোর্ডটি কে বা কারা রাতের আধারে ছিড়ে পেলে। এই নিয়ে এলাকায় চলছে রসালো, আলোচনা, সমালোচনা ।

    এলাকার জন সাধারণ চায়ের আড্ডায় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতেছে, কেউ বলছে বিয়ের আসরে বার বার পুলিশ আসলে লজ্জার ব্যাপার, আবার পুলিশের ভয়ে সেন্টারের যায় না। প্রশাসন সহ এলাকার সচেতন মহলের সুদৃষ্টি কামণা করছেন এলাকার জন সাধারণ।

  • চুনারুঘাট মুড়ারবন্দ দরবার শরিফের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    চুনারুঘাট মুড়ারবন্দ দরবার শরিফের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন সিপাহ্শালা (র.) মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাগদাদে বসবাস করেন এবং দ্বীন শিক্ষা নেন। পরে দিল্লীতে আসেন এবং ফিরোজ শাহ্ তুকলক এর শাহী সৈন্যদলে চাকুরীতে যোগ দেন।

    কথিত আছে রাজা গৌর গোবিন্দ বোরহান উদ্দিন এর পুত্র হত্যা দায়ে দিল্লীতে ফিরোজ শাহ্ তুকলক এর কাছে নালিশ আসে। তারপর মদীনা শরীফে হুজুর পাক (স.) এর রওজা শরীফ এ নালিশ করেন। তখন গৌর রাজা ছিল গোবিন্দ্র। তরফের ইতিহাসে তখনকার রাজা ছিল আছক নারায়ণ।

    এই রাজার তৎকালিন সময়ে রাজ্যের নাম ছিল তুঙ্গাচল বা বিশগাও তখন বোরহান উদ্ধীন এর ন্যায় হেলিম উদ্ধীন উরফে রোকন উদ্দিন উনার ছেলেকে গরু জবেহ আখিকা করার দায় হত্যা করে। উনিও দিল্লীতে বাদশার কাছে নালিশ করেন এবং তারপর মদীনায় হুজুরে পাক (সা.) রওজা মোবারকে নালিশ করেন। কথিত আছে যে ফিরোজ শাহ্ তুকলক সিকান্দার শাহ্ গাজিকে সেনাসামন্ত দিয়ে গৌর রাজ্যে পাঠান। কয়েক দফা যোদ্ধের পর সিকান্দার শাহ্ গাজী হেরে যান, বার বার হারার পরে দিল্লীর বাদশাহ্ নজ্জোম (গনক) ডাকান। গনকগণ বাদশাহ্কে বললেন গৌরবের আবহাওয়া অনুকুলে নয় ও রাজা গৌর গোবিন্দ্র যাদু বিদ্যা জানে। এজন্য আপনার সৈন্য হারতেছে তখন রাজা বললেন কী করলে জয় হতে পারে, তখন গনকগণ অলৌকিক শক্তি ছাড়া জয় হবে না। বাদশাহ্ বললেন অলৌকিক শক্তি আমি পাব কোথায়। গনকগণ বললেন আপনার সৈন্যদের মধ্যে এমন একজন সৈনিক আছে তার দ্বারা সম্ভব। তখন বাদশাহ্ বললেন আমার তো লক্ষ লক্ষ সৈনিক আছে কি করে আমি চিনবো। তখন গনকগণ বললেন অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঝড় বৃষ্টি তুফান হবে, তুফান যখন লণ্ড ভণ্ড করবে সবকিছু উলট পালট করবে যার তাবুতে তখন বাতি জ্বলবে সেই জয় করতে পারবে।

    কিছুদিন পর হঠাৎ করে একদিন ঝড় বৃষ্টি ও তুফান প্রচণ্ড বেগে শুরু হল। বাদশাহ্ ছদ্মবেশে বাহির হইলেন, দেখলেন ঝড়ে সব তাবু লণ্ড ভণ্ড হয়ে গিয়েছে। হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) তাবুতে বাতি জ্বলতেছে ঝড়ের সময় এবং গিয়ে দেখেন উনি নামাজরত। নামাজের সালাম ফিরিয়ে দেখেন ফিরোজ শাহ্ তুকলক দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

    তখন উনি বললেন (সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) কেন আসছেন আপনি)। তখন বাদশাহ্ উত্তর দিলেন আপনি গৌর রাজ্যে যেতে হবে। তখন হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (র.) বললেন যে আমি হুজুর পাক (সা.) ইশারা পেয়েছি, আমায় পূর্ব দিকে যেতে হবে এই জন্য উনি মুচকি হাঁসলেন। কথিত আছে, যে হালাল রিজিক খাওয়ার জন্য সাধারণ সৈনিকে ভর্তি হন। তখন বাদশা উনাকে সৈনিকদল দিয়ে সেনাপতি করে গৌর রাজ্যের দিকে পাঠালেন। প্রতি মধ্যে হযরত শাহজালাল হযরত ইয়ামনি (র.) সঙ্গে উনার সাক্ষাত হয়। তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বলেন নারায়ে তাকবির আল্লাহুআকবার এই ধ্বনি দিয়ে কে আসতেছে, দুই দল একত্রিত হয়ে যাত্রা শুরু হল যুদ্ধের জন্য। তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বললেন আপনি সিপাহ্শালা তখন হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (র.) বললেন আপনি দলের প্রধান। কোনো কোনো লিখক এর মতে হযরত শাহজালাল (র.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, কেও কেও বলে লখনৌতে আবার অনেকে বলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাও এ সাক্ষাৎ হয়েছিল। যাত্রা শুরু হওয়ার পরে বিশগাও বা সপ্ত গ্রামে রাজা আছক নারায়ণের কথা হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (র.) হেলিম উদ্দীন উরফে রোকন উদ্দিন পুত্র হত্যা কথা হযরত শাহজালাল ইয়ামনিকে (র.) বললেন। তখন হযরত শাহজালাল (র.) বললেন আগে আমাদের গৌরে যেতে হবে। যখন অগ্রসর হলেন তখন যাদুকর রাজা গোবিন্দ্র আগুনের বান দিল। তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) ফু দিলেন আগুন নিবে গেল তারপর যাদু বলে পাথরের বান দিল, তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বললেন সিল ইট যাও (পাথর সরে যা) তারপর পাথর সরে গেল এবং তখন হইতেই গৌর রাজ্য নাম হল শ্রী (সিলেট)। তারপর সুরমা নদী পার হওয়ার সময় গোবিন্দ্র যাদুবলে নৌকাগুলো সরিয়ে দেয়। তারপর হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) উনার আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে জায়নামাজ বিছিয়ে সুরমা নদী পার হয়ে গেলেন সবাইকে নিয়ে। এদিকে রাজা গৌর গৌবিন্দ্র ছিল অত্যাচারী রাজা, তার মা তাকে ডেকে বললেন (গৌবিন্দ্রকে) বাবা, আমি দেখতেছি তোমার রাজ্যে মহাপুরুষদের আবির্ভাব হইতেছে, তুমি তাদের কাছ থেকে বাঁচতে হলে ও রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে, এই মহা পুরুষদের আদেশ নিষেধ মেনে চলতে হবে, না হলে তোমার রাজত্ব যাবে প্রাণ ও যাবে।

    এই মহা পুরুষগণ রাজত্বের এবং ধনের পাগল নন। তারা একমাত্র ঈশ্বর পাগল। গোবিন্দ্র বললো আমার যাদুর কাচে কেহো টিকবে না। তখন গোবিন্দ্রে মা বললো তোমার সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। গোবিন্দ্র বললো মা কিভাবে বললেন তোমার যে ইন্দ্র কোপ সেটা কাজ করবে না এবং তোমার যে তীর-ধনুক মন্ত্র বলে সরজ্জুন করো এবং মন্ত্র বলে চালাও, মহাপুরুষরা এক নিমিশে নামের বলে নষ্ট করে ফেলবে। এক এক পরিক্ষা নিরিক্ষার পর হযরত শাহ জালাল ইয়ামনি (র.) সবাইকে একত্রিত করে বললেন কাহার ফজর ও আছরের নামাজ কাজা হয় নাই, তখন হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) বললেন আমার নামাজ কাজা হয় নাই। হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বলেন আযান দেন। আযানের ধ্বনিতে রাজা গৌর গোবিন্দ্রের সাত তালা দালান ভেঙে খান, খান, হয়ে গেল।

    তার পর রাজা গোবিন্দের মায়ের আজ্ঞা অনুযায়ী আউলিয়াদের আস্তানায় তার চর পাঠাইয়া বলো যে তীর ধনুক যদি সরজ্জুন করতে পারেন, তাহলে আমি আপনাদের হুকুম মেনে নেব, তখন হযরত শাহজালাল (র.) হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) কে পাঠালেন এবং হযরত কালেমা পড়ে একটানে তীরমধুব্রæক টিকে সরজ্জুন করে, গোবিন্দ্রের দিকে ছুড়ে দিলেন। তারপরও গৌর গোবিন্দ্রের পাথর মন নরম হলো না, সে সাপুনীয়ার খাচার ভিতর সাপ হয়ে দেখার জন্য এসেছিল। তখন হযরত শাহজালাল (র.) ধ্যানের মধ্যে দেখতে পারলেন, সে সাপুরিয়ার খাচার মধ্যে তখন হুজুর বললেন তুই আমাকে সাপ হয়ে দেখতে আইলি, তখনি গোবিন্দ্র সাপের খাচা সহ পালাইয়া গেল, অদ্যাবধি তার কোনো খরব মিলেনি।

    সিলেট বিজয়ের পর হযরত শাহজালাল (র.) হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্ধীন সিপাহ্শালা (র.) বললেন, আপনি ওজ তরফ চলে যান, যেখানে আছক নারায়ণ আছে। তখন হইতেই এই রাজ্যের নাম হয় তরপ রাজ্য। কথিত আছে এখানে উনার সাথে যুদ্ধ হয়, শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যায়। হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন সিপাহ্শালার (র.) ৩৬০ আউলিয়ার প্রধান সেনাপতি উনার সৈন্য-সমন্ত্য ছাড়াও সঙ্গী ১২০ আউলিয়া নিয়া মুড়ারবন্দে উপস্থিত হন, উনার ফয়েজ বরকত ও রহমতে এই জায়গায় অনেক হিন্দু, খৃষ্টান, মুসলমান হয়। কথিত আছে উনি ওফাহে পূর্বে-ভক্ত ও মুরীদানের অনুরাগী অনুযায়ী সবাইকে বললেন, আমি যদি ওফাৎ হই আমার (রওজা) মাজার আপনারা পূর্ব পশ্চিমে দিবেন, তারপর উনার ওফাতৎ হলো এবং সকল মুসল্লীগণ ও অন্যরা দ্বিমত্ত পৌষণ করতে লাগলেন, বাংলাদেশের (কাবার পূর্বে যে নিয়ম আছে সে মতে হবে।) তারপর নিয়ম অনুযায়ী উত্তর দক্ষিণে দেওয়া হলো চল্লিশ কদম আসার পর বিরাট শব্দ করে মাজার ঘুরে গেল।

    এখনও পূর্বপশ্চিমে মাজার শরিফ অবস্থিত। সুবাহান আল্লাহ। পরবর্তী পর্যায়ে সিপাহ্শালার হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (রহ.) বংশের বহু অলি আউলিয়াগণের আবির্ভাব ঘটে, যার ফলে এতদ্ঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও তাছাউফ শিক্ষার প্রভাডব উল্লেখযোগ্য। সিপাহ্শালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহ.) বংশীয় আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষদের মধ্যে যারা বিশেষ উল্লেখযোগ্য তারা হলেন- তৃতীয়  পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ ইব্রাহীম (রহ.) যিনি অগাধ জ্ঞানচর্চার জন্য দিল্লীর রাজদরবার হতে “মালেকুল উলামা” খেতাবে ভ‚ষিত হন, ৪র্থ  পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ বন্দেগী ইস্রাঈল (রহ.) তিনিও চাচার ন্যায় দিল্লীর রাজদরবার থেকে “মালেকুল উলামা” খেতাবে ভ‚ষিত হন। ৫ম পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ ইলিয়াছ কুদ্দুছ কুতুবুল আউলিয়া (রহ.) যিনি ৩৬ বৎসর চিল্লায়ে মাকুস (বৃক্ষডালে পা উপরের দিকে মাথা নিচের দিকে ঝুলে আল্লাহর জিকির করা) সম্পন্ন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে বংশধরদের মধ্যে ভৈবাহিক কারণে, সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা পীর মুরীদি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন  স্থানে গিয়ে বসতি স্থাপন করেন। তবে মুড়ারবন্দ দরবার শরিফে একটি বংশ শাখা রয়ে যান এবং বংশ পরম্পরায় মাজার শরিফের খেদমত ও যুগে যুগে ভক্ত মুরিদদের তাছাউফ শিক্ষা দানে নিয়োজিত রয়ে গেছেন। মুড়ারবন্দ বংশ শাখার উল্লেখযোগ্য আধ্যাত্মিক পুরুষ হলেন হযরত সৈয়দ শাহ সাঈদ আহাম্মদ চিশ্তী (রহ.) যিনি চিশতীয় তরিকার কুতুবীয়া ছিলছিলার প্রতিষ্ঠাতা। তারই বড় ছেলে (লেখক) সৈয়দ শফিক আহমদ চিশ্তী হলেন মুড়ারবন্দ দরবার শরিফের বর্তমান মুতায়াল্লি।

    প্রতি বৎসর ৩০ শে পৌষ-২রা মাঘ ৩ দিনব্যাপী ভাবগম্ভীর্যের সাথে মুড়ারবন্দ দরবার শরিফের পবিত্র ওরশ মোবারক পালন হয়। উক্ত ওরশ মোবারক সিপাহ্শালার সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (রহ.) সহ ১২০ আউলিয়ার স্মরণে উদযাপিত হয়।

    এতে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত, মুরিদান, আশেকান, জিয়ারতকারীর সমাগম ঘটে।

     

  • শায়েস্তাগঞ্জে ঋণের চাপ সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    শায়েস্তাগঞ্জে ঋণের চাপ সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    হবিগঞ্জে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার স্বামীর ঋণের জন্য তার স্ত্রী নিজের পেটে ছুরি মেরে মৃত্যুবরণ করেছে।

    জানা যায় গত মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের কুরবান আলীর স্বামীর সঙ্গে ঋণ নিয়ে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (২২) এর কথাকাটা নিয়ে এক পর্যায়ে আকলিমা নিজের পেটে নিজেই চুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা চেষ্টা করে।

    এ সময় গুরুত্বর আহত  অবস্থায় স্থানীয়রা হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

    সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (১৪ সেপ্টেম্বর ) বৃহস্পতিবার মৃত্যু বরণ করে। মৃত্যুকালে তাসলিমা আক্তার তার স্বামী ও দুটি ছেলে সন্তান রেখে মারা যায়।

    স্থানীয় সূত্রে আর ও জানা যায়, স্বামী কুরবান আলীকে তার শ্বশুর দাদনের উপর টাকা এনে দিলে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গত মঙ্গলবার সকালে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ দুদু মিয়া জানান, কুরবান আলীর স্ত্রী আকলিমা নিজের পেটে নিজেই চুরি দিয়ে আঘাত করে।

    শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হক কামাল এ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থানে পৌছেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

  • কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এসআই ইসমাইল আর নেই

    কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এসআই ইসমাইল আর নেই

    হৃদয় এস এম শাহ্-আলম: হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এসআই ও সিলেট মধ্যনগর থানায় কর্মরত এসআই(নিঃ)/মোঃ ইসমাইল হোসেন ভূইয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

     

    উক্ত বিষয়ে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান যে, গত ১২/০৯/২০২৩ খ্রিঃ এবং আগামী ১৪/০৯/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে হবিগঞ্জ সাক্ষী প্রদানের জন্য গত ১১/০৯/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে অপরাহ্নে মধ্যনগর থানা হইতে প্রস্থান গ্রহন করেন। পরবর্তীতে গত ১২/০৯/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে হবিগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান শেষে তাহার হার্ট ডিজিস (হৃদরোগ) এর চিকিৎসার জন্য রাতে ঢাকা গমন করেন।

    অদ্য ১৩/০৯/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ সকালে তাহার স্ত্রী সহ ডিএমপি ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গেলে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন তাহার স্ত্রী ডিএমপি ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার বেলা অনুমান ১২ঃ৪৫ ঘটিকার সময় তাহাকে মৃত ঘোষনা করেন। “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহির রাজীউন”।

    এসআই(নিঃ)/মোঃ ইসমাইল হোসেন ভূইয়ার মৃত্যুর বিষয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত এবং তাহার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তিনি মধ্যনগর থানায় গত ০৬/০৫/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে যোগদান করেন। তাহার পিতার নাম মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, স্থায়ী ঠিকানা, সাং-কমলাবাড়ি, পোঃ-কালিবাড়ি, থানা-দেবিদ্বার, জেলা-কুমিল্লা।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি ০৪ কন্যা সন্তানের জনক। তাহার পরিবার কুমিল্লা শহরে বসবাস করেন।তিনি গত ০৯/০৫/২০০০খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পদন্নোতি সূত্রে এএসআই, এসআই হয়ে তিনি তাহার উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা নিষ্ঠার সাথে পালন করিয়া আসিয়াছেন। মৃত্যুকালে তাহার বয়স ছিল ৪৩ বৎসর।