Home আলোচিত সংবাদশায়েস্তাগঞ্জে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও রেল কর্মচারী লাঞ্চিত

শায়েস্তাগঞ্জে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও রেল কর্মচারী লাঞ্চিত

০ comments

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে অর্ধ শতাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান করতে গিয়ে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা সহ ট্রেন কর্মচারী হামলা শিকারে লাঞ্চিত হয়েছেন ।

এ অভিযান সোমবার (২৩ অক্টোবর ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাল ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে । স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , রেলওয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার , রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, আর এন বি , উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত না করেই অভিযানে আসেন। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা – কর্মচারীদের পরিত্যক্ত বাসা দখল করে এবং বাসাকে হোটেল – রেস্তোরা , ভাসমান বস্তি বাড়িতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার ফলে বিচ্ছিন্ন করে দেয় আখাউড়া রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ।

এ সব বিদ্যুৎ সংযোগ গুলো সরাসরি বিদ্যুৎতের মূল লাইন থেকে ও দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ । আখাউড়া বিদ্যুৎ বিভাগের অনেকেও এই অপকর্মে সাথে জড়িত ।

স্থানীয়রা জানান , আখাউড়া রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অধিনে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ । দীর্ঘ বছর আগে কিছু শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে অসাধু ইলেকট্রিশিয়ানরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যেত । এর পর বেশ কিছু স্থানে রেলওয়ে বিভিন্ন অবৈধ পরিত্যক্ত বাসা , ভাসমান বস্তি , হোটেল – রেস্তোরাঁয় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যায় সাবেক ইলেকট্রিশিয়ানরা ।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে মাসে টাকা উওোলন করে নিচ্ছে বলে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারকারীরা অভিযোগ জানান । অথচ মাস শেষে এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিল প্রদান করতে হয় রেলওয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ । কার ও ঘরে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জ্বলছে বাতি আবার কার ও ঘরে এলইডি টিভি , ফ্রিজ , ইলেকট্রি ফ্যান , অটোরিকশা টমটম চার্জ । রান্না জন্য হিটার ব্যবহার করছেন অনেকেই । এ ভাবে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে ও তাদের নেই মিটার । প্রতি মাসে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে , সেই হিসাব ও জানার উপায় নেই । বিদ্যুৎ যাই ব্যবহার করুন না কেন , মাসিক সঠিক সময়ে বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে চুক্তি ভিওিক মাএ ২শ থেকে ৫শ টাকা ।

সিলেট -আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের স্টেশন এলাকায় এমন চিত্রের দেখা মলে।

স্থানীয়রা বলেন , রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে কয়েকটি বন্ধ থাকায় সেগুলোর বর্তমান কর্মরত কর্মকর্তা – কর্মচারী এলটম্যান বরাদ্দ  আছে বিদ্যুৎ মিটার । রেলওয়ে থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা – কর্মচারীরা বেশির ভাগই রেলওয়ে পরিত্যক্ত বাসা দখল করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ লাগিয়ে নিজ ব্যবহার , ভাড়া এবং বাসাকে হোটেল – রেস্তোরা ভাড়া দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যাচ্ছে ।

এসব স্থাপনায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় কিন্তু তার বিল নিচ্ছে বদলী হওয়া সাবেক ইলেকট্রি শিয়ান ।

আখাউড়া রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এসএসএ-ই ইলেকট্রিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন , রেলওয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ পত্র নির্দেশে সারাদেশে ন্যায় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন এলাকায় সকাল ১১ টা থেকে রেলওয়ে পরিত্যক্ত কোয়ার্টার , বস্তি ও দোকান গুলোতে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি এবং অবৈধ বৈদ্যুতিক ক্যাবল জব্দকৃত মালামাল নিয়ে আসা হয় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এলাকায় এনে আগুনে বিনষ্ট করার চেষ্টা চালানো হয় । এর মধ্যে রেলওয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকারীরা ঘেরাও করে জব্দ কৃত ক্যাবল তার বস্তা ভেতর থেকে চিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় ।

এ পরিস্থিতিতে রেল পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয়া হয় । জব্দকৃত ক্যাবল তার গুলো সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী জয়নতিকা ট্রেনে জব্দকৃত মালামাল নিয়ে ওঠার সাথে বাহির থেকে এলোপাতাড়ি ভাবে পাথর নিক্ষেপ করে জব্দ কৃত মালামাল চিনিয়ে নিয়ে গেলে ট্রেনে থাকা ট্রেনের ৩ জন স্টাফ, বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান সহ তার বিদ্যুৎ অফিসের আহত ও লাঞ্চিত হন এবং ট্রেনের পাওয়ার্কার এর মেইন সুইচ পাথরের আঘাতে ভেঙ্গে গেলে ট্রেন টি থেমে যায়।পরে পাওয়ারকার সচল হলে ট্রেনটি পুনরায় ছেড়ে যায়।

এ ঘটনায় ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়া সিগনাল আউটারে প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়ানো ছিল । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় রেলওয়ে প্রশাসন থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

You may also like