Newsletter Subscribe
Enter your email address below and subscribe to our newsletter
Enter your email address below and subscribe to our newsletter

হবিগঞ্জের শাহজীবাজার রাবার বাগান ও রূপাইছড়া রাবার বাগান বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চাঁদাবাজ, দরপতনকারী, গাছকাটা সিন্ডিকেট ও ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে রাবার বাগান দুটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সীমান্তসংলগ্ন কিছু দুষ্কৃতিকারী রাতের অন্ধকারে বাগানে ঢুকে রাবার চুরি, মূল্যবান গাছ কর্তন এবং ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে পাচার করছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা এগিয়ে এলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় রাবার বাগানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
দুই রাবার বাগানেই কয়েক শ শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাবার বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
শাহজীবাজার রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় এবং রূপাইছড়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন—
বাংলাদেশে রাবার শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রাবার দিয়ে গাড়ির টায়ার, টিউব, জুতার সোল, ফোম, রেক্সিন, খেলনা ও শিল্পকারখানার নানা দ্রব্যসহ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ধরনের পণ্য তৈরি হয়। দেশে রাবার উৎপাদন বাড়লে রপ্তানির সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
কিন্তু দুষ্কৃতিকারীদের অবৈধ কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণে রাবার বাগানগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।
অভিযোগের তীর শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতাদের দিকে
রাবার বাগানে বিদ্যমান শ্রমিক সংগঠনগুলো রাজনৈতিক প্রভাবে দলাদলিতে জড়িয়ে পড়ে বাগানের পরিবেশ নষ্ট করছে। ব্যবস্থাপকদের কাছে সুবিধা আদায় না হলে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়।
কিছু শ্রমিক নেতা ও টেপিং সুপারভাইজার চাকরির পাশাপাশি অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের প্রতিহিংসা ও প্রভাব বিস্তারের কারণে ব্যবস্থাপকেরা নিয়মিত ঝামেলায় পড়ছেন।
স্থানীয়দের মতে, এখনই সরকার কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা না নিলে রাবার বাগান শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে রাবার উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বনায়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।