Enter your email address below and subscribe to our newsletter

মাধবপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেন চেয়ারম্যান নিজে

Share your love

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের কোটি টাকার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ ও তার সহযোগীরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ছাতিয়াইন গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য অলক সরকারের পৈতৃক কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ছাতিয়াইন মৌজার ২১৬৬ দাগের ১৮ শতাংশ জমি—যার বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা—দুই দফায় মাটি ভরাট ও বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে পরিবারটিকে প্রকাশ্যে হত্যা ও দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ভীতির কারণে স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অলক সরকার জানান, বিষয়টি একাধিকবার মাধবপুর থানা ও ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর আইনি সহযোগিতা পাননি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অলক সরকার গত ৩০ নভেম্বর মাধবপুর থানায় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পত্র।

 

এদিকে ঘটনাটিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দ্য হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)–এর সিলেট বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর রাকেশ রায়। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি দখল বা কৃষিজমিতে মাটি ভরাট আইনত অপরাধ। এই সুযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, জমি দখল, ফসল ও গাছ কাটার মতো অপরাধ বেড়েই চলেছে।”

ভুক্তভোগী অলক সরকার আরো বলেন,“জমির দলিল আমাদের নামে, নিয়মিত খাজনাও দিয়ে আসছি। এরপরও চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে আমাদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন। আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর ন্যায্য বিচার চাই।”

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারাই ভুয়া কাগজ দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সংখ্যালঘুদের অধিকারের বিষয়ে আমরা সবসময় সচেতন।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন,“বিষয়টি সত্য হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মাহাবুব মোরশেদ খান বলেন,“আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Share your love
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
Articles: 116

Stay informed and not overwhelmed, subscribe now!